ময়মনসিংহের শম্ভুগঞ্জ চামড়া হাটে ট্যানারি মালিকদের সিন্ডিকেটে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ব্যবসায়ীরা। চড়া দামে চামড়া কিনে লবণ ও শ্রম খরচ যোগ করে বিক্রি করতে পারছেন না। ট্যানারি মালিকরা দিচ্ছেন কম দাম। অনেকেই বাধ্য হয়ে লোকসানে বিক্রি করছেন। স্থায়ী ব্যবসায়ীরা চামড়া বিক্রি করেননি। ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন মৌসুমি ব্যবসায়ীরাও। চামড়া হাটে ধস নেমেছে। ব্যবসায়ীরা সরকারি হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন।
জানা গেছে, লবণ ও শ্রমিক খরচসহ প্রতি পিস চামড়ার ক্রয়মূল্য ৯০০ থেকে ১ হাজার টাকা হলেও ট্যানারি মালিকরা দিচ্ছেন মাত্র ৩০০ থেকে ৮০০ টাকা। এতে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ব্যবসায়ীরা।
শম্ভুগঞ্জ চামড়া হাটের স্থায়ী ব্যবসায়ী আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘ফড়িয়া ও মৌসুমি ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে নিম্নমানের চামড়া ১০০ থেকে ২০০ টাকা ও ভালোমানের চামড়া ৬০০ থেকে ৭০০ টাকায় মোট ১ হাজার ৭০০ পিস চামড়া কিনেছি। লবণ ও শ্রমিকের মজুরিবাবদ প্রতিটি চামড়ায় খরচ হয়েছে আরও ৩০০ টাকা। অথচ ট্যানারি মালিকরা যে দাম দিচ্ছে, তা আমাদের ক্রয়মূল্যের চেয়েও কম। এ ব্যবসা আর করা যাবে না। কারণ ট্যানারি মালিকরাই এ খাত ধ্বংস করছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘এই হাট ময়মনসিংহ অঞ্চলের সবচেয়ে বড় চামড়ার হাট। প্রতি শনিবার এখানে বেচাকেনা হয়। তবে কোরবানির ঈদের পর হাট থাকে সবচেয়ে জমজমাট। এবারও ১৪ জুন শনিবার দেশজুড়ে ফড়িয়া ও মৌসুমি ব্যবসায়ীরা হাটে চামড়া নিয়ে এসেছেন। সন্ধ্যা পর্যন্ত ট্যানারি মালিকরা ৩০০ থেকে ৮০০ টাকা দর দিয়েছিল। যেটা অনেকেই মেনে নেয়নি। তবে যারা দূর-দূরান্ত থেকে এসেছিলেন, তারা পরিবহণ খরচে আরও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ভয়ে বাধ্য হয়ে কম দামেই চামড়া বিক্রি করেছেন।’
ব্যবসায়ী শাহীন মিয়া জানান, ‘সাত থেকে আটজন ট্যানারি মালিক ও তাদের প্রতিনিধিরা হাটে এসে সিন্ডিকেট করে দাম কমিয়েছে। স্থায়ী ব্যবসায়ীরা তাদের প্রস্তাবিত দামে চামড়া বিক্রি করেননি। কিন্তু দূরের ব্যবসায়ীরা বাধ্য হয়েছেন কম দামে বিক্রি করতে। যদি আগামী হাটে ন্যায্য দাম না পাওয়া যায়, তাহলে অনেকেই এই ব্যবসা ছেড়ে দেবেন।’
মৌসুমি ব্যবসায়ী সাইদুল ইসলাম বলেন, ‘ঈদের সময় বিভিন্ন এলাকা ঘুরে ৬৫টি চামড়া সংগ্রহ করেছি। যথাযথভাবে সংরক্ষণ করেছি। কিন্তু হাটে গিয়ে ন্যায্য দাম না পেয়ে ফিরে এসেছি। আগামী শনিবারও যদি লাভ করে বিক্রি করতে না পারি, তাহলে ভবিষ্যতে আর চামড়া সংগ্রহ করব না।’
চামড়া হাটের ইজারাদার শহীনুর রহমান শহীন বলেন, ‘অনেকে ধারদেনা করে বা সমিতি ও দাদন ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে ঋণ নিয়ে চামড়া কিনেছে। এখন তারা ন্যায্য দাম পাচ্ছে না। এতে ব্যবসায়ীদের মুখে হতাশার ছাপ স্পষ্ট।’
ময়মনসিংহের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) রেজা মো. গোলাম মাসুম প্রধান বলেন, ‘চামড়ার ন্যায্য দাম না পাওয়া পর্যন্ত বিক্রি করা উচিত নয়। কিছুদিন অপেক্ষা করলে চামড়াগুলো আরও ভালোভাবে শুকাবে এবং ট্যানারি মালিকদের কাছে ন্যায্য দামে বিক্রি করা যাবে।’
চামড়া বাজারে চলমান সংকট নিরসনে দ্রুত প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ ও ট্যানারি সিন্ডিকেট ভাঙার দাবি জানিয়েছেন ক্ষুব্ধ ব্যবসায়ীরা। তা না হলে চামড়াশিল্পে দীর্ঘমেয়াদি বিপর্যয় দেখা দিতে পারে বলে সতর্ক করেছেন সংশ্লিষ্টরা।