গরমের এই সময়টা আরাম দেয় ঢিলেঢালা পোশাক। একটা সময় ফিটিং জামা-কাপড় পরলেও গত কয়েক বছরে ঢিলেঢালা পোশাক তরুণীদের কাছে জনপ্রিয়তা পেয়েছে। বর্তমানে ঢিলেঢালা পোশাকই ট্রেন্ডি, ফ্যাশনেবল এবং আরামদায়ক। কামিজ, কুর্তা বা ওয়েস্টার্ন পোশাকের ক্ষেত্রে নারীরা পছন্দ করছেন এই পোশাক। এবারের পোশাক নিয়ে লিখেছেন তামান্না মুন
গরমের সময় কুর্তি, সালোয়ার-কামিজ, সিঙ্গেল কামিজ, টপস সব পোশাকই ঢিলেঢালা পরাই শ্রেয়। এ ধরনের পোশাক শরীরে বাতাস চলাচল করতে সাহায্য করে। পোশাক বেশি আঁটসাঁট হলে গরমে দম ফেলানো বেশ কষ্টকর হয়ে যায়। টি-শার্ট, ফতুয়া, কুর্তি, সালোয়ার, কামিজ কিংবা শাড়ি যা-ই পরুন না কেন টাইট ফিটিং না পরে একটু ঢিলেঢালা পোশাক পরলে আরাম পাওয়া যায় ও গরম কম লাগে।

পোশাকের কাটিং সঙ্গে ফেব্রিক হতে হবে আরামদায়ক। এ সময় শিফন, সুতি, ক্রেপড জর্জেট, সিল্ক, লিনেন, ভালো মানের নেটের তৈরি পোশাকগুলোয় স্বস্তি মেলে। তবে গরমে এগিয়ে আছে সুতি। এই কাপড়ে নতুন অধ্যায়ে এসেছে ভিসকসের মাধ্যমে। সুতির সঙ্গে ভিসকসের মিশ্রণের ফলে পোশাক হয় নরম ও আরামদায়ক। এ ছাড়া ফ্লপ কটনও পরতে পারেন। ফ্লপ কটন অনেকটা জর্জেট কাপড়ের মতো। তাড়াতাড়ি শুকিয়ে যায়। পশ্চিমা পোশাকে অনেক প্যাটার্ন খুব ভালোভাবে ফুটে এই কাপড়ে। অনুষ্ঠানের জন্য বেছে নিতে পারেন শিফনের পোশাক। এই কাপড় পরতেও যেমন আরামের, তেমনি দিনে বা রাতের অনুষ্ঠানে মানিয়ে যায়। কাপড়টি নরম হলেও চকচকে ভাব থাকে।
অবশ্যই পোশাকে যাতে খুব বেশি ভারী কাজ না করা থাকে সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। হালকা বা ফুলের প্রিন্ট, ছাপা নকশা পোশাকে বেশি স্বস্তি দেয়। কারণ এগুলো কাপড়কে অনেকটাই হালকা রাখে। জ্যামিতিক ডিজাইনের পোশাক কিছু বছর ধরে জনপ্রিয়তা পেয়েছে। যদি কেউ ত্রিভুজ, চতুর্ভুজ সার্কেল, পিরামিড এ ধরনের ডিজাইন পছন্দ করেন তাহলে অনায়াসে বেছে নিতে পারেন জ্যামিতিক ডিজাইনের পোশাক।
আরাম ও স্বাচ্ছন্দ্যের কথা বিবেচনায় রেখে গরমে পরার জন্য ফ্যাশন ব্র্যান্ড সারা লাইফস্টাইল এনেছে ঢিলেঢালা পোশাক। গরমে চোখের আরামের জন্য কাপড়ের রং বাছাইয়ের ক্ষেত্রেও প্রাধান্য দিয়েছেন তারা।
ফ্যাশন ব্র্যান্ড সারা লাইফস্টাইলের হেড অব ডিজাইন শামীম রহমান বলেন, নারীদের জন্য রয়েছে হালকা রঙের ঢিলেঢালা কামিজ ও টপস কাফতান। আমরা সবার জন্য ঢিলেঢালার মধ্যে পোশাক নকশা করার চেষ্টা করেছি। গরমের জন্য নীল, অফ হোয়াইট ও লেমন রংকে এবার প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে।’
গরমের দিনে পোশাকের রং এমন হওয়া উচিত যেটা রোদের তাপ কম শোষণ করে বাইরের তাপমাত্রা থেকে শরীরকে রক্ষা করবে। তাই গাঢ় রং যেমন- কালো, লাল, হলুদ এ ধরনের রঙের পরিবর্তে হালকা রঙের কাপড় গরমের জন্য সবচেয়ে ভালো। এতে দেখতে যেমন প্রশান্তি লাগে তেমনি গরম কমাতেও বেশ কার্যকর। সাদা, ধূসর, বাদামি, সবুজ, ফিরোজা এ ধরনের হালকা রঙের পোশাক বেছে নিতে পারেন। হালকা রং গরম আটকে রাখে না দীর্ঘসময়। তাই গরম অনুভব হয় কম। যারা ওয়েস্টার্ন পরেন তাদেরও রঙের বিষয়টি সমানভাবে মাথায় রাখতে হবে। ফুল হাতা পোশাক না পরে স্লিভলেস কিংবা হাফহাতা পোশাক পরলে আরাম পাবেন।
পোশাকের ব্র্যান্ড বিশ্বরঙ, কে ক্র্যাফট, অঞ্জন’স, দেশাল, বিবিয়ানা, নিপুণ, রঙ বাংলাদেশ, হরীতকী, সরলা, কারভিকিউসহ বিভিন্ন অফলাইন ও অনলাইন ব্র্যান্ডে পাওয়া যাচ্ছে গরমে স্বস্তি দেবে এমন ঢিলেঢালা পোশাক। এ ছাড়া পছন্দমতো কাপড় দিয়ে পোশাক বানাতে চাইলে কাপড় কিনতে যেতে পারেন চাঁদনী চক, গাউছিয়া, নিউমার্কেট, গুলিস্তান, বসুন্ধরা সিটিতেও। এসব মার্কেট ছাড়াও সুতি কাপড় ছোট-বড় অনেক মার্কেটেই পাওয়া যায়। ফ্যাশনের জন্য সুতি কাপড় কিনে নিজের পছন্দমতো ডিজাইন, লেস, বোতাম, ইয়োক দিয়ে তৈরি করে নেওয়া যায় গরমের পোশাক। লেস, বোতাম, ইয়োক ব্যবহারে করে পোশাক আনতে পারেন নান্দনিকতার ছোঁয়া।
কলি