ঢাকা ৩০ আষাঢ় ১৪৩৩, মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬

সর্বশেষ
রাজধানীর উত্তরায় ভাঙা রাস্তায় নাকাল সাধারণ মানুষ পরিকল্পনা প্রণয়ন ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ অধ্যায়ের ৩টি বহুনির্বাচনি প্রশ্ন ও উত্তর, ৫ম পর্ব, এইচএসসির ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা ২য় পত্র ফুলবাড়ীতে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে রেললাইন অবরোধ বিশ্বকাপ থেকে বাদ পড়ার ২ মাস পর ডাচ রেফারির মৃত্যু জাতীয়তাবাদী রেলওয়ে শ্রমিক দলের টঙ্গী কমিটির যাত্রা শুরু সাবেক রাষ্ট্রপতির বাড়ির রাস্তার জন্য হাওর ধ্বংস করা হয়েছে: রিজভী জানুয়ারিতে এসএসসি, জুনে এইচএসসি পরীক্ষা হবে: শিক্ষামন্ত্রী আন্তর্জাতিক ‘ফেভারিট শেফ ২০২৬’-এর কোয়ার্টার ফাইনালে কানাডা-বাংলাদেশি শেফ মাদিহা তুরশীন আটোয়ারীতে ৭ কেজি কষ্টিপাথরসহ আটক ২ তরুণ উদ্যোক্তারাই আগামী দিনের বাংলাদেশ গড়বে: প্রধানমন্ত্রী গোপালগঞ্জে মাথার চুল কেটে স্ত্রীকে নির্যাতন কেন আর্জেন্টিনাকে ‘আলবিসেলেস্তে’ বলা হয়? জেনে নিন নামটির ইতিহাস হজে ৯৮ হাজার টাকায় যাত্রী পরিবহনের প্রস্তাব ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের বন্যপ্রাণীপ্রেমী সীতেশ রঞ্জন দেব আর নেই ২০২৬ বিশ্বকাপে ফুটবল দলের প্রধান চিকিৎসক স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ! জন্মদিনের আয়োজন ছেড়ে মাঠে সেমিফাইনালের আগে এমবাপ্পের চোট নিয়ে শঙ্কা! দাউদকান্দিতে হত্যা মামলার  ৪ আসামি গ্রেপ্তার নারী উন্নয়নে ইসলামিক উম্মাহর সহযোগিতা বাড়ানোর আহ্বান সমাজকল্যাণ মন্ত্রীর প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা নজরুল ইসলাম খানের সঙ্গে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ কুড়িগ্রামে স্বামী হত্যার ২০ বছর পর স্ত্রী-প্রেমিকসহ ৪ জনের যাবজ্জীবন টেনশনে রহমত সাহেব বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের মধ্যে পরিবহন ও লজিস্টিকস খাতে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত গোপালগঞ্জে বাবাকে হত্যার দায়ে ছেলের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড বন্যা মোকাবিলায় সমন্বিতভাবে কাজের আহ্বান স্থানীয় সরকার মন্ত্রীর ৩ দফা দাবিতে উত্তাল রাজশাহী শিক্ষা বোর্ড প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদন সাপেক্ষে উদ্বোধন করা হবে জুলাই স্মৃতি জাদুঘর সবচেয়ে প্রিয় বাগানটাই দান কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের সামনে এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের বিক্ষোভ বোয়ালমারীতে শিশু বলাৎকারের মামলায় কিশোর গ্রেপ্তার

কিশোর গ্যাং: নতুন প্রজন্মকে রক্ষা করুন

প্রকাশ: ০১ এপ্রিল ২০২৪, ১০:০৮ এএম
কিশোর গ্যাং: নতুন প্রজন্মকে রক্ষা করুন

কিশোর গ্যাং অপরাধ একটি সামাজিক ব্যাধি। রাজধানী ঢাকাসহ জেলায় জেলায় দিন দিন বাড়ছে এসব গ্যাংয়ের সংখ্যা ও দৌরাত্ম্য। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সাঁড়াশি অভিযান চালানো সত্ত্বেও এই চক্রের লাগাম টানা যাচ্ছে না। গত চার বছরের তথ্য-উপাত্তে দেখা গেছে, মধ্যবিত্ত পরিবারের কিশোররা এই অপকর্মে বেশি জড়িত। ইদানীং উচ্চবিত্ত পরিবারের সন্তানরাও এতে যুক্ত হচ্ছে। ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হওয়ায় খুব অল্প বয়সেই বখে যাচ্ছে তারা। রাজধানীসহ সারা দেশে কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যদের গ্রেপ্তারের লক্ষ্যে অভিযান পরিচালনা করছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। অভিযানে গ্রেপ্তার হওয়াদের মধ্যে কিশোর গ্যাংয়ের সদস্য হিসেবে প্রাপ্তবয়স্কদেরও দেখা গেছে। কিশোরদের সঙ্গে গ্রেপ্তার করা হয়েছে তাদেরও। এদের বয়স ১৮ বছরের বেশি। অপরাধ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গ্রেপ্তার করা কিশোর গ্যাংয়ের ১৮ বছরের বেশি বয়সী সদস্যদের পরিচয় খুঁজে বের করতে হবে।

কিশোর গ্যাংয়ের বৈশিষ্ট্যে নানা রকম পরিবর্তন ঘটেছে। বর্তমানে এই চক্রটি নানামুখী বিপজ্জনক অপরাধে জড়াচ্ছে। এলাকাভিত্তিক ডিশ ব্যবসা, চাঁদাবাজি, মাদক ব্যবসা, এমনকি ছিনতাইয়ের মতো অপকর্মে তারা অবলীলায় জড়িয়ে যাচ্ছে। এতে ঘটছে আইনশৃঙ্খলার অবনতি। বিষয়টি বেশ ভাবিয়ে তুলেছে অভিভাবক ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে। এই গ্রুপগুলো সাম্প্রতিক সময়ে বড় ভাইদের দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে। তারা এই গ্রুপগুলোকে নিজেদের স্বার্থে অর্থ জোগান দিচ্ছে এবং গ্রেপ্তার হলে আইনি সহযোগিতা করছে। ফলে দিন দিন বেপরোয়া হয়ে উঠছে কিশোর গ্যাং সংস্কৃতি।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কিশোর গ্যাং নিয়ন্ত্রণকারী বড় অপরাধীদের অনেকেই আছেন জেলখানায়। তারা জেলখানার ভেতরে থেকে নির্দেশনা দিয়ে এসব গ্যাং নিয়ন্ত্রণ করছেন। প্রভাবশালীদের ছত্রচ্ছায়ায় এদের দৌরাত্ম্য বেড়েছে। কারণ প্রভাবশালী ও নিয়ন্ত্রণকারীরা জানে, কিশোর অপরাধের শাস্তি খুবই কম এবং তাদের সহজে ব্যবহার করা যায়। আইনে মৃত্যুদণ্ড, যাবজ্জীবন সাজা দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। কিশোররা উত্তেজনাবশত বা মাদকাসক্ত হয়ে আবার কখনো টাকার বিনিময়ে বিভিন্ন অপরাধে জড়িয়ে পড়ে। তারা আইনকানুন ও শাস্তি সম্পর্কে তেমন কিছুই জানে না। প্রভাবশালীদের আশ্রয়-প্রশ্রয়ে তারা বেপরোয়া হয়।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. মশিউর রহমান খবরের কাগজকে বলেন, ‘আমাদের কিশোররা যথেষ্ট সৃজনশীল ও কর্মঠ। কিন্তু এই বিষয়টি আলোচনায় কম আসে। নেতিবাচক আলোচনা বেশি হয়। এটা সামনে এনে বেশি মানুষকে জানার সুযোগ করে দেওয়ার চেয়ে সামাজিকভাবে এর নিরোধ জরুরি। পরিবারের সঙ্গে সম্পর্কহীনতার কারণে যথাযথভাবে সামাজিকীকরণ হচ্ছে না। তাকে পরিশোধনের জন্য নানা পথে যেতে হবে।’ 

কিশোর গ্যাং সংস্কৃতি বন্ধ করতে হলে জনসচেতনতা বাড়াতে হবে। কিশোর গ্যাং প্রতিরোধে অবশ্যই রাজনৈতিক সদিচ্ছা থাকতে হবে। প্রত্যেক অভিভাবককে তৎপর হতে হবে। বাচ্চারা কোথায় যাচ্ছে, কী করছে, কোথায় সময় কাটাচ্ছে ও কার সঙ্গে মেলামেশা করছে, তার খোঁজখবর রাখতে হবে। প্রতিটি পরিবারের সামাজিক বন্ধন দৃঢ় করতে হবে। দেশে সংস্কৃতি চর্চা বাড়াতে হবে। খেলাধুলার আয়োজনসহ সামাজিক যেসব অনুষ্ঠান আছে, সেগুলোতে কিশোরদের অংশগ্রহণ বাড়াতে হবে। যেসব কিশোরকে আইনের আওতায় আনা হবে, তাদের মোটিভেশনের ব্যবস্থা রাখতে হবে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের নজরদারি বাড়াতে হবে। নতুন প্রজন্মকে সঠিক পথের দিকনির্দেশনা দিয়ে তৈরি করতে পারলে সমাজকে কিশোর গ্যাং অপরাধ থেকে মুক্ত রাখা সম্ভব হবে।

জলাবদ্ধতায় রাজধানীতে জনদুর্ভোগ চরমে সংকট নিরসনে কার্যকর ব্যবস্থা নিন

প্রকাশ: ১৪ জুলাই ২০২৬, ১১:৩৯ এএম
সংকট নিরসনে কার্যকর ব্যবস্থা নিন

রাজধানীতে গত কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিতে নিম্ন আয়ের মানুষের জীবন দুর্বিষহ হয়ে পড়েছে। বৃষ্টির কারণে রাজধানীজুড়ে দিনমজুর, হকার, নির্মাণশ্রমিক, ফেরিওয়ালা ও রিকশাচালকদের ব্যাপক দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। এমনকি নিম্নবিত্ত, মধ্যবিত্ত সব শ্রেণি-পেশার মানুষকেই হিমশিম খেতে হচ্ছে। বস্তিবাসী এ দুর্দিনে খাদ্য ও পানিসংকটে রয়েছে। যাদের প্রত্যেক দিনের আয় নির্ভর করে প্রতিদিনের কাজের ওপর। টানা বর্ষণে একদিকে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় সৃষ্টি হয়েছে জলাবদ্ধতা, অন্যদিকে উন্নয়ন কাজের জন্য খোঁড়াখুঁড়ি করা সড়কগুলো বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে জনদুর্ভোগকে আরও বাড়িয়েছে। খবরের কাগজের প্রতিবেদনের তথ্যমতে, রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, কয়েক ঘণ্টার বৃষ্টিতে অধিকাংশ সড়কে হাঁটু ও কোমরসমান পানি জমেছে। কোথাও ড্রেন উপচে নোংরা পানি রাস্তায় উঠে এসেছে। আবার কোথাও উন্নয়নকাজের জন্য খুঁড়ে রাখা সড়ক পানির নিচে তলিয়ে গিয়ে যানবাহন চলাচলকে ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলেছে। এর ফলে রাজধানীজুড়ে সৃষ্টি হয়েছে তীব্র যানজট, আর নগরবাসীকে পোহাতে হচ্ছে চরম দুর্ভোগ।

রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা পানির নিচে থাকায় মোটরসাইকেল, রিকশা ও ছোট যানবাহন প্রায়ই গর্তে পড়ছে। এতে বড় ধরনের দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন অনেকে। বিভিন্ন স্থানে গর্তের কারণে পথচারীদেরও পথ চলতে নাজেহাল হতে হচ্ছে। অনেক স্থানে সিএনজিচালিত অটোরিকশা, যানবাহন বিকল হয়ে পড়ে থাকতে দেখা গেছে। অফিসগামী মানুষের অফিসে পৌঁছাতে স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে বেশি সময় লাগছে। জলাবদ্ধতার কারণে রাজধানীর বিভিন্ন নিচু এলাকায় বাসাবাড়ি, দোকানপাট ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে পানি ঢুকে পড়েছে। ড্রেনের নোংরা পানি রাস্তায় ছড়িয়ে পড়ায় সেটা মাড়িয়ে গন্তব্যে যেতে হচ্ছে কর্মজীবী মানুষকে।

টানা বৃষ্টিতে রাজধানীর ফুটপাতগুলো প্রায় ক্রেতাশূন্য হয়ে পড়েছে। হকাররা দোকান খুলতে পারছেন না। হকার সংগঠনগুলোর তথ্য অনুযায়ী, ঢাকা মহানগরে ৬ লাখেরও বেশি মানুষ ফুটপাতকেন্দ্রিক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। তাদের অধিকাংশই দৈনিক বিক্রির ওপর নির্ভরশীল। ফলে কয়েক দিনের বৃষ্টিতে তাদের জীবিকা চরম সংকটে পড়েছে। অন্যদিকে বৃষ্টির কারণে নির্মাণকাজ বন্ধ থাকায় আয়হীন দিন কাটাচ্ছেন নির্মাণশ্রমিকরা। রিকশাচালকদের অবস্থা আরও শোচনীয়।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী কয়েক দিন বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে। এতে রাজধানীর জলাবদ্ধতা ও জনদুর্ভোগ আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। চলতি জুলাইয়ের প্রথম ১১ দিনে যে পরিমাণ বৃষ্টি হয়েছে, তা এ মাসের গড় বৃষ্টির ৭৫ শতাংশ। আবহাওয়াবিদরা বলেছেন, নিম্নচাপ, মৌসুমি বায়ুর সক্রিয়তা, বায়ুপ্রবাহের ভিন্ন গতি এবং এল নিনোর বিপরীতমুখী অবস্থানের কারণে এত বৃষ্টি হয়েছে।  
প্রতিবছর বর্ষা এলে রাজধানীবাসীকে একই দুর্ভোগ পোহাতে হয়। যদিও সিটি করপোরেশন থেকে বরাবরই সংকট সমাধানের আশ্বাস দেওয়া হচ্ছে। পরিস্থিতি পরিদর্শনে ডিএনসিসি ও ডিএসসিসির  প্রশাসকরা সরেজমিন পরিদর্শন করছেন। পরিদর্শনকালে কর্মরত পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের দ্রুত পানি নিষ্কাশনের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দিচ্ছেন তারা। রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় সৃষ্ট জলাবদ্ধতা নিরসনে কুইক সার্ভিস টিম মাঠপর্যায়ে কাজ করছে বলে জানিয়েছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন কর্তৃপক্ষ। বৃষ্টির পর কোথাও পানি জমে গেলে তা দ্রুত নিষ্কাশনের জন্য কুইক সার্ভিস টিম সার্বক্ষণিক কাজ করছে বলে তারা জানান। তবে নগরীর বিদ্যমান ড্রেনেজব্যবস্থার সীমাবদ্ধতার কারণে অতিবৃষ্টিতে অনেক এলাকায় সাময়িক জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে। বর্তমানে পানি নিষ্কাশনের লাইন প্রয়োজনের তুলনায় কম। এ কারণে দ্রুত পানি সরানোর ক্ষেত্রে মারাত্মক সমস্যা হচ্ছে। পানি নিষ্কাশনব্যবস্থার সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি অচল ড্রেনগুলো সচল করার কাজও চলমান রয়েছে।

এ অবস্থায় সংকট নিরসনে সরকারকে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। যদিও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আহ্বান জানিয়েছেন যেখানে-সেখানে ময়লা না ফেলে খাল-বিল রক্ষা করার। তাই নগরবাসীর উচিত যার যার বাড়ির আঙিনা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা। ড্রেন ও ম্যানহোলগুলো পলিথিন, প্লাস্টিক ও আবর্জনায় পরিপূর্ণ হয়ে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা নষ্ট করে ফেলে। এ জন্য জনসচেতনতা বাড়াতে হবে। সেই সঙ্গে সরকারকে সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে রাজধানীর জলাবদ্ধতা নিরসনে দ্রুত কাজ করতে হবে।

অপ্রতিরোধ্য মব সহিংসতা শক্ত হাতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করুন

প্রকাশ: ১৩ জুলাই ২০২৬, ০২:০৪ পিএম
শক্ত হাতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করুন

দেশে মব সহিংসতার ধারাবাহিকতা এখনো চলমান। যখন-তখন যেখানে-সেখানে যে কেউ মব বা অন্যায়ভাবে শারীরিক সহিংসতার শিকার হচ্ছেন। এটি সুস্থ সমাজে কোনোভাবেই কাম্য নয়। এরই মধ্যে বেড়েছে সাইবার মব। অর্থাৎ তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে কাউকে নাজেহাল করার চেষ্টা। দেশব্যাপী সাইবার মবের তৎপরতা এমন যে প্রধানমন্ত্রীর পরিবার থেকে শুরু করে সংসদ সদস্য বা সংস্কৃত অঙ্গনের মানুষও এতে বিদ্ধ হচ্ছেন প্রতিনিয়ত। দীর্ঘদিন ধরে চলমান বটবাহিনীর তাণ্ডবও একধরনের সাইবার মব। অপরাধ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চব্বিশের জুলাই অভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে পুলিশের মনোবল ও সাংগঠনিক কাঠামো বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। সেই সুযোগে বিভিন্ন ব্যক্তি বা গোষ্ঠী পরিকল্পিতভাবে টার্গেট করে সংঘবদ্ধ মব সহিংসতা ঘটাতে শুরু করে, যা পরে একধরনের মব কালচারে রূপ নেয়। এদিকে গত শনিবার অনুষ্ঠিত এইচএসসি পরীক্ষায় ভোলার চরফ্যাশন উপজেলায় একটি কেন্দ্রে নকল করতে বাধা দেওয়ায় শিক্ষার্থীরা মব সৃষ্টি করে বিশৃঙ্খলা তৈরি করে। এরপর পুলিশ ও শিক্ষার্থী সংঘর্ষে দুজন পুলিশ সদস্যসহ অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। এটি শিক্ষার্থীদের নৈতিক শিক্ষার সংকটকে সামনে এনেছে।

অতি সম্প্রতি এক পুলিশ সদস্য মারধরের শিকার হয়ে দুঃখ-কষ্টে কান্নায় ভেঙে পড়ার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এতে সচেতন মহলসহ পুলিশ সদস্যদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। অনেক পুলিশ সদস্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট দিয়ে চরম ক্ষোভ ও সমাজের প্রতি হতাশা প্রকাশ করেন। বারবার টার্গেট হচ্ছে পুলিশ।

পুলিশ সদর দপ্তর থেকে জানা গেছে, কর্তব্যরত অবস্থায় অপরাধী ও দুষ্কৃতকারীদের মব সন্ত্রাস বা বিভিন্নভাবে পুলিশের ওপর ধারাবাহিকভাবে হামলার ঘটনা ঘটছে। গুজবনির্ভর এ ধরনের হামলা শুধু আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির জন্য হুমকিই নয়, বরং বাংলাদেশে গড়ে ওঠা নব্য ‘মব সংস্কৃতি’ প্রকারান্তরে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান, বিচার-প্রক্রিয়া ও জননিরাপত্তার প্রতি মারাত্মক হুমকি। এটি একটি শাস্তিযোগ্য ফৌজদারি অপরাধও। এসব কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটিয়ে স্বার্থসংশ্লিষ্ট কোনো পক্ষ বাংলাদেশ পুলিশ তথা সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করে তাদের কায়েমি স্বার্থ হাসিলের অপচেষ্টায় লিপ্ত বলে বাংলাদেশ পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন আশঙ্কা করছে। 
পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্যমতে, জানুয়ারি থেকে জুন- গত ছয় মাসে সারা দেশে ৩১৯ পুলিশ সদস্য মব বা সংঘবদ্ধ হামলার শিকার হয়েছেন। মানবাধিকার সংস্থা আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) তথ্যমতে, গত ছয় মাসে (জানুয়ারি থেকে জুন) দেশের বিভিন্ন স্থানে মব সন্ত্রাসের শিকার হয়ে ১১৩ জন নিহত হয়েছেন।

অপরাধ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আইনকানুন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার প্রবণতা বেড়েছে। মব কেন ঘটছে এবং কারা কী কারণে করছে, সেগুলো খুঁজে বের করতে হবে। এ বিষয়ে কার্যকর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হলে মব সন্ত্রাস দমন করা সম্ভব হবে।

সামাজিক অপরাধ বিশেষজ্ঞ এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক ড. তৌহিদুল হক খবরের কাগজকে বলেন, মবের মতো আইনবিরুদ্ধ কাজও সমাজে যখন প্রতিনিয়ত ঘটে এবং একধরনের ‘বৈধতা পায়’, তখন একটা শ্রেণির কাছে তা ‘স্বাভাবিক’ বলে প্রতীয়মান হওয়া বিচিত্র নয়। কেউ কেউ মনে করেন, এভাবেও বিচার করা যায় বা বিচার হয়। বাংলাদেশে এই বাধা বা প্রতিবন্ধকতার সূত্র ধরে মব সহিংসতা ক্রমান্বয়ে দেশব্যাপী ছড়িয়ে পড়ছে। স্বয়ং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরাও মবের আক্রমণ থেকে রেহাই পাচ্ছেন না, যা সচেতন নাগরিকদের মধ্যে উদ্বেগ ও শঙ্কা  ছড়াচ্ছে।

মব সহিংসতা বন্ধ করতে সরকারকে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। বিশেষ করে মবের সঙ্গে জড়িত রাজনৈতিক ব্যক্তিদের সাংগঠনিকভাবে আশ্রয়-প্রশ্রয় বন্ধ করতে হবে। যেকোনো ধরনের মবের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স অনুসরণ করতে হবে। দেশে আইনের শাসন নিশ্চিত করতে হবে। আশা করছি, সরকার দেশের জনকল্যাণে মব সহিংসতা দূর করতে দূরদর্শী ভূমিকা রাখবে।

মেট্রো স্টেশনের নিচে হাটবাজার ভোগান্তি দূর করতে তদারকি বাড়াতে হবে

প্রকাশ: ১৩ জুলাই ২০২৬, ০১:৫৭ পিএম
ভোগান্তি দূর করতে তদারকি বাড়াতে হবে

যানজটের নগরীতে সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য ও স্বস্তির বাহন মেট্রোরেল। কিন্তু যথাযথ তদারকি ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে মেট্রো স্টেশনগুলোর নিচে দিন দিন গড়ে উঠছে অস্থায়ী হাটবাজার। একটি গুরুত্বপূর্ণ আধুনিক অবকাঠামোর নিচে বিভিন্ন ভ্যান ও অস্থায়ী দোকান স্টেশনের প্রবেশপথ দখল করে ব্যবসা পরিচালনা করছে। এতে যাত্রীদের চলাচলের পথ অনেকটাই সংকুচিত হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে অফিসগামী মানুষ, নারী, শিশু ও বয়স্ক যাত্রীরা সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়ছেন। অনেক ক্ষেত্রে স্টেশনের সিঁড়ি, লিফটের প্রবেশমুখও আংশিকভাবে দখল হয়ে যাচ্ছে। 
এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে রিকশার দীর্ঘ সারি। ফলে প্রতিদিনই হকার, রিকশাচালক ও যাত্রীদের মধ্যে বাগবিতণ্ডা লেগেই থাকছে। নিয়মিত মেট্রোরেল ব্যবহারকারী যাত্রীরা নানা রকম দুর্ভোগে পড়ছেন। শুরুর দিকে মেট্রো স্টেশনগুলোর পরিচ্ছন্নতা ও শৃঙ্খলা দেখে মনে হতো যেন ইউরোপের কোনো আধুনিক নগরের অবকাঠামো। সাধারণ মানুষও স্টেশনগুলোকে নিজেদের সম্পদ মনে করে পরিচ্ছন্ন রাখার চেষ্টা করতেন। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদারকি কমে যাওয়ায় মেট্রো স্টেশনগুলো সেই পরিবেশ হারাতে বসেছে। 
স্থানীয়দের দাবি, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট দেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকে সমাজের বিভিন্ন স্তরে শৃঙ্খলার ব্যাঘাত ঘটেছে। এর প্রভাব পড়েছে মেট্রো স্টেশনগুলোতেও। তখন থেকে মেট্রো স্টেশনের নিচে হকারদের উপস্থিতি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। আগে কিছুটা নিয়ন্ত্রণ থাকলেও এখন নিয়মিত উচ্ছেদ অভিযান কিংবা কার্যকর নজরদারি না থাকায় দিন দিন বাড়ছে দখলদারত্ব।

খবরের কাগজ-এ সংবাদ প্রকাশের পর রাজধানীর মেট্রো স্টেশন ও সংলগ্ন এলাকায় অবৈধ দখল ও ভাসমান দোকানের বিরুদ্ধে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করেছে ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড (ডিএমটিসিএল)। সংস্থাটি জানিয়েছে, মেট্রো স্টেশন ও এর আশপাশের এলাকায় শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবং অবৈধ দখল প্রতিরোধে এ ধরনের উচ্ছেদ অভিযান ভবিষ্যতেও নিয়মিতভাবে পরিচালিত হবে।
পরিকল্পনাবিদদের মতে, মেট্রোরেল শুধু একটি গণপরিবহন নয়। এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় অবকাঠামো। স্টেশন এলাকা দখলমুক্ত ও নিরাপদ করা অত্যন্ত জরুরি। অনিয়ন্ত্রিত দোকান, ভ্যান ও জনসমাগম জরুরি পরিস্থিতিতে যাত্রীদের দ্রুত সরিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রেও বড় ধরনের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করতে পারে। মেট্রো স্টেশনের নিচে হাটবাজার স্থাপনকে ন্যক্কারজনক বলে মনে করেন তারা।

নগর পরিকল্পনাবিদ ও ইনস্টিটিউট অব লার্নিং অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের নির্বাহী পরিচালক ড. আদিল মুহাম্মদ খান খবরের কাগজকে বলেন, মেট্রোরেল একটি বিশেষায়িত নগর অবকাঠামো। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে মেট্রো স্টেশনকে কেন্দ্র করে ১০০ থেকে ১৫০ মিটার এলাকা আলাদাভাবে পরিকল্পনা ও নিয়ন্ত্রণের আওতায় রাখা হয়; যাতে পথচারীদের বিভিন্ন চলাচল, যানবাহনের সংযোগ এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায়। কিন্তু ঢাকায় এ ধরনের সমন্বিত পরিকল্পনার ঘাটতি স্পষ্টভাবে দেখা যাচ্ছে। সমাধান হিসেবে তিনি বলেন, প্রতিটি মেট্রো স্টেশনের চারপাশের অন্তত ১০০ থেকে ১৫০ মিটার এলাকাকে ‘নো বিজনেস জোন’ ঘোষণা করে নিয়মিত নজরদারি নিশ্চিত করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে স্টেশনকেন্দ্রিক একটি সমন্বিত মোবিলিটি প্ল্যান বাস্তবায়ন করতে হবে, যাতে পথচারী চলাচল নির্বিঘ্ন থাকে এবং মেট্রোরেলের পরিবেশ শৃঙ্খলাপূর্ণ ও নিরাপদ রাখা যায়।

মেট্রোরেল স্টেশনের নিচে অবৈধ দোকানপাট ও অটোরিকশার স্ট্যান্ড উচ্ছেদে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সমন্বিত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। স্টেশনগুলোকে দখলমুক্ত নিরাপদ ও শৃঙ্খলাপূর্ণ রাখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করতে হবে। পথচারী চলাচল নির্বিঘ্ন রাখতে এবং মেট্রো স্টেশনগুলোকে একটি রাষ্ট্রীয় সম্পদ মনে করে অবকাঠামোটির যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করা জরুরি। সরকার এ ব্যাপারে কার্যকর পদক্ষেপ নেবে, এটাই প্রত্যাশা।

অনলাইনে প্রকাশ্যে অস্ত্র কেনাবেচা জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিন

প্রকাশ: ১১ জুলাই ২০২৬, ১২:২৫ পিএম
জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিন

হাত বাড়ালেই এখন অস্ত্র কেনা যাচ্ছে। অনলাইনে প্রকাশ্যেই অস্ত্র কেনাবেচা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন গোপনীয় গ্রুপে এবং প্রকাশ্য ওয়েব পেজে আগ্নেয়াস্ত্র, গুলি কেনাবেচা চলছে। তবে এগুলো অধিকাংশই প্রতিবেশী দেশে বা অন্য দেশে বসে নিয়ন্ত্রণ করা হয়ে থাকে। দেশের ভেতরেও এ ধরনের প্রবণতা লক্ষ করছেন অপরাধ বিশ্লেষকরা। ইদানীং পার্বত্য চট্টগ্রামসহ বেশ কিছু সীমান্ত এলাকায় অনলাইন যোগাযোগে অস্ত্র কেনাবেচার কিছু খবর পাওয়া যাচ্ছে। অন্যদিকে রাজধানী ঢাকাসহ বিভিন্ন অঞ্চলের দোকানে মেটাল বডির হুবহু নকল পিস্তল, রিভলবারও বিক্রি হচ্ছে। অনেক সময় এগুলোকে খেলনা পিস্তল হিসেবে প্রদর্শন করে বিভিন্ন দামসহ ফেসবুকে বিজ্ঞাপন দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু এই খেলনা পিস্তলের আড়ালে মূলত প্রকৃত পিস্তল বেচাকেনা হচ্ছে কি না, সে বিষয় খতিয়ে দেখা জরুরি। চব্বিশের জুলাই অভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে থানাসহ পুলিশের বিভিন্ন স্থাপনা থেকে লুট হওয়া অস্ত্র, গোলাবারুদ এবং সন্ত্রাসীদের হাতে থাকা অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্রের কারণে আগামী দিনগুলো আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা দুষ্কর হয়ে পড়বে।

পুলিশ সদর দপ্তরের সর্বশেষ তথ্য মতে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর দেশের বিভিন্ন থানা, ফাঁড়ি ও স্থাপনায় হামলা চালিয়ে পুলিশের ৫ হাজার ৭৬৩টি আগ্নেয়াস্ত্র লুট করা হয়। লুট হওয়া এসব অস্ত্রের মধ্যে এখন পর্যন্ত ৪ হাজার ৪৪৫টি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। এখনো ১ হাজার ৩১৮টি আগ্নেয়াস্ত্রের কোনো হদিস জানতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এসব মারণাস্ত্র কার হাতে বা কোথায় আছে, তাও অজানা। পুলিশ সদর দপ্তর থেকে বলা হয়েছে, গত ১ মে থেকে সারা দেশে মাদক ও অস্ত্রবিরোধী বিশেষ অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। এই বিশেষ অভিযানে গত সোমবার পর্যন্ত ২২টি অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। অবৈধ অস্ত্রের পাশাপাশি পুলিশের লুট হওয়া অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধারেও সব ইউনিটকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

অপরাধ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পেশাদার সন্ত্রাসী, উগ্রবাদী ও রাজনৈতিক ক্যাডার–এই তিন শ্রেণির হাতে লুট হওয়া অস্ত্র, গোলাবারুদ থাকতে পারে। জুলাই অভ্যুত্থান-পরবর্তী অন্তর্বর্তী সরকার এসব অস্ত্র উদ্ধারে অভিযান চালালেও তা ফলপ্রসূ হয়নি। বর্তমান সরকার এখন দৃশ্যমান তেমন কোনো অভিযান পরিচালনা করতে পারেনি। দল-মতনির্বিশেষে নির্মোহভাবে অস্ত্র উদ্ধার অভিযানে নামতে হবে। সম্মিলিত অভিযান পরিচালনা ছাড়া বিকল্প নেই। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে অভিযান দৃশ্যমান করতে হবে।

অপরাধ বিশেষজ্ঞ এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক ড. তৌহিদুল হক খবরের কাগজকে বলেন, সরকারি বাহিনী বা সংস্থার সদস্যদের বাইরে যে কারও হাতে আগ্নেয়াস্ত্র থাকা মানে সমাজের সাধারণ মানুষের জন্য ভীতিকর বা আতঙ্কের বিষয়। আমরা বিভিন্নভাবে আগ্নেয়াস্ত্রের ব্যবহার ও মহড়া দেখতে পাচ্ছি। সে অনুসারে জোরালো অভিযান চোখে পড়ছে না। দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার স্বার্থে যেকোনো মূল্যে লুট হওয়া আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধারসহ অবৈধ অস্ত্রের বিরুদ্ধে সরকারকে আরও কঠোর হতে হবে।

অনলাইনে প্রকাশ্যে অস্ত্র কেনাবেচার সঙ্গে জড়িতদের কঠোর নজরদারির আওতায় এনে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। একটি দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিকে স্বাভাবিক রাখতে হলে এ ধরনের অপতৎপরতা রুখতে সংশ্লিষ্ট বাহিনীকে আরও সজাগ ও সতর্ক থাকতে হবে। সমাজে শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখতে হলে এবং সাধারণ মানুষের  জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হলে অবৈধ অস্ত্রের (অনলাইন অফলাইন) ব্যবহার বন্ধ করা খুবই জরুরি।

প্রকোপ ঠেকাতে সচেতন হওয়া জরুরি দেশজুড়ে ডেঙ্গুর ব্যাপক বিস্তার

প্রকাশ: ১০ জুলাই ২০২৬, ১২:০৪ পিএম
দেশজুড়ে ডেঙ্গুর ব্যাপক বিস্তার

রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ডেঙ্গুর বিস্তার আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে। হাসপাতালগুলোতে প্রতিদিনই বাড়ছে ডেঙ্গু উপসর্গ নিয়ে আসা রোগীর সংখ্যা। প্রতিবছর বর্ষা মৌসুম এলেই ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়তে থাকে। কিন্তু এ সময়টাতে সে অনুযায়ী কার্যকর ও সমন্বিত কোনো ব্যবস্থা নিতে দেখা যায় না। মাঠপর্যায়ের বর্তমান যে চিত্র দেখা যায়, তাতে এ বিষয়টি স্পষ্ট পরিলক্ষিত হয়। খবরের কাগজের সরেজমিন প্রতিবেদনের তথ্যমতে, রাজধানীতে কয়েক দিনের বৃষ্টিতে খাল, নালা, ড্রেন ও পরিত্যক্ত স্থানে পানি জমে রয়েছে। অনেক স্থানে গিয়ে দেখা গেছে, আবর্জনায় ভরা স্থির পানি এডিস মশার প্রজননক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, নিয়মিত ফগিং হলেও লার্ভা ধ্বংস ও জমে থাকা পানি অপসারণে কার্যকর উদ্যোগের ঘাটতি রয়েছে।

জানা গেছে, চলতি বছর ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বিশেষ নির্দেশনা দিয়েছেন; বিশেষ করে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনকে ডেঙ্গু ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় সমন্বিতভাবে কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে এ লক্ষ্যে একটি বিশেষ টাস্কফোর্সও গঠন করা হয়েছে। এই কমিটির সদস্যরা রাজধানীর বাড়ি বাড়ি গিয়ে এডিস মশার লার্ভা শনাক্ত ও ধ্বংসে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করছেন। ইতোমধ্যে রাজধানীতে বিভিন্ন এলাকায় এ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। সম্প্রতি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের নিয়ে বৈঠক হয়েছে। সেখানে ডেঙ্গু মোকাবিলায় একাধিক নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

কীটতত্ত্ববিদদের মতে, ঢাকাসহ দেশের অনেক জেলায় এডিস মশার ঘনত্বের সূচক এখন ২০-এর বেশি। বৃষ্টিপাত, তাপমাত্রা, আর্দ্রতা এবং রোগীর সংখ্যা বিশ্লেষণ করে তৈরি পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগস্ট ও সেপ্টেম্বর মাসে দেশের বেশ কয়েকটি জেলায় ডেঙ্গুর সংক্রমণ উল্লেখযোগ্য হারে বাড়তে পারে। এ ছাড়া গত দুই বছরের অভিজ্ঞতাও তেমন সন্তোষজনক পর্যায়ে নেই। ২০২৫ সালে দেশে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছিলেন ১ লাখ ২ হাজার ৮৬১ জন, মৃত্যু হয়েছিল ৪১৩ জনের। ২০২৪ সালে আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ১ লাখ ১ হাজার ২১৪ এবং প্রাণ হারান ৫৭৫ জন। সেই অভিজ্ঞতায় এবার বর্ষার শুরুতেই সতর্ক হওয়ার তাগিদ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। 

চিকিৎসক ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. লেলিন চৌধুরী বলেন, বর্ষা মৌসুম শুরুর আগেই বৃষ্টিপাত শুরু হওয়ায় এবার ডেঙ্গুর প্রকোপও আগেভাগেই দেখা দিয়েছে। কার্যকর প্রতিরোধব্যবস্থার অভাবে ডেঙ্গু এখন আর রাজধানীকেন্দ্রিক নয়, দেশের বিভিন্ন জেলায় ছড়িয়ে পড়েছে। ডেঙ্গুসহ বিভিন্ন মশাবাহিত রোগের বিস্তার জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকারি সংস্থাগুলোকে নিয়মিত মশক নিধন কার্যক্রম পরিচালনা, লার্ভা ধ্বংস এবং কার্যকর তদারকি নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে জনসচেতনতা বাড়িয়ে ব্যক্তি ও সামাজিক পর্যায়ে প্রতিরোধমূলক উদ্যোগ জোরদার করা জরুরি। সময়মতো এসব ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে সামনের মাসগুলোতে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে। 

ডেঙ্গুর প্রকোপ ঠেকাতে সরকারকে মাঠপর্যায়ে বেশ কিছু চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে।  ইতোমধ্যেই আমরা জেনেছি, রাজধানীর দক্ষিণ সিটির ২৭টি ওয়ার্ডকে চরম ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে এবং উত্তর সিটির ২৪টি ওয়ার্ড উচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে এসব স্থানে লার্ভা ধ্বংস ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালিত হয়নি। তাই এখন থেকেই  মাঠপর্যায়ে লার্ভি সাইডিং, নিয়মিত ফগিং, খাল-নালা পরিষ্কার এবং আবর্জনা অপসারণে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যক্রমের জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। কার্যকর প্রতিরোধব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হলে জনসচেতনতা বাড়াতেও পদক্ষেপ নিতে হবে। সরকার দ্রুত এসব উদ্যোগ নিলে মাঠপর্যায়ে ডেঙ্গুর চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা সম্ভব হবে।