জীবন-সংসার চলে না, তারপরও বাপ-দাদার ঐতিহ্য ধরে রেখেছেন তারা। মাটি দিয়ে নানা জিনিস তৈরি করে তারা বিক্রি করছেন। পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার মুলাডুলি ও সাড়া ইউনিয়নের শতাধিক পরিবার এভাবে জীবিকা নির্বাহ করছে। তারা কয়েক প্রজন্ম ধরে মাটি দিয়ে পাট বা চাকি, কাঁসা, চাড়ি, দইয়ের হাঁড়ি, ব্যাংকসহ নানা উপকরণ তৈরি ও বিক্রি করে আসছে। বর্তমানে প্লাস্টিকের টব, ব্যাংকসহ নানা উপকরণ বাজার দখল করায় মাটির জিনিসের কদর অনেক কমে গেছে। তবে টয়লেটের পয়ঃনিষ্কাশনের জন্য মাটির তৈরি পাট বা চাকির এখনো চাহিদা আছে। কারিগররা জানান, কিছুদিন ধরে এর চাহিদা বেড়েছে। এতে এখন তারা ব্যস্ত সময় পার করছেন।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ঈশ্বরদীর মুলাডুলি ও সাঁড়া ইউনিয়নের আড়ামবাড়িয়া এলাকায় শতাধিক পরিবার মাটি দিয়ে বিভিন্ন উপকরণ তৈরি করে জীবিকা নির্বাহ করে। তবে পাট ছাড়া অন্যান্য মাটির জিনিসের বাজারে আর তেমন চাহিদা নেই। এতে অনেক পরিবার অর্থকষ্টে দিন কাটাচ্ছে। পুঁজি না থাকায় তারা অন্য ব্যবসায়ও যেতে পারছে না।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, কেউ পাট তৈরি করছেন, কেউ পানিতে গুলে মাটি প্রস্তুত করছেন। কেউ বা শুকানো চাকি, কাঁসা, টব সাজিয়ে বিক্রির অপেক্ষায় আছেন।
কারিগর সাধন পাল ২০ বছর ধরে পাট তৈরি করছেন। তিনি জানান, প্রতিদিন ছোট-বড় ২০ থেকে ৩০টি পাট তৈরি করেন। রোদ থাকলে চার দিনে শুকিয়ে মজবুত হয়। বড় সাইজের প্রতিটি পাট ১০০ টাকা, মাঝারি সাইজের ৭০-৮০ টাকায় বিক্রি হয়। সাধন পাল বলেন, ‘আগে মাটি কিনতে হতো না, এখন কিনতে হয়। দামও বেশি। ফলে লাভ তেমন হয় না। কোনো রকমে সংসার চলে।’
আরেক কারিগর বিমল চন্দ্র পাল বলেন, ‘মাটির কাঁসা, টব, ব্যাংকের চাহিদা নেই। তবে পাটের চাহিদা আছে এবং বাড়ছে। নাটোরের লালপুর, দুরদুড়িয়া থেকেও অনেকে পাট কিনে আনে।’ তিনি আরও বলেন, ‘ধনী-মধ্যবিত্ত অনেকে এখনো টয়লেটের সেফটি ট্যাংকে মাটির পাট ব্যবহার করেন। এটি নিরাপদ, ৪০-৫০ বছরেও নষ্ট হয় না। কেউ ২০টি, কেউ ৪০টি পাট লাগিয়ে ট্যাংক তৈরি করেন।’
বিমল চন্দ্র পাল বলেন, ‘মাটির দাম বেড়ে গেছে, তাই লাভ নেই। শুধু ঐতিহ্য ধরে রাখার জন্যই করছি। সরকারের কোনো সহযোগিতা পাই না, পুঁজি না থাকায় পেশা বদলাতেও পারি না।’
ঈশ্বরদী উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা আতিকুর রহমান বলেন, ‘মৃৎশিল্প কারিগর বা পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর জন্য ক্ষুদ্র ঋণ ও ভাতার ব্যবস্থা আছে। তারা আবেদন করলে বরাদ্দ থাকলে নিয়ম অনুযায়ী তা দেওয়া হবে।’