সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার নেতৃত্বাধীন ১৪-দলীয় জোটের নেতা হাসানুল হক ইনু, রাশেদ খান মেনন, আনোয়ার হোসেন মঞ্জুসহ ২৭ জনের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
মামলায় সদ্য সাবেক পাঁচ মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, আসাদুজ্জামান খান কামাল, আনিসুল হক, হাছান মাহমুদ ও জাহাঙ্গীর কবির নানককেও আসামি করা হয়েছে। একই সঙ্গে দল হিসেবে আওয়ামী লীগ এবং যুবলীগ ও ছাত্রলীগসহ এর সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনগুলোকে এতে আসামি করা হয়েছে।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে রাজধানীর মিরপুরে শিক্ষার্থী আলভীকে হত্যার ঘটনায় এই অভিযোগ আনা হয়েছে।
সোমবার (১৯ আগস্ট) ধানমন্ডিতে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থার কার্যালয়ে এ অভিযোগ দাখিল করা হয়। নিহত আলভীর পরিবারের পক্ষে আইনজীবী আসাদ উদ্দিন এ অভিযোগ করেন।
এদিকে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের সময় মিরপুরে দুজনকে হত্যার অভিযোগে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে ঢাকার আদালতে আরও দুটি অভিযোগ আনা হয়েছে। ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতের ম্যাজিস্ট্রেট মেহেদী হাসান অভিযোগ দুটি এজাহার হিসেবে রেকর্ড করতে নির্দেশ দিয়েছেন। মিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) এই নির্দেশ দেন আদালত।
এ তথ্য নিশ্চিত করে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বেঞ্চ সহকারী আবু আবদুল্লাহ মামলার নথির বরাত দিয়ে জানান, শেখ হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার আগের দিন গত ৪ আগস্ট মিরপুর-১০ নম্বর গোলচত্বরে নবম শ্রেণির ছাত্র লিটন হাসানের হত্যার ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনায় শেখ হাসিনাসহ ১৪৮ জনের বিরুদ্ধে আদালতে এই অভিযোগ আনা হয়েছে। নিহতের ভাই মো. মিলন আদালতে এই অভিযোগ আনেন।
আর মিরপুরের-১১ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সহসভাপতি আবদুল্লাহ কবিরকে হত্যার অভিযোগে অন্য মামলাটি করা হয়। কবিরের স্ত্রী আফসানা আক্তার এই মামলা করেন। এতে শেখ হাসিনাসহ ৬৭ জনকে আসামি করা হয়। মামলায় উল্লেখ করা হয়, গত ৪ আগস্ট মিরপুর-১০ নম্বর গোলচত্বরে কোটা সংস্কার আন্দোলনে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের সহযোগিতা করছিলেন বিএনপি নেতা আবদুল্লাহ কবির। সেখানে আন্দোলনকারীদের ওপর নির্বিচার গুলি চালানো হলে গুলিবিদ্ধ হয়ে পরে মারা যান কবির।
এদিকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় রাজধানীর শেরেবাংলা নগর এলাকায় কাঠমিস্ত্রি তারিক হোসেনকে গুলি করে হত্যার অভিযোগে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে আরেকটি মামলা হয়েছে। সোমবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট বেগম ফারহা দিবা ছন্দার আদালতে এই মামলা করা হয়। শেখ হাসিনাসহ ১৩ জনের বিরুদ্ধে এই মামলা করা হয়। নিহত তারিকের মা ফিদুশি খাতুন এ মামলা করেন।
আদালত তার জবানবন্দি গ্রহণ করে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত করার নির্দেশ দেন। আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
মামলায় অভিযোগ করা হয়, গত ৫ আগস্ট কর্মস্থল থেকে ফেরার পথে শেরেবাংলা নগর থানার সামনে রাস্তায় গুলিবিদ্ধ হন তারিক হোসেন। চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ৯ আগস্ট তিনি মারা যান।
শেখ হাসিনা ছাড়া মামলার অন্য আসামিরা হলেন সদ্য সাবেক পাঁচ মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, আসাদুজ্জামান খান কামাল, আনিসুল হক, হাছান মাহমুদ ও জাহাঙ্গীর কবির নানক, সদ্য সাবেক দুই প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত ও জুনাইদ আহমেদ পলক, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান, সাবেক আইজিপি চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুন, সাবেক ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমান, সাবেক ডিআইজি হারুন অর রশীদ ও সাবেক অতিরিক্ত যুগ্ম কমিশনার বিপ্লব কুমার।