বগুড়ায় হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে এ পর্যন্ত ৩ জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। তবে এক দিনে দুই শিশু মারা গেছে। রবিবার (২৬ এপ্রিল) সকাল ৯টা পর্যন্ত ২৪ ঘন্টায় হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৩৪জন শিশু।
গত শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) ১১ মাসের ছেলে শিশু রাইয়ানকে হামের উপসর্গ নিয়ে শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে ভর্তি করান বাবা আতিকুল ইসলাম। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শিশু রাইয়ানের শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে থাকলে বাবা আতিকুল ইসলাম ও চিকিৎসকরা উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় যোগাযোগ করেন। কিন্তু শিশুর ২৪ ঘন্টায় অক্সিজেন দেওয়ায় ঢাকায় নিতে পারেননি শিশুকে।
বগুড়ার বনানী এলাকার বেতগাড়ী মধ্যপাড়ায় বসবাস করেন শিশু রাইয়ানের বাবা আতিকুল ইসলাম। হামের উপসর্গ নিয়ে মারা যাওয়ার ঘটনায় তিনি দৈনিক খবরের কাগজকে জানান, শিশুর ৯ মাস বয়সে হামের টিকা দিতে গেলে শিশুর জ্বর থাকায় টিকা দেওয়া বন্ধ রাখা হয়। পরবর্তীতে জ্বর না কমায় আর টিকা দেয়া হয়নি।
তিনি আরও বলেন, বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তার শিশুর জন্য চিকিৎসকরা অনেক গুরুত্ব দিলেও বগুড়ায় পিআইসিইউ (PICU - Pediatric Intensive Care Unit) বা শিশু নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রের বেড না থাকায় তার শিশুসহ কোন শিশুকেও চিকিৎসা দিতে পারেননি চিকিৎসকরা। এ অবস্থায় শিশু রাইয়ানের শারীরিক অবস্থা আরও অবনতি হলে রবিবার (২৬ এপ্রিল) দিবাগত রাত ২ টা ৩০ মিনিটে মারা যায়।
বগুড়ার সিভিল সার্জন অফিস ও বিভিন্ন হাসপাতাল সূত্র এসব তথ্য নিশ্চিত করে জানায়, দুই সপ্তাহ আগে হঠাৎ করেই হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসা কেন্দ্রে রোগীর সংখ্যা বাড়তে থাকে। পরিস্থিতি মোকাবেলায় শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৪০ শয্যার এবং মোহাম্মাদ আলী হাসপাতালে ১০ শয্যার ২টি আইসোলেশন ওয়ার্ড চালু করা হয়েছে। শিশুদের হামের টিকাও দেওয়া হচ্ছে স্থায়ী ও অস্থায়ী কেন্দ্রগুলোতে।
গত ২ মাসে বগুড়ায় এ রোগ ও রোগের লক্ষন নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয় ২৯১জন রোগী।
বগুড়া স্বাস্থ্য বিভাগের চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, বগুড়ায় হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে এ পর্যন্ত তিনজন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। তবে হামের উপসর্গ ছাড়াও নিউমোনিয়াসহ অন্যান্য উপসর্গ নিয়েও ভর্তি হচ্ছে রোগী।
হামের টিকা বিষয়ে ডাক্তাররা বলেন, বগুড়ায় টিকা ক্যাম্পেইন চালু রয়েছে। যেসব শিশুরা পূর্বে টিকা পেয়েছে তাদের আবারও বুস্টার টিকা দেওয়া হচ্ছে।
রিপন/অন্তরা