ঢাকা ২৬ আষাঢ় ১৪৩৩, শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬

সর্বশেষ
মনির খানের ‘মন ভালো নাই’ মুখোমুখি স্পেন-বেলজিয়াম: লড়াইটা কর্তোয়া বনাম ইয়ামালেরও আট কারণে প্রত্যেক মুসলমানের পবিত্র কোরআন বুঝে পড়া আবশ্যক হরমুজ প্রণালীতে ৮০০ জাহাজ পারাপারে মার্কিন সহায়তা: সেন্টকম বরিশালে অনিশ্চয়তার মুখে ২০ নার্সিং কলেজের শিক্ষার্থীরা স্পেনের দক্ষিণাঞ্চলে দাবানলে ১২ জনের মৃত্যু ৩১ আগস্ট ভোটার তালিকা প্রকাশ, ভোটকেন্দ্র নীতিমালায় পরিবর্তন পাহাড়ধস ও ডুবে আরও ১০ জনের মৃত্যু প্রাণ গেলেও তারা পাহাড় ছাড়তে রাজি নন ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ এখনও শেষ হয়নি, নতুন বার্তা নেতানিয়াহুর ন্যাটোর সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্পের মিথ্যাচার তত্ত্বাবধায়কের অধীনে আগামী নির্বাচন কুমিল্লায় পাহাড়ি ঢলে ভাসল কৃষকের স্বপ্ন পরিচ্ছন্ন ঢাকা গড়তে শিক্ষার্থীদের এগিয়ে আসতে হবে: ডিসি ফরিদা ডাবল পাপড়ির অলকানন্দা ফুল বৃষ্টি হলেই ডোবে খুলনা এক মোহনায় তিন স্বাগতিক তুলা, বৃশ্চিক, ধনু , মকর, কুম্ভ ও মীনের আজকের রাশিফল মেষ, বৃষ, মিথুন, কর্কট, সিংহ ও কন্যার আজকের রাশিফল লা রোজারার সামনে রেড ডেভিলস সাত প্রাচীরের বিশ্বকাপ জনসংখ্যায় মহাশক্তি, ফুটবলে কেন নয়? গুরুর কফিনে শিষ্যের পেরেক ১০ জুলাই  ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচি বিশ্বকাপে লাল-হলুদের ঝড় বিশ্বকাপের নির্মম বাস্তবতা উত্থানের বিশ্বকাপে উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ দেখছেন ক্লিন্সমান সেমিফাইনালে ফ্রান্সের প্রতিপক্ষ কারা? এমবাপ্পে-দেম্বেলের গোলে মরক্কোকে বিদায় করে সেমিফাইনালে ফ্রান্স ৬ মিনিটে দুই গোল, মরক্কোর বিপক্ষে এগিয়ে ফ্রান্স

মানিকগঞ্জ হাসপাতালে আশ্রয়প্রার্থী গৃহবধূ ধর্ষণের শিকার

প্রকাশ: ১২ জানুয়ারি ২০২৬, ০৫:১৩ পিএম
আপডেট: ১২ জানুয়ারি ২০২৬, ০৫:১৫ পিএম
মানিকগঞ্জ হাসপাতালে আশ্রয়প্রার্থী গৃহবধূ ধর্ষণের শিকার
ছবি: খবরের কাগজ

মানিকগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে আশ্রয় নিতে এসে ধর্ষণের শিকার হয়েছেন এক গৃহবধূ।

রবিবার (১২ জানুয়ারি) রাত ৩টার দিকে হাসপাতালের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা দুই আনসার সদস্যের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ আনেন ওই গৃহবধূ।

এ ঘটনায় আনসার সদস্য শাহাদত হোসেন ও আবু সাঈদকে আটক করেছে পুলিশ।

পুলিশ ও নির্যাতনের শিকার গৃহবধূর ভাষ্যমতে, রবিবার রাতে স্বামীর নিজস্ব ব্যাটারিচালিত ভ্যানে করে নারায়ণগঞ্জ থেকে মানিকগঞ্জের বেতিলায় নানার বাড়ি যাচ্ছিলেন তিনি। রাত ৩টার দিকে ভ্যানের চার্জ শেষ হয়ে গেলে তারা সদর হাসপাতালে আশ্রয় নেন। এ সময় হাসপাতালের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা দুই আনসার সদস্য তাদের নানাভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করে।

পরে তারা হাসপাতালের নতুন ভবনের নিচতলায় স্বামীকে রেখে ওই ভবনের দ্বিতীয় তলায় গৃহবধূকে নিয়ে যায়। এরপর আনসার সদস্যরা তাকে নানাভাবে ভয়ভীতি দেখিয়ে জোরপূর্বক সংঘবদ্ধ ধর্ষণ করে বলে অভিযোগ রয়েছে।

পরবর্তীতে ভুক্তভোগী গৃহবধূ নিচতলায় নেমে স্বামীকে পুরো ঘটনা জানালে স্থানীয়দের সহযোগিতায় তারা থানায় গিয়ে আনসার সদস্যদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন।

ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইকরাম হোসেন বলেন, 'এ ঘটনায় ভোরের দিকে দুই আনসার সদস্যকে আটক করা হয়েছে। নির্যাতনের শিকার গৃহবধূকে হাসপাতালে রাখা হয়েছে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।'

আসাদ/রিফাত/

পাহাড়ধস ও ডুবে আরও ১০ জনের মৃত্যু

প্রকাশ: ১০ জুলাই ২০২৬, ০৯:৩২ এএম
পাহাড়ধস ও ডুবে আরও ১০ জনের মৃত্যু
ভারী বর্ষণে ঘরের চাল পর্যন্ত ডুবে গেছে। ছবি: সংগৃহীত

টানা ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে কক্সবাজার ও বান্দরবানে পাহাড়ধসে নতুন করে আরও ৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে বান্দরবানের লামার আজিজনগর ইউনিয়নে পৃথক দুটি পাহাড়ধসের ঘটনায় একই পরিবারের তিনজন এবং অন্য একটি ঘটনায় এক দম্পতি মাটিচাপা পড়ে প্রাণ হারান।

কক্সবাজারের চকরিয়ায় গভীর রাতে ঘুমন্ত অবস্থায় পাহাড়ধসে দুই শিশুর নির্মম মৃত্যু হয়। এ নিয়ে কক্সবাজারে গত চার দিনে পাহাড়ধসে নিহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৯ জনে, যার মধ্যে ১৩ জনই উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বাসিন্দা।

অন্যদিকে কক্সবাজারের চকরিয়া ও মাতামুহুরী উপজেলায় বন্যার পানিতে ডুবে দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ ছাড়া চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় পানির স্রোতে তলিয়ে যাওয়া নিখোঁজ কিশোরের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

এদিকে রাঙামাটির সাজেকে এখনো আটকা রয়েছেন তিন শতাধিক পর্যটক। ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ের পাদদেশে বসবাসকারীদের দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রে সরে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।

লামায় পাহাড়ধসে পৃথক দুই পরিবারের ৫ জনের মৃত্যু
বান্দরবান প্রতিনিধি জানান, বান্দরবানের লামা উপজেলার আজিজনগর ইউনিয়নের মিশনপাড়া (পাগলির ঝিরি) এলাকায় পৃথক দুটি পাহাড়ধসের ঘটনায় পাঁচজন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে তিনজন একই পরিবারের।  এবং অপর ঘটনায় স্বামী-স্ত্রীর মৃত্যু হয়েছে। 

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) ভোরে এ দুটি দুর্ঘটনা ঘটে। প্রথম ঘটনাটি ঘটে ভোর রাত ৪টার দিকে। ওই সময় পাহাড়ধসে বসতঘরের ওপর মাটি এসে পড়লে ঘুমন্ত অবস্থায়  মো. ইউনুস (৪০), তার স্ত্রী রানু আক্তার (৩৫) এবং তাদের পাঁচ বছর বয়সী ছেলে মো. সোলেমান মাটিচাপা পড়ে মারা যান।

এর প্রায় দেড় ঘণ্টা পর, ভোর সাড়ে ৫টার দিকে একই এলাকার আরেকটি পাহাড়ধসে একতলা পাকা ঘরের দেয়াল ও মাটির নিচে চাপা পড়ে মারা যান স্বামী-স্ত্রী মো. জুয়েল (৩৪) ও কুলছুমা আক্তার (২৫)।

স্থানীয়দের চিৎকারে আশপাশের লোকজন ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। পরে ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশের সদস্যরা উদ্ধার অভিযান চালিয়ে পাঁচজনের মরদেহ উদ্ধার করেন।

পুলিশ সুপার মো. ওহাবুল ইসলাম খন্দকার বলেন, একই এলাকায় পৃথক দুই ঘটনায় নিহত হয়েছে শিশুসহ ৫ জন। মরদেহগুলো উদ্ধার করা হয়েছে এবং এ ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

এদিকে টানা বৃষ্টির কারণে লামাসহ বান্দরবানের বিভিন্ন এলাকায় পাহাড়ধসের ঝুঁকি বেড়েছে। নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হওয়ায় জনজীবন ও সড়ক যোগাযোগও ব্যাহত হচ্ছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রে সরে যাওয়ার আহ্বান জানানো হলেও অনেকেই এখনো সেখানে যেতে অনাগ্রহী। অন্যদিকে টানা বৃষ্টির কারণে বিভিন্ন উপজেলার সড়ক যোগাযোগ, বিদ্যুৎ সংযোগ ও নেটওয়ার্ক বিচ্ছিন্ন রয়েছে।

চকরিয়ায় পাহাড়ধসে ঘুমন্ত দুই শিশুর মৃত্যু
কক্সবাজার ও পেকুয়া প্রতিনিধি জানান, কক্সবাজারে মাত্র চার দিনের ব্যবধানে জেলার বিভিন্ন স্থানে পাহাড়ধসে প্রাণ হারিয়েছেন ১৯ জন। 

নিহতদের মধ্যে উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ১৩ জন এবং স্থানীয় বাসিন্দা ৬ জন রয়েছেন। টানা বৃষ্টিতে পাহাড়ঘেঁষা বসতিগুলোতে আতঙ্ক বিরাজ করছে। প্রশাসনের সতর্কতা সত্ত্বেও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাস করায় আরও বড় দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা। সবশেষ গতকাল বুধবার মধ্যরাতে চকরিয়া উপজেলার বরইতলী ইউনিয়নে পাহাড়ধসে দুই শিশুর মৃত্যু হয়। 

নিহতরা হলেন, বরইতলী ইউনিয়নের আবদুল মজিদের ছেলে ওবাইদুল ইসলাম (১৩) ও মো. কাজলের মেয়ে রুমী আক্তার (১৩)। এ ঘটনায় আহত হন এক নারী। চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহিন দেলোয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। 

স্থানীয়রা জানান, গভীর রাতে পরিবারের সদস্যরা ঘুমিয়ে থাকা অবস্থায় টানা বৃষ্টিতে নরম হয়ে যাওয়া পাহাড়ের একটি বড় অংশ ধসে তাদের বসতঘরের ওপর পড়ে। এতে ঘরের ভেতরে থাকা তিনজন মাটিচাপা পড়েন। চিৎকার শুনে স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত উদ্ধারকাজ শুরু করেন। দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর লাইলা বেগমকে জীবিত উদ্ধার করা হলেও রুমি ও তৌছিফকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।

ইউএনও শাহীন দেলোয়ার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। তিনি জানান, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পাশে প্রশাসন রয়েছে। একই সঙ্গে ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ের পাদদেশে বসবাসকারীদের দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যাওয়ার জন্য বলা হয়েছে।

এর আগে গত রবিবার রাতে উখিয়ার ৭, ১১ ও ১৫ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পৃথক তিনটি পাহাড়ধসের ঘটনায় ৮ রোহিঙ্গার মৃত্যু হয়। একই রাতে কক্সবাজার শহরের সাত্তারঘোনা এলাকায় একজন এবং পেকুয়ায় একজনের মৃত্যু হয়। 

গত মঙ্গলবার দুপুর ২টার দিকে কক্সবাজার সদর উপজেলার দরিয়ানগর বড় ছড়া হাজীঘোনা এলাকায় একজন মারা যান। এদিন বেলা ৩টার দিকে উখিয়া উপজেলার হলদিয়াপালং ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের জামবাগান এলাকায় দেয়াল চাপা পড়ে এক দিনমজুরের মৃত্যু হয়।

গত বুধবার দুপুর আড়াইটার দিকে উপজেলার ৫ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ব্লক এ-৩ এলাকায় অবস্থিত খদিজাতুল কুবরা মহিলা মাদ্রাসা ও হিফজখানায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। কক্সবাজার আবহাওয়া অফিসের সহকারী আবহাওয়াবিদ মো. আবদুল হান্নান জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় ৯৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। 

চকরিয়া ও মাতামুহুরীতে বন্যার পানিতে ডুবে দুই শিশুর মৃত্যু
কক্সবাজারের চকরিয়া ও মাতামুহুরী উপজেলায় বন্যার পানিতে ডুবে দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। গতকাল সকালে মাতামুহুরী উপজেলার কোনাখালী ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের চরপাড়া এলাকায় এবং বিকেলে চকরিয়া উপজেলার কাকারা ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের মাইজ কাকারা এলাকায় এ দুটি দুর্ঘটনা ঘটে। মারা যাওয়া শিশুরা হলো- চকরিয়ার মাইজ কাকারা এলাকার সোলতান আহমদের ছেলে ওয়াকিম (২) ও মাতামুহুরীর চরপাড়া এলাকার আরিফুল ইসলামের ছেলে পুষ্প (৩)।

পানিতে তলিয়ে যাওয়া নিখোঁজ কিশোরের মরদেহ উদ্ধার
সাতকানিয়া (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি জানান, চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলায় মাছ ধরার সময় পানির প্রবল স্রোতে তলিয়ে যাওয়া মোহাম্মদ সাঈদ (১৭) নামে এক কিশোরের মরদেহ উদ্ধার করেছেন স্থানীয়রা। গতকাল দুপুর ২টার দিকে উপজেলার চরতি ইউনিয়নের পশ্চিম দুরদুরী গ্রামের একটি ব্রিজের পাশে জাল দিয়ে মাছ ধরার সময় প্রবল স্রোতে তলিয়ে গিয়ে নিখোঁজ হয় সাঈদ। এর প্রায় ৩ ঘণ্টা পর বিকেল সোয়া ৫টার দিকে বিল থেকে স্থানীয়রা তার মরদেহ উদ্ধার করতে সক্ষম হন। মোহাম্মদ সাঈদ চরতি ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের মধ্যম দুরদুরী গ্রামের মো. ফজলুল হকের ছেলে।

খাগড়াছড়িতে কমতে শুরু করেছে পানি, সাজেকে এখনো আটকা ৩ শতাধিক পর্যটক
খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি জানান, খাগড়াছড়িতে টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট বন্যা পরিস্থিতির ধীরে উন্নতি হচ্ছে। গতকাল দুপুর ১২টার পর থেকে বৃষ্টি বন্ধ থাকায় চেঙ্গী ও মাইনী নদীসহ বিভিন্ন ছড়া-খালের পানি কমতে শুরু করেছে। তবে সন্ধ্যার দিকে আবারও হালকা ঝিরঝিরি বৃষ্টি হয়েছে জেলার বিভিন্ন এলাকায়। পানি খুব ধীরে নামছে। তাই জেলা সদর, দীঘিনালা, মহালছড়ি, পানছড়ি ও মাটিরাঙা উপজেলার অনেক নিম্নাঞ্চল এখনো পানিতে তলিয়ে রয়েছে। কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সড়কে যান চলাচল এখনো স্বাভাবিক হয়নি।

দীঘিনালা উপজেলার কবাখালী, বাঘাইহাট ও মাচালং এলাকায় সড়কের ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হওয়ায় খাগড়াছড়ির সঙ্গে সাজেক, বাঘাইছড়ি ও রাঙামাটির লংগদুর সড়ক যোগাযোগ এখনো বিচ্ছিন্ন রয়েছে। তবে গতকাল বিকেলে সেনাবাহিনীর সহযোগিতায় শতাধিক পর্যটক নৌকায় পানি পেরিয়ে খাগড়াছড়ি শহরে পৌঁছেছেন। এখনো সাজেকে আটকা পড়ে আছেন তিন শতাধিক পর্যটক। তবে তাদের জন্য থাকা ও খাবারের ব্যবস্থা অব্যাহত রাখা হয়েছে। আশা করা হচ্ছে, পরিস্থিতি ঠিকঠাক থাকলে সাজেকে আটকে পড়া পর্যটকরা আজ খাগড়াছড়িতে ফিরতে পারবেন। এ ছাড়া কয়েকটি স্থানে সড়ক তলিয়ে যাওয়ায় এখনো বন্ধ রয়েছে খাগড়াছড়ি-রাঙামাটি সড়কের যান চলাচল।

এদিকে অব্যাহত বর্ষণের কারণে তৈরি হওয়া পাহাড়ধসের শঙ্কা এখনো পুরোপুরি কাটেনি। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের সতর্ক থাকতে এবং প্রয়োজন হলে আশ্রয়কেন্দ্রে চলে যেতে প্রশাসনের নির্দেশনা বহাল রয়েছে। 

খাগড়াছড়ির জেলা প্রশাসক মো. আনোয়ার সাদাত জানান, পুরো জেলায় ১৩৫টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছিল। তবে গতকাল আরও ১৪টি বাড়িয়ে ১৪৯টি করা হয়েছে। এসব আশ্রয়কেন্দ্রে গতকাল সন্ধ্যা পর্যন্ত প্রায় ১ হাজার ৮০০ মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন।

রাঙামাটিতে পাহাড়ধসের শঙ্কার মাঝেই বন্যার পদধ্বনি, আশ্রয়কেন্দ্রে ৪ হাজার ২৬৫ মানুষ
রাঙামাটি প্রতিনিধি জানান, রাঙামাটিতে পাহাড়ধসের শঙ্কার মাঝেই বন্যা পরিস্থিতি দেখা দিয়েছে। এরই মধ্যে জেলার ৮ উপজেলা ও দুই পৌর এলাকায় ৩৪টি আশ্রয়কেন্দ্রে ৪ হাজার ২৬৫ জন আশ্রয় নিয়েছেন। জেলার ৬ উপজেলায় ছোট-বড় ১০০টি পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটেছে। সড়ক তলিয়ে যাওয়ায় বাঘাইছড়ি, সাজেক ও রাঙামাটি-খাগড়াছড়ির সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ বন্ধ হয়ে গেছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে সার্বক্ষণিক নজরদারির জন্য রাঙামাটি জেলা প্রশাসন জরুরি কন্ট্রোলরুম স্থাপন করেছে।

অতিবর্ষণ ও উজানের ঢলে গত বুধবার সকাল থেকে জেলার বাঘাইছড়ি ও বিলাইছড়ি উপজেলার নিম্নাঞ্চলে পানি বাড়তে শুরু করে। এর মধ্যেই বাঘাইছড়ি উপজেলায় ৩০টি গ্রাম প্লাবিত হয়ে পড়েছে। সেখানে ১৬টি আশ্রয়কেন্দ্রে ৮০৭ পরিবারের ৩ হাজার ২৪৮ জন আশ্রয় নিয়েছেন। এ ছাড়া সেখানকার ৭ হাজার পরিবারের ২০ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। এ ছাড়া জেলার বিলাইছড়ি উপজেলার নিম্নাঞ্চলের অনেক গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। সেখানে ৪টি আশ্রয়কেন্দ্রে ১২২ জন আশ্রয় নিয়েছেন। পাহাড়ধস ও বন্যার আশঙ্কায় সেখানে ১৪টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। রাঙামাটি-খাগড়াছড়ি সড়কে খাগড়াছড়ির মহালছড়ির মাইসছড়ি এলাকায় সড়ক তলিয়ে যাওয়ায় যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। বাঘাইছড়ি–মারিশ্যা–দীঘিনালা সড়কের ৩ কিলোমিটার এলাকায় রাস্তা ধসে যাওয়ায় যানবাহন চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে পড়েছে।

রাঙামাটিতে বৃষ্টিপাতে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। রাঙামাটি সদর, কাউখালী, কাপ্তাই, বাঘাইছড়ি, নানিয়ারচর ও বিলাইছড়ি উপজেলায় ছোট-বড় ১০০টি পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে বাঘাইছড়িতে ৩৭টি, কাউখালীতে ৩০টি, কাপ্তাইয়ে ১৫টি, রাঙামাটি সদরে ১৩টি, বাঘাইছড়িতে ৩টি এবং নানিয়ারচর উপজেলায় ২টি পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটেছে।

এদিকে বৈরী আবহাওয়ার কারণে নিরাপত্তার জন্য দ্বিতীয় দিনের মতো জেলায় বন্ধ রাখা হয় সব প্রাথমিক বিদ্যালয়। রাঙামাটির জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফী জানিয়েছেন, আশ্রয়কেন্দ্রে তিনবেলা খাবারসহ  সুপেয় পানি দেওয়া হচ্ছে। দুর্গতদের ত্রাণ সরবরাহ ও ঝুঁকিপূর্ণ বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রে আসতে মাইকিং করা হচ্ছে। জরুরি কন্ট্রোল রুম থেকে সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

কুমিল্লায় পাহাড়ি ঢলে ভাসল কৃষকের স্বপ্ন

প্রকাশ: ১০ জুলাই ২০২৬, ০৯:০৯ এএম
আপডেট: ১০ জুলাই ২০২৬, ০৯:১৯ এএম
কুমিল্লায় পাহাড়ি ঢলে ভাসল কৃষকের স্বপ্ন
ছবি ক্যাপশন: গোমতী নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার চরাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। পানিতে ডুবে যাওয়া জমি থেকে শেষ মুহূর্তে ফসল তুলে আনতে ব্যস্ত কৃষকরা। ছবিটি ভান্তি এলাকা থেকে তোলা// খবরের কাগজ

কুমিল্লার বুড়িচংয়ে উজানের পাহাড়ি ঢলে গোমতী নদীর পানি বেড়ে চরাঞ্চলে প্রবেশ করেছে। এতে আগাম জাতের বিভিন্ন সবজি ও কৃষি ফসল তলিয়ে গিয়ে সহস্রাধিক কৃষক ক্ষতির মুখে পড়েছেন।

গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে উপজেলার বালিখাড়া, ভান্তি ও কামারখাড়া এলাকার চরাঞ্চল ঘুরে এ চিত্র দেখা যায়। 
ভান্তি এলাকার কৃষক আবদুল হক বলেন, ‘প্রায় ৩ লাখ টাকা বিনিয়োগ করে আগাম জাতের মুলা ও লাউ চাষ করেছিলাম। হঠাৎ গোমতী নদীর পানি বেড়ে যাওয়ায় পুরো খেত পানির নিচে চলে গেছে।’

আরেক কৃষক সোহেল মিয়া বলেন, ‘লাউ, চিচিঙ্গা, ডাঁটা শাক, চালকুমড়া, মুলাসহ বিভিন্ন সবজি অপরিপক্ব অবস্থায় তুলতে হচ্ছে। পুরোপুরি নষ্ট হওয়ার আগে যতটুকু সম্ভব ফসল উদ্ধার করে বিক্রি করে অন্তত কিছু ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছি। তবু লাখ লাখ টাকার ফসলহানির আশঙ্কা রয়েছে।’

কুমিল্লা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মিজানুর রহমান জানান, উজানের পাহাড়ি ঢলে গোমতী নদীর পানি বৃদ্ধির ফলে বিস্তীর্ণ চরাঞ্চলের হাজারও কৃষকের ফসল পানিতে তলিয়ে গেছে। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণে জরিপ চলছে। জরিপ শেষে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সহায়তায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

বৃষ্টি হলেই ডোবে খুলনা

প্রকাশ: ১০ জুলাই ২০২৬, ০৯:০০ এএম
আপডেট: ১০ জুলাই ২০২৬, ০৯:১২ এএম
বৃষ্টি হলেই ডোবে খুলনা
ছবি: অপরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থার কারণে ভারী বৃষ্টি হলেই খুলনা নগরীর বেশির ভাগ সড়ক পানিতে তলিয়ে যায়। নগরীর মুজগুন্নী সড়ক এলাকা থেকে তোলা/ খবরের কাগজ

২০১৮-১৯ থেকে ২০২৩-২৪ অর্থবছরে জলাবদ্ধতা নিরসনে খুলনায় প্রায় ৮২৩ কোটি টাকার মেগা প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছে সিটি করপোরেশন। তবে এসব প্রকল্পের মাধ্যমে করা অপরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন ও পাম্প স্টেশন নির্মাণে ধীরগতিসহ নকশায় ত্রুটির বিষয়টি সাম্প্রতিক সময়ে সামনে এসেছে। বৃষ্টি হলেই এখন ড্রেনের নোংরা পানিতে বাড়িঘর, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান সয়লাব হয়ে যায়। দীর্ঘ সময় পানি জমে জলাবদ্ধতায় ভোগান্তি তৈরি হয়।

এদিকে জলাবদ্ধতার কারণে চাপের মুখে পড়েছে সিটি করপোরেশন। প্রকল্প বাস্তবায়নের নামে লুটপাটের অভিযোগ তুলেছেন নাগরিক সংগঠনের নেতারা ও রাজনৈতিক নেতারা। বিগত দিনে দুর্নীতির খতিয়ান তুলে শ্বেতপত্র প্রকাশের দাবি জানানো হয়েছে নতুন প্রশাসকের কাছে।

খুলনা আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, গত বুধবার মধ্যরাত থেকে গতকাল বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) ভোর ৬টা পর্যন্ত খুলনায় ৭৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়। এই বৃষ্টিতে শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়কসহ নিচু এলাকা তলিয়ে যায়। অনেক এলাকায় বাসাবাড়ি ও দোকানপাটে পানি ঢুকে পড়ায় বিপাকে পড়েন বাসিন্দারা।

বৃষ্টিপাতের ফলে নগরীর টুটপাড়া, রয়েল মোড়, মিস্ত্রিপাড়া, আহসান আহমেদ রোড, খানজাহান আলী সড়ক, বাস্তুহারা, বাইতিপাড়া, চানমারী, লবণচরা, রূপসা নতুন বাজারসহ অধিকাংশ নিম্নাঞ্চল পানিতে তলিয়ে আছে।

মোল্লাপাড়া এলাকার বাসিন্দা ইলিয়াস হোসেন জানান, বৃষ্টি হলেই রাস্তা-ঘাট পানিতে তলিয়ে যায়। কাদাপানিতে চরম ভোগান্তি তৈরি হয়। নিয়মিত পরিস্কার না করায় পানি অপসারণের ড্রেনগুলো ময়লা-আবর্জনায় আটকে আছে। ফলে বৃষ্টি হলেই ড্রেনের নোংরা পানি চারপাশে ছড়িয়ে পড়ে।

নাগরিক সংগঠন খুলনা নাগরিক সমাজের সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট বাবুল হাওলাদার বলেন, ‘বৃষ্টি হলেই খুলনা নগরী ডুবে যায়। উন্নয়ন সংস্থাগুলোর মধ্যে কোনো সমন্বয় নেই। সারা বছর ধরেই সড়কে খোঁড়াখুঁড়ি চলছে। নগরজুড়ে ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়নে ব্যাপক কাজ হলেও জলাবদ্ধতার পুরানো ভোগান্তি রয়েই গেছে।’

নাগরিক সংগঠনের নেতারা বলছেন, প্রায় ৮২৩ কোটি টাকা ব্যয়ে ড্রেন নির্মাণ ও সংস্কার কাজ করলেও জলাবদ্ধতা পরিস্থিতির সুফল মিলছে না। উল্টো বিভিন্ন স্থানে ধীরগতির উন্নয়ন কাজ, খোঁড়াখুঁড়ি ও অপরিকল্পিত রাস্তা উঁচু করায় শহরের কয়েক হাজার বাড়িঘর রাস্তার তুলনায় নিচু হয়ে গেছে। বৃষ্টি হলেই ড্রেনের নোংরা পানি ওইসব বাড়িঘর, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে প্রবেশ করে। সেই সঙ্গে ঘণ্টার পর ঘণ্টা জলাবদ্ধতায় ভোগান্তিতে পড়েন নগরবাসী।

এদিকে কেসিসি কর্মকর্তারা বলছেন, রূপসা ও ভৈরব নদীর তলদেশ উঁচু হয়ে যাওয়ায় জোয়ারের সময় শহরের পানি নামতে পারে না। ফলে জোয়ারের সময় বৃষ্টি হলে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে। এ ছাড়া বিভিন্ন দপ্তরের সমন্বয়হীন উন্নয়ন কাজ চলমান থাকায় সেখানে পানি নিষ্কাশন ব্যাহত হয়।

বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতির (বেলা) খুলনা বিভাগীয় সমন্বয়কারী মাহফুজুর রহমান মুকুল বলেন, ‘৫ বছর আগে খুলনা নগর ও জেলার তিনটি উপজেলার ময়ূর নদসহ ২৬টি খালে ৪৬০ জন দখলদার এবং ৩৮২টি অবৈধ স্থাপনা চিহ্নিত করা হলেও সেগুলো উচ্ছেদে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। ফলে বৃষ্টির পানি নিষ্কাশন ব্যাহত হচ্ছে।’

জলাবদ্ধতা নিরসনের বিষয়ে খুলনা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেন, বৃষ্টির পানি দ্রুত নিষ্কাশনের বিষয়ে পরিকল্পিতভাবে কাজ করা হচ্ছে। সেই সঙ্গে প্রাকৃতিক খাল, জলাশয় সংরক্ষণ ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন প্রকল্প সম্ভাব্যতা যাচাই করা হচ্ছে। বিগত সরকারের আমলে নগরের জলাবদ্ধতা সমস্যার গভীরে কেউ যায়নি। গত সাড়ে তিন মাসে আমরা সমস্যাগুলো চিহ্নিত করেছি। এখন সমন্বিতভাবে কার্যক্রম হাতে নেওয়া হয়েছে।

সাঙ্গু নদীতে কাঠ সংগ্রহ করতে গিয়ে যুবদল কর্মী নিখোঁজ

প্রকাশ: ০৯ জুলাই ২০২৬, ১০:২৯ পিএম
সাঙ্গু নদীতে কাঠ সংগ্রহ করতে গিয়ে যুবদল কর্মী নিখোঁজ
নিখোঁজ যুবদল কর্মী আবদুল আলম। ছবি: সংগৃহীত

চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার সাঙ্গু নদী থেকে জ্বালানি কাঠ সংগ্রহের সময় নৌকা থেকে পড়ে আবদুল আলম (৩২) নামে এক যুবদল কর্মী নিখোঁজ হয়েছেন।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) ভোর সাড়ে ৩টার দিকে উপজেলার কালিয়াইশ ইউনিয়নের বিওসির মোড় সংলগ্ন সওদাগর পাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

নিখোঁজ যুবদল কর্মী আবদুল আলম একই ইউনিয়ন ৬ নম্বর ওয়ার্ডের হাছনি বড়বাড়ী এলাকার বাসিন্দা।

আবদুল আলমের বড় ভাই নুরুল আলম বলেন, আবদুল আলমসহ চার বন্ধু ভোরে নৌকা নিয়ে সাঙ্গু নদী থেকে জ্বালানি কাঠ সংগ্রহ করতে গিয়েছিলেন। পরবর্তীতে তার দুই বন্ধু বাড়িতে এসে জানান, জ্বালানি কাঠ সংগ্রহ করার সময় আবদুল আলম নদীতে পড়ে নিখোঁজ হয়েছেন। এরপর নৌকায় থাকা অন্য তিন বন্ধু খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান পাননি। পরবর্তীতে আমরাও খোঁজাখুঁজি করার পর এখন পর্যন্ত তার সন্ধান পায়নি।

আরিফুল ইসলাম/নাঈম

সিলেটের নতুন ডিসি আব্দুল্লাহ আল মামুন

প্রকাশ: ০৯ জুলাই ২০২৬, ১০:২৮ পিএম
আপডেট: ০৯ জুলাই ২০২৬, ১০:৩১ পিএম
সিলেটের নতুন ডিসি আব্দুল্লাহ আল মামুন
সিলেটের নতুন জেলা প্রশাসক আব্দুল্লাহ আল মামুন। ছবি: সংগৃহীত

সিলেটের নতুন জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের উপসচিব আব্দুল্লাহ আল মামুন।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) উপসচিব আব্দুল্লাহ আল মামুনকে ডিসি নিয়োগ দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের মাঠ প্রশাসন শাখা-২।

এর আগে, গত ২৮ জুন কুমিল্লার ডিসি মু. রেজা হাসানকে সিলেটের ডিসি নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। রেজা হাসান কুমিল্লার দায়িত্ব ছেড়ে ১ জুলাই সিলেটে যোগ দেওয়ার কথা ছিল। তবে তিনি হযরত শাহজালাল বিমানবন্দরে গেলেও পরে রহস্যজনক কারণে তাকে ফিরিয়ে নেওয়া হয় বলে জানা যায়।

এদিকে কুমিল্লায় রেজা হাসানের স্থলাভিষিক্ত রোজী আকতার। তিনি গত বুধবার দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। অপরদিকে নতুন ডিসি নিয়োগের ফলে রেজা হাসানের সিলেটে যোগদান করা হচ্ছে না।

এর আগে ২১ জুন সিলেটের ডিসি মো. সারওয়ার আলমকে প্রত্যাহার করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে উপসচিব হিসেবে সংযুক্ত করা হয়। প্রজ্ঞাপনে বদলির কারণ উল্লেখ না থাকলেও প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক মহলে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হয়।

দায়িত্ব পালনকালে সারওয়ার আলম কয়েকটি আলোচিত পদক্ষেপ নিয়েছিলেন। সবচেয়ে বেশি আলোচনায় আসেন হজরত শাহজালাল (রহ.) ও হজরত শাহপরান (রহ.)-এর মাজারে দানের অর্থের ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তনের উদ্যোগ নিয়ে।

জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে দানবাক্স ও ঐতিহ্যবাহী দানের ডেগ সিলগালা করা হলে মাজার কর্তৃপক্ষ ও একাংশ ভক্ত-অনুসারী এর বিরোধিতা করেন। অন্যদিকে, স্বচ্ছতা নিশ্চিতের উদ্যোগ হিসেবে অনেকেই সেই পদক্ষেপকে সমর্থন জানিয়েছিলেন।

এএফ/