ঢাকা ২০ আষাঢ় ১৪৩৩, শনিবার, ০৪ জুলাই ২০২৬

সর্বশেষ
কঠিন লড়াইয়ের মানসিকতা থাকতে হবে : মার্তিনেস ফ্রান্সের দুর্ধর্ষ আক্রমণভাগ বনাম গিল প্রাচীর ‘আহাদ! আহাদ!’ ঘানাকে হারিয়ে শেষ ষোলোয় কলম্বিয়া নগরকান্দায় প্রবাসীর বাড়ি দখল করে তালা, পুলিশের হস্তক্ষেপে উদ্ধার কেপ ভার্দের লড়াকু মানসিকতার প্রশংসা বুবিস্তার নাটোরে ৩৫ ফুট কালী প্রতিমা ঘিরে পূজা ও মেলা মায়ানমারে বিমান হামলার আতঙ্কে টেকনাফ সীমান্তের মানুষ পদ্মায় শতাধিক ড্রেজারে বালু উত্তোলন ডাকসুর উদ্যোগে দুই মাসব্যাপী আবৃত্তি-অভিনয় ও সঙ্গীত কর্মশালার উদ্বোধন ঢাকার বাতাস আজ ‘সহনীয়’, দূষণের শীর্ষে কিনশাসা খবরের কাগজ ‘বন্ধুজন’ শৈলকুপা উপজেলা কমিটি গঠিত সহজ প্রতিপক্ষ বলা সমালোচকদের জবাব দিলেন স্কালোনি ইতিহাসের সাক্ষী জিগাগাড়ী জামে মসজিদ জুলাই শহিদদের স্মরণে আজ বিশেষ সভায় থাকবেন প্রধানমন্ত্রী কেপ ভার্দেকে প্রশংসায় ভাসালেন মেসি আদালতের রায়ে বদলে গেল চট্টগ্রাম-৪ এর রাজনৈতিক সমীকরণ তিব্বতের পতাকা নিয়ে জাতিসংঘের সামনে আত্মহত্যা বাড়ছে জমি নিবন্ধনের খরচ ভারতে ইনস্টাগ্রামে শিশু যৌন নির্যাতনের বিজ্ঞাপন অভিজ্ঞতার ঢাল, গতির তলোয়ার ফিলিস্তিনের পতাকা উড়িয়ে যে বার্তা দিলেন মিশরের কোচ ইসলামী ব্যাংক: ছুটি থেকে এসে জানতে পারেন চাকরি নেই আরাগচি-গালিবাফকেও হত্যা করতে চেয়েছিল ইসরায়েল কষ্টার্জিত জয়ে আত্মসমালোচনায় মেসি চট্টগ্রামে রাজস্ব আদায়ে শীর্ষে জ্বালানি-গাড়ি আমদানি অপ্রতিরোধ্য ফ্রান্সের সামনে প্যারাগুয়ে মেসির আরও একটি নতুন ইতিহাস উদাস করা বাবলা ফুল ৪ জুলাই: তুলা, বৃশ্চিক, ধনু, মকর, কুম্ভ ও মীনের আজকের রাশিফল

টেকনাফ থেকে জেলেদের ধরে নিয়ে যাচ্ছে আরাকান আর্মি

প্রকাশ: ০৬ মে ২০২৬, ০৯:২১ এএম
টেকনাফ থেকে জেলেদের ধরে নিয়ে যাচ্ছে আরাকান আর্মি
ফাইল ছবি

মায়ানমারে অভ্যন্তরীণ সহিংসতার পর ২০২৪ সালের ৮ ডিসেম্বর মংডু শহরসহ বাংলাদেশ-মায়ানমার সীমান্তের রাখাইন রাজ্যের প্রায় ২৭১ কিলোমিটার এলাকা দখলে নেয় সে দেশের বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন আরাকান আর্মি। এরপর থেকে শুরু হয় বাংলাদেশি জেলেদের নাফনদী ও বঙ্গোপসাগর থেকে ধরে নিয়ে যাওয়ার ঘটনা। সীমান্ত এলাকায় প্রায়ই এ অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটছে। যা এখন উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আটক জেলেদের শারীরিকভাবে নির্যাতন চালানো হয় এবং ঠিকমতো খাবার দেওয়া হয় না বলে জানা গেছে। 

আরাকান আর্মির কবল থেকে নিরাপত্তার আশায় নাফ নদীর মোহনা এলাকায় সীমানা বয়া স্থাপনের দাবি জানিয়েছেন জেলেরা। জিরো লাইনে সীমানা বয়া না থাকায় গত এক বছরে আরাকান আর্মির হাতে ৩৮৫ জন জেলে আটক হয়েছেন। এর মধ্যে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডসহ অন্যান্য বাহিনীর সহযোগিতায় ২১০ জন জেলেকে দেশে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হলেও এখনো অনেক জেলে আরাকান আর্মির হেফাজতে রয়েছেন। 

বিজিবি সূত্রে জানা যায়, গত ১৬ ফেব্রুয়ারি রবিবার বিকেলে  নাফনদীর শূন্য লাইনে আরাকান আর্মির কাছ থেকে ৭৩ জন জেলেকে গ্রহণ করে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) টেকনাফ পৌরসভা ট্রানজিট জেটিঘাটে তোলে। পরবর্তী সময়ে কাগজপত্র যাচাই-বাছাই শেষে তাদের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। ফেরত আসা জেলেদের মধ্যে ৬৬ জন বাংলাদেশি এবং ৭ জন এফডিএমএন (রোহিঙ্গা) নাগরিক। 

শাহপরীর দ্বীপ ডাংগরপাড়া এলাকার বাসিন্দার মো. কালুর ছেলে জাহাঙ্গীর আলম জানান, শাহপরীর দ্বীপ পশ্চিমপাড়া নৌঘাটে মাছ শিকারের সময় গত বছরের ২৫ আগস্ট সকাল ১০টায় সেন্টমার্টিনের পূর্ব পাশে সাগরে মাছ শিকারের সময় অস্ত্রের মুখে বহু জেলেকে জিম্মি করে ধরে নিয়ে যায় আরাকান আর্মি। দীর্ঘ  ৫ মাস ২৩ দিন পর বিজিবির প্রচেষ্টার মাধ্যমে ৭৩ জন জেলেকে ফেরত আনা হয়েছে। এদের  মধ্যে জাহাঙ্গীর আলমও ছিলেন।

ডাংগরপাড়া এলাকার আরেক বাসিন্দা আবু সামার ছেলে নুর আলম বলেন, আমরা হলাম জেলে, আমাদের মাছ শিকার করে সংসার চালাতে হয়। সাগরে মাছ শিকারে গেলে মায়ানমারের জলসীমা অতিক্রম করার অপরাধে আরাকান আর্মি ধরে নিয়ে যায়। তারা আমাদের কোনো খাবার দিত না এবং হাতে হ্যান্ডকাফ পরিয়ে মাটিকাটাসহ বিভিন্ন ধরনের কাজ করাতো। বাংলাদেশ সরকার যদি জেলে পরিবারের কষ্টের কথা চিন্তা করে নাফনদী থেকে সেন্টমার্টিন পর্যন্ত সীমানা চিহ্নিত করার জন্য বয়া দেয়, তাহলে তা আমাদের জন্য উপকার হবে। তখন মায়ানমারের জলসীমায় আর আমরা প্রবেশ করব না।

শাহপরীর দ্বীপের বাসিন্দা আনোয়ার হোসেন বলেন, দ্বীপের বাসিন্দা হিসাবে সরকারের কাছে আমাদের দাবি- বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীর কাছে নত না হয়ে নাফনদীতে ড্রেজিং করে বিকল্প চ্যানেল ও জিরো লাইন চিহ্নিত করে  সীমানা শনাক্তকরণ বয়া বসানো। তাহলে জেলেদের  আরাকান আর্মির কবল থেকে রক্ষা করা সম্ভব হবে।

টেকনাফ পৌরসভা কায়ুকখালী বোট মালিক সমিতির সভাপতি সাজেদ আহমদ বলেন, ২০২৪ সালের ডিসেম্বর মাসে মায়ানমারের বিচ্ছিন্নতাবাদী সশস্ত্র গোষ্ঠী আরাকান আর্মি  রাখাইন রাজ্যের গুরুত্বপূর্ণ সীমান্তবর্তী শহর মংডুর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণের পর থেকে ঝামেলাটা শুরু হয়েছে। বাংলাদেশ-মায়ানমার জলসীমায় কোনো চিহ্ন না থাকার কারণে আরাকান আর্মি বাংলাদেশি জেলেদের ধরে নিয়ে যায়। জান্তা সরকার থাকাকালীন এভাবে কখনো জেলেদের আটক করা হয়নি। যোগাযোগ ধরে এই চ্যানেল দিয়ে যাতায়াত করে যাচ্ছে ট্রলারগুলো। মাঝেমধ্যে আটক করলেও বিজিবির মাধ্যমে ফেরত আনা হয়।

তিনি বলেন, জেলে পরিবারের কষ্টের কথা চিন্তা করে সরকার যদি যাতায়াতের জন্য বাংলাদেশ-মায়ানমার জলসীমা চিহ্নিত করে বয়া দেয়, তাহলে বোঝা যাবে আরাকান আর্মি জেলেদের বাংলাদেশের জলসীমানা থেকে ধরে নিয়ে যাচ্ছে নাকি মায়ানমারের জলসীমানা অতিক্রম করায় ধরে নিয়ে যাচ্ছে।

টেকনাফ ব্যাটালিয়ন-২ বিজিবির সূত্রে জানা গেছে, আরাকান আর্মি মংডু শহর দখলে নেওয়ার পর থেকে মায়ানমারের জলসীমা অতিক্রমের কারণে প্রায় সময় জেলেদের আটক করে নিয়ে যায়। ২০২৫ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের এপ্রিল মাস পর্যন্ত মাছ ধরার সময় আরাকান আর্মি মোট ৩৮৫ জন জেলেকে আটক করেছে। পরে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডসহ অন্যান্য বাহিনীর সহযোগিতায় বিভিন্ন ধাপে মোট ২১০ জন জেলেকে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। এখনো আরাকান আর্মির হেফাজতে রয়েছে আনুমানিক ১৭৫ জন জেলে।
 
গত ৩০ এপ্রিল দুপুরে টেকনাফ উপজেলার সাবরাং ইউনিয়নের ৫ নম্বর স্লুইস গেটের দক্ষিণে নাফনদী ও এর মোহনা থেকে মাছ শিকারের সময় দুটি নৌকাসহ ৭ জেলেকে ধরে নিয়ে যায় আরাকান আর্মি। আটক জেলেরা হলেন- সাবরাং ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা লাল মিয়ার ছেলে আবদুর রহমান (৫০), নুর আহাম্মদের ছেলে সাব্বির আহমদ (৫৫), মৃত মকবুল আলীর ছেলে গুরা মিয়া (৭০) এবং নুরুল মিয়ানের ছেলে আব্দুল মতলব (৩৫),  শাহপরীর দ্বীপ ডেইলপাড়া এলাকার বাসিন্দা আমতল আলী ও তার দুই ছেলে নুর আবছার ও আবদুর রহিম।

বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন জানান, নাফ নদী ও সংলগ্ন সমুদ্র এলাকায় বাংলাদেশি জেলেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা তাদের অগ্রাধিকারমূলক দায়িত্ব। এ লক্ষ্যে কোস্ট গার্ড নিয়মিত টহল জোরদার করার পাশাপাশি গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করেছে, যাতে জেলেরা নিরাপদে মাছ আহরণ করতে পারেন।

তিনি আরও জানান, জেলেদের সচেতনতা বাড়াতে কাউন্সেলিং, লিফলেট বিতরণ, মাইকিং এবং জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে সেমিনারের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সীমারেখা সম্পর্কে অবহিত করা হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, অনেক জেলে অসাবধানতাবশত কিংবা বেশি মাছ ধরার আশায় আন্তর্জাতিক সীমারেখা অতিক্রম করে ফেলেন। ফলে আরাকান আর্মির হাতে তাদের আটক হওয়ার ঘটনা ঘটে। এ ধরনের পরিস্থিতিতে কোস্ট গার্ড অন্যান্য সংশ্লিষ্ট সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে দ্রুত কূটনৈতিক ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আটক জেলেদের নিরাপদে দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা গ্রহণ করে। জেলেদের সচেতনতা বৃদ্ধি এবং সমন্বিত টহল জোরদারের মাধ্যমে এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা কমাতে কোস্ট গার্ড নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

কক্সবাজার জেলার প্রশাসক মো. আ. মান্নান বলেন, বাংলাদেশ-মায়ানমার জলসীমানা যেহেতু আন্তর্জাতিক সীমানা, তাই সরকারের সংশ্লিষ্ট সব বিভাগের সঙ্গে কথা বলে সীমানা বয়ার ব্যবস্থা করা হবে। 

কক্সবাজার রামু সেক্টর কমান্ডার কর্নেল মহিউদ্দিন আহমেদ বলেন, মাছ শিকারের সময় মায়ানমারের জলসীমানা পার হলে বাংলাদেশি জেলেদের ধরে নিয়ে যাচ্ছে আরকান আর্মি। তবে বিজিবির সীমাবদ্ধতার কারণে সাগরের বিষয়ে কিছু করতে পারে না তারা।

নগরকান্দায় প্রবাসীর বাড়ি দখল করে তালা, পুলিশের হস্তক্ষেপে উদ্ধার

প্রকাশ: ০৪ জুলাই ২০২৬, ০৯:৫৩ এএম
আপডেট: ০৪ জুলাই ২০২৬, ১০:১২ এএম
নগরকান্দায় প্রবাসীর বাড়ি দখল করে তালা, পুলিশের হস্তক্ষেপে উদ্ধার
ভুক্তভোগী ইতালি প্রবাসী জাহিদ শেখের মা। ছবি: খবরের কাগজ
ফরিদপুরের নগরকান্দায় ইতালি প্রবাসীর বাড়িতে ঢুকে ভাঙচুর করে তার বৃদ্ধ মাকে ঘর থেকে বের করে তালা ঝুলিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। পরে খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে তালা খুলে বাড়িটি পরিবারের জিম্মায় বুঝিয়ে দেয়।
 
শুক্রবার (৩ জুলাই) বিকেলে উপজেলার চরযশোরদি ইউনিয়নে পৌলানপুটি গ্রামে ঘটে।
 
অভিযোগে জানা যায়, প্রবাসী জাহিদ শেখের সঙ্গে পার্শ্ববর্তী গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলার কাসালিয়া গ্রামের শাহিদুল মল্লিকের ছেলে নাসিম মল্লিকের বিদেশে পাঠানোকে কেন্দ্র করে আর্থিক লেনদেন হয়। নাসিম মল্লিকের দাবি, ইতালিতে পাঠানোর প্রতিশ্রুতি দিয়ে জাহিদ শেখ চুক্তিপত্রের মাধ্যমে তার কাছ থেকে ১২ লাখ টাকা নেন। পরে বিদেশে পাঠাতে ব্যর্থ হলেও দীর্ঘদিন টাকা ফেরত দেননি। এ নিয়ে একাধিকবার সালিশ বৈঠক হলেও কোনো সমাধান হয়নি বলে দাবি তার।
 
এদিকে জাহিদ শেখের পরিবারের অভিযোগ, ওই বিরোধের জেরে শুক্রবার নাসিম মল্লিক দলবল নিয়ে তাদের বাড়িতে এসে সিসিটিভি ক্যামেরা ভাঙচুর করেন। এরপর জাহিদের মা দুলু বেগমকে জোরপূর্বক ঘর থেকে বের করে দিয়ে বাড়ির বিভিন্ন কক্ষে একাধিক তালা ঝুলিয়ে দেন। এ সময় তাকে মারধর, গালিগালাজ ও প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
 
জাহিদ শেখের মা দুলু বেগম বলেন, 'ওরা দলবল নিয়ে এসে আমাকে ঘর থেকে বের করে দেয়। আমাকে মারধর ও হত্যার হুমকি দেয়। এরপর আমার ঘরে তালা ঝুলিয়ে দেয়। বিষয়টি আমি আমার ছেলেকে জানাই। পরে সে পুলিশে খবর দিলে পুলিশ এসে তালা খুলে দেয়।'
 
ইতালি থেকে মুঠোফোনে জাহিদ শেখ বলেন, 'নাসিমের কাছ থেকে বিদেশে পাঠানোর জন্য টাকা নিয়েছিলাম। তাকে পাঠাতে না পারায় টাকা ফেরত দেওয়ার বিষয়টি ছিল। কিন্তু সেই সুযোগ না দিয়ে তারা আমার বসতবাড়ি দখলের চেষ্টা করেছে, সিসিটিভি ক্যামেরা ভাঙচুর করেছে এবং আমার মায়ের ওপর নির্যাতন চালিয়েছে। আমি এ ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা নেব।'
 
অভিযুক্ত নাসিম মল্লিক বসতবাড়ি দখলের অভিযোগ স্বীকার করে বলেন, 'বিদেশে পাঠানোর জন্য টাকা দিয়েছিলাম। কথা ছিল বিদেশে পাঠাতে না পারলে বাড়ি আমাকে দিয়ে দেবে। সেই কারণে আমি বাড়িতে গিয়ে তালা ঝুলিয়েছি।'
 
তবে আদালতের আদেশ বা আইনি প্রক্রিয়া ছাড়া এভাবে বাড়ি দখল করা বৈধ কি না, এ প্রশ্নের সন্তোষজনক কোনো জবাব দিতে পারেননি তিনি।
 
ঘটনার খবর পেয়ে নগরকান্দা থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আব্দুল্লাহসহ পুলিশের একটি দল গিয়ে তালা খুলে বাড়িটি পরিবারকে বুঝিয়ে দেয়।
 
নগরকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাসুল সামদানী আজাদ বলেন, 'খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
 
এনকেবি নয়ন/আজহার/

পদ্মায় শতাধিক ড্রেজারে বালু উত্তোলন

প্রকাশ: ০৪ জুলাই ২০২৬, ০৯:৩৬ এএম
আপডেট: ০৪ জুলাই ২০২৬, ০৯:৫০ এএম
পদ্মায় শতাধিক ড্রেজারে বালু উত্তোলন
শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার পদ্মা নদীতে সারি সারি ড্রেজার ও বালুবাহী নৌযান দেখা যাচ্ছে/ খবরের কাগজ

প্রশাসনের শর্ত না মেনেই শরীয়তপুরের নড়িয়ায় পদ্মা নদীতে শতাধিক ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, এভাবে নদীর তলদেশ থেকে বালু তুলতে থাকলে নড়িয়া-জাজিরা ডান তীররক্ষা বাঁধসহ বিস্তীর্ণ জনপদ আবারও ভাঙনের মুখে পড়তে পারে। যদিও ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের দাবি, প্রশাসনের অনুমতি নিয়েই বৈধভাবে কাজ করছে তারা। তবে জেলা প্রশাসন শর্ত ভঙ্গের প্রাথমিক প্রামাণ পেয়েছে বলে জানিয়েছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) ও নড়িয়া উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, ২০১৩ থেকে ২০১৮ সালে পদ্মা নদীর ভয়াবহ ভাঙনে নড়িয়া উপজেলার প্রায় ২৫ হাজার পরিবার গৃহহীন হয়। নদীগর্ভে বিলীন হয় অসংখ্য ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন স্থাপনা ও গুরুত্বপূর্ণ সড়ক। এই ভাঙন রোধে ২০১৯ সালে পাউবো নড়িয়া-জাজিরা পদ্মা নদীর ডান তীররক্ষা প্রকল্প বাস্তবায়ন করে। প্রায় ১ হাজার ৪১৭ কোটি টাকা ব্যয়ে জাজিরার শফিকাজীর মোড় থেকে নড়িয়ার সুরেশ্বর পর্যন্ত ১০ দশমিক ২ কিলোমিটার নদীরক্ষা বাঁধ নির্মাণ করা হয়। পাশাপাশি সাড়ে পাঁচ কিলোমিটার এলাকায় নদী খনন এবং প্রায় ৮০ কোটি টাকা ব্যয়ে ১১ লাখ জিওব্যাগ ফেলে বাঁধ আরও শক্তিশালী করা হয়। ২০২৪ সালের মার্চে প্রকল্পের কাজ শেষ হয়।

পাউবো সূত্র জানায়, চরআত্রা এলাকায় নদী খননের সময় উত্তোলিত প্রায় ৮০ কোটি ঘনফুট বালু বসারচর মৌজায় নদীতীরবর্তী ফসলি জমিতে সংরক্ষণ করা হয়। এর মধ্যে ১০ কোটি ঘনফুট বালু বিক্রির জন্য গত বছরের মার্চে উপজেলা প্রশাসন নিলাম আহ্বান করে। নিলামে তাসিন তাহান কনস্ট্রাকশনের নামে অংশ নিয়ে ফরিদ আহমেদ রয়েল মাঝি ৫ কোটি ৮৮ লাখ টাকায় ওই বালু কিনে নেন।

অভিযোগ রয়েছে, স্তূপ করে রাখা বালু অপসারণের অনুমতি থাকলেও গত বছর প্রায় ৪০ থেকে ৫০টি এবং বর্তমানে শতাধিক ড্রেজার বসিয়ে নদীর তলদেশ থেকেই বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। অনিয়মের অভিযোগে জেলা প্রশাসন এক দফা সাত মাস কাজ বন্ধ রাখে। পরে চলতি বছরের মে মাসে শর্তসাপেক্ষে আবার অনুমতি দেওয়া হয়। কিন্তু এবারও শর্ত ভঙ্গের অভিযোগ উঠেছে।

সম্প্রতি সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, পদ্মার বুকজুড়ে যতদূর চোখ যায় শুধু ড্রেজার আর ড্রেজার। প্রায় দেড় কিলোমিটার এলাকাজুড়ে দিন-রাত চলছে বালু উত্তোলন। নদীর তলদেশ কেটে পাইপের মাধ্যমে হাজার হাজার ঘনফুট বালু তোলা হচ্ছে। সংবাদ সংগ্রহ করতে গেলে একাধিক স্পিডবোট ও ট্রলার নিয়ে মুখে গামছা বাঁধা একদল যুবক সাংবাদিকদের ঘিরে ধরে ভয়ভীতি দেখানোর চেষ্টা করে।

স্থানীয় বাসিন্দা কামরুল হাসান সজিব বলেন, ‘নদীর নাব্যতা রক্ষার প্রয়োজনে সরকারিভাবে বালু উত্তোলন হলে আপত্তি ছিল না। কিন্তু স্তূপ করে রাখা বালু সরানোর অনুমতিকে পুঁজি করে নদীর তলদেশ থেকেই বালু কাটা হচ্ছে। এতে আবারও ভাঙনের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।’
আব্বাস আলী মোল্লা নামে আরেক বাসিন্দা বলেন, আমাদের এই জমিতে মরিচ, আলু হতো। আগেও বালু কেটে আমাদের সর্বনাশ করা হয়েছে। এখন আবার জমি কেটে বালু নেওয়া হচ্ছে।’

ড্রেজারে কর্মরত এক শ্রমিক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘আমাদের শুধু কাজ করতে বলা হয়েছে। এগুলো বৈধ না অবৈধ, সে বিষয়ে আমাদের কোনো ধারণা নেই। প্রতিদিন এক থেকে দেড় শ ড্রেজার দিয়ে বালু কাটা হয়।’

অভিযোগ অস্বীকার করে তাসিন তাহান কনস্ট্রাকশনের মালিক ও নড়িয়া উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ফরিদ আহমেদ রয়েল বলেন, ‘নিলামের মাধ্যমে কেনা স্তূপ করা বালুই আমরা উত্তোলন করছি। নদীর তলদেশ থেকে বালু কাটা হচ্ছে না। বালু রাখা স্থানে নাব্যতা সংকট থাকায় সেখানে পৌঁছাতে চ্যানেল তৈরি করা হচ্ছে।’

এ বিষয়ে শরীয়তপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী খান মোহাম্মদ ওয়ালিউজ্জামান বলেন, ‘নদীতে বালু উত্তোলনের বিষয়টি ভূমি মন্ত্রণালয়ের অধীন। জেলা প্রশাসন এর তদারকি করে। বাঁধ ঝুঁকিতে পড়েছে কি না, তা জানতে প্রয়োজনীয় কারিগরি সমীক্ষা করতে হবে।’

জেলা প্রশাসক তাহসিনা বেগম বলেন, ‘অতীতেও শর্ত ভঙ্গের কারণে কাজ বন্ধ রাখা হয়েছিল। পুনরায় শর্তসাপেক্ষে অনুমতি দেওয়ার পর আবারও অভিযোগ পাওয়ায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে ইজারা বাতিলসহ আইনিব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

চট্টগ্রামে রাজস্ব আদায়ে শীর্ষে জ্বালানি-গাড়ি আমদানি

প্রকাশ: ০৪ জুলাই ২০২৬, ০৮:৪৬ এএম
আপডেট: ০৪ জুলাই ২০২৬, ০৯:১৮ এএম
চট্টগ্রামে রাজস্ব আদায়ে শীর্ষে জ্বালানি-গাড়ি আমদানি
ছবি: খবরের কাগজ

দেশের আমদানি বাণিজ্যে শুল্কায়নযোগ্য পণ্যের মূল্য ও রাজস্ব আদায়ে বড় প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে। সর্বোচ্চ রাজস্ব আদায়কারী শীর্ষ ৩০টি পণ্য থেকে মোট ৭৭৫ কোটি ৬ লাখ টাকা রাজস্ব অর্জিত হয়েছে। বিগত বছরের তুলনায় এই ৩০টি পণ্যের ক্ষেত্রে সার্বিক রাজস্ব আদায় বেড়েছে ৫১ দশমিক ৪ শতাংশ।

চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের তথ্য অনুযায়ী শুল্কায়নযোগ্য পণ্যের আন্তর্জাতিক মূল্য বৃদ্ধির পাশাপাশি জ্বালানি তেল ও গাড়ি আমদানিতে শুল্ক-কর আদায় বৃদ্ধি পাওয়ায় রাজস্ব খাতে এই ইতিবাচক ধারা তৈরি হয়েছে। গত বছরের তুলনায় এ বছর শুল্কায়নযোগ্য পণ্যের মোট মূল্য বেড়েছে ২৯.৪৭ শতাংশ, যার আর্থিক মূল্য প্রায় ২৭৯৫ কোটি ৭৫ লাখ টাকা।

ডিজেল থেকেই অর্ধেকের বেশি রাজস্ব আদায়ের মাধ্যমে একক খাত হিসেবে বরাবরের মতোই সবচেয়ে বড় অবদান রেখেছে জ্বালানি তেল। ‘হাই স্পিড ডিজেল অয়েল’ আমদানি থেকেই সরকারের রাজস্ব আয় হয়েছে ৩১১ কোটি ৪০ লাখ টাকা, যা শীর্ষ ৩০ পণ্যের মোট অর্জিত রাজস্বের অর্ধেকেরও বেশি (৫১.৮২ শতাংশ)। ডিজেল আমদানির পরিমাণ কিছুটা কমলেও আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে এই খাত থেকে রেকর্ড শুল্ক আদায় হয়েছে। এ ছাড়া অকটেন বা মোটর স্পিরিট আমদানি থেকে রাজস্ব এসেছে ৬১ কোটি ৭৮ লাখ টাকা, যা গত বছরের তুলনায় রেকর্ড ১৯২.৩৮ শতাংশ বেশি। অপরিশোধিত তেল ক্রুড অয়েল থেকে রাজস্ব এসেছে ২৪ কোটি ২৬ লাখ টাকা।

গাড়ি ও থ্রি-হুইলার আমদানিতে রেকর্ড প্রবৃদ্ধি 

চলতি বছর ব্র্যান্ড নিউ এবং রিকন্ডিশনড—উভয় ধরনের গাড়ি আমদানিতে শুল্ক আদায়ের ক্ষেত্রে প্রবৃদ্ধি লক্ষ করা গেছে। ১৮০০ সিসির নিচে ব্র্যান্ড নিউ গাড়ি আমদানি খাতে রাজস্ব আদায়ের প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৩৩১৩.৫৪ শতাংশ। এই খাত থেকে ১৮ কোটি ৩৬ লাখ টাকা রাজস্ব এসেছে। 
অন্যদিকে, ২০০০ থেকে ৩০০০ সিসির রিকন্ডিশনড গাড়ি আমদানি থেকে রাজস্ব এসেছে ১১ কোটি ১৫ লাখ টাকা, যা বিগত বছরের চেয়ে ৭৫.২২ শতাংশ বেশি। পাশাপাশি পরিবেশবান্ধব বৈদ্যুতিক ব্যাটারিচালিত থ্রি-হুইলার আমদানি থেকে রাজস্ব এসেছে ১৩ কোটি ৯৬ লাখ টাকা। এই খাতে রাজস্বের প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৪৩২.৬৫ শতাংশ।

অন্যান্য শীর্ষ পণ্য খাদ্য ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মধ্যে গুঁড়া দুধ আমদানি থেকে রাজস্ব আদায় হয়েছে ৩৪ কোটি ১৭ লাখ টাকা (প্রবৃদ্ধি ১৪৬.৭৭%)। ফল আমদানির মধ্যে মাল্টা ও কমলা থেকে যথাক্রমে ২৮ কোটি ৭৭ লাখ এবং ১৯ কোটি ৪৬ লাখ টাকা রাজস্ব সরকারের কোষাগারে জমা হয়েছে। 
শিল্প কাঁচামালের মধ্যে সিমেন্ট খাতের ক্লিংকার ও গ্র্যানুলেটেড স্ল্যাগ থেকে ২১ কোটি ২৭ লাখ টাকা, জিপসাম থেকে ১৩ কোটি ৯৯ লাখ টাকা এবং লিকুইড ডাই-ইলেকট্রিক ট্রান্সফরমার থেকে ১৬ কোটি ১২ লাখ টাকা রাজস্ব আদায় হয়েছে। এ ছাড়া তথ্যপ্রযুক্তি ও ভয়েস ট্রান্সমিশন সরঞ্জাম আমদানি থেকে রাজস্ব এসেছে ৩৯ কোটি ২১ লাখ টাকা।

চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের সহকারী কমিশনার শরিফ মোহাম্মদ আল আমিন বলছেন, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি এবং ডলার সংকটের মাঝেও বিলাসবহুল গাড়ি ও প্রয়োজনীয় জ্বালানি পণ্যের শুল্কায়ন স্বাভাবিক থাকায় রাজস্বের এই বড় প্রবৃদ্ধি সম্ভব হয়েছে। বিশেষ করে অটোমেশন ও বিআই ট্র্যাকিংয়ের মাধ্যমে ফাঁকি রোধ করায় প্রকৃত রাজস্ব আদায় বেড়েছে।

হাই স্পিড ডিজেল আমদানি কমেছে ৪২ হাজার ৭২.৯৫ টন, যা আগের বছর থেকে প্রায় ১৭ শতাংশ কম। পরিশোধিত পাম অয়েল আমদানি ৮ হাজার ৯৪২.১৬ টন কমেছে। যা আগের বছরের চেয়ে ৮.২৫ শতাংশ কম। অন্যদিকে অপরিশোধিত (ক্রুড) পাম অয়েল আমদানি বেড়েছে ১ হাজার ৯১৭.৭৭ টন, যা আগের বছরের চেয়ে ৩.০৬ শতাংশ বেশি। 

এ ছাড়া কমলা আমদানি বেড়েছে ১ হাজার ১৫৬.৭২ টন, যা গত বছরের চেয়ে ১২.৩৯ শতাংশ বেশি। পেট্রোল (মোটর স্পিরিট) আমদানি বেড়েছে ১৬ হাজার ৭৩৪.৩৬ টন, যা ১৩৮.৮১ শতাংশ বেশি। অন্যদিকে লোহার স্ক্র্যাপ আমদানি ৯ হাজার ৬৬১.৯৩ টন কমেছে, যা গত বছরের তুলনায় ১৫.১২ শতাংশ কম।

কেপ ভার্দেকে হারিয়ে শেষ ষোলোয় আর্জেন্টিনা, মৌলভীবাজারে উল্লাস

প্রকাশ: ০৪ জুলাই ২০২৬, ০৮:১৩ এএম
আপডেট: ০৪ জুলাই ২০২৬, ০৮:১৬ এএম
কেপ ভার্দেকে হারিয়ে শেষ ষোলোয় আর্জেন্টিনা, মৌলভীবাজারে উল্লাস
ছবির ক্যাপশন: আর্জেন্টিনার জয়ে মৌলভীবাজার শহরের চৌমুহনা চত্বরে সমর্থকদের উল্লাস। ছবি: খবরের কাগজ

বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে রুদ্ধশ্বাস লড়াই শেষে কেপ ভার্দের শক্ত প্রতিরোধ ভেঙে জয় তুলে নিয়েছে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। নাটকীয় ম্যাচে ৩-২ গোলের জয়ে শেষ ষোলোয় জায়গা নিশ্চিত করেছে লিওনেল মেসির দল।

শুরু থেকেই ম্যাচে ছিল টানটান উত্তেজনা। আক্রমণ-প্রতিআক্রমণে জমে ওঠা খেলায় প্রথমে এগিয়ে যায় আর্জেন্টিনা। তবে পিছিয়ে পড়েও দমে যায়নি কেপ ভার্দে। দারুণ সংগঠিত ফুটবলে তারা সমতা ফিরিয়ে ম্যাচকে অনিশ্চয়তার দিকে নিয়ে যায়।

নির্ধারিত সময়ের পর অতিরিক্ত সময়েও দুই দলের লড়াই ছিল সমানতালে। শেষ পর্যন্ত অভিজ্ঞতার জোরে নির্ণায়ক গোলটি আদায় করে নেয় আর্জেন্টিনা।

এদিকে হাজার মাইল দূরের এই জয়ের আনন্দে ভেসেছে মৌলভীবাজার শহর। ভোররাতের ম্যাচ শেষে শহরের বিভিন্ন এলাকায় নেমে আসে উচ্ছ্বাসের ঢেউ।

শনিবার (৪ জুলাই) সকাল ৭টার দিকে জেলা শহরের চৌমুহনা চত্বরে জড়ো হতে শুরু করেন শতাধিক আর্জেন্টিনা সমর্থক। অল্প সময়ের মধ্যেই তা রূপ নেয় প্রাণবন্ত মিলনমেলায়। গাড়ি ও মোটরসাইকেলের হর্ন, ভুভুজেলার তীব্র শব্দ আর উচ্ছ্বাসধ্বনিতে মুখর হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। মুখে মুখে ধ্বনিত হয় ‘আর্জেন্টিনা’ স্লোগান।

সমর্থকদের একজন বলেন, ম্যাচটি সহজ ছিল না। কিন্তু চ্যাম্পিয়ন দল হিসেবে আর্জেন্টিনা শেষ পর্যন্ত জয়ের পথ বের করে নিয়েছে।

আরেকজনের ভাষায়, এই জয় আমাদের জন্য শুধু খেলা নয়, এক ধরনের আবেগ।

মোটরসাইকেল আরোহী তরুণ ফয়েজ আহমদ বলেন, খেলা শেষ হতেই আমরা বন্ধুরা মিছিল নিয়ে বের হয়েছি। শহরটা যেন ফুটবল উৎসবে পরিণত হয়েছে।

আরেক সমর্থক আফতাব আলি বলেন, এই ধরনের টানটান ম্যাচই প্রমাণ করে কেন আর্জেন্টিনা বড় দল। চাপের মধ্যেও তারা জিততে জানে।

ষাটোর্ধ্ব প্রবীণ সমর্থক দুলাল রায় বলেন, মারাদোনার সময় থেকে আর্জেন্টিনাকে সমর্থন করি। এই দলটি এখনো সেই আবেগ ধরে রেখেছে। এমন ম্যাচই ফুটবলের আসল সৌন্দর্য।

এই জয়ের মাধ্যমে শিরোপা ধরে রাখার লক্ষ্যে আরও একধাপ এগিয়ে গেল আর্জেন্টিনা। আর সেই স্বপ্নযাত্রায় মৌলভীবাজারের সমর্থকরাও থাকলেন সমান উচ্ছ্বাসে অংশীদার।

পুলক পুরকায়স্থ/অমিয়/

ভাঙ্গা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্যসচিবসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা

প্রকাশ: ০৩ জুলাই ২০২৬, ১০:১৫ পিএম
আপডেট: ০৩ জুলাই ২০২৬, ১০:১৬ পিএম
ভাঙ্গা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্যসচিবসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা
সজীব মাতুব্বর। ছবি: সংগৃহীত

ফরিদপুরের ভাঙ্গা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় স্থানীয় আধিপত্য নিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হয়ে সুমন শেখ (২২) নামে এক যুবক নিহত হন। এ ঘটনায় স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্যসচিবসহ ১১ জনের নাম উল্লেখ করে এবং আরও ৩৫ জন অজ্ঞাত ব্যক্তিকে আসামি করে থানায় একটি মামলা করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) নিহত সুমন শেখের বাবা মিলন শেখ বাদী হয়ে মামলাটি করেছেন। 

এজাহারভুক্ত আসামিদের মধ্যে এক নম্বরে রয়েছেন উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্যসচিব ও পৌরসভার পূর্ব হাশামদিয়া মহল্লার বাসিন্দা সজীব মাতুব্বর।

নিহত সুমন শেখ ভাঙ্গা পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের কাপুড়িয়া সদরদী গ্রামের বাসিন্দা মিলন শেখ ও সামেলা বেগমের ছেলে ছিলেন। তিনি পেশায় একজন ফাস্টফুড ব্যবসায়ী ছিলেন।

এদিকে, ঘটনার পর থেকেই গ্রেপ্তার এড়াতে পৌরসভার হাশামদিয়া ও আতাদি মহল্লা পুরুষশূন্য হয়ে পড়েছে। পরবর্তী কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়াতে পুলিশের টহল জোরদার করা হয়েছে। আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

নিহত সুমনের মা সামেলা বেগম বলেন, ‘সজীব মাতুব্বরসহ যারা আমার ছেলে সুমনকে হত্যা করেছে, আমি তাদের ফাঁসি চাই। আর কোনো মাকে যেন আমার মতো সন্তান হারানোর শোক বয়ে বেড়াতে না হয়।’

ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মিজানুর রহমান বলেন, ‘আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষে সুমন শেখ নামে এক যুবক নিহত হন। এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার ভাঙ্গা থানায় একটি হত্যা মামলা হয়েছে। আসামিদের গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান অব্যাহত রয়েছে।’

এ বিষয়ে ফরিদপুর-৪ (ভাঙ্গা-সদরপুর-চরভদ্রাসন) আসনের সংসদ সদস্য ও কৃষক দলের সাধারণ সম্পাদক মো. শহিদুল ইসলাম বাবুল বলেন, ‘সে যত বড় নেতাই হোক না কেন, সুমন হত্যার ঘটনায় মামলা হয়েছে। মামলা আইন অনুযায়ী চলবে। এ মামলায় কোনো ধরনের তদবির বা রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ করা যাবে না।’

তিনি আরও বলেন, ‘ভাঙ্গা উপজেলার স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্যসচিব সজীব মাতুব্বর মামলার এক নম্বর আসামি হয়েছেন। তার বিরুদ্ধে আজই সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

গত মঙ্গলবার (৩০ জুন) রাতে ভাঙ্গা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় পূর্বশত্রুতার জের ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষে কাপুড়িয়া সদরদী গ্রামের মিলন শেখের ছেলে সুমন শেখ গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা সজীবের শর্টগানের গুলিতে সুমন নিহত হন। এরপর থেকেই তাকে গ্রেপ্তারের দাবিতে ওই এলাকায় দফায় দফায় আন্দোলন চলছে।

এনকেবি নয়ন/রিফাত/