স্লোভাকিয়া এবং হাঙ্গেরি জানিয়েছে যে, পর্যাপ্ত বিকল্প জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত না করা পর্যন্ত তারা রুশ তেল ও গ্যাস আমদানি কমাতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের চাপে নতি স্বীকার করবে না। ব্লুমবার্গের প্রতিবেদনে এ খবর উঠে এসেছে।
ট্রাম্প সম্প্রতি মস্কোর ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, তবে শর্ত হলো, ইউরোপীয় মিত্ররা যেন রুশ তেল কেনা সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করে দেয়। ইউক্রেনে রাশিয়ার সর্বাত্মক আক্রমণের সময় রুশ তেল বিক্রিই ছিল ক্রেমলিনের আয়ের অন্যতম প্রধান উৎস।
স্থলবেষ্টিত এবং ইউক্রেনের সীমান্তবর্তী দেশ স্লোভাকিয়া ও হাঙ্গেরি দীর্ঘদিন ধরে রুশ তেল ও গ্যাসের ওপর নির্ভরশীল। ২০২২ সালে ইউক্রেনে রাশিয়ার যুদ্ধ শুরুর পর উভয় দেশ জ্বালানি বহুমুখীকরণের জন্য বিভিন্ন উদ্যোগ নিতে শুরু করে।
গত বুধবার স্লোভাকিয়ার অর্থনীতিবিষয়ক মন্ত্রী ডেনিসা সাকোভা সাংবাদিকদের বলেন, ‘‘রুশ জ্বালানি না কেনার বিষয়ে সম্পূর্ণ প্রতিশ্রুতি দেওয়ার আগে আমাদের সঠিক শর্তগুলো পূরণ করতে হবে—অন্যথায় আমাদের শিল্প ও অর্থনীতি মারাত্মক ক্ষতির ঝুঁকির মধ্যে পড়বে।’’
সাকোভা জোর দিয়ে বলেন যে, বিকল্প জ্বালানি সরবরাহের পথ তৈরি করার জন্য অবকাঠামো উন্নয়ন অপরিহার্য। তিনি আরও বলেন যে, ভিয়েনায় যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি সচিব ক্রিস রাইটের সঙ্গে সাম্প্রতিক বৈঠকে তিনি স্লোভাকিয়ার অবস্থান স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছেন।
সাকোভার মতে, ট্রাম্প প্রশাসনের ওই কর্মকর্তা বিষয়টি বুঝতে পেরেছেন এবং ইউরোপে জ্বালানি প্রকল্পগুলোকে সহায়তা করার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের প্রয়োজনীয়তার কথা স্বীকার করেছেন।
সাকোভা বলেন, ‘‘যতক্ষণ পর্যন্ত আমাদের বিকল্প পথ থাকবে এবং সঞ্চালন ক্ষমতা যথেষ্ট হবে, ততক্ষণ স্লোভাকিয়ার বহুমুখীকরণে কোনো সমস্যা নেই।’’
তবে মন্ত্রী সতর্ক করে বলেন যে, রুশ জ্বালানি আমদানি সম্পূর্ণ বন্ধ করা ঝুঁকিপূর্ণ হবে, কারণ স্লোভাকিয়া ইউরোপীয় ইউনিয়নের পশ্চিমা সরবরাহ পথের শেষ প্রান্তে অবস্থিত।
অন্যদিকে, হাঙ্গেরি রুশবিরোধী ইইউ নিষেধাজ্ঞাগুলোর বিরোধিতা অব্যাহত রেখেছে, যা তাদের জ্বালানি নিরাপত্তাকে বিপন্ন করতে পারে।
বুদাপেস্টে একটি সংবাদ সম্মেলনে হাঙ্গেরির মন্ত্রিপরিষদ মন্ত্রী গার্জেলি গুলিয়াস সরকারের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে বলেন, ‘‘যখন এটি সরাসরি হাঙ্গেরির স্বার্থের বিরুদ্ধে যাবে, যেমন জ্বালানি কেনার ক্ষেত্রে, তখন আমরা ভেটো দেব।’’
ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ মিত্র হাঙ্গেরির প্রধানমন্ত্রী ভিক্টর অরবান এবং স্লোভাকিয়ার প্রধানমন্ত্রী রবার্ট ফিকো রাশিয়ার সঙ্গে জ্বালানি সম্পর্ক ছিন্ন করার সবচেয়ে সোচ্চার বিরোধী। হাঙ্গেরি এবং স্লোভাকিয়া হলো ইউরোপীয় ইউনিয়নের সর্বশেষ দুটি সদস্য রাষ্ট্র যারা এখনও দ্রুজবা পাইপলাইনের মাধ্যমে রুশ তেল কিনছে।
এর আগে ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডের লে বলেছিলেন যে, ১০ সেপ্টেম্বর মস্কোর বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞার নতুন অংশ হিসেবে ব্রাসেলস ২০২৭ সালের আগে রুশ জীবাশ্ম জ্বালানি পর্যায়ক্রমে বন্ধ করার বিষয়টি বিবেচনা করছে।
ট্রাম্প প্রশাসন অন্যান্য জি৭ সদস্য রাষ্ট্রকে চীন ও ভারতের ওপর ৫০-১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপের জন্য চাপ দিচ্ছে বলে জানা গেছে। কারণ তারা রুশ তেলের প্রধান ক্রেতা। ট্রাম্প বলেছেন, চীন-ভারতকে শুল্ক বিষয়ে চাপ দেওয়ার কারণ মূলত ইউক্রেনে যুদ্ধের বিষয়ে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে আলোচনার টেবিলে আনা যায়। সূত্র: ব্লুমবার্গ
মাহফুজ/