ইউক্রেনের উত্তরের অঞ্চল সুমিতে মঙ্গলবার (১৯ আগস্ট) রাতে রাশিয়ার হামলায় অন্তত ১৪ জন আহত হয়েছেন। এর মধ্যে একই পরিবারের তিনটি শিশু রয়েছে। ইউক্রেনের প্রধানমন্ত্রী বুধবার তথ্যটি জানান।
এমন একটি সময় এ হামলাগুলো হলো যখন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইউক্রেনে রাশিয়ার যুদ্ধ অবসানের জন্য প্রচেষ্টা জোরদার করেছেন। ম্যাসেজিং অ্যাপ টেলিগ্রামে স্থানীয় আইনজীবীরা জানান, গত বুধবার প্রথম ভাগে ১৫টি ড্রোন দিয়ে ওখতিরকা এলাকায় হামলা চালিয়েছে রাশিয়া।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এক পোস্টে ইউক্রেনের প্রধানমন্ত্রী ইউলিয়া সভিরিডেঙ্কো লিখেছেন, শহরের আবাসিক ভবনে হামলার ঘটনায় আহত তিন শিশুর বয়স যথাক্রমে ৫ মাস, চার বছর ও ছয় বছর। তিনি আরও লিখেছেন, রাশিয়া পুরোপুরি সন্ত্রাসী কার্যক্রমের মাধ্যমে ইউক্রেনজুড়ে ভীতি সঞ্চার অব্যাহত রেখেছে। আবারও তারা পরিবার ও তাদের ঘুমন্ত শিশুরা রয়েছে এমন বাড়িগুলোতে হামলা চালাচ্ছে।
রাশিয়া একাধিকবার বলেছে, তারা বেসামরিক ব্যক্তি ও বেসামরিক অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা চালাচ্ছে। ইউক্রেনের বিমানবাহিনী বলছে, মোট ৯৩টি ড্রোন ও দুটি ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে রাশিয়া রাতে হামলা চালিয়েছিল। সেগুলোর মধ্যে ৬২টি ড্রোন ও একটি ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করা হয়েছে। ২০টি অবস্থানে রাশিয়া আঘাত হেনেছে।
ইউক্রেনের জাতীয় জরুরি সেবা ওদেসায় বড়মাপের ড্রোন হামলা হওয়ার খবর জানিয়েছে। তাদের দেওয়া তথ্যানুসারে, ওই হামলায় একজন আহত হয়েছে এবং একটি তেল ও জ্বালানি অবকাঠামোতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। ওদেসা অঞ্চলের ইজমাইল জেলার কর্মকর্তারা জানান, শহরের বন্দরের অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
এদিকে, মঙ্গলবার শেষ ভাগে রাশিয়া নিয়ন্ত্রিত জাপোরিজঝিয়া অঞ্চলে হামলা চালিয়ে বেশকিছু এলাকাকে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছিল ইউক্রেন। সেখানকার মস্কো সমর্থিত গভর্নর জানান, কিয়েভ ড্রোন হামলা চালিয়েছিল।
জাপোরিজঝিয়া মূলত ইউক্রেনের অঞ্চল। তবে বর্তমানে গোটা অঞ্চলের অর্ধেকেরও বেশি রুশ বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। অঞ্চলটির মূল প্রশাসনিক কেন্দ্র এখনো ধরে রেখেছে ইউক্রেন। পাশাপাশি বিভিন্ন সময়ই হামলা চালিয়ে ইউক্রেনের বাহিনী রুশ নিয়ন্ত্রিত অংশের বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন করে দেয়। প্রসঙ্গত ২০২২ সালে জাপোরিজঝিয়া অঞ্চলকে খেরসন, দোনেৎস্ক ও লুহানস্কের পাশাপাশি অধিভুক্ত করেছে রাশিয়া। সূত্র: রয়টার্স