পাবনার ঈশ্বরদীর বিভিন্ন সড়কে তিন চাকার অবৈধ যানের অবাধ বিচরণ বেড়ে গেছে। সরকারি বিধিনিষেধ না মেনে আঞ্চলিক সড়কের পাশাপাশি মহাসড়কেও দিনে-রাতে এসব অবৈধ যান দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। এতে প্রায়ই ঘটছে দুর্ঘটনা। পঙ্গুত্ব বরণের পাশাপাশি অনেকেই প্রাণ হারাচ্ছেন। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, অবৈধ যানের দৌরাত্ম্য কমানো না গেলে সড়ক দুর্ঘটনা কমবে না। এ বিষয়ে পুলিশকে আরও সক্রিয় হতে হবে। অন্যদিকে পরিবর্তিত রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে মানুষের মধ্যে সড়ক-আইন না মানার প্রবণতা তৈরি হয়েছে জানিয়ে পুলিশ বলছে, জনবল সংকটের কারণে তারা চাইলেও অনেক কিছু করতে পারেন না।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, উপজেলার ঈশ্বরদী-পাবনা, মুলাডুলি-দাশুড়িয়া, দাশুড়িয়া-কুষ্টিয়া, ঈশ্বরদী-বানেশ্বর (রাজশাহী) সড়কে অবৈধ নসিমন-করিমন, ভটভটি, থ্রি-হুইলার, অটোরিকশাগুলো চলাচল করে থাকে। এ ছাড়া উপজেলার আঞ্চলিক সড়কেও এসব অবৈধ যানবাহনের অবাধ চলাচল রয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, সড়কের দায়িত্বে থাকা ট্রাফিক ও হাইওয়ে পুলিশ সবকিছু দেখেও না দেখার ভান করে থাকে। অবৈধ এসব যানবাহন থেকে মাসিক ভিত্তিতে চাঁদার লেনদেন করা হয়। এ কারণে এগুলোর চালকরা কাউকে পরোয়া করেন না।
সরেজমিনে দেখা যায়, ঈশ্বরদী শহরের ঢুলটি এলাকায় ঈশ্বরদী-পাবনা মহাসড়ক দিয়ে পাল্লা দিয়ে নসিমন-করিমন, ভটভটি, অটোরিকশা অবাধে চলাচল করছে। সড়কের কোথাও কোথাও হাইওয়ে, ট্রাফিক পুলিশ থাকলেও তারা এসব যান থামাচ্ছেন না। একই চিত্র দেখা গেছে মুলাডুলি-দাশুড়িয়া, দাশুড়িয়া-কুষ্টিয়া, ঈশ্বরদী-বানেশ্বর সড়কে।
ঈশ্বরদী-পাবনা সড়কে নিয়মিত রিকশা চালান এমন তিনজনের সঙ্গে কথা হয় প্রতিবেদকের। তারা জানান, পুলিশকে ম্যানেজ করে সড়ক-মহাসড়কে বিভিন্ন ধরনের অবৈধ যানবাহন দিন-রাত চলাচল করছে। এগুলো বন্ধ না হলে রাস্তায় দুর্ঘটনা কমবে না।
ঈশ্বরদী শহর ট্রাফিক পুলিশের পরিদর্শক আবদুল্লাহ মাহমুদ বলেন, ‘ঈশ্বরদী-বানেশ্বর সড়কের নির্মাণকাজ সম্প্রতি শেষ হয়েছে। ঈশ্বরদী ট্রাফিক পুলিশের এরিয়া সড়কটির আড়ামবাড়িয়া এলাকা পর্যন্ত। কিন্তু এখন পর্যন্ত এ সড়কে যানবাহন নিয়ন্ত্রণে লোকবল দেওয়া হয়নি। তার পরও আমাদের টহল ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় কাজ অব্যাহত রয়েছে। এ সড়কে যানবাহন নিয়ন্ত্রণ ও বৈধ কাগজ চেক করার জন্য প্রায় সময় বিশেষ টিম কাজ করে থাকে।’ তবে সড়কে চাঁদাবাজির বিষয়টি তিনি অস্বীকার করেন।
উপজেলার পাকশী হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এম এ ওয়াদুদ বলেন, ‘পরিবর্তিত পরিস্থিতি, লোকবল সংকট, বদলিসহ বিভিন্ন কারণে সড়কে যানবাহন নিয়ন্ত্রণ কিছুটা ব্যাহত হচ্ছে। এ কারণে যানচালকদের মধ্যে সড়ক আইন মানার প্রবণতাও কমেছে। যে যার মতো করে সড়কে চলাচল করছেন।’ তিনি বলেন, ‘নানা সমস্যা থাকা সত্ত্বেও আমাদের কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। আশা করছি, এসব সমস্যা অচিরেই দূর হবে। তখন আমাদের কার্যক্রম পুরোদমে শুরু হবে।’ চাঁদাবাজির বিষয়ে এই কর্মকর্তা বলেন, ‘এর আগে কী হয়েছে জানি না। আমি এসেছি এক মাস হলো। আমার সময়ে এমন কোনো ঘটনা ঘটেনি।’
ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহিদুল ইসলাম বলেন, সড়ক-আইন অমান্য করার পাশাপাশি কেউ যদি লাইসেন্স ছাড়া গাড়ি চালান, তা হলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।