ঢাকা ১ শ্রাবণ ১৪৩৩, বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬

সর্বশেষ
রায় কার্যকর না হওয়ায় পরিবারের ক্ষোভ বাইক্কা বিলের হলুদ মোমলেজি পুরোনো যন্ত্রে নতুন স্বপ্ন ব্যাপক দুর্নীতিতে প্রশ্নের মুখে ইউনূস সরকার ১৬ জুলাই: তুলা, বৃশ্চিক, ধনু, মকর, কুম্ভ ও মীনের আজকের রাশিফল ১৬ জুলাই: মেষ, বৃষ, মিথুন, কর্কট, সিংহ ও কন্যার আজকের রাশিফল ১৮ বিশ্বকাপের সাক্ষী ৯১ বছরের ম্যাকাইয়া ফুটবল থামিয়ে মঞ্চে উঠবেন তারকারা ১৬ জুলাই  ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচি ইংল্যান্ডকে হারানোর পরই ধাক্কা, ফিফার শাস্তির মুখে আর্জেন্টিনা ডিফেন্ডার থেকে নায়ক আজকের ম্যাচ আমাদের সব অর্জনকে ছাপিয়ে গেছে: স্কালোনি মাঠের বাইরেও ‘ভিএআর’ প্রয়োজন? ‘ফকল্যান্ড দ্বীপ আর্জেন্টিনার’ ব্যানার নিয়ে উদ্‌যাপন, বিতর্কে বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা সেমিফাইনাল হেরে টুখেল বললেন, ‘কোনো আক্ষেপ নেই’ বিশ্বকাপে আবার ফ্রান্স-ইংল্যান্ড লড়াই, ম্যাচ কবে-কখন? বিশ্বকাপে টানা ১৩ ম্যাচে অপরাজিত থাকার রেকর্ড আর্জেন্টিনার ভীষণ কষ্ট পাচ্ছেন হ্যারি কেইন শেষ বাঁশির পর মাঠেই হাতাহাতি আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ডের দ্বিতীয়বার বিশ্বকাপ ফাইনালে স্কালোনি, ইতিহাসে সপ্তম অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তনে ইংল্যান্ডকে বিদায় করে ফাইনালে আর্জেন্টিনা আর্জেন্টিনা-স্পেন ফাইনাল এনজো-লাউতারোর গোলে এগিয়ে গেল আর্জেন্টিনা গর্ডনের গোলে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে এগিয়ে গেল ইংল্যান্ড আর্জেন্টিনা জিতলেই বিয়ে! পরীমনির স্ট্যাটাসে সরগরম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ১৯ ফাউলের প্রথমার্ধে গোলশূন্য আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ড সেমিফাইনালের আগে ইংল্যান্ডকে ‘দখলদার জলদস্যু’ বললেন আর্জেন্টিনার ভাইস প্রেসিডেন্ট ওয়েইন রুনির রেকর্ড ভাঙলেন হ্যারি কেইন বিশ্বকাপে ইংল্যান্ড-আর্জেন্টিনার শেষ লড়াই কেমন ছিল? জানা গেল আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ডের একাদশ

ঈশ্বরদী উপজেলায় ৩৮ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নেই প্রধান শিক্ষক

প্রকাশ: ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৪, ১০:২০ এএম
ঈশ্বরদী উপজেলায় ৩৮ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নেই প্রধান শিক্ষক
ঈশ্বরদি উপজেলার ১০০ টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৩৮ জন প্রধান শিক্ষক এবং ১২জন সহকারী শিক্ষক নেই দীর্ঘদিন ধরে। ফলে ব্যাহত হচ্ছে প্রশাসনিক ও শিক্ষা কার্যক্রম। ছবি: খবরের কাগজ

পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার ১০০ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে ৩৮ প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে। এ ছাড়া সহকারী শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে ১২টি। এর ফলে ওই বিদ্যালয়গুলোর প্রশাসনিক কার্যক্রম যেমন ব্যাহত হচ্ছে, তেমনি শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনায় বিড়ম্বনায় পড়তে হচ্ছে শিক্ষকদের। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট দপ্তরে জানানো হলেও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ঈশ্বরদী উপজেলায় মোট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সংখ্যা ১০০। এই ১০০ বিদ্যালয়ে মোট শিক্ষকের সংখ্যা ৭৮৭ জন। শিক্ষার্থীর সংখ্যা ২৩ হাজার ৭০৭ জন। 

শিক্ষা কার্যালয়ের এক কর্মকর্তা জানান, দীর্ঘ দিন ধরে ৩৮ বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক নেই। ভারপ্রাপ্ত শিক্ষক দিয়ে প্রশাসনিক ও শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট দপ্তরে জানানো হলেও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এ ছাড়া সহকারী শিক্ষকের পদ শূন্য ১২টি। প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষক না থাকায় এসব বিদ্যালয়ে কোনো একরকমভাবে শ্রেণিকক্ষে পাঠদান ও প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।

এদিকে পাকশীর রূপপুর বালিকা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী রয়েছে ১৬১ জন। শিক্ষক রয়েছেন ৬ জন। বিদ্যালয়ে প্রায় দুই বছর ধরে শ্রেণিকক্ষে পাঠদান করানোসহ ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করছেন মো. রেজাউল করিম। তিনি বলেন, ‘শ্রেণিকক্ষে নির্ধারিত পাঠদানের পাশাপাশি প্রশাসনিক কাজের জন্য ব্যস্ত সময় পার করতে হয়।’

উপজেলার যুক্তিতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক রেজওয়ান কোরেশী বলেন, ‘ক্লাস নেওয়া ছাড়াও বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কাজ নিয়ে ব্যস্ত থাকতে হয়। প্রয়োজনে ছুটিও নিতে পারি না। ফলে নানাবিধ সমস্যা হয়।’

গোয়ালবাথান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক রোকশানা আক্তার ২০১৮ সাল থেকে এ দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি বলেন, ‘চাপে থাকলেও সকলে মিলেমিশে কাজ চালিয়ে নিই।’

এ বিষয়ে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শাহিনা আক্তার খবরের কাগজকে বলেন, ‘উপজেলায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শূন্য পদের সংখ্যা সংশ্লিষ্ট বিভাগকে জানানো হয়েছে।’ এক প্রশ্নের জবাবে এই কর্মকর্তা জানান, যেসব বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক নেই, সিনিয়র সহকারী শিক্ষককে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব দিয়ে বিদ্যালয়ের শিক্ষা ও প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।

পুরোনো যন্ত্রে নতুন স্বপ্ন

প্রকাশ: ১৬ জুলাই ২০২৬, ০৮:৩৫ এএম
আপডেট: ১৬ জুলাই ২০২৬, ০৮:৪৩ এএম
পুরোনো যন্ত্রে নতুন স্বপ্ন
ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার মগটুলা ইউনিয়নের মধুপুর বাজারে গড়ে ওঠা পুরোনো কৃষিযন্ত্রের হাট/ খবরের কাগজ

হাটে ঢুকলেই চোখে পড়ে খোলা আকাশের নিচে সারি সারি সাজানো কৃষিযন্ত্র। প্রথম দেখায় মনে হতে পারে এগুলো হয়তো পরিত্যক্ত বা জব্দ করা কোনো যন্ত্রপাতি। কিন্তু কাছে গেলেই বোঝা যায় প্রতিটি যন্ত্রই বিক্রির উদ্দেশ্যে রাখা। ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জের মগটুলা ইউনিয়নে রয়েছে একটি খোলা জায়গা। সেখানে গড়ে উঠেছে পুরোনো কৃষিযন্ত্রের হাট, যা মধুপুর বাজার নামে পরিচিত।

এই হাটে মেলে পুরোনো ট্রাক্টর, পাওয়ার টিলার, ধান কাটার মেশিন, থ্রেসার, সেচ যন্ত্রসহ নানা ধরনের কৃষিযন্ত্র। এসব যন্ত্রপাতি কৃষকরা তুলনামূলক কম দামে চাষাবাদের মৌসুমে কিনতে পারেন। শুধু ঈশ্বরগঞ্জ নয়, নান্দাইল, ত্রিশাল, গৌরীপুরসহ আশপাশের বিভিন্ন উপজেলার কৃষক, যন্ত্র ব্যবসায়ী ও ক্রেতারা এখানে আসেন। ফলে এই হাট হয়ে উঠেছে কৃষকসহ সংশ্লিষ্ট সবার ভরসার জায়গা।
 
বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, যন্ত্রের ধরন, বয়স ও অবস্থার ওপর ভিত্তি করে দাম নির্ধারণ করা হয়। ৩০ হাজার টাকা থেকে শুরু করে দেড় লাখ টাকার মধ্যেই বিভিন্ন ধরনের ব্যবহৃত কৃষিযন্ত্র পাওয়া যায়। নতুন যন্ত্রের তুলনায় অনেক কম খরচে প্রয়োজনীয় প্রযুক্তি হাতে পাওয়ায় কৃষকরা আগ্রহ নিয়ে এই বাজারে আসছেন।

কথা হয় পাওয়ার টিলার কিনতে আসা ঈশ্বরগঞ্জের রাজিবপুর ইউনিয়নের উমানাথপুর গ্রামের কৃষক ফরিদ আহমেদের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘নতুন একটি পাওয়ার টিলার কিনতে অনেক টাকা লাগে। এখান থেকে ভালো অবস্থার একটি ব্যবহৃত মেশিন অনেক কম দামে পেয়েছি। এতে চাষাবাদের খরচ কমবে।’

আরেক কৃষক মজনু মিয়া পার্শ্ববর্তী গৌরীপুর উপজেলার সহনাটি ইউনিয়নের সহনাটি গ্রাম থেকে এসেছেন। তিনি বলেন, আগে জমি চাষের জন্য অন্যের মেশিন ভাড়া নিতে হতো। এবার একটি ব্যবহৃত পাওয়ার টিলার কিনেছি। এতে সময়ও বাঁচবে, খরচও কমবে।’

এ বিষয়ে ব্যবসায়ীরা বলছেন, বড় কৃষক বা উদ্যোক্তারা নতুন মডেলের যন্ত্র কেনার পর পুরোনোগুলো বিক্রি করে দেন। আবার অনেক নষ্ট যন্ত্রও সংগ্রহ করা হয়। সেগুলো প্রয়োজনীয় সংস্কার ও পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর আবার বিক্রির জন্য বাজারে তোলা হয়। এতে তুলনামূলক কম দামে ভালো মানের যন্ত্র পেয়ে উপকৃত হচ্ছেন কৃষকরা।

হাটে যন্ত্র বিক্রি করতে আসা ব্যবসায়ী আরফান আলী বলেন, ‘অনেক কৃষকের পক্ষে নতুন যন্ত্র কেনা সম্ভব নয়। আমরা যন্ত্রগুলো পরীক্ষা করে সংগ্রহ করি। এরপর সংস্কার করে এই বাজারে বিক্রি করি। আবার কৃষকরাও তাদের পুরোনো বা নষ্ট যন্ত্র এখানে এনে বিক্রি করেন। এতে ক্রেতা-বিক্রেতা উভয়ই লাভবান হন। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেক কৃষক পরিচিতদের মাধ্যমে খবর পেয়ে এখানে আসেন।’

কৃষিবিদ সোহানুর রহমান বলেন, ‘দেশে কৃষিতে শ্রমিক সংকট ক্রমেই বাড়ছে। একই সঙ্গে উৎপাদন ব্যয়ও বাড়ছে। এই পরিস্থিতিতে যান্ত্রিকীকরণের বিকল্প নেই। তবে যন্ত্রের উচ্চমূল্য অনেক কৃষকের জন্য বড় বাধা। সেই জায়গায় ব্যবহৃত কৃষিযন্ত্রের এমন বাজার কৃষকদের জন্য কার্যকর সমাধান হয়ে উঠতে পারে।’

এ বিষয়ে ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রিপা রানী চৌহান বলেন, ‘পুরোনো কৃষিযন্ত্রের এই বাজার শুধু কেনাবেচার জায়গা নয়, এটি কৃষকদের মধ্যে আধুনিক প্রযুক্তি ছড়িয়ে দেওয়ারও একটি কার্যকর মাধ্যম। কম খরচে যন্ত্রের মালিক হতে পারায় কৃষকরা যান্ত্রিক চাষাবাদের দিকে আরও বেশি আগ্রহী হচ্ছেন। এতে উৎপাদন ব্যয় কমার পাশাপাশি কৃষির আধুনিকায়নও ত্বরান্বিত হচ্ছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘কৃষিতে শ্রমিক সংকট মোকাবিলা এবং উৎপাদন ব্যয় কমাতে যান্ত্রিকীকরণের বিকল্প নেই। তবে ব্যবহৃত যন্ত্র কেনার আগে অবশ্যই এর কার্যক্ষমতা ও যান্ত্রিক অবস্থা ভালোভাবে যাচাই করা উচিত।’

চট্টগ্রামে ইন্টারনেট সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানে হামলা, গ্রেপ্তার ৮

প্রকাশ: ১৫ জুলাই ২০২৬, ১০:৫৯ পিএম
চট্টগ্রামে ইন্টারনেট সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানে হামলা, গ্রেপ্তার ৮
ছবি: সংগৃহীত

চট্টগ্রাম নগরের চকবাজার থানাধীন চন্দনপুরা এক্সেস রোড এলাকায় ডিজিটাল ডটনেটের (ডিডিএন) কার্যালয়ে হামলার ঘটনায় আটজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। 

বুধবার (১৫ জুলাই) বিকালে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি) থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। 

গ্রেপ্তাররা হলেন- মো. ইউনুস (৪১), ইমরান হোসেন চ্যাং (৩১), আকবর হোসেন (২৪), মো. সুমন (২৭), মো. মনির ওরফে কেহেরমান (৩৮), মো. গিয়াস উদ্দিন (২১), মো. নয়ন (২০) ও মোহাম্মদ আবদুল নাহিদ ওরফে ফরহাদ (২৮)।

সিএমপি জানিয়েছে, মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) রাতভর নগরের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। এরমধ্যে নগরের বিভিন্ন থানায় মো. ইউনুসের বিরুদ্ধে চাদাঁবাজি, মানবপাচার, মাদক, ছিনতাইয়ের মোট ৫টি মামলা, ইমরান হোসেন চ্যাং এর বিরুদ্ধে চাদাঁবাজি, মারামারি, চোরাচালান, দ্রুত বিচার আইনে মোট ১২টি মামলা, আকবর হোসেনের বিরুদ্ধে চাদাঁবাজি, সন্ত্রাস দমন ও মারামারির মোট ৬টি মামলা, মো. সুমনের বিরুদ্ধে বিশেষ ক্ষমতা আইন, অস্ত্র, মাদক ও মারামারির মোট ৬টি মামলা, মো. মনির ওরফে কেহেরমানের বিরুদ্ধে অস্ত্র, মাদক ও মারামারির মোট ৭টি মামলা ও মো. নয়নের বিরুদ্ধে ডাকাতি ও চুরির মোট ৪টি মামলার তথ্য পাওয়া গেছে। 

উল্লেখ্য, গত ১৩ জুলাই দুপুর সোয়া ১২টার দিকে নগরের চকবাজার থানাধীন চন্দনপুরা এক্সেস রোড এলাকায় ডিজিটাল ডটনেটের (ডিডিএন) কার্যালয়ে হামলা চালায় একদল সন্ত্রাসী। এ সময় তারা ব্যাপক ভাঙচুর চালিয়ে প্রায় ৩৫ লাখ টাকা লুট করে নিয়ে যায় বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ। তাদের দাবি, দুই কোটি টাকা চাঁদা না দেওয়ায় সন্ত্রাসীরা এ হামলা চালিয়েছে।

এ বিষয়ে প্রতিষ্ঠানটির মালিক আদিল বিন মামুন বলেন, ‘গত শনিবার (১১ জুলাই) বিকেল ৪টায় হোয়াটস অ্যাপে অজ্ঞাত এক ব্যক্তি আমাকে কল করেন। তিনি বলেন, তার নাম ডেভিড ইমন। এরপর বলেন, চট্টগ্রাম শহরে ব্যবসা করতে গেলে আমাদের সঙ্গে সমন্বয় করতে হবে। অন্যথায় ব্যবসা করিয়েন না। ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেন। আপনার ব্যবসা আমার ছেলেরা করবে। আপনি আমার সম্পর্কে জানেন না। বেশি দূর যেতে হবে না। পুলিশ কমিশনারকে জিজ্ঞেস করিয়েন আমার সম্পর্কে। হাটহাজারী, মুরাদপুর, দুই নম্বর গেট থেকে শুরু করে সব জায়গার গার্মেন্টসসহ অন্য ব্যবসায়ীরা আমাদের সঙ্গে সমন্বয় করে ব্যবসা করছে। আপনি ব্যবসা করতে হলে আমাকে প্রথমে এককালীন নগদ দুই কোটি টাকা দিতে হবে। পাশাপাশি প্রতি মাসে ১০ লাখ টাকা করে দিতে হবে। আপনাকে আমি দুইদিন সময় দিলাম। এর মধ্যে হয় টাকা দেবেন, অন্যথায় ব্যবসা বন্ধ করে দেবেন। নইলে আপনার কী অবস্থা হয় দেখবেন।’ 

আদিল বিন মামুন আরও বলেন, ‘চাঁদার টাকা না পেয়ে সোমবার দুপুরে ৩০ থেকে ৪০ জন মুখোশধারী সন্ত্রাসী দেশি অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে আমার অফিসে হামলা চালায়। এতে আমার কম্পিউটার, ল্যাপটপ, আসবাবপত্র মিলিয়ে প্রায় ১৫ লাখ টাকার ক্ষতি হয়। এ সময় তারা অফিসে থাকা নগদ ৪৭ হাজার টাকা, আমাদের কোম্পানির ডিরেক্টর আরিফুল ইসলামের কাঁধব্যাগে থাকা কর্মীদের বেতন বাবদ ৩৫ লাখ টাকা নিয়ে পালিয়ে যায়।

এ ঘটনায় চকবাজার থানায় গত ১৩ জুলাই অজ্ঞাত আসামিদের বিরুদ্ধে ১৪৩/১৪৭/৪৪৮/৪২৭/৩৮৫/৩৮০/১০৯/৫০৬/৩৪ ধারায় মামলা করেন তিনি (মামলা নং-৭)।

এসএন/

ব্যাংকিং সেবায় ফি-চার্জ না বাড়াতে গভর্নরকে চট্টগ্রাম চেম্বারের চিঠি

প্রকাশ: ১৫ জুলাই ২০২৬, ১০:৫২ পিএম
ব্যাংকিং সেবায় ফি-চার্জ না বাড়াতে গভর্নরকে চট্টগ্রাম চেম্বারের চিঠি
ছবি: সংগৃহীত

ব্যাংকিং সেবায় নতুন করে ফি আরোপ এবং বিদ্যমান চার্জ না বাড়াতে বাংলাদেশ ব্যাংক গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমানকে চিঠি দিয়েছেন চট্টগ্রাম কমার্স অব ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি মোহাম্মদ আমিরুল হক। 

বুধবার (১৫ জুলাই) পাঠানো জরুরি চিঠিতে চেম্বার সভাপতি বলেন, ব্যবসায়ী সমাজ মনে করে, এ জাতীয় প্রস্তাবনার দ্বারা অপ্রয়োজনীয় খরচকে বাধ্যতামূলক করে সাধারণ গ্রাহক ও ব্যবসায়ীদের ওপর চাপিয়ে কেবলমাত্র ব্যাংকিং প্রতিষ্ঠানগুলোর একতরফা মুনাফা বৃদ্ধি করা সম্ভব হলেও এতে করে কস্ট অব ডুয়িং বিজনেস আরো বৃদ্ধি পাবে।

তিনি পত্রে উল্লেখ করেন, জাতীয় অর্থনীতিতে দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা আনয়নে ও কস্ট অব ডুয়িং বিজনেস হ্রাসকল্পে ৬০ হাজার কোটি টাকার বিশেষ প্রণোদনা; একক গ্রাহক ও বৃহৎ ঋণ এক্সপোজার সংক্রান্ত নীতিমালায় সাময়িক শিথিলতা; এলসি ব্যতীত সরাসরি আমদানি করা এবং সুদের 'স্প্রেড' এর সর্বোচ্চ সীমা ৪% নির্ধারণ সংক্রান্ত বাংলাদেশ ব্যাংকের সিদ্ধান্ত ব্যবসায়ী সমাজের কাছে ইতোমধ্যে অত্যন্ত সমাদৃত হয়েছে। সরকারের আকাঙ্খা অনুযায়ী যখন দেশে বেসরকারি খাতে বিনিয়োগ ও জাতীয় অর্থনীতি নতুন করে গতিশীলতা অর্জন করতে যাচ্ছে এমন সময়ে এ জাতীয় নতুন ফি আরোপ ও চার্জ বৃদ্ধির প্রস্তাবনা এই অগ্রগতির পথে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করবে। যা একই সাথে দেশের সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার সরকারের উদ্যোগ ও গৃহীত সিদ্ধান্তও ব্যাহত করবে।

তিনি বলেন, এবিবি’র এলসি আবেদনে ১০০ টাকা, বৈদেশিক এলসি প্রসেসিং এ ২০ ডলার, স্থানীয় এলসি প্রসেসিং এ ১০০০ টাকা, এলসি সত্যায়নের জন্য ১০০০ টাকা, সক্রিয় এলসি বাতিলের জন্য ৫০০ টাকা ও ব্যালেন্স কনফারমেশনে ৩০০ টাকা, ঋণ প্রক্রিয়াকরণ ফি বাড়িয়ে ২%, পুনঃতফসিলে ১% এবং অগ্রিম ঋণ নিষ্পত্তি ফি বৃদ্ধি করে ২% করা, বায়ার্স ক্রেডিট ব্যবস্থাপনায় ১%, কর্পোরেট ঋণ ও ট্রেড ফাইন্যান্স ডিল স্ট্রাকচারিংয়ের উপর ১% চার্জ ও অতিরিক্ত ঝুঁকি প্রিমিয়াম বাবদ ১% ফি আরোপ করার যে প্রস্তাবনা দেয়া হয়েছে তা বাস্তবায়িত হলে স্প্রেড কমানোর কোন সুফল তো আসবেই না, বরং নতুন বিনিয়োগ ও বেসরকারী ঋণপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত হয়ে সামগ্রিক অর্থনীতির গতিশীলতা আরো হ্রাস ও ভোক্তা পর্যায়ের মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধি পাবে। 

চেম্বার সভাপতি মাসে নগদ টাকা উত্তোলনের ক্ষেত্রে ৪র্থ থেকে ১০ম বার পর্যন্ত ১০০ টাকা এবং এর পরবর্তীতে ৩০০ টাকা করে চার্জ আরোপ করা, বিনা চার্জের সঞ্চয়ী গড় স্থিতির সীমা কমিয়ে ৫ হাজার টাকা, ২৫ হাজার টাকার বেশি স্থিতিতে ৩০০ টাকা ফি কাটার প্রস্তাব কার্যকর না করার জন্যও বাংলাদেশ ব্যাংক গভর্নরকে অনুরোধ করেন। 

পত্রে তিনি আরও উল্লেখ করেন, দেশে বেসরকারি খাতে বিনিয়োগ ও অর্থনীতি বর্তমানে যে ক্রান্তিকাল অতিক্রম করছে এমন সময়ে অহেতুক কস্ট অব ডুয়িং বিজনেস বৃদ্ধি করার মত যে কোন পক্ষের এমন পদক্ষেপ গ্রহণ বা প্রস্তাব আত্মঘাতি হবে বলে আমরা মনে করি।

এসএন/

বাঁশখালীতে ২০০০ বন্যাদুর্গত মানুষের মাঝে ত্রাণ বিতরণ

প্রকাশ: ১৫ জুলাই ২০২৬, ১০:৪৫ পিএম
আপডেট: ১৫ জুলাই ২০২৬, ১০:৫০ পিএম
বাঁশখালীতে ২০০০ বন্যাদুর্গত মানুষের মাঝে ত্রাণ বিতরণ
বাঁশখালীতে জাগরণী চক্র ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে ত্রাণ বিতরণ। ছবি: খবরের কাগজ

চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা জাগরণী চক্র ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে দুই হাজার বন্যাদুর্গত মানুষের মাঝে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে।

বুধবার (১৫ জুলাই) দুপুরে উপজেলার খানখানাবাদ ইউনিয়ন পরিষদ মাঠে ত্রাণ ও পুনর্বাসন মন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু এমপির উপস্থিতিতে এই ত্রাণ সামগ্রী উপজেলা প্রশাসনের কাছে হস্তান্তর করা হয়। পরে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের মাধ্যমে তা দুস্থ ও বন্যাদুর্গত মানুষের মাঝে সুশৃঙ্খলভাবে বিতরণ করা হয়।

ত্রাণ বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ত্রাণ ও পুনর্বাসন মন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু বলেন, ‘যেকোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগে সরকারের পাশাপাশি জাগরণী চক্র ফাউন্ডেশনের মতো বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার এই সক্রিয় অংশগ্রহণ অত্যন্ত প্রশংসনীয়। বন্যাদুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে সরকারকে সহযোগিতা করায় আমি সংস্থাটির প্রতি গভীর সন্তোষ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।’

জাগরণী চক্র ফাউন্ডেশনের ডিরেক্টর (মাইক্রোফাইন্যান্স) মো. আজিজুল হক বলেন, ‘মানুষের যেকোনো দুর্যোগে পাশে থাকাই জাগরণী চক্র ফাউন্ডেশনের মূল অঙ্গীকার। আমরা বিশ্বাস করি, মানবিক দায়িত্ব পালনের মধ্য দিয়েই একটি উন্নয়ন সংস্থা তার প্রকৃত ভূমিকা পালন করতে পারে।’

তিনি আরও জানান, চলমান বন্যা পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত প্রয়োজন অনুযায়ী প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে তাদের এই মানবিক সহায়তা কার্যক্রম অব্যাহত রাখা হবে।

১৯৭৬ সালে প্রতিষ্ঠিত জাগরণী চক্র ফাউন্ডেশন দীর্ঘ পাঁচ দশক ধরে বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে কাজ করে আসছে। বর্তমানে সংস্থাটি দেশের ৫৭টি জেলায় প্রায় সাত লক্ষাধিক ক্ষুদ্রঋণ সুবিধাভোগীর সঙ্গে সম্পৃক্ত রয়েছে। আর্থিক সহায়তার পাশাপাশি জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, জীবিকায়ন, নারীর ক্ষমতায়ন, দক্ষতা উন্নয়ন এবং সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচিসহ বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কার্যক্রম সফলভাবে বাস্তবায়ন করছে এই সংস্থাটি।

জাগরণী চক্র ফাউন্ডেশনের ডাইরেক্টর আজিজুল হকের নেতৃত্বে সংস্থার একটি প্রতিনিধিদল এই ত্রাণ সামগ্রী হস্তান্তর করেন। এ সময় অন্যান্যদের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন, স্থানীয় সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ মাওলানা জহিরুল ইসলাম,  চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম মিয়া, উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মোহাম্মদ রুহুল আমিন, খানখানাবাদ ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম সিকদার প্রমুখ।

শফকত/এএফ

স্ক্রিনে শুরু, হৃদয়ে পূর্ণতা

প্রকাশ: ১৫ জুলাই ২০২৬, ১০:৩২ পিএম
আপডেট: ১৫ জুলাই ২০২৬, ১০:৩৭ পিএম
স্ক্রিনে শুরু, হৃদয়ে পূর্ণতা
ছবি: খবরের কাগজ

চার বছর আগে ফেসবুকে পরিচয়। সেই পরিচয় থেকে বন্ধুত্ব, এরপর প্রেম। দুই দেশের দূরত্ব, ভিন্ন সংস্কৃতি কিংবা সীমান্ত কোনো কিছুই থামাতে পারেনি তাদের ভালোবাসাকে। অবশেষে প্রেমিকার হাত ধরতে পাকিস্তানের লাহোর থেকে সরাসরি শরীয়তপুরের জাজিরায় উড়ে এসেছেন ২৬ বছর বয়সী মোজাম্মেল হোসাইন। আর ভালোবাসার সেই গল্প পূর্ণতা পেয়েছে বিয়ের মাধ্যমে।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, প্রায় চার বছর আগে ফেসবুকে পরিচয় হয় লাহোরের বাসিন্দা উর্দুভাষী মোজাম্মেল হোসাইনের সাথে জাজিরার বিলাসপুরের মজিবর শিকদারের একমাত্র মেয়ে তানজিলার। নিয়মিত চ্যাটিং আর ভিডিও কলের মাধ্যমেই তৈরি হয় গভীর ভালোবাসার সম্পর্ক। সেই সম্পর্কের টানেই গত শনিবার লাহোর থেকে সরাসরি জাজিরার বিলাসপুরের রহিম উদ্দিন মালাই মৃধাকান্দি এলাকার প্রেমিকার বাড়িতে এসে হাজির হন মোজাম্মেল। এরপর মঙ্গলবার তাদের পারিবারিকভাবে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়।

তানজিলা বলেন,  প্রায় চার বছর আগে ফেসবুকে আমাদের পরিচয় হয়। পরে নিয়মিত কথা বলার পর  ভালোলাগা থেকে প্রেমের সম্পর্ক তৈরি হয়। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর সেই সম্পর্ককে বাস্তব রূপ দিতেই লাহোর থেকে সরাসরি জাজিরায় ছুটে আসেন মোজাম্মেল। পরিবারের সম্মতিতে স্থানীয় ইমামের মাধ্যমে শরীয়াহ অনুযায়ী আমাদের বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে। আমি আমার স্বামীর সাথে পাকিস্তানে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছি। 

তানজিলার মা আসমা আক্তার বলেন, ছেলের পরিবারের সাথে আমাদের নিয়মিত যোগাযোগ হচ্ছে। এতো দূরে মেয়েকে বিয়ে দিতে কিছুটা খারাপ লাগলেও আমাদের মনে কোনো ভয় বা শঙ্কা নেই।

বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে জাজিরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সালেহ আহমেদ বলেন, আমরা এই বিষয়টি সম্পর্কে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে অবগত নই। অতি দ্রুত খোঁজ খবর নিয়ে দেখবো। 

বিধান মজুমদার অনি/এসএন