চৌধুরী লজ
রোমেন রায়হান
চৌধুরী লজ বিশাল বাড়ি, বারোটা বেডরুম
অনেক লোকের আনাগোনা, খাওয়া-দাওয়ার ধুম।
এ খেয়ে যায়, ও খেয়ে যায়, ফুলিয়ে যায় পেট
খেতে হলে লজে ঢোকো, খোলাই লজের গেট।
লজে যাঁরা থাকেন তাঁরা খাইয়ে খোঁজেন সুখ
খাওয়ার ছবি দিয়ে ভরান রোজ রোজই ফেসবুক।
সব মানুষের দিকে নজর, গিন্নি চমৎকার
টের পান না? বাড়ির ভেতর কারও যে মুখ ভার!
গিন্নি থাকেন নানান কাজে, রাখেন না তাই খোঁজ!
আমরা, মানে পিঁপড়েগুলো দিচ্ছি উপোস, রোজ!
বাবুর্চিটা নাটের গুরু, পুরোই পাজির ঝাড়
কোথায় লুকায় খাবারগুলো! যায় না পাওয়া আর!
বাইরে রাখে লবণ-টবন, লুকায় চিনির প্যাক
খুঁজতে থাকি মিটসেফে তা, খুঁজি জুতার র্যাক!
কী খুঁজি নাই! আলমারি, ফ্রিজ, বই রাখবার তাক!
আরে বাবা! রাখতে হলে সহজ কোথাও রাখ!
হৃদয়ে নেই মায়া যাদের- বাবুর্চি সেই দল!
পিঁপড়েরা কি বোকার মতন ফেলবে চোখের জল!
উপোস দিয়ে শুকনো করে রাখব সবার জিভ!
খাবার খোঁজার ভার নিয়েছে দুঁদে ডিটেকটিভ!
টিকটিকি এই পদ নেওয়াটা মেঘের ভেতর রোদ
পোকামাকড় ধরে দিলেই বেতন হবে শোধ!
খাবার আড়াল রাখায় যতই করুক পরিশ্রম
বুঝবে এবার বাবুর্চি, তার বুদ্ধি কত কম!
টিকটিকিটার চোখ এড়িয়ে সাধ্য আছে তার!
চিনির প্যাকেট ভানিশ করে করবে অহংকার!
কালকে থেকেই দেখতে পাবে চৌধুরীদের লজ
বাবুর্চি চুল ছেঁড়ে রাগে, আর করে গজগজ!
মোহনা জাহ্নবী