ঢাকা ২৫ আষাঢ় ১৪৩৩, বৃহস্পতিবার, ০৯ জুলাই ২০২৬

সর্বশেষ
সবুজ ও জলবায়ু সহনশীল বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠাই আমাদের লক্ষ্য: প্রধানমন্ত্রী বেলুচিস্তানে বিদ্রোহীদের হামলায় সেনা-পুলিশসহ নিহত ৪২ ধামরাইয়ে ৭৫ বছরের বৃদ্ধের সঙ্গে ২৫ বছরের তরুণীর বিয়ে চারঘাটে শিশু ধর্ষণের ৮ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেপ্তার ধর্ষক ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য বাসযোগ্য দেশ গড়া সরকারের অঙ্গীকার: প্রধানমন্ত্রী ফ্রান্সের বিপক্ষে মহালড়াইয়ে সাইবারিকে হারাচ্ছে মরক্কো সিরাজগঞ্জে বজ্রপাতে শিক্ষার্থীর মৃত্যু নোয়াখালীতে ফিফা সভাপতিসহ রেফারির বিরুদ্ধে মামলার আবেদন গোমতীর পানি বাড়ছে, কুমিল্লার চরাঞ্চলে তলিয়ে গেছে ফসল আনোয়ারায় পানিবন্দি অর্ধশতাধিক গ্রাম, সহস্রাধিক পরিবারকে ত্রাণ বিতরণ বিশ্বকাপ ফাইনালের হাফটাইম শোতে জাস্টিন বিবার প্রথমবার সিনেমায় শাহরুখ সুহানা এমি অ্যাওয়ার্ডে সর্বোচ্চ ২৫টি মনোনয়ন পেল ‘দ্য পিট’ বদনজর লাগলে যে দুটি কাজ করবেন স্ত্রীকে হত্যার পর আত্মহত্যা সাজানোর চেষ্টা, গ্রেপ্তার স্বামী ময়মনসিংহে শিশু হত্যা মামলায় ৩ আসামির মৃত্যুদণ্ড, একজনের কারাদণ্ড বিশ্বকাপ ফাইনাল মাতাবেন যারা ইরানে ২০ গুণ বড় মার্কিন হামলার ভিডিও শেয়ার করলেন ট্রাম্প টেক্সাসে ‘চেতনাতে নজরুল’: হৃদি হকের ব্যতিক্রমী সংগীত-নাট্য উপস্থাপনা ঘুষ নিয়ে ধরা বিমান কর্মকর্তা রাশেদ দণ্ডিত রিকশাচালক সাকিবুল হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন, আসামি গ্রেপ্তার স্বাস্থ্যসেবায় নতুন ধারণা দিচ্ছে ডক্টরস২৪ জামালপুরে গৃহবধূ হত্যায় ১৩ বছর পর স্বামীর মৃত্যুদণ্ড চীনে বন্যায় নিহত ৩৯ আর্জেন্টিনার সঙ্গে বিতর্কিত ম্যাচের পর কোচ নিয়ে বড় পদক্ষেপ মিসরের মিসর-আর্জেন্টিনা ম্যাচের বিতর্কিত সিদ্ধান্তে রেফারিদের পাশে কলিনা কুতুবদিয়ায় পুকুরে ডুবে শিশুর মৃত্যু বর্ষায় সঙ্গে রাখতে হবে যেসব জিনিস পর্তুগালের নতুন কোচ হতে যাচ্ছেন জর্জ জেসুস! আলমডাঙ্গায় জমি নিয়ে বিরোধে বৃদ্ধকে পিটিয়ে হত্যা

শেয়ার ক্রয়ে আগ্রহ কম বিনিয়োগকারীদের

প্রকাশ: ০৬ জুলাই ২০২৫, ১২:১১ পিএম
শেয়ার ক্রয়ে আগ্রহ কম বিনিয়োগকারীদের
শেয়ার ক্রয়ে আগ্রহ কম বিনিয়োগকারীদের।

পুঁজিবাজারে চামড়া খাতের যেসব কোম্পানি তালিকাভুক্ত রয়েছে, সেসব কোম্পানি সম্পর্কে বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ কম। কারণ, এসব কোম্পানি আর্থিকভাবে লাভবান নয়। এক বছর লোকসান দেয়; আরেক বছর লাভ করে। এতে করে বিনিয়োগকারীদের নিয়মিত লভ্যাংশ দিতে পারে না। 

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ট্যানারি খাতের দুটি কোম্পানি— এ্যাপেক্স ট্যানারি লিমিটেড ও সমতা লেদার কমপ্লেক্স বছরের পর বছর লোকসানে থাকায় বিনিয়োগকারীদের আস্থা হারাতে বসেছে। দীর্ঘদিন ধরে উল্লেখযোগ্য মুনাফা করতে না পারলেও নামমাত্র লভ্যাংশ দিয়ে তালিকাভুক্ত অবস্থান বজায় রাখছে প্রতিষ্ঠান দুটি। 

ব্যবসায়ীরা বলছেন, খাতটির সার্বিক দুরবস্থার পেছনে রয়েছে কাঁচামালের ন্যায্যমূল্য না পাওয়া, উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি এবং বিক্রির পর অর্থ আদায়ে জটিলতা। এসব কারণে কোম্পানিগুলোর ব্যবসা সম্প্রসারণ তো দূরের কথা, টিকে থাকাই হয়ে উঠেছে চ্যালেঞ্জ। 

১৯৮৫ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয়েছে এ্যাপেক্স ট্যানারি আর ১৯৯৮ সালে তালিকাভুক্ত হয়েছে সমতা লেদার। 

কোম্পানি দুটির সর্বশেষ হিসাব বলছে, এ্যাপেক্স ট্যানারি বিদায়ী ২০২৪-২৫ হিসাব বছরের নয় মাসে শেয়ারপ্রতি নিট লোকসান করেছে ১২ টাকা ৪৬ পয়সা। অপরদিকে সমতা লেদার ২০২৪ সালের লভ্যাংশ ঘোষণার পর এখন ২০২৫ সালের একটি প্রান্তিকও প্রকাশ করতে পারেনি। 

ট্যানারি সেক্টরের কোম্পানিগুলোর বেহাল অবস্থার কারণ জানতে ব্র্যাক ইপিএল ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেডের সাবেক প্রধান গবেষণা কর্মকর্তা দেবব্রত কুমার সরকার খবরের কাগজকে বলেন, বিনিয়োগকারীরা এখানে বিনিয়োগ করে মুনাফার জন্য। আবার অনেকে বিনিয়োগ করে বছর শেষে ভালো লভ্যাংশ পাবে এমন প্রত্যাশায়। কিন্তু এ্যাপেক্স ট্যানারি আর সমতা লেদার দুটির কোনোটিই বিনিয়োগকারীদের আগ্রহের জায়গা তৈরি করতে পারেনি। ফলে এখানে বিনিয়োগকারীদের বিনিয়োগও কম। 

তিনি বলেন, আর দেশের চামড়াশিল্পের যে বেহাল অবস্থা, তাতে ট্যানারিগুলো থেকে ভালো কিছু প্রত্যাশা করা যায় কঠিন। তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর কোনোটিই বছর শেষে মুনাফা করতে পারছে না। যা লভ্যাংশ দিয়েছে চার পয়সা, পাঁচ পয়সা- সেটিতেও আকৃষ্ট হওয়ার কিছু নেই। সরকারের সুষ্ঠু নীতিমালার অভাবে ফলে সম্ভাবনাময় একটি সেক্টর থেকে ভালো রিটার্ন পাওয়া যাচ্ছে না। 

বিনিয়োগকারীদের সংগঠন বাংলাদেশ পুঁজিবাজার সম্মিলিত জাতীয় ঐক্যের সভাপতি আ ন ম আতাউল্লাহ নাঈম বলেন, যে কোম্পানি থেকে বছর শেষে ভালো লভ্যাংশ পাওয়া যায় না, সে কোম্পানিতে কেউ বিনিয়োগ করবে না- এটাই স্বাভাবিক। চামড়া খাতের কোম্পানিগুলোর সিংহভাগ খারাপ। এমনও কোম্পানি আছে যেসব কোম্পানি নিয়মিত আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশ করে না। 

তিনি বলেন, বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ তৈরি করতে হলে ভালো লভ্যাংশ দিতে হবে। নিয়মিত আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশ করতে হবে এবং সময় সময় নতুন বিনিয়োগের খবর জানাতে হবে। কিন্তু ট্যানারি খাতের কোম্পানিগুলো এর কোনোটিই করে না। 

এ্যাপেক্স ট্যানারি: এ্যাপেক্স ট্যানারি পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত রপ্তানিমুখী ফিনিশড চামড়া প্রস্তুতকারক একটি প্রতিষ্ঠান। এ্যাপেক্স ট্যানারি চীন, জাপান এবং ইউরোপীয় দেশগুলোতে পণ্য রপ্তানি করে। প্রতিষ্ঠানটি ২৭ এপ্রিল, ২০১৭ সালে হাজারীবাগ থেকে স্থানান্তরিত হয়ে সাভারে বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু করে। সাভার কারখানার উৎপাদন ক্ষমতা ছিল ৩২ মিলিয়ন বর্গফুট, যা হাজারীবাগ কারখানায় ছিল ২৬ মিলিয়ন বর্গফুট।
এ্যাপেক্স ট্যানারি গত ৩১ মার্চ, ২০২৫ তারিখে সমাপ্ত তৃতীয় প্রান্তিকের অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন অনুযায়ী শেয়ারপ্রতি ৪ টাকা ৪৮ পয়সা লোকসান হয়েছে। গত বছর একই সময়ে শেয়ারপ্রতি ১ টাকা ২৪ পয়সা আয় হয়েছিল। 

অন্যদিকে তিন প্রান্তিক মিলিয়ে বছরের নয় মাসে কোম্পানিটি শেয়ারপ্রতি ১২ টাকা ২৬ পয়সা লোকসান করেছে। গত বছর একই সময়ে ২ টাকা ৪৭ পয়সা লোকসান হয়েছিল।

প্রথম তিন প্রান্তিকে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি নগদ টাকার প্রবাহ ছিল ৩ টাকা ৯৬ পয়সা, যা গত বছর একই সময়ে লোকসান ছিল ৯৫ পয়সা। গত ৩১ মার্চ, ২০২৫ পর্যন্ত কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য (এনএভিপিএস) ছিল ৩২ টাকা ৩৮ পয়সা।

কোম্পানির আগের হিসাব বছর পর্যালোচনায় দেখা গেছে, গত পাঁচ বছরে মাত্র দুবার মুনাফা করতে পেরেছে কোম্পানিটি। এর মধ্যে ২০২১ সালে মুনাফা করেছিল ৫২ লাখ টাকা এবং ২০২২ সালে মুনাফা করেছিল ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা। 

এর পর আর মুনাফা করতে পারেনি। দেখা গেছে, ২০২৩ সালে কোম্পানিটির নিট লোকসান করেছে ১২ কোটি ৪৪ লাখ টাকা, আর ২০২৪ সালে নিট লোকসান করেছে ১২ কোটি ৬৬ লাখ টাকা। 

এ্যাপেক্স ট্যানারির কোম্পানি সচিব সুশান্ত কুমার পাল বলেন, বর্তমান সময়ে কোম্পানির নিট লোকসান এবং নেতিবাচক ইপিএস আগের বছরের তুলনায় অনেকটাই কমেছে। মূলত আমাদের পণ্য বিক্রির পরিমাণ কমেছে। এ ছাড়াও কোম্পানি পরিচালনায় ব্যয় বেড়েছে। বিদ্যুতের দাম বেড়েছে, গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে না। এ ছাড়া আর্থিক খাতের ঋণের সুদ বেড়ে যাওয়ায় যে পরিমাণ আয় হচ্ছে, তার সিংহভাগ ব্যয় হয়ে যাচ্ছে।
তিনি বলেন, পণ্য বিক্রি করার পর এ সময়ে আগের বছরের তুলনায় ২৬ দশমিক ১৫ শতাংশ নগদ টাকা আদায় কমেছে। ফলে যে পরিমাণ পণ্য বিক্রি হচ্ছে তার বিপরীতে সম্পূর্ণ টাকা আদায় হচ্ছে না। 

কোম্পানিটি ২০২৪ সালের জন্য শেয়ারহোল্ডারদের ৫ শতাংশ বা শেয়ারপ্রতি ৫০ পয়সা নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছিল। এর আগের বছরও কোম্পানিটি একই হারে নগদ লভ্যাংশ দিয়েছিল শেয়ারহোল্ডারদের। 
ডিএসইর ওয়েবসাইট সূত্রে জানা গেছে, এ্যাপেক্স ট্যানারি ১৩ নভেম্বর, ২০১৮ সালে ঘোষণা করেছে যে তারা ভবিষ্যতে ব্যবহারের জন্য ঢাকার সাভারে ৮ কোটি ৮৫ লাখ টাকা ব্যয়ে ১৩ শতাংশ জমি কিনবে। সিইটিপি স্থাপনের পর যদি এ্যাপেক্স ট্যানারি আরও অর্ডার পায়, তা হলে বর্তমান উৎপাদন ক্ষমতা পূরণ হলে তারা এই সম্পদ ব্যবহার করে উৎপাদন বৃদ্ধি করতে পারবে। যদিও এ বিষয়ে পরবর্তী সময়ে কোম্পানিটি কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি। এমনকি কোম্পানি সচিবও এ বিষয়ে কোনো জবাব দেননি। 

সমতা লেদার: পুঁজিবাজারে নিয়মিত লভ্যাংশ ঘোষণা করে না সমতা লেদার কমপ্লেক্স লিমিটেড। ২০২৪ সালের লভ্যাংশ ঘোষণার পর এখন কোনো আর্থিক অগ্রগতির তথ্য প্রকাশ করেনি কোম্পানিটি। 

ফলে জুন ক্লোজিংয়ের এই কোম্পানিটি এ সময়ে ২০২৫ সালের লভ্যাংশ ঘোষণা করার কথা থাকলেও এখনো একটি প্রান্তিকেরও জানান দিতে পারেনি। 

সমতা লেদার কমপ্লেক্স গত ৩০ জুন, ২০২৪ হিসাব বছরের জন্য দশমিক ৪০ শতাংশ বা শেয়ারপ্রতি ৪ পয়সা নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছিল। 

এ সময়ে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ৫ পয়সা এবং আগের বছর শেয়ারপ্রতি আয় হয়েছিল ৪ পয়সা। কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য (এনএভিপিএস) ছিল ১৪ টাকা ৩৭ পয়সা।

২০২৪ সালের আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশের পর একাধিকবার নিরীক্ষকের আপত্তির মুখে পড়েছে কোম্পানিটি। 

নিরীক্ষিত এই আর্থিক প্রতিবেদন প্রসঙ্গে নিরীক্ষক প্রতিষ্ঠান বলছে, প্রতিষ্ঠানটি যে পরিমাণ কাঁচামাল, প্রক্রিয়াধীন ও সমাপ্ত পণ্যের মজুত দেখিয়েছে, তার বিপরীতে কেবল ইনভেন্টরি সার্টিফিকেট প্রদান করা হয়েছে। এ সংক্রান্ত নথি কোম্পানির কাছে নেই। 

কোম্পানি প্রতিবছরই বাকিতে বিক্রি বা পণ্য বিক্রির পর নগদ আদায় না হওয়া সংক্রান্ত যে তথ্য দিচ্ছে, তা সন্দেহজনক। এ জন্য এখন কোম্পানিটির উচিত হবে ‘লাইফটাইম এক্সপেক্টেড ক্রেডিট লস’ সংক্রান্ত প্রভিশন সংরক্ষণ করা। 

এ ছাড়া কোম্পানিটি আর্থিক প্রতিবেদনে যে স্থায়ী সম্পদ দেখিয়েছে তা সঠিক নয়। কারণ এ সম্পদের যথাযথ সময় ব্যবধানে ও নিয়মিতভাবে পুনর্মূল্যায়ন করা হচ্ছে না। 

‘বি’ ক্যাটাগরির এই কোম্পানিটির মোট শেয়ারের ৩৩ দশমিক ৮৭ শতাংশ শেয়ার আছে উদ্যোক্তা পরিচালকদের হাতে। ৫ দশমিক ১১ শতাংশ শেয়ার আছে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের কাছে আর ৬১ দশমিক ০২ শতাংশ শেয়ার আছে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছে। কোম্পানিটির অনুমোদিত মূলধনের পরিমাণ ৫০ কোটি টাকা এবং পরিশোধিত মূলধনের পরিমাণ ১০ কোটি ৩০ লাখ টাকা। 

বাংলাদেশের অর্থনীতি চ্যালেঞ্জের মধ্যেও স্থিতিশীল: এডিবি

প্রকাশ: ০৯ জুলাই ২০২৬, ০১:৫২ পিএম
আপডেট: ০৯ জুলাই ২০২৬, ০২:০৩ পিএম
বাংলাদেশের অর্থনীতি চ্যালেঞ্জের মধ্যেও স্থিতিশীল: এডিবি
ছবি: সংগৃহীত

নানামুখী চ্যালেঞ্জ সত্ত্বেও শক্তিশালী রেমিট্যান্স প্রবাহ ও সেবাখাতের প্রবৃদ্ধিতে বাংলাদেশের অর্থনীতি স্থিতিশীল রয়েছে বলে জানিয়েছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) প্রকাশিত এডিবির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ২০২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশের মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি ৩ দশমিক ৭ শতাংশ এবং ২০২৭ অর্থবছরে ৪ দশমিক ৫ শতাংশ হবে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে।

ধারাবাহিক সংস্কার ও সামষ্টিক অর্থনৈতিক অবস্থার উন্নতি দেশের প্রবৃদ্ধির গতি শক্তিশালী করবে বলে প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয় ।

এডিবির বাংলাদেশ আবাসিক মিশনের ভারপ্রাপ্ত প্রধান আকিরা মাতসুনাগা বলেন, ‘কঠিন বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক পরিবেশের মধ্যেও শক্তিশালী রেমিট্যান্স প্রবাহ ও সেবাখাতের স্থিতিশীল কার্যক্রমের কারণে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতা বজায় রয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা জোরদার, বিনিয়োগ পরিবেশের উন্নয়ন, আর্থিক খাতের সুশাসন নিশ্চিতকরণ এবং জ্বালানি ও অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা দূর করতে ধারাবাহিক সংস্কার একটি শক্তিশালী ও অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এসব সংস্কার বেসরকারি বিনিয়োগ বৃদ্ধি, মানসম্মত কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও অর্থনীতির স্থিতিশীলতা জোরদারেও সহায়ক হবে।’

প্রতিবেদনে বলা হয়, কঠোর সামষ্টিক আর্থিক পরিবেশ সত্ত্বেও শক্তিশালী রেমিট্যান্স প্রবাহ, সেবা খাতের ধারাবাহিক সম্প্রসারণ ও অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত খাতে লক্ষ্যভিত্তিক ঋণ সহায়তার কারণে ২০২৬ অর্থবছরের প্রবৃদ্ধি সমর্থন পাবে।

এতে আরও বলা হয়, ২০২৬ অর্থবছরে মূল্যস্ফীতি ৯ দশমিক ০ শতাংশে থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে এবং অর্থনৈতিক পরিস্থিতির উন্নতির সঙ্গে সঙ্গে ২০২৭ অর্থবছরে তা ধীরে ধীরে কমে ৮ দশমিক ৮ শতাংশে নেমে আসবে।

এডিবি’র মতে, মাঝারি পর্যায়ের মূল্যস্ফীতি, ব্যবসা পরিচালনার বিধি-বিধান সহজীকরণ, সুশাসনের উন্নয়ন, কর প্রশাসন সংস্কার ও রেমিট্যান্সে প্রণোদনা অব্যাহত থাকলে ২০২৭ অর্থবছরে বেসরকারি ভোগব্যয় ও বিনিয়োগ আরও শক্তিশালী হবে।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, সেবাখাত অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে থাকবে। একই সঙ্গে চলমান সংস্কার কার্যক্রম ব্যবসার পরিবেশ উন্নত করবে এবং মধ্যমেয়াদে বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়াবে।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, প্রবৃদ্ধি টেকসই রাখা, প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা বৃদ্ধি ও বহিরাগত অভিঘাত মোকাবিলায় বাংলাদেশের স্থিতিস্থাপকতা আরও জোরদার করতে ধারাবাহিক নীতিগত সংস্কার এবং বিচক্ষণ সামষ্টিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনা অপরিহার্য।

খাদিজা রুমি/

স্বর্ণের দামে ফের বড় পতন

প্রকাশ: ০৯ জুলাই ২০২৬, ১১:১১ এএম
স্বর্ণের দামে ফের বড় পতন
ছবি: সংগৃহীত

দেশের বাজারে আরেক দফা স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ভ্যাটসহ স্বর্ণালঙ্কারের দাম প্রতি ভরিতে সর্বোচ্চ ৩ হাজার ৩২৩ টাকা পর্যন্ত কমানো হয়েছে। একই সঙ্গে রুপার দামও কমানো হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) সকাল ১০টা থেকে নতুন এ মূল্য কার্যকর হয়েছে।

বাজুসের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, সকাল ৯টায় বাজুসের মূল্য নির্ধারণ ও মূল্য পর্যবেক্ষণ সংক্রান্ত স্থায়ী কমিটির এক বৈঠকে এই নতুন দাম নির্ধারণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

নতুন মূল্য তালিকা অনুযায়ী, এখন ভ্যাটসহ সবচেয়ে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণালঙ্কারের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ২১ হাজার ৯৬৬ টাকা। গতকাল পর্যন্ত এর দাম ছিল ২ লাখ ২৫ হাজার ২৯০ টাকা। ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ১১ হাজার ৯৯৩ টাকা। এছাড়া ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৮২ হাজার ৭৫ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরির দাম ১ লাখ ৪৮ হাজার ৭৭৪ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। স্বর্ণের সঙ্গে কমানো হয়েছে রুপার দামও। 

নতুন মূল্য অনুযায়ী, ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপার দাম ৪ হাজার ৬০৭ টাকা, ২১ ক্যারেটের ৪ হাজার ৩৭৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের ৩ হাজার ৭৯১ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপার দাম ২ হাজার ৮৫৮ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

অন্তরা/

বৈদ্যুতিক যান আমদানি ও উৎপাদনে নীতিমালা হচ্ছে

প্রকাশ: ০৯ জুলাই ২০২৬, ০৯:২৫ এএম
আপডেট: ০৯ জুলাই ২০২৬, ০৯:২৮ এএম
বৈদ্যুতিক যান আমদানি ও উৎপাদনে নীতিমালা হচ্ছে
ছবি: খবরের কাগজ

বর্তমান সরকার দেশে প্লাগ-ইন হাইব্রিডসহ বৈদ্যুতিক যানবাহন (ইভি) চলাচলে গুরুত্ব বাড়িয়েছে। এসব যানবাহন আমদানি ও উৎপাদনে খসড়া নীতিমালা প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। 

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) শিল্প মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে খসড়া নীতিমালায় কোন বিষয়গুলো আনা হবে, তা নিয়ে আন্তমন্ত্রণালয় সভা অনুষ্ঠিত হবে। শিল্প মন্ত্রণালয় সূত্রে এ তথ্য জানা যায়। 

এ বিষয়ে শিল্প মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (আইসিটি, ইনোভেশন ও পিআরজিআইএম) এ কে এম বেনজামিন রিয়াজী খবরের কাগজকে বলেন, পরিবেশবান্ধব প্লাগ-ইন হাইব্রিডসহ ইভি চলাচলে গুরুত্ব বাড়িয়েছে সরকার। প্রাথমিকভাবে এ বিষয়ে খসড়া নীতিমালা করা হবে। আর এর জন্য আগামীকাল (আজ) আন্তমন্ত্রণালয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। এই বৈঠকে নীতিমালা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে। কোন বিষয়গুলোতে গুরুত্ব দেওয়া হবে, তা নিয়েও সবার মত চাওয়া হবে।  

নাম প্রকাশ না করার শর্তে শিল্প মন্ত্রণালয়ের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা খবরের কাগজকে বলেন, আগামীকালের (আজ) আন্তমন্ত্রণালয় বৈঠকে বৈদ্যুতিক যানবাহন চলাচল বাড়ানোর ক্ষেত্রে চলমান সমস্যাগুলো কী, তা নিয়েও আলোচনা হবে। এসব সমস্যার সমাধানে করণীয় কী, তা জানতে চাওয়া হবে। চলতি বাজেটে সরকারের দেওয়া সুবিধাগুলো কিভাবে দ্রুত কাজে লাগানো যায়, তা নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা হবে।  
   
গাড়ি আমদানিকারক ও পরিবেশকরা বলছেন, বিকল্প জ্বালানিচালিত গাড়ির চাহিদা ধীরে ধীরে বাড়ছে। আগামীতে বাংলাদেশের অটোমোবাইল বাজারে তা আধিপত্য বিস্তার করবে। 

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, স্পষ্ট নীতিমালা, কর-সুবিধা, সহজ অর্থায়ন এবং চার্জিং অবকাঠামোর দ্রুত সম্প্রসারণ নিশ্চিত করা গেলে আগামী কয়েক বছরে দেশে প্লাগ-ইন হাইব্রিডসহ বৈদ্যুতিক যানবাহনের (ইভি) চাহিদা বাড়বে। সরকারকে এ বিষয়ে গুরুত্ব বাড়িয়ে বিভিন্ন সুবিধা দিতে হবে। এতে পরিবহন খাত আরও টেকসই ও পরিবেশবান্ধব হবে।

বাংলাদেশ রিকন্ডিশন্ড ভেহিক্যালস্ ইম্পোর্টার্স অ্যান্ড ডিলার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বারভিডা) সাবেক সভাপতি মো. হাবিবউল্লাহ ডন খবরের কাগজকে বলেন, পরিবেশবান্ধব যাতায়াতব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং দেশ থেকে কার্বন নিঃসরণ কমানোর জন্য বর্তমান সরকার কাজ করছে। এ জন্য সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে ইভি ব্যবহার বাড়ানোর বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এ লক্ষ্য নিয়ে সরকার বেশ কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে।

তিনি আরও বলেন, আধুনিক এই যানগুলোকে স্বাগত জানানোর সময় এসেছে। কারণ আগামী ১৫ বছরের মধ্যে পুরো বিশ্ব জীবাশ্ম জ্বালানিতে চলা গাড়ির ব্যবহার ও উৎপাদন পর্যায়ক্রমে শেষ করবে। চলতি বাজেটেও বৈদ্যুতিক যানবাহন আমদানি ও উৎপাদনে গুরুত্ব দিয়ে শুল্ক-করে ছাড় দেওয়া হয়েছে। এতে সংশ্লিষ্ট খাতের ব্যবসায়ীরা উৎসাহিত হবেন। 
 
ব্যবসায়ী এই নেতা আরও বলেন, বৈদ্যুতিক যান সংযোজন ও যন্ত্রাংশ উৎপাদনের সুযোগ সৃষ্টি হলে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। শিল্প মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের মোট যানবাহনের অন্তত ৩০ শতাংশ বৈদ্যুতিক গাড়িতে রূপান্তরের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। বাংলাদেশে বৈদ্যুতিক গাড়ির নিবন্ধন দেওয়া শুরু হয় ২০২২ সালের সেপ্টেম্বরে। এরপর থেকে টেসলা ও পোর্শের মতো আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডের প্রায় ২০টি বৈদ্যুতিক গাড়ির নিবন্ধন করা হয়েছে বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটিতে (বিআরটিএ)। বর্তমানে দেশে আমদানি হওয়ায় মোট যাত্রীবাহী গাড়ির প্রায় ৫০ থেকে ৬০ শতাংশই প্লাগ-ইন হাইব্রিড কিংবা হাইব্রিড গাড়ি। 

সূত্র জানায়, ইভি হলো এমন যানবাহন, যা পেট্রোল বা ডিজেলের পরিবর্তে ব্যাটারিতে সঞ্চিত বিদ্যুৎচালিত মোটরের মাধ্যমে চলে। অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, পেট্রোল ও ডিজেলচালিত গাড়ি আমদানি নিরুৎসাহিত করা হয়েছে। এবার এক হাজার ২০০ থেকে এক হাজার ৬০০ সিসি ক্ষমতার পেট্রোল ও ডিজেলচালিত কিছু আমদানি করা গাড়ির ওপর করভার বাড়ানো হয়েছে।

দেশের অন্যতম ব্যবসায়ী সংগঠন ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (ডিসিসিআই) এক গবেষণা প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, বৈদ্যুতিক যান জনপ্রিয় করার সবচেয়ে বড় বাধা চার্জিং স্টেশনের অভাব। এ ছাড়া উচ্চ মূল্য, অপর্যাপ্ত বাস ডিপো, দুর্বল ব্যাটারি নিরাপত্তা ও পুনর্ব্যবহার এবং বিনিয়োগ ফেরত আসায় অনিশ্চয়তাও এই খাতের অন্যতম প্রতিবন্ধকতা। 

সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, বেসরকারি বিনিয়োগ উৎসাহিত করা, চার্জিং অবকাঠামো গড়ে তোলা এবং প্রয়োজনীয় কর-নীতিতে সহায়তা দেওয়ার বিষয়গুলোতে সরকার কাজ করা শুরু করেছে। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে বৈদ্যুতিক গাড়ি, প্লাগ-ইন হাইব্রিড গাড়ি এবং চার্জিং স্টেশন-সংশ্লিষ্ট যন্ত্রপাতি আমদানিতে শুল্ক-কর কমানো হয়েছে।

অর্থমন্ত্রী খবরের কাগজকে বলেন, প্লাগ-ইন হাইব্রিডসহ বৈদ্যুতিক যানবাহন চলাচলে উৎসাহিত করা হচ্ছে। অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, দেশব্যাপী চার্জিং নেটওয়ার্ক তৈরি করতে চার্জার এবং চার্জিং স্টেশনের যন্ত্রপাতি আমদানির ক্ষেত্রে মোট করভার ৩৯.৭৫% থেকে কমিয়ে একদম শূন্য শতাংশে নামিয়ে আনা হয়েছে। সৌর বিদ্যুৎ খাতের ওপর ২০৩৫ সাল পর্যন্ত শূন্য কর হার সুবিধা দেওয়া হয়েছে, যাতে নবায়নযোগ্য শক্তি দিয়ে এই চার্জিং স্টেশনগুলো চালানো যাবে।

সূত্র আরও জানায়, ইভি চার্জারের আমদানি শুল্ক ৩৯.৭৫% থেকে ১%-এ হ্রাস, ইভি নিবন্ধনে অগ্রিম আয়কর কমানো, ইলেকট্রিক ও হাইব্রিড গাড়ির জন্য অটো ঋণের সীমা ৮০ লাখ টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি এবং স্থানীয়ভাবে সংযোজিত ইভির ওপর ভ্যাট মওকুফের মেয়াদ ২০৩১ সাল পর্যন্ত বাড়ানো অন্তর্ভুক্ত।

এদিকে, বাংলাদেশ ব্যাংক সার্কুলারে বলা হয়, দেশে পরিবেশবান্ধব যানবাহনের ব্যবহার বাড়াতে অটো লোনে নতুন সুবিধা দেওয়া হয়েছে।  বৈদ্যুতিক এবং হাইব্রিড গাড়ি কিনতে গ্রাহকরা ব্যাংক থেকে সর্বোচ্চ ৮০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ নিতে পারবেন।    

৮ জুলাই মুদ্রা বাজার: বেড়েছে কানাডিয়ান ডলার, ইন্ডিয়ান রুপির দাম

প্রকাশ: ০৮ জুলাই ২০২৬, ১১:৪৮ এএম
৮ জুলাই মুদ্রা বাজার: বেড়েছে কানাডিয়ান ডলার, ইন্ডিয়ান রুপির দাম
ছবি: সংগৃহীত

দিন দিন বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের ব্যবসা-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হচ্ছে। এ ছাড়াও পড়াশোনা, চিকিৎসা, ভ্রমণ থেকে শুরু করে বিভিন্ন প্রয়োজনে বিদেশি মুদ্রার সঙ্গে আমাদের দেশের মুদ্রা বিনিময় করতে হয়।

একটা বিষয় মনে রাখা প্রয়োজন, মুদ্রার বিনিময় হার প্রতিদিন পরিবর্তিত হয়। আমরা প্রতিদিন সর্বশেষ বিনিময় হার তুলে ধরছি। আরও বিস্তারিত জানতে স্থানীয় ব্যাংক বা বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেনকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ করা বা তাদের ওয়েবসাইট পরিদর্শন করা যেতে পারে।

মুদ্রা ক্রয় (টাকা) বিক্রয় (টাকা) বাড়ল/কমল
ইউএস ডলার     122.75 (ব্যাংক নির্ধারিত) 122.75 (ব্যাংক নির্ধারিত) --
ইউরো     140.18 140.22 -0.35
ব্রিটেন পাউন্ড     164.02 164.12 -0.42
অস্ট্রেলিয়ান ডলার     85.11 85.12 -0.29
জাপানি ইয়েন 0.7578 0.7579 -0.0001
কানাডিয়ান ডলার 86.50 86.52 +0.04
সুইস ক্রোনা 12.66 12.67 -0.1
সিঙ্গাপুর ডলার 94.99 95.07 -0.01
চায়না ইউয়ান     18.0558 18.0569 -0.0247
ইন্ডিয়ান রুপি     1.2934 1.2937 +0.0058
সৌদি রিয়াল 32.66 32.96 -0.01
আরব আমিরাত দিরহাম 33.40 33.68 -0.01

সূত্র: (বাংলাদেশ ব্যাংক)

রিফাত/

বড় মূলধনি শেয়ারে পতন, কমেছে সূচক ও লেনদেন

প্রকাশ: ০৮ জুলাই ২০২৬, ০৯:০৮ এএম
আপডেট: ০৮ জুলাই ২০২৬, ০৯:১৪ এএম
বড় মূলধনি শেয়ারে পতন, কমেছে সূচক ও লেনদেন
ছবি: খবরের কাগজ

দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) সপ্তাহের তৃতীয় কার্যদিবসে বড় মূলধনি ও ভালো মানের কোম্পানির শেয়ারের দাম কমায় মূল্যসূচকের পতন হয়েছে। সূচকের পাশাপাশি বাজারটিতে কমেছে লেনদেনের পরিমাণও। তবে প্রধান শেয়ারবাজারে মন্দাভাব থাকলেও ভিন্ন চিত্র দেখা গেছে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই)। সেখানে সূচক ও লেনদেন বাড়ার পাশাপাশি অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম বেড়েছে।

মঙ্গলবার (৭ জুলাই) ডিএসইতে লেনদেনের শুরুতে অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম বাড়ায় সূচকের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা যায়। তবে লেনদেনের শেষভাগে এসে চিত্র বদলে যায়। বড় মূলধনের বেশির ভাগ ভালো কোম্পানির শেয়ারের বিক্রির চাপ বাড়ায় শেষ পর্যন্ত দরপতনের তালিকাটিই দীর্ঘ হয়, যার চূড়ান্ত প্রভাব পড়ে সূচকে।

দিনের লেনদেন শেষে ডিএসইতে সব খাত মিলিয়ে ১৬০টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম বেড়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ১৮০টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ৫০টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দর। বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, বাছাই করা ভালো ৩০টি কোম্পানির মধ্যে মাত্র ৭টির দাম বেড়েছে, বিপরীতে ২১টির দাম কমেছে এবং ২টি অপরিবর্তিত ছিল। মূলত এই ভালো কোম্পানিগুলোর দরপতনই সূচককে টেনে নিচে নামিয়েছে।

ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স আগের দিনের চেয়ে ১৮ পয়েন্ট কমে ৫ হাজার ৭৮১ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। ভালো ৩০টি কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসই-৩০ সূচক ১০ পয়েন্ট কমে ২ হাজার ১৮১ পয়েন্টে নেমেছে। তবে ডিএসই শরিয়াহ সূচক ১ পয়েন্ট বেড়ে ১ হাজার ১৮৪ পয়েন্টে অবস্থান করছে।

সূচকের পাশাপাশি ডিএসইতে লেনদেনের পরিমাণও কিছুটা কমেছে। গতকাল বাজারটিতে মোট ১ হাজার ৩৮৮ কোটি ৩ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে, যা আগের কার্যদিবসের (১ হাজার ৪১৬ কোটি ৫৭ লাখ টাকা) চেয়ে ২৮ কোটি ৫৪ লাখ টাকা কম।

গতকাল ডিএসইতে লেনদেনের শীর্ষে ছিল বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস। কোম্পানিটির মোট ৫০ কোটি ২৩ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থানে থাকা মালেক স্পিনিং ও ব্র্যাক ব্যাংকের লেনদেন হয়েছে যথাক্রমে ৪৬ কোটি ৩৪ লাখ ও ৪৪ কোটি ৩৫ লাখ টাকা। লেনদেনের শীর্ষ ১০-এ থাকা অন্য প্রতিষ্ঠানগুলো হলো অ্যাপেক্স স্পিনিং, আইটি কনসালট্যান্টস, সিমটেক্স, ড্রাগন সোয়েটার, বেক্সিমকো, আইপিডিসি ফাইন্যান্স ও সামিট অ্যালায়েন্স পোর্ট।

এদিন ডিএসইতে দর বৃদ্ধির শীর্ষে ছিল এমবিএল ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ড। ফান্ডটির শেয়ারের দাম ১০ শতাংশ বা ৪ পয়সা বেড়েছে। দ্বিতীয় স্থানে থাকা তসরিফা ইন্ডাস্ট্রিজের দাম বেড়েছে ৯ দশমিক ৮১ শতাংশ এবং পপুলার লাইফ ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ডের দাম বেড়েছে ৯ দশমিক ৬৮ শতাংশ। সামগ্রিকভাবে মিউচুয়াল ফান্ড খাত গতকাল বেশ চাঙা ছিল; তালিকাভুক্ত ফান্ডগুলোর মধ্যে ৩২টির দাম বেড়েছে এবং কমেছে মাত্র ১টির।

অন্যদিকে দরপতনের শীর্ষে ছিল ইন্টারন্যাশনাল লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্স সার্ভিসেস লিমিটেড। কোম্পানিটির শেয়ারের দর ৭ দশমিক ৬৯ শতাংশ বা ১ পয়সা কমেছে। সমান ৭ দশমিক ৬৯ শতাংশ দর হারিয়ে দ্বিতীয় স্থানে ছিল ফিনিক্স ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্টস লিমিটেড। এ ছাড়া এফএএস ফাইন্যান্স ও ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেডের শেয়ারের দর কমেছে ৭ দশমিক ১৪ শতাংশ।

এদিকে দেশের অপর শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের সার্বিক মূল্যসূচক সিএএসপিআই ৪২ পয়েন্ট বেড়েছে। বাজারটিতে লেনদেনে অংশ নেওয়া ২৫০টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ১২৯টির দাম বেড়েছে, ১০০টির কমেছে এবং ২১টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। দিন শেষে সিএসইতে মোট ৩০ কোটি ৭৯ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট হাতবদল হয়েছে।