মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি আবারও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। কাতারের রাজধানী দোহায় গত মঙ্গলবার ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী গোষ্ঠী হামাস নেতাদের লক্ষ্য করে বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। এমনিতেই গাজায় দুই বছরের বেশি সময় ধরে চলা যুদ্ধে ৬৪ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। যার ৮৩ শতাংশ সাধারণ মানুষ। এরই মধ্যে কাতারে হামাস নেতাদের লক্ষ্য করে ইসরায়েলের বিমান হামলা মধ্যপ্রাচ্য ইস্যু নিয়ে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। কাতার এ হামলাকে ‘কাপুরুষোষিত’ ও ‘আন্তর্জাতিক আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন’ বলে তীব্র নিন্দা জানিয়েছে।
এ ঘটনায় অন্তত ছয়জন নিহতের কথা জানিয়েছে হামাস। আল-জাজিরার খবরে বলা হয়েছে, দোহায় একাধিক বিস্ফোরণ হয়েছে। হামাসের এক কর্মকর্তা জানান, আলোচনায় যে দলটি অংশ নিয়েছিল, তাদের লক্ষ্য করেই হামলা চালানো হয়েছে। যে দলটিকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে, তারা দোহায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের যুদ্ধবিরোধী প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা করতেই গিয়েছিলেন।
ইসরায়েলি হামলায় তাদের কেউ মারা যাননি বলেও জানিয়েছে ওই সূত্র। এদিকে ইসরায়েল হামাসের শীর্ষ নেতাদের লক্ষ্য করে হামলা চালানোর কথা স্বীকার করেছে। ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী এক বিবৃতিতে বলেছে, হামলার আগে বেসামরিকদের ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতেই হামলায় সুনিপুণ অস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে। হামাস বলেছে, এ ঘটনা আবারও দখলদারদের অপরাধী স্বভাব ও চুক্তিতে পৌঁছানোর সম্ভাবনাকে নষ্ট করার বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে।
মিডলইস্ট আইয়ের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অন্তত ১২টি বিমান হামলা চালানো হয়েছে। হামলার পর দোহার কাতারা ডিস্ট্রিক্ট থেকে ধোঁয়া উঠতে দেখা গেছে।
ইসরায়েল এখন পর্যন্ত উপসাগরীয় সহযোগিতা কাউন্সিলের (জিসিসি) কোনো দেশে হামলা চালায়নি। জিসিসিভুক্ত দেশগুলো হলো সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই), কাতার, কুয়েত, বাহরাইন ও ওমান। দেশগুলো যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ মিত্র এবং আন্তর্জাতিক বিষয়ে ইসরায়েলের পরীক্ষিত মিত্র। কাতারের হামলা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু না জানালেও হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেছেন, হামলার আগে তাদের জানানো হয়েছিল। ইসরায়েলের সম্প্রচার মাধ্যম চ্যানেল ১২-ও একই ধরনের খবর প্রকাশ করেছে। ফিলিস্তিন এবং হামাসের শীর্ষ নেতাদের বেছে বেছে টার্গেট করে গুপ্তহত্যা করে আসছে ইসরায়েল। বেশ কিছুদিন আগে হামাস গোষ্ঠীর শীর্ষ নেতা ইসমাইল হানিয়াকে গুপ্ত হামলা চালিয়ে হত্যা করে ইসরায়েল। ইসরায়েল একের পর এক হামলা চালিয়ে মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলেছে।
মধ্যপ্রাচ্যে ইসরায়েলি হামলায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। তারা বিভিন্ন সময় ঘটে যাওয়া ইসরায়েলের হামলা নিয়ে তেমন কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারেনি। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু সগর্বে বলেছেন, আমরা স্বাধীনভাবে কাতারে হামলা চালিয়েছি। যুদ্ধ উসকে দেওয়ার জন্য এর চেয়ে নেতিবাচক মন্তব্য আর কী হতে পারে? যদিও কাতারে ইসরায়েলের হামলা নিয়ে নিন্দা জানিয়েছেন জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস। তিনি বলেছেন, ইসরায়েলের হামলা কাতারের সার্বভৌমত্ব ও ভূখণ্ডের অখণ্ডতার জঘন্য লঙ্ঘন।’ ইসরায়েল একের পর এক হামলা চালিয়ে মধ্যপ্রাচ্যকে যুদ্ধের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। গাজা যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে দুই দফা পাল্টাপাল্টি হামলাও হয়েছে। ইসরায়েলের এ রকম যুদ্ধাংদেহি মনোভাবের কারণে সাধারণ মানুষের জানমালের ক্ষয়ক্ষতি ও ধ্বংসাত্মক কার্যক্রম বাড়ছে। আমরা যুদ্ধ নয়, শান্তির পক্ষে সবাই। আশা করছি, মধ্যপ্রাচ্যের শান্তি প্রতিষ্ঠায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এগিয়ে আসবে।