জামায়াতে ইসলামীর রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড, সভা, জনসভা ও মিছিলের ওপর নিষেধাজ্ঞার আবেদন এবং আদালত অবমাননার বিষয়ে শুনানি হতে পারে রবিবার (১৯ নভেম্বর)। বিষয়টি প্রধান বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের নেতৃত্বে আপিল বিভাগের পাঁচ সদস্যের বেঞ্চে শুনানির জন্য দিনের কার্যতালিকায় ৩ নম্বরে রয়েছে। গত ১২ নভেম্বর আংশিক শুনানি শেষে এক সপ্তাহের মুলতবি ঘোষণা করেছিলেন আদালত।
জামায়াতকে দেওয়া নির্বাচন কমিশনের (ইসি) নিবন্ধন ২০১৩ সালের ১ আগস্ট অবৈধ বলে রায় দিয়েছিলেন হাইকোর্টের বিচারপতি এম মোয়াজ্জাম হোসেন, এম ইনায়েতুর রহিম ও কাজী রেজা-উল-হকের বৃহত্তর (লার্জার) বেঞ্চ। সংখ্যাগরিষ্ঠ মতের ভিত্তিতে এ রায় ঘোষণা করা হয়। সে সময় সংক্ষিপ্ত রায়ে আদালত বলেন, এ নিবন্ধন দেওয়া আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত। একই সঙ্গে জামায়াতে ইসলামীকে আপিল করারও অনুমোদন দিয়ে দেন আদালত।
এ রায়ের স্থগিতাদেশ চেয়ে জামায়াতে ইসলামী আপিল বিভাগে আবেদন করলে একই বছরের ৫ আগস্ট তা খারিজ করেন আপিল বিভাগের তৎকালীন বিচারপতি এ এইচ এম শামসুদ্দিন চৌধুরীর চেম্বার জজ আদালত। পরে একই বছরের ২ নভেম্বর পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ হলে রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করে জামায়াতে ইসলামী। চলতি বছরের ৩১ জানুয়ারি শুনানির জন্য বিষয়টি আপিল বিভাগের কার্যতালিকায় ওঠে। এরপর জামায়াতে ইসলামীকে আপিলের সারসংক্ষেপ জমা দিতে বলেন সর্বোচ্চ আদালত।
এদিকে হাইকোর্টের রায়ের পর রাজনৈতিক দল হিসেবে জামায়াতের বিভিন্ন কর্মসূচি আদালত অবমাননার শামিল বলে অভিযোগ এনে গত ২৬ জুন আপিলে পক্ষভুক্ত হন তরিকত ফেডারেশনের নেতা মাওলানা সৈয়দ রেজাউল হক চাঁদপুরীসহ ৪২ জন। পক্ষভুক্তিতে তারা দুটি আবেদন করেন। একটি হলো হাইকোর্টের রায়ে রাজনৈতিক দল হিসেবে নিবন্ধন ফিরে না পেলেও ১০ বছর পর জামায়াতে ইসলামী কর্মসূচি পালন করেছে। তাদের কর্মসূচি পালনের নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হোক। আরেকটি আবেদনে আদালত অবমাননার অভিযোগ আনা হয়। গত ১২ নভেম্বর শুনানি শেষে এক আদেশে জামায়াতে ইসলামীর বিরুদ্ধে আদালত অবমাননা এবং রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড, সভা, জনসভা ও মিছিলের ওপর নিষেধাজ্ঞাসহ দুটি আবেদনের শুনানির জন্য আজ দিন ধার্য করা হয়েছে। তবে রাজনৈতিক দল হিসেবে নিবন্ধন বাতিলের রায়ের বিরুদ্ধে জামায়াতে ইসলামীর করা আপিলের শুনানির বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত জানাননি আপিল বিভাগ।
এমএ/