ঢাকা ২৬ আষাঢ় ১৪৩৩, শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬

সর্বশেষ
সাতক্ষীরায় নিখোঁজের ২ দিন পর কিশোরের মরদেহ উদ্ধার কোটি কোটি নতুন সমর্থকই বেলজিয়ামের প্রেরণা: গার্সিয়া তিস্তার 'ক্রেডিট' নিতে জামায়াতের আন্দোলন: পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ভেজা বাতাস চারিত্রিক অবক্ষয় রোধে পর্দা রক্ষাকবচ কালো মেঘ শাদা মেঘ কুমিল্লায় সংস্কৃতি মন্ত্রী: প্রস্তুতি শেষ, শিগগিরই চালু হচ্ছে জুলাই জাদুঘর বান্দরবানে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হলেও, সড়ক যোগাযোগ এখনও ব্যাহত সাগরে লঘুচাপ, চার সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ থানার ওসি প্রত্যাহার শ্রাবণের চিঠি জলছবি কক্সবাজারে সৈকতে গলিত কঙ্কাল দিনাজপুরে ট্রাকের ধাক্কায় আরোহী মৃত্যু, স্ত্রী আহত আদি বৃষ্টি সাজেকে আটকা পড়া ৩১১ পর্যটককে উদ্ধার করল সেনাবাহিনী চকরিয়ায় আশ্রয়ের খোঁজে নৌকাডুবিতে কিশোরী নিখোঁজ মৌলভীবাজারে বন্যার পানিতে বৃদ্ধের মৃত্যু ব্যাঙের শিক্ষা নরসিংদীতে বৃদ্ধা পরিচ্ছন্নতাকর্মী হত্যা ও টাকা লুট, গ্রেপ্তার ৫ জলের আঙুল মেঘ আষাঢ়ের জলাভিসার আষাঢ়ের মুখ চবির লাকসাম-মনোহরগঞ্জ স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের নেতৃত্বে ইসরাত ও বাবলু যদিও এই সজল বর্ষা প্রাইমারি স্কুলের অনিয়মে নজর দিন হবিগঞ্জে বাঁধ ভাঙনে ২৫ গ্রাম পানিবন্দি, ভোগান্তিতে ৩০ হাজার বাসিন্দা মেঘের সৌধ থেকে বিশ্বকাপে বাংলাদেশের ফুটবল আবেগ এক নতুন সম্ভাবনা

ব্রিটিশ কিশোরীকে ধর্ষণের দায়ে ২ আশ্রয়প্রার্থী আফগান কিশোরের কঠোর দণ্ড ঘোষণা

প্রকাশ: ১০ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৩:৫০ পিএম
ব্রিটিশ কিশোরীকে ধর্ষণের দায়ে ২ আশ্রয়প্রার্থী আফগান কিশোরের কঠোর দণ্ড ঘোষণা
ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাজ্যে চাঞ্চল্য সৃষ্টি করা এক ধর্ষণের ঘটনায়, আফগানিস্তান থেকে আসা দুই কিশোর আশ্রয়প্রার্থীকে দীর্ঘ কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তারা দুজনেই ১৫ বছর বয়সী এক ব্রিটিশ কিশোরীকে ধর্ষণের কথা আদালতে স্বীকার করেছে।

পুলিশের পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে, গত ১০ মে ওয়ারউইকশায়ারের লেমিংটন এলাকার নিউবোল্ড কমিন পার্কে এ ঘটনা ঘটে।

অভিযুক্ত কিশোররা হলো জান জাহানজেব এবং ইসরার নিয়াজাল।

জানা গেছে, ঘটনার দিন ভুক্তভোগী কিশোরী বন্ধুদের সঙ্গে লেমিংটনে ছিল। সেখানেই তাদের সঙ্গে অভিযুক্তদের পরিচয় হয়। কথাবার্তার একপর্যায়ে তারা মেয়েটিকে কাছেই পার্কে হাঁটতে যাওয়ার জন্য অনুরোধ করে। সেখানেই নিয়ে গিয়ে তারা মেয়েটিকে ধর্ষণ করে।

হামলার শিকার হওয়ার পর, মেয়েটি কোনোমতে একজন পথচারীর সাহায্য নেয় এবং স্থানীয় পুলিশকে খবর দেয়।

এর পর পুলিশ দ্রুত তদন্ত শুরু করে। সিসিটিভি ফুটেজ এবং ভুক্তভোগীর ফোন থেকে সংগৃহীত ছবি যাচাই করে কর্মকর্তারা দুই অভিযুক্তকে শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করেন। কোভেন্ট্রি যুব আদালতে হাজির হলে দুজনেই ধর্ষণের অভিযোগ স্বীকার করে নেয়।

গত সোমবার ওয়ারউইক ক্রাউন কোর্টে তাদের সাজা ঘোষণা করা হয়। আদালতের নির্দেশে তাদের বয়স সংক্রান্ত নাম প্রকাশের নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হয়। আদালতে নিশ্চিত করা হয় যে অভিযুক্ত দুজনেই আফগান আশ্রয়প্রার্থী।

ঘোষিত সাজা:

জান জাহানজেব: ১০ বছর ৮ মাস কারাদণ্ড।

ইসরার নিয়াজাল: ৯ বছর ১০ মাস কারাদণ্ড।

দুজনেরই সাজা শুরু হবে ইয়ং অফেন্ডার্স ইনস্টিটিউশনে (Young Offenders’ Institution)। এরপর তাদের প্রাপ্তবয়স্কদের কারাগারে স্থানান্তর করা হবে। পাশাপাশি, তাদের আজীবন যৌন অপরাধী নিবন্ধন (Sex Offenders’ Register for life)-এ অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে এবং স্থায়ীভাবে ভুক্তভোগীর কাছাকাছি যাওয়ার উপর নিষেধাজ্ঞা (restraining orders) জারি করা হয়েছে।

ইউ.কে. ডিটেক্টিভ চিফ ইন্সপেক্টর রিচার্ড হবস (Richard Hobbs) ভুক্তভোগীর সাহসিকতার উচ্চ প্রশংসা করেছেন।

তিনি বলেন, 'এটি ছিল এক ভয়াবহ অভিজ্ঞতা। ভুক্তভোগী যে মনোবল দেখিয়েছে, তা সত্যিই প্রশংসার যোগ্য।'

তিনি জানান, জাহানজেব এবং নিয়াজাল পূর্বপরিকল্পিতভাবে মেয়েটির সঙ্গে বন্ধুত্ব করে তাকে ধর্ষণের উদ্দেশ্যে প্রলুব্ধ করেছিল।

হবসের মতে, তাদের দীর্ঘ কারাদণ্ড তাদের অপরাধের ভয়াবহতা এবং সমাজকে সুরক্ষিত রাখার প্রয়োজনীয়তাকে তুলে ধরে।

তিনি আশা প্রকাশ করেন যে এই রায় যৌন নির্যাতনের শিকার হওয়া অন্যান্য ভুক্তভোগীদেরও সাহস জোগাবে, যাতে তারা বিচার চাইতে এগিয়ে আসে। সূত্র: ইয়াহু

মেহেদী/

ইরানে দুই দিনে ৯০টির বেশি সামরিক স্থাপনায় যুক্তরাষ্ট্রের হামলা

প্রকাশ: ১০ জুলাই ২০২৬, ১০:৪৭ এএম
আপডেট: ১০ জুলাই ২০২৬, ১০:৫৫ এএম
ইরানে দুই দিনে ৯০টির বেশি সামরিক স্থাপনায় যুক্তরাষ্ট্রের হামলা
উপসাগরীয় অঞ্চলে নতুন করে সংঘাতের প্রভাব ছড়াতে শুরু করেছে/ ছবি: সংগৃহীত

ইরানে দ্বিতীয় দিনের মতো চলছে যুক্তরাষ্ট্রের হামলা। দুই দিনে ৯০টির বেশি সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে আক্রমণের দাবি মার্কিন বাহিনীর। এতে অন্তত ১৭ জন নিহত হয়েছে। (বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই) দক্ষিণ ইরানে বুশের পারমাণবিক কেন্দ্রের কাছে একাধিক বিস্ফোরণের খবর পাওয়া যায়।

কোনারাক ও সিরিকসহ দক্ষিণের বিভিন্ন এলাকা লক্ষ্য করে চলে হামলা। জবাবে কাতার, কুয়েত ও বাহরাইনের মার্কিন ঘাঁটি লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা চালাচ্ছে ইরানও।

মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) বলেছে, ইরানে টানা দ্বিতীয় রাতের হামলায় তারা সেখানে প্রায় ৯০টি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনেছে।

এক্সে প্রকাশিত তাদের একটি পোস্টে বিমান হামলার ভিডিও সংকলনও যুক্ত রয়েছে। সেন্টকম বলেছে, 'এই হামলার উদ্দেশ্য ছিল হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল এবং নিরীহ বেসামরিক নাবিকদের ওপর হামলা চালানোর ইরানের সক্ষমতাকে আরও দুর্বল করা।'

যুদ্ধরত দুই দেশের মধ্যে কৌশলগত আলোচনাও চলছে। উত্তেজনার মধ্যে হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল কমে এসেছে উল্লেখযোগ্য মাত্রায়।

তামান্না রুপা/

ভেনেজুয়েলায় ভূমিকম্পে নিহত বেড়ে ৩৮১১

প্রকাশ: ১০ জুলাই ২০২৬, ১০:৩৩ এএম
আপডেট: ১০ জুলাই ২০২৬, ১০:৪১ এএম
ভেনেজুয়েলায় ভূমিকম্পে নিহত বেড়ে ৩৮১১
ছবি: সংগৃহীত

ভেনেজুয়েলায় গত ২৪ জুন আঘাত হানা জোড়া ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৩ হাজার ৮১১ জনে দাঁড়িয়েছে। গত বুধবার দেশটির জাতীয় পরিষদের স্পিকার হোর্হে রদ্রিগেজ এ তথ্য জানান। সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, ভূমিকম্পে আহত হয়েছেন ১৬ হাজার ৭৪০ জন এবং গৃহহীন হয়েছেন ১৭ হাজার ৯০৭ জন।

অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ ভূমিকম্প-পরবর্তী পুনর্গঠন কার্যক্রমে সহায়তার জন্য ভেনেজুয়েলার ওপর আরোপিত আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা শিথিল বা প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, বিদেশে আটকে থাকা দেশের সম্পদ ছেড়ে দিলে পুনর্গঠনের ব্যয় নির্বাহে তা ব্যবহার করা সম্ভব হবে।

রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন চ্যানেল ভিটিভিকে তিনি বলেন, ‘ভেনেজুয়েলার এমন সম্পদ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে আটকে রয়েছে, যা পুনর্গঠন প্রক্রিয়ায় কাজে লাগানো যেতে পারে। কর্মসংস্থান ও শিক্ষা কর্মসূচির জন্যও এসব তহবিল প্রয়োজন।’

গত দুই দশকে সরকারবিরোধী কর্মকাণ্ড দমন ও মাদক পাচারের নিরাপদ আশ্রয়স্থল হওয়ার অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ বেশ কয়েকটি দেশ ধাপে ধাপে ভেনেজুয়েলার ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে।

এসব নিষেধাজ্ঞার অনেকগুলো এখনো বহাল রয়েছে। তবে চলতি বছরের শুরুতে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে যুক্তরাষ্ট্র আটক করার পর ওয়াশিংটন দেশটির তেল খাতের ওপর নিষেধাজ্ঞা কিছুটা শিথিল করে।

ভূমিকম্পের পর যুক্তরাষ্ট্র চার মাসের জন্য মানবিক সহায়তা ও ত্রাণ কার্যক্রম-সংক্রান্ত লেনদেনের অনুমতি দেয়, যা আগে নিষেধাজ্ঞার কারণে বন্ধ ছিল।

ব্যাংক অব ইংল্যান্ডে সংরক্ষিত স্বর্ণ ছাড়ের অনুরোধ জানিয়ে ডেলসি রদ্রিগেজ ব্রিটেনের রাজা তৃতীয় চার্লসের কাছে চিঠি পাঠিয়েছেন। এ ছাড়া আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) প্রধানের সঙ্গেও জব্দকৃত অর্থ ছাড়ের বিষয়ে আলোচনা করেছেন।

প্রসঙ্গত, ব্যাংক অব ইংল্যান্ডের ভল্টে ভেনেজুয়েলার প্রায় ৩১ টন স্বর্ণ সংরক্ষিত রয়েছে। ওই স্বর্ণের মালিকানা ও নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে ব্রিটিশ আদালতে আইনি লড়াই চলছে। সেই কারণে ব্যাংকটি এখনো স্বর্ণ ছাড় দেয়নি। সূত্র: রয়টার্স

মোদির বিদেশ সফর মানেই কী আন্তর্জাতিক সম্মাননা!

প্রকাশ: ১০ জুলাই ২০২৬, ১০:২৬ এএম
আপডেট: ১০ জুলাই ২০২৬, ১০:২৯ এএম
মোদির বিদেশ সফর মানেই কী আন্তর্জাতিক সম্মাননা!
চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে মেডেল প্রদান করছেন ইসরায়েলি পার্লামেন্ট ‘নেসেট’-এর স্পিকার আমির ওহানা। ছবি: সংগৃহীত

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সাম্প্রতিক সেশেলস সফরে তাকে ‘গার্ডিয়ান অব দ্য ব্লু হরাইজন’ নামে একটি বিশেষ সম্মাননা প্রদান করা হয়েছে, যা তার সফর উপলক্ষে প্রথমবারের মতো প্রবর্তন করা হয়। তবে পুরস্কারটির আগে কোনো অস্তিত্ব ছিল না। এ ছাড়া এই পুরস্কারটির সঙ্গে দেওয়া প্রশংসাপত্রে দেশটির নামসহ একাধিক বানান ভুল পাওয়া যাওয়ায় সম্মাননাটি ঘিরে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

এ বিষয়ে যুক্তরাজ্যের ওয়েস্টমিনস্টার বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনীতি ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক নিতাশা কাউল বলেছেন, প্রশংসাপত্রে থাকা এসব বানান ভুল একটি ‘তাড়াহুড়ার কাজের’ ফল। তার ভাষায়, “এমন ভুল সম্মাননাটির বিশ্বাসযোগ্যতাকে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে এবং এটি শেষ পর্যন্ত ‘উপহাসের’ জন্ম দিয়েছে।”

বিতর্ক সত্ত্বেও ‘গার্ডিয়ান অব দ্য ব্লু হরাইজন’ এখন মোদির বিদেশ সফরে পাওয়া বিভিন্ন সম্মাননার তালিকায় যুক্ত হয়েছে। বিভিন্ন দেশে সফরে গেলে তিনি প্রায়ই বিশেষভাবে প্রবর্তিত কোনো না কোনো রাষ্ট্রীয় পুরস্কার নিয়ে দেশে ফেরেন। এ বিষয়ে কাউল বলেন, ‘এই পুরস্কারগুলো ভারতের কূটনীতি নয়, বরং মোদির ব্যক্তিগত ভাবমূর্তিকেই বেশি তুলে ধরে।’

মোদির সেশেলস পুরস্কার সম্পর্কে যা জানা গেছে

সেশেলসের সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মান হিসেবে পরিচিত ‘গার্ডিয়ান অব দ্য ব্লু হরাইজন’ পুরস্কারটি রাজধানী ভিক্টোরিয়ার স্টেট হাউসে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে দেশটির প্রেসিডেন্ট প্যাট্রিক হারমিনি নরেন্দ্র মোদির হাতে তুলে দেন। টেকসই উন্নয়ন, পরিবেশ সংরক্ষণ ও জলবায়ু সহনশীলতায় তার ‘বিশিষ্ট নেতৃত্ব ও অঙ্গীকারের’ স্বীকৃতিস্বরূপ এই সম্মাননা দেওয়া হয়। তবে মোদির হাতে দেওয়া বিশেষ সনদের ছবি প্রকাশ্যে আসার পর তাতে একাধিক মুদ্রণ ও বানান ভুল নজরে আসে। এর মধ্যে ‘Republic’-এর পরিবর্তে ‘Repubblic’ এবং ‘Seychelles’-এর পরিবর্তে ‘Seycheeles’ লেখা ছিল। এসব ভুল ঘিরে সমালোচনা শুরু হলে বিরোধী নেতারাও বিষয়টি নিয়ে কটাক্ষ করেন। ভারতের ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল কংগ্রেসের মুখপাত্র সুপ্রিয়া শ্রীনাতে এক্সে লিখেন, ‘সারা বিশ্ব মোদিকে চিনে ফেলেছে। তাকে যেকোনো পুরস্কার দিন, তিনি ছুটে আসবেন।’ তিনি আরও বলেন, ‘তারা এতটাই তাড়াহুড়া করেছিল যে সেশেলস প্রজাতন্ত্রের সরকারি নামটিও সঠিকভাবে লিখতে পারেনি।’

অন্য কোন কোন দেশ মোদিকে পুরস্কার দিয়েছে?

গত ১২ বছরে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে বিদেশ সফরকালে ৩০টিরও বেশি আন্তর্জাতিক সম্মাননা পেয়েছেন নরেন্দ্র মোদি। সর্বশেষ মঙ্গলবার ইন্দোনেশিয়া তাকে দেশটির সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মান ‘বিনতাং আদিপূর্ণা’ প্রদান করে। এর আগে জুনে তিনি স্লোভাকিয়ার সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় সম্মান ‘অর্ডার অব দ্য হোয়াইট ডাবল ক্রস, ফার্স্ট ক্লাস’ লাভ করেন। বিদেশি নাগরিকদের জন্য সংরক্ষিত এ সম্মাননা এর আগে পোল্যান্ডের সাবেক প্রেসিডেন্ট ব্রোনিস্লাভ কোমোরোভস্কি ও অস্ট্রিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট হাইঞ্জ ফিশারসহ বেশ কয়েকজন বিশ্বনেতা পেয়েছেন। এ ছাড়া ফেব্রুয়ারিতে ইসরায়েল সফরে মোদি ‘স্পিকার অব দ্য নেসেট’ পদকের প্রথম ও এখন পর্যন্ত একমাত্র প্রাপক হন। তার সফরের ঠিক আগেই এ সম্মাননা চালু করা হয়।

মোদি আর কোন কোন পুরস্কার পেয়েছেন?

২০১৮ সালে ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁর সঙ্গে যৌথভাবে জাতিসংঘের সর্বোচ্চ পরিবেশবিষয়ক সম্মান ‘চ্যাম্পিয়নস অব দ্য আর্থ অ্যাওয়ার্ড’ পান মোদি। ২০১৯ সালে ‘স্বচ্ছ ভারত’ কর্মসূচিতে নেতৃত্বের স্বীকৃতিস্বরূপ বিল অ্যান্ড মেলিন্ডা গেটস ফাউন্ডেশনের ‘গ্লোবাল গোলকিপার অ্যাওয়ার্ড’ লাভ করেন। একই বছর তিনি ‘ফিলিপ কোটলার প্রেসিডেন্সিয়াল অ্যাওয়ার্ড’-এর প্রথম এবং এখন পর্যন্ত একমাত্র প্রাপ্তকারী। সূত্র: আল-জাজিরা

ন্যাটোতে বাড়ছে যুক্তরাষ্ট্র-ইউরোপ বিভাজন

প্রকাশ: ১০ জুলাই ২০২৬, ১০:২১ এএম
আপডেট: ১০ জুলাই ২০২৬, ১০:৩০ এএম
ন্যাটোতে বাড়ছে যুক্তরাষ্ট্র-ইউরোপ বিভাজন
ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইউরোপের রাজনৈতিক ও সামরিক দূরত্ব দিন দিন বাড়ছে বলে সতর্ক করেছেন জার্মানির একজন জ্যেষ্ঠ সামরিক বিশ্লেষক। তুরস্কের রাজধানী আঙ্কারায় ন্যাটোর শীর্ষ সম্মেলনকে ঘিরে এ শঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন তিনি। তার মতে, ট্রাম্প প্রশাসন যেভাবে ন্যাটোর ভেতরের প্রশাসনিক কাঠামো দুর্বল করছে, তাতে ইউরোপকে দ্রুত নিজেদের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়ানোর পথ খুঁজতে হবে।

আনাদোলু অ্যাজেন্সিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জার্মান সামরিক বিশ্লেষক টমাস উইগোল্ড বলেন, ‘ন্যাটো এখনই পুরোপুরি ভেঙে পড়বে কি না, তা নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। কারণ ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্র কী ধরনের পদক্ষেপ নেবে–তা কেউ জানে না। তিনি বলেন, ‘বিষয়টি যুক্তরাষ্ট্রের আনুষ্ঠানিকভাবে ন্যাটো ছেড়ে যাওয়ার নয়। তবে ট্রাম্প প্রশাসন প্রশাসনিকভাবে ন্যাটোকে দুর্বল করার জন্য সব ধরনের পদক্ষেপ নিচ্ছে। তাই ন্যাটোকে দ্রুত কোনো না কোনোভাবে এর ক্ষতিপূরণের পথ খুঁজে বের করতে হবে।’

টমাস উইগোল্ড আরও বলেন, ‘আপনি যদি সামরিক কর্মকর্তাদের জিজ্ঞেস করেন, তারা সবাই বলবেন যে মাঠপর্যায়ে সামরিক সহযোগিতা দারুণ চলছে। কিন্তু রাজনৈতিক স্তরে যে সমস্যা আছে, তা স্পষ্ট। এমনকি এখন সামরিক ক্ষেত্রেও ফাটল দেখা যাচ্ছে। এর সবচেয়ে বড় উদাহরণ হলো, গত ২ জুলাই ইউরোপে দায়িত্বরত মার্কিন সেনাবাহিনীর কমান্ডিং জেনারেলকে হঠাৎ পরিবর্তনের ঘটনা। এর থেকে বোঝা যায়, সামরিক পর্যায়েও সহযোগিতা আগের মতো স্বাভাবিক গতিতে চলছে না।’

জার্মান এই বিশ্লেষক উল্লেখ করেন, ইউরোপীয় দেশগুলোর মূল মনোযোগের বিষয় হচ্ছে– আমেরিকা তাদের অংশগ্রহণ কমিয়ে দেওয়ার পরও কীভাবে ইউরোপের প্রতিরক্ষাব্যবস্থা টিকিয়ে রাখা যায়। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রকে আরও কিছুদিনের জন্য এই জোটে ধরে রাখতে ইউরোপীয়রা ঠিক কী করতে পারে।

টমাস উইগোল্ড বলেন, ‘আমেরিকা যেসব সামরিক সুবিধা বা সক্ষমতা ধীরে ধীরে কমিয়ে দেবে, ইউরোপীয়দের নিজেদের উদ্যোগে সেগুলো তৈরি করতে হবে। এই শূন্যস্থান পূরণ করেই ন্যাটোর ইউরোপীয় অংশকে শক্তিশালী করা সম্ভব। তবে কিছু কিছু ক্ষেত্রে এই কাজ রাতারাতি করা যাবে না। জার্মানির প্রতিরক্ষামন্ত্রী সব সময়ই বলেন, এটি একটি সমন্বিত রোডম্যাপ বা কর্মপরিকল্পনার ওপর নির্ভর করবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘সহজ কথায়, যুক্তরাষ্ট্রকে স্পষ্ট করে জানাতে হবে তারা কখন কোন সুবিধাগুলো কমাতে চায়। আর ইউরোপীয়দেরও নির্দিষ্টভাবে বলতে হবে তারা কখন এবং কীভাবে সেই সামরিক সক্ষমতাগুলো নিজেরা তৈরি করে নেবে। তাহলে দুই পক্ষের মধ্যে একটা সঠিক সমন্বয় করা সম্ভব হবে।’

বড় দায়িত্ব নিতে প্রস্তুত জার্মানি

ইউরোপ থেকে মার্কিন সেনা কমিয়ে নেওয়ার এই অনিশ্চয়তার মধ্যেই বার্লিন জানিয়েছে, তারা ন্যাটোর ভেতর এখন আরও বড় দায়িত্ব নিতে প্রস্তুত। এই উদ্দেশ্যে জার্মানি সামরিক ব্যয় বাড়ানোর এবং নতুন সামরিক সক্ষমতা গড়ে তোলার পরিকল্পনা করছে।

জার্মান কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্ৎস এবং অন্য ইউরোপীয় নেতারা একটি শক্তিশালী ও ‘ইউরোপ-নির্ভর’ ন্যাটো গড়ে তোলার অঙ্গীকার নতুন করে তুলে ধরবেন। একই সঙ্গে জোটের নতুন প্রতিরক্ষা ব্যয়ের লক্ষ্যমাত্রার প্রতিও সমর্থন জানাবেন।

জার্মান চ্যান্সেলরের কার্যালয়ের একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা সোমবার সাংবাদিকদের বলেন, গত ১২ মাসে শুধু ইউরোপীয় মিত্র দেশগুলোই প্রতিরক্ষা ব্যয় ১০০ বিলিয়ন ইউরোর বেশি বাড়িয়েছে। এর মধ্যে জার্মানি একাই তার প্রতিরক্ষা বাজেট প্রায় ২৫ বিলিয়ন ইউরো বাড়িয়েছে। এর ফলে এখন জার্মানির মোট সামরিক বাজেট দাঁড়িয়েছে ১২৪ বিলিয়ন ইউরোতে। ২০২২ সালের পর থেকে হিসাব করলে দেখা যাবে, জার্মানি তাদের প্রতিরক্ষা বাজেট প্রায় দ্বিগুণ করেছে। সূত্র: আনাদোলু অ্যাজেন্সি

জার্মানিতে তাপপ্রবাহে প্রাণহানি ৫ হাজারের বেশি

প্রকাশ: ১০ জুলাই ২০২৬, ১০:১১ এএম
আপডেট: ১০ জুলাই ২০২৬, ১০:৪১ এএম
জার্মানিতে তাপপ্রবাহে প্রাণহানি ৫ হাজারের বেশি
তীব্র তাপপ্রবাহে জার্মানিতে পানির ফোয়ারায় স্থানীয়রা। ছবি : সংগৃহীত

জার্মানিতে তাপপ্রবাহে চলতি বছর অন্তত ৫ হাজার ১২০ জনের মৃত্যু হয়েছে। এদের বেশির ভাগই মারা গেছেন জুনের শেষ দিকে, যখন সাপ্তাহিক গড় তাপমাত্রা ২০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের অনেক ওপরে উঠে যায়। গতকাল বৃহস্পতিবার প্রকাশিত সাপ্তাহিক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে দেশটির জনস্বাস্থ্য সংস্থা রবার্ট কোচ ইনস্টিটিউট (আরকেআই)।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, মৃতদের মধ্যে প্রায় ৪ হাজার ২৭০ জনের বয়স ছিল ৭৫ বছর বা তার বেশি। যাদের বেশির ভাগই নারী। কারণ অতি বয়স্ক জনগোষ্ঠীর মধ্যে নারীর সংখ্যাই তুলনামূলক বেশি।

জার্মানির এই পরিসংখ্যান ইউরোপজুড়ে তাপপ্রবাহের ভয়াবহ চিত্রকে আরও স্পষ্ট করেছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের কোপার্নিকাস ক্লাইমেট চেঞ্জ সার্ভিস জানিয়েছে, পশ্চিম ইউরোপে এবার ইতিহাসের উষ্ণতম জুন মাস রেকর্ড করা হয়েছে। এই অঞ্চলে জুন মাসের গড় তাপমাত্রা ছিল ২০ দশমিক ৭৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

ফ্রান্স, বেলজিয়াম, স্পেন ও নেদারল্যান্ডসের জাতীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ২০ থেকে ২৮ জুনের তাপপ্রবাহে স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে চার দেশে ৪ হাজার ৭০০ জনের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। সূত্র: রয়টার্স