রাশিয়ার ভেতরে অবস্থিত জ্বালানি অবকাঠামো সম্পর্কে ইউক্রেনকে গোয়েন্দা তথ্য দেবে যুক্তরাষ্ট্র, যাতে দেশটি সেগুলোতে হামলা চালাতে পারে।
বুধবার (১ অক্টোবর) বিষয়টি নিশ্চিত করেছে সংশ্লিষ্ট দুই সূত্র। এমন একটি সময়ে এ তথ্য সামনে এল যখন যুক্তরাষ্ট্র কিয়েভকে ক্ষেপণাস্ত্র দেবে কি না, সে বিষয়টি নিয়ে সংশয়ে রয়েছে। কারণ তাদের দেওয়া ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে রাশিয়ার অভ্যন্তরে হামলা চালানো হতে পারে।
গোয়েন্দা তথ্যের ক্ষেত্রে কোনো সংশয় রাখছে না যুক্তরাষ্ট্র। নিজ ন্যাটো মিত্রদেরও ইউক্রেনকে তথ্য দিয়ে সহায়তা করার আহ্বান জানিয়েছে দেশটি। বিষয়টি সম্পর্কে প্রথমে জানিয়েছে ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল। পরে তথ্যটি নিশ্চিত করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের এক কর্মকর্তাও।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতা নেওয়ার পর থেকেই রাশিয়ার দিকে ঝুঁকেছিলেন। সে সময় থেকে রুশদের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রকে কঠোর কোনো পদক্ষেপ নিতে দেখা যায়নি। যুক্তরাষ্ট্রের এবারের পদক্ষেপের মধ্যদিয়ে সেটির অবসান ঘটছে।
ওয়াশিংটন বহু আগে থেকেই কিয়েভকে গোয়েন্দা তথ্য জানিয়ে আসছে। নতুন পদক্ষেপের ফলে এখন ইউক্রেনের জন্য রাশিয়ার তেল পরিশোধনাগার, পাইপলাইন, বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোর মতো অবকাঠামোয় হামলা চালানো আরও সহজ হবে। মূলত এগুলো করার মধ্যদিয়ে ক্রেমলিনের আয় ও তেল বিক্রিতে বিঘ্ন ঘটানোর চেষ্টা করা হবে। পশ্চিমের অভিযোগ, তেল বিক্রির মাধ্যমে রাশিয়া যে আয় করছে, তা ইউক্রেন যুদ্ধে খরচ করছে তারা।
ট্রাম্প ইউরোপের দেশগুলোকেও রাশিয়ার তেল কেনা বন্ধে চাপ দিয়েছেন। এ ছাড়া বিশ্বের অন্যান্য দেশও যাতে রাশিয়ার তেল না কেনে, সে বিষয়টি নিয়েও চাপ দিয়ে আসছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। এমনকি রাশিয়ার তেল কেনাকে কেন্দ্র করে ভারতের ওপর ৫০ শতাংশ শুল্কও আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র।
ইউক্রেনকে গোয়েন্দা তথ্য দেওয়ার এ বিষয়টি নিয়ে হোয়াইট হাউস ও জাতিসংঘে নিযুক্ত ইউক্রেনের মিশন কোনো মন্তব্য করেনি। নিউইয়র্কে জাতিসংঘে নিযুক্ত রাশিয়া মিশনও কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।
এদিকে, ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি ডেনমার্কের কোপেনহেগেনে ইউরোপের ৫০ জন নেতার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন গতকাল। মূলত ইউক্রেনের জন্য সমর্থন নিশ্চিত করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি। সূত্র: রয়টার্স, আল জাজিরা