আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে চট্টগ্রাম মহানগরের দুই নম্বর গেটে বিপ্লব উদ্যানে বাণিজ্যিক স্থাপনা নির্মাণ করা হচ্ছে। হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞা ও পরিবেশ ধ্বংস করে নতুন স্থাপনা নির্মাণের বিরুদ্ধে মানববন্ধন ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছে বিপ্লব উদ্যান দোকান মালিক সমিতি।
গতকাল বুধবার বেলা ১১টার দিকে বিপ্লব উদ্যানের সামনে মানববন্ধন করে সংগঠনটি।
এ সময় বক্তারা বলেন, হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞাকে বৃদ্ধাঙ্গালি দেখিয়ে পরিবেশ ধ্বংস করছে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক)। ঠিকাদার থেকে অবৈধ আর্থিক সুবিধা নিয়ে পরিবেশ ধ্বংস করে স্থাপনা নির্মাণের কাজ চলছে। সবুজকে ধ্বংস করে মেলা ও সেমিনারের মাঠ বানানো হচ্ছে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিবিজরিত বিপ্লব উদ্যানকে। এতে লেনদেন হচ্ছে কোটি কোটি টাকা।
মানববন্ধনে বক্তারা আরও বলেন, আমরা এর আগেও একবার মানববন্ধন করেছিলাম। তারা (চসিক) আমাদের কথা রাখেননি। হাইকোর্টকে বৃদ্ধাঙ্গালি দেখিয়ে চসিক নতুন স্থাপনা নির্মাণের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। ব্যবসার জায়গায় ব্যবসা করেন কোনো আপত্তি নাই। কিন্তু প্রকৃতি নষ্ট করে কোনো ব্যবসা করা যাবে না। এই পার্কটি সিটি করপোরেশনের একার সম্পত্তি নয়, এটা জনগণেরও পার্ক।
এর আগে গত ৪ জুলাই নতুন স্থাপনা বন্ধের দাবিতে মহামান্য হাইকোর্টে একটি রিট পিটিশন দাখিল করেন বিপ্লব উদ্যান ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী মালিক সমিতি। এতে ১৬ জুলাই হাইকোর্টের বিচারক মোস্তাফা জামান ইসলাম ও মাসুস হোসেন দুলনের বেঞ্চ আদালত নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেন। কিন্তু এ নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে কাজ চলমান রেখেছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।
বিপ্লব উদ্যান ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী মালিক সমিতির সভাপতি হুমায়ূন কবির বলেন, ‘দ্রুত এই পার্কের নতুন স্থাপনা অপসারণ করে উদ্যানটিকে আগের অবস্থায় নিয়ে যেতে হবে। হাইকোর্টের রায় থাকার পরও সিটি করপোরেশন সেটা মানছে না। নাগরিক সুবিধার কথা চিন্তা করে পার্কটিকে আবার অবমুক্ত করা হোক। বিষয়টি নিয়ে হাইকোর্টে রিট করা হলে আদালত এ জায়গাটি উন্মুক্ত সবুজ উদ্যান রাখার পক্ষে রায় দেন। এ রায় মেনে চলার জন্য আহ্বান করছি।’
নগর পরিকল্পনাবিদ তুহিন বড়ুয়া বলেন, ‘নগরবাসীর কথা বিবেচনা করে সবুজ উদ্যানটি সবার জন্য উন্মুক্ত রাখা হোক। সবুজ উদ্যান ধ্বংস করে বাণিজ্যিক স্থাপনা নির্মাণ অতি মাত্রার লোভ ছাড়া আর কিছুই নয়। শহরের কোথাও মানুষের শান্তিতে নিশ্বাস ফেলার জায়গা নেই। এই উদ্যানটি ধ্বংস করা যাবে না।’
বৃহত্তর চট্টগ্রাম উন্নয়ন কমিটির সদস্য অধ্যাপক মমজাত উদ্দিন বলেন, ‘পতন হওয়া সরকারের কিছু রাজনৈতিক নেতার আর্থিক লোভের খেসারত দিতে হচ্ছে পার্কটিকে।’ পরিবেশবিদ তৌহিদ আনোয়ার বলেন, ‘বিপ্লব উদ্যানটি রক্ষা করতে হবে পরিবেশ বাঁচানোর জন্য। পরিবেশ না বাঁচলে মানুষ বাঁচবে কীভাবে!’
গত বছরের আগস্টের শেষ সপ্তাহে বিপ্লব উদ্যানের সৌন্দর্যবর্ধন ও বিনিয়োগ নিয়ে রিফর্ম কনসোর্টিয়াম নামে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ২৫ বছরের চুক্তি হয় সিটি করপোরেশনের। এর আগে ২০১৮ সালের ১ নভেম্বর ২০ বছর মেয়াদি চুক্তি হয়েছিল রিফর্ম ও স্টাইল লিভিং আর্কিটেক্টস লিমিটেড নামে আরও দুটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে। পাঁচ বছরের মধ্যে পুরোনো চুক্তি সংশোধন করে নতুনভাবে করা হয়। তবে নতুন চুক্তি থেকে সরে দাঁড়ায় স্টাইল লিভিং আর্কিটেক্টস লিমিটেড। শুধু রিফর্ম কনসোর্টিয়ামের সঙ্গে চুক্তি হয়।