ঢাকা ২৫ আষাঢ় ১৪৩৩, বৃহস্পতিবার, ০৯ জুলাই ২০২৬

সর্বশেষ
সিলেট সীমান্তে বিএসএফের অবৈধ পুশইনের চেষ্টা ব্যর্থ, সতর্ক বিজিবি দুর্গত মানুষের নিরাপত্তা ও ত্রাণ সহায়তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছি: ত্রাণমন্ত্রী মুখ দেখালেই বোর্ডিং পাস আইস্ক্রিনে ফুটবলের সেরা দুই সিনেমা ‘দামাল’ ও ‘জাগো’ রাজবাড়ীতে কোরআন পোড়ানোর অভিযোগে যুবক গ্রেপ্তার শেরপুরে বাসচাপায় নিহত ১, আটক ২ উর্মি খানের নতুন গান ‘ভাবনার মিছিল’ দেশের বাজারে ভিভোর নতুন স্মার্টফোন বাবার মামলায় ছেলের জেল, হাজতেই আত্মহত্যা মাদক ও বিচারহীনতার বিষবৃক্ষ সন্দ্বীপে টর্নেডোয় ব্যাপক ক্ষতি বিশ্ব পরিবেশ দিবসে টেকসই ভবিষ্যতের ছয় দিকনির্দেশনা নিত্যপণ্যের মূল্য নিয়ন্ত্রণে আমদানি সহজীকরণসহ বহুমুখী পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার রাজনীতির পালাবদলে বদলে যাচ্ছে পশ্চিমবঙ্গ চুয়েট সাংবাদিক সমিতির নেতৃত্বে গালিব ও ফাইয়াজ খবরের কাগজের সংবাদের পর মেট্রোরেল স্টেশনে উচ্ছেদ অভিযান চালায় ডিএমটিসিএল ‘বাঘে ধরলে ছাড়ে, কিন্তু আমি ধরলে ছাড়ি না’ সাংবাদিকদের বিএনপি নেতার হুমকি হাতিয়ায় জোয়ার-বৃষ্টিতে জনদুর্ভোগ, ৫ হাজার পরিবার পেল খাদ্যসহায়তা প্রবল স্রোতে বিধ্বস্ত বেড়িবাঁধ, দুর্ভোগে হাতিয়ার লক্ষাধিক মানুষ বাঁশখালীতে বিদ্যুৎ বিপর্যয়, পানিবন্দি অর্ধলক্ষাধিক মানুষ নড়িয়ায় মেয়েকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে বাবা আটক ৫ বছরে ১ কোটি দক্ষ কর্মী বিদেশে পাঠাবে সরকার স্মার্টফোন থেকে নিয়ন্ত্রণ করা যাবে ‘ক্লড কোওয়ার্ক’ ওলিসের হলুদ কার্ড বহাল রাখল ফিফা খাদ্য অধ্যায়ের ৩টি অনুশীলনীর প্রশ্ন ও উত্তর, ২য় পর্ব, পঞ্চম শ্রেণির বিজ্ঞান সাঙ্গুর পানি বিপৎসীমার উপরে, সাতকানিয়ায় পানিবন্দি লক্ষাধিক মানুষ সবুজ ও জলবায়ু সহনশীল বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠাই আমাদের লক্ষ্য: প্রধানমন্ত্রী লোহাগাড়ায় বন্যা পরিস্থিতির মাঝেই পানিবন্দি প্রসূতিকে উদ্ধার করল ফায়ার সার্ভিস বেলুচিস্তানে বিদ্রোহীদের হামলায় সেনা-পুলিশসহ নিহত ৪২ ধামরাইয়ে ৭৫ বছরের বৃদ্ধের সঙ্গে ২৫ বছরের তরুণীর বিয়ে

শেখ হাসিনার মামলার রায় কবে, জানা যাবে আজ

প্রকাশ: ১৩ নভেম্বর ২০২৫, ০৮:১৬ এএম
শেখ হাসিনার মামলার রায় কবে, জানা যাবে আজ
ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালসহ তিন আসামির বিরুদ্ধে করা মামলার  রায় কবে ঘোষণা করা হবে, তা জানা যাবে আজ বৃহস্পতিবার।

গত ২৩ অক্টোবর এ মামলায় উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক শেষে রায় ঘোষণার তারিখ নির্ধারণের দিন আজ (১৩ নভেম্বর) ধার্য করেন বিচারপতি মো. গোলাম মর্তুজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১। গত বছরের ৫ আগস্ট সরকার পতনের পর পুনর্গঠিত ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন মামলাগুলোর মধ্যে এটি হতে যাচ্ছে প্রথম রায়।

শেখ হাসিনা এবং কামাল ছাড়াও এ মামলায় আসামি হয়েছেন সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন। মামলার শুরু থেকেই শেখ হাসিনা ও কামাল পলাতক। তবে গ্রেপ্তারের মাধ্যমে কারাবন্দি হন চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন। তিন আসামির বিরুদ্ধে গত ১০ জুলাই অভিযোগ গঠন করেন ট্রাইব্যুনাল। অভিযোগ গঠনের দিন নিজের দোষ স্বীকার করে রাজসাক্ষী (অ্যাপ্রুভার) হওয়ার আবেদন করেন চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন। সত্য ঘটনা প্রকাশ করার শর্তে মামুনকে রাজসাক্ষী হিসেবে ঘোষণা করেন ট্র্যাইব্যুনাল। সেই থেকে রাজসাক্ষীর মর্যাদায় তিনি কারাগারেই আছেন। প্রতি ধার্যদিনে তাকে কারাগার থেকে এনে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। আজও তাকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হবে বলে জানা গেছে। 

মামলাটির তদন্ত শেষে গত ১২ মে প্রসিকিউশনের কাছে প্রতিবেদন পেশ করেন ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থার উপপরিচালক মো. আলমগীর। প্রতিবেদন যাচাই ও পর্যালোচনা শেষে ১ জুন ট্রাইব্যুনালে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করেন প্রসিকিউশন। অপরাধ সংঘটনের তারিখ দেওয়া হয় গত বছরের ১৪ জুলাই সকাল থেকে ৫ আগস্ট সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত। অভিযোগপত্রে আসামি শেখ হাসিনা, আসাদুজ্জামান খান কামাল ও চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনের বিরুদ্ধে মোট পাঁচটি অভিযোগ আনা হয়। ৮ হাজার ৭৪৭ পৃষ্ঠার অভিযোগপত্রের মধ্যে মূল অভিযোগ ১৩৫ পৃষ্ঠা, তথ্যসূত্র ২ হাজার ১৮ পৃষ্ঠা, জব্দ তালিকা ও দালিলিক প্রমাণাদি ৪ হাজার ৫ পৃষ্ঠা এবং শহিদদের তালিকার বিবরণ রয়েছে ২ হাজার ৭২৪ পৃষ্ঠা। ১০ জুলাই আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন ট্রাইব্যুনাল। তদন্ত কর্মকর্তাসহ মামলায় সাক্ষী করা হয় ৮১ জনকে। এর মধ্যে ৫৪ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। ৪ আগস্ট সাক্ষ্য গ্রহণ শুরু হয়। গত ৮ অক্টোবর সাক্ষ্য গ্রহণ শেষ হয়। এরপর শুরু হয় যুক্তিতর্ক। রাষ্ট্রপক্ষে চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম এবং পলাতক আসামি শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান কামালের পক্ষে রাষ্ট্র নিযুক্ত আইনজীবী (স্টেট ডিফেন্স কাউন্সেল) আমির হোসেন যুক্তি উপস্থাপন করেন। উভয় পক্ষের যুক্তি উপস্থাপনের মধ্য দিয়ে যুক্তিতর্ক শেষ হয় গত ২৩ অক্টোবর। 

চব্বিশের জুলাই গণ-অভ্যুত্থান এবং ২০০৯ সাল থেকে গত বছরের ৫ আগস্ট পর্যন্ত গুম-খুনসহ মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে গত বছরের ৫ আগস্টের পর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে অন্তত ৪৫০টি অভিযোগ দায়ের হয়েছে। আসামির তালিকায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনা, দলটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মী, সেনাবাহিনীর সাবেক-বর্তমান কতিপয় কর্মকর্তা, পুলিশের সাবেক-বর্তমান কতিপয় কর্মকর্তা ও বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের প্রভাবশালী কতিপয় আমলার নাম রয়েছে। অভিযোগ যাচাইয়ের পর প্রাথমিক তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে ৩০টি মামলা (মিস কেস) দায়ের হয়েছে। এই ৩০ মামলায় মোট আসামি ২০৯ জন। এর মধ্যে ৮৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তারা বিভিন্ন কারাগার ও উপকারাগারে বন্দি আছেন। এ ছাড়া শেখ হাসিনাসহ অনেক আসামি পলাতক আছেন। ৩০ মামলার মধ্যে এখনো ২০টি মামলা তদন্তাধীন রয়েছে। অপর ১০টির তদন্ত শেষে দুটি ট্রাইব্যুনালে চার্জশিট দাখিল করা হয়েছে। চার্জশিটভুক্ত মোট আসামি ৯৪ জন। এর মধ্যে ২১ জন বিভিন্ন কারাগারে এবং ১৫ জন ঢাকা সেনানিবাসের উপকারাগারে বন্দি আছেন। চার্জশিটভুক্ত ৫৮ আসামি পলাতক আছেন। 

একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের জন্য ২০১০ সালে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল গঠন করে তৎকালীন আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন সরকার। এই ট্রাইব্যুনালের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয় ২০১০ সালের ২৫ মার্চ। পরে ২০১২ সালের ২২ মার্চ ট্রাইব্যুনাল-২ নামে আরেকটি ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয়। ২০১৫ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর দুটিকে একীভূত করে আবার একটি ট্রাইব্যুনাল করা হয়। গত বছরের ৫ আগস্ট সরকার পতনের আগে ১৪ বছরে ৫৫টি মামলার রায় দিয়েছিল ট্রাইব্যুনাল। এসব মামলায় অনেকের মৃত্যুদণ্ড হযেছে। মৃত্যুদণ্ড ও বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ডসহ সাজা দেওয়া হয়েছে মোট ১৪৯ জনকে। মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে ৬ জনের। এর মধ্যে জামায়াতে ইসলামীর শীর্ষ নেতা পাঁচজন এবং বিএনপির একজন। তারা হলেন জামায়াতে ইসলামীর আমির মতিউর রহমান নিজামী, সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মুহাম্মদ মুজাহিদ, দুই সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আব্দুল কাদের মোল্লা ও মুহাম্মদ কামারুজ্জামান, নির্বাহী পরিষদের সদস্য মীর কাশেম আলী ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী। গত বছরের ৫ আগস্ট সরকার পতনের সময় পর্যন্ত মুক্তিযুদ্ধকালীন মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগসংক্রান্ত ৩০টি মামলা বিচারাধীন ছিল। সরকার পতনের পর গত বছরের ২৭ আগস্ট ট্রাইব্যুনালের সর্বশেষ বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ-পিআরএল ভোগরত) এ এইচ এম হাবিবুর রহমান ভূইঁয়া অব্যাহতি নিলে বিচার কার্যক্রম নিষ্ক্রিয় হয়। একই সময়ে পদত্যাগ করেন প্রসিকিউশনের সব আইনজীবী। ওই বছরের ৫ সেপ্টেম্বর সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মোহাম্মদ তাজুল ইসলামকে চিফ প্রসিকিউটর নিয়োগ দিয়ে প্রসিকিউশন টিম পুনর্গঠন করে অন্তর্বর্তী সরকার। এর পর ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা পুনর্গঠন করা হয়। গত বছরের ২১ অক্টোবর হাইকোর্টের বিচারপতি গোলাম মর্তুজা মজুমদারকে চেয়ারম্যান করে তিন সদস্যদের সমন্বয়ে ট্রাইব্যুনাল পুনর্গঠন করা হয়। অপর দুই সদস্য হলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী। ট্রাইব্যুনাল পুনর্গঠনের আগেই জুলাই অভ্যুত্থানে মানবতাবিরোধী অপরাধের একের পর এক অভিযোগ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা ও প্রসিকিউশনের কাছে জমা হতে থাকে। অভিযোগের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় এবং বিচারকাজ ত্বরান্বিত করার স্বার্থে গত ৮ মে বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বে তিন সদস্যের দ্বিতীয় ট্রাইব্যুনাল গঠন করে সরকার। অপর দুই সসদ্য হলেন বিচারপতি মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারপতি নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর। 

ময়মনসিংহে শিশু হত্যা মামলায় ৩ আসামির মৃত্যুদণ্ড, একজনের কারাদণ্ড

প্রকাশ: ০৯ জুলাই ২০২৬, ০২:৫২ পিএম
আপডেট: ০৯ জুলাই ২০২৬, ০৩:০৬ পিএম
ময়মনসিংহে শিশু হত্যা মামলায় ৩ আসামির মৃত্যুদণ্ড, একজনের কারাদণ্ড
ছবি: খবরের কাগজ

ময়মনসিংহের ধোবাউড়ায় শিশু নিছামনিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় তিন আসামির মৃত্যুদণ্ড ও অপ্রাপ্ত বয়স্ক এক আসামিকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) দুপুরে চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক সুদীপ্তা সরকার এ রায় দিয়েছেন।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের স্পেশাল পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) বজলুল করিম চৌধুরী।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন, ধোবাউড়া উপজেলার গোয়াতলা ইউনিয়নের টাঙ্গাহাটি গ্রামের আরিফ মিয়া (১৯), রাকিব মিয়া (১৯) ও একই গ্রামের সিয়াম। এছাড়া একই গ্রামের মারুফ মিয়াকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

নিহত পাঁচ বছর বয়সী নিছামনি টাঙ্গাহাটি গ্রামের তাজু মিয়ার মেয়ে।

পুলিশ ও মামলার সূত্রে জানা যায়, গত ১৪ জুন বিকেল ৫টার দিকে বাড়ির পাশ থেকে শিশু নিছামনি নিখোঁজ হয়। পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো সন্ধান পাননি। পরে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে বাড়ি থেকে প্রায় ৬০০ গজ দূরে কংস নদীর একটি বাঁকে স্থানীয় লোকজন একটি শিশুর মরদেহ ভাসতে দেখেন। খবর পেয়ে পরিবারের সদস্যরা গিয়ে মরদেহটি শনাক্ত করে বাড়িতে নিয়ে আসেন।

রাতেই দাফনের প্রস্তুতি হিসেবে মরদেহ গোসল করানোর সময় শিশুটির শরীরে আঘাতের চিহ্ন ও স্পর্শকাতর স্থানে ক্ষত দেখতে পান পরিবারের সদস্যরা। এতে তাদের সন্দেহ হলে দাফন না করে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। পরে রাত সাড়ে ১২টার দিকে পুলিশ পৌঁছে তদন্ত শুরু করেন। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।

এ ঘটনায় ১৫ জুন শিশুটির বাবা বাদী হয়ে থানায় মামলা করেন।

পরে আরিফ, রাকিব, সিয়াম ও মারুফকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। ১৬ ও ১৭ জুন রাতে ময়মনসিংহ চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক তনয় সাহার আদালতে তোলা হলে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয় আসামিরা। শিশুটিকে কদম ফুল দেওয়ার কথা বলে নির্জনস্থানে নিয়ে এই চারজন মিলে ধর্ষণের পর রক্তাক্ত অবস্থায় কংশ নদীতে ফেলে দেয়। জবানবন্দি শেষে বিচারকের নির্দেশে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়।

ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত শেষে মামলার মাত্র ৯ দিনে চার আসামির বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে পুলিশ।

ময়মনসিংহ জেলার পুলিশ সুপার (এসপি) মোহাম্মদ কামরুল হাসান বলেন, ’খুব দ্রুততর সময়ের মধ্যেই ময়নাতদন্ত ও ডিএনএ রিপোর্ট পেয়েছি।  ঘটনা যাচাই- বাছাই শেষে আদালতে চার্জশিট দাখিল করা হয়েছে। এতে আসামিরা তাদের সম্পৃক্ততা যে স্বীকার করেছে, তার আলোকে আমরা সাক্ষ্য সংগ্রহ করেছি।’ 

রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে দ্রুত কার্যকরের দাবি জানিয়েছেন নিছামনির মা-বাবা। তবে রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে উচ্চ আদালতে আপিলের কথা জানিয়েছেন আসামি পক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মকবুল হোসেন সরকার।

কামরুজ্জামান/খাদিজা রুমি/

ঘুষ নিয়ে ধরা বিমান কর্মকর্তা রাশেদ দণ্ডিত

প্রকাশ: ০৯ জুলাই ২০২৬, ০২:৩৮ পিএম
আপডেট: ০৯ জুলাই ২০২৬, ০২:৪৩ পিএম
ঘুষ নিয়ে ধরা বিমান কর্মকর্তা রাশেদ দণ্ডিত
ছবি: সংগৃহীত

ঘুষের টাকাসহ হাতেনাতে ধরা পড়া বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) জুনিয়র লাইসেন্স পরিদর্শক এইচ. এম. রাশেদ সরকারকে ৫ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে ১ লাখ টাকা জরিমানা করেছেন আদালত। 

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫ এর বিচারক মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুন এ রায় দেন।

রায় ঘোষণার সময় আসামি হাজির ছিলেন। রায়ের পর সাজা পরোয়ানা দিয়ে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে আদালত সূত্র। 

রাষ্ট্রপক্ষের প্রসিকিউটর জহিরুল ইসলাম রায়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করে বলেন, অনৈতিক দাবি আদায়কারীদের জন্য এটি দৃষ্টান্ত হয়ে থাকলো। 

অন্যদিকে, আসামির আইনজীবী ইব্রাহিম জুয়েল উষ্মা প্রকাশ করেন। উচ্চ আদালতে আপিল করবেন বলে জানান। 

মামলার বিবরণে জানা গেছে, বিচার চলাকালে ২৪ জনের মধ্যে ২৩ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়। ২০২৩ সালের ৬ মার্চ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে মামলার বিচার শুরু হয়। এর আগে ২০২২ সালের ৬ জুন তদন্ত কর্মকর্তা জাহিদ কালাম আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন। 

ঘটনার বিবরণে জানা গেছে, ফিলিপাইন থেকে কমার্শিয়াল পাইলট লাইসেন্স (CPL) অর্জনকারী মো. রাকিব হাসানের বাংলাদেশি লাইসেন্স রূপান্তরের আবেদনটি রাশেদ সরকার অনলাইন সিস্টেমে বাতিল করেন। পরে পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়ার বিনিময়ে ১ লাখ টাকা ঘুষ দাবি করেন। 
রাকিব হাসানের অভিযোগের প্রেক্ষিতে ফাঁদ পাতে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। পরে ২০১৯ সালের ৬ ডিসেম্বর উত্তরা ১৩ নম্বর সেক্টরের ‘বিএফসি’ রেস্টুরেন্টে ঘুষের টাকাসহ হাতেনাতে গ্রেপ্তার হন রাশেদ সরকার।

২০১৯ সালের ৬ ডিসেম্বর দুদকের সহকারী পরিচালক তাহসীন মোসাবিল হক বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন।

জলিল উজ্জ্বল/অন্তরা/

জামালপুরে গৃহবধূ হত্যায় ১৩ বছর পর স্বামীর মৃত্যুদণ্ড

প্রকাশ: ০৯ জুলাই ২০২৬, ০২:২৬ পিএম
আপডেট: ০৯ জুলাই ২০২৬, ০২:৪২ পিএম
জামালপুরে গৃহবধূ হত্যায় ১৩ বছর পর স্বামীর মৃত্যুদণ্ড
ছবি: খবরের কাগজ

জামালপুরে যৌতুকের দাবিতে স্ত্রীকে গলাটিপে হত্যা মামলার ১৩ বছর পর স্বামীকে মৃত্যুদণ্ড ও ৫ লাখ টাকা জরিমানার রায় ঘোষণা করেছেন আদালত।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) দুপুরে জামালপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১-এর বিচারক মুহাম্মদ আব্দুর রহিম এ রায় ঘোষণা করেন।

দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি হলেন, দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার সানন্দবাড়ী ইউনিয়নের লম্বাপাড়া গ্রামের বাসিন্দা মো. আনোয়ার হোসেন।

মামলার রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী (পিপি) অ্যাডভোকেট মো. ফজলুল হক জানায়, ২০১২ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি আনোয়ার হোসেন তার স্ত্রী ইসমত আরার কাছে এক লাখ টাকা যৌতুক দাবি করেন। ইসমত আরা টাকা দিতে রাজি না হওয়ায় তাকে রাতেই গলাটিপে হত্যা করা হয়। পরে ইসমত আরার বড় ভাই মজনু বাদী হয়ে দেওয়ানগঞ্জ থানায় হত্যা মামলা করেন।

মামলার তদন্ত, সাক্ষ্য-প্রমাণ ও আলামত পর্যালোচনা করে আদালত আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় আজ (৯ জুলাই) আসামি আনোয়ার হোসেনে অনুপস্থিতিতেই তাকে মৃত্যুদণ্ড এবং ৫ লক্ষ টাকা অর্থদণ্ডের আদেশ দেয় আদালত।

মামলার রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ছিলেন অ্যাডভোকেট মো. ফজলুল হক ও আসামি পক্ষের আইনজীবী ছিলেন অ্যাডভোকেট বাকী বিল্লাহ ও মো. নাজমুল ইসলাম।

আসমাউল আসিফ/খাদিজা রুমি/

সারোয়ার আলমগীরের শপথে বাধা নেই: হাইকোর্ট

প্রকাশ: ০৯ জুলাই ২০২৬, ০১:০৫ পিএম
আপডেট: ০৯ জুলাই ২০২৬, ০১:২৫ পিএম
সারোয়ার আলমগীরের শপথে বাধা নেই: হাইকোর্ট
বিএনপি প্রার্থী সারোয়ার আলমগীর। ছবি: সংগৃহীত

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-২ আসনে বিজয়ী বিএনপি প্রার্থী সারোয়ার আলমগীর সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নিতে পারবেন বলে রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) হাইকোর্টের বিচারপতি ফাহমিদা কাদের ও বিচারপতি মো. আসিফ হাসানের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চে সারোয়ারের প্রার্থিতা বৈধ ঘোষণা করে রায় দেন।

২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এতে চট্টগ্রাম-২ আসনে বিএনপির প্রার্থী সারোয়ার আলমগীর অংশ নেন। তবে নির্বাচনে তার ফলাফল প্রকাশ সুপ্রিম কোর্টের সিদ্ধান্তে স্থগিত রয়েছে।

এর আগে সারোয়ার আলমগীরের প্রার্থিতা বাতিল হয়। পরে প্রার্থিতা ফিরে পেতে হাইকোর্টে রিট করেন সারোয়ার। রিটের প্রাথমিক শুনানিতে সারোয়ার আলমগীরকে নির্বাচন করার অনুমতি দিয়ে রুল জারি করে এবং 'ধানের শীষ' প্রতীক বরাদ্দ দিতে নির্দেশ দেন হাইকোর্ট।

তবে হাইকোর্টের ওই আদেশের বিরুদ্ধে ঋণখেলাপির অভিযোগ এনে আপিলের আবেদন করেন একই আসনের জামায়াত প্রার্থী মুহাম্মদ নুরুল আমিন। গত ৩ ফেব্রুয়ারি আপিল আবেদন মঞ্জুর করেন আপিল বিভাগ। এতে বলা হয়, যদি সারোয়ার আলমগীর নির্বাচনে বিজয়ী হন, তবে সংশ্লিষ্ট আসনের নির্বাচনের ফলাফল আপিলের চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত প্রকাশ স্থগিত থাকবে।

পরে ৩১ মার্চ আপিল করেন জামায়াত প্রার্থী। ১৬ জুন ওই আপিলের শুনানি শেষে আপিল বিভাগ দ্রুত, সম্ভব হলে দুই সপ্তাহের মধ্যে, হাইকোর্টকে রুল নিষ্পত্তি করতে আদেশ দেন। এ ছাড়াও রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত গত ৩ ফেব্রুয়ারি আপিল বিভাগের দেওয়া আদেশ বহাল থাকবে বলেও উল্লেখ করা হয়। অর্থাৎ রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত তার নির্বাচনী ফলাফল প্রকাশ স্থগিত থাকবে।

আপিল বিভাগের আদেশের পর রিটটি চূড়ান্ত শুনানির জন্য ২১ জুন হাইকোর্টের কার্যতালিকায় ওঠে। সেদিন আদালত রুল শুনানির জন্য দিন ধার্য করেন। এর ধারাবাহিকতায় শুনানি অনুষ্ঠিত হয়।

থিওটোনিয়াস/

আপিল বিভাগের রায়ে গণভোট ও তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বহাল

প্রকাশ: ০৯ জুলাই ২০২৬, ১০:৪৪ এএম
আপডেট: ০৯ জুলাই ২০২৬, ১০:৫৬ এএম
আপিল বিভাগের রায়ে গণভোট ও তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বহাল
হাইকোর্ট

সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীতে আনা কয়েকটি বিষয় অবৈধ ঘোষণা করে হাইকোর্টের দেওয়া রায় বহাল রেখেছেন আপিল বিভাগ। ফলে সংবিধানে ফিরেছে গণভোট ও তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) সকালে প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন চার বিচারপতির আপিল বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করেন।

আপিল বিভাগ একই সঙ্গে আদেশ দিয়েছেন, পঞ্চদশ সংশোধনীর রাষ্ট্রীয় মূলনীতিসংক্রান্ত বিষয়গুলোতে সিদ্ধান্ত নেবে সংসদ। তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা, গণভোট এবং সংবিধানে হস্তক্ষেপ করলে রাষ্ট্রদ্রোহিতার শাস্তির বিধানও বাতিল করেছেন আপিল বিভাগ।

২০১১ সালে সাবেক প্রধান বিচারপতি খায়রুল হকের নেতৃত্বে আপিল বিভাগ তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতি বাতিল করে রায় দেন। ওই বছরের ৩০ জুন জাতীয় সংসদে পঞ্চদশ সংশোধনী পাস হয়। পরে তত্ত্বাবধায়ক সরকার বাতিলের রায়ের আলোকে আওয়ামী লীগ সরকার এ সংশোধনী আনে।

সংশোধনীতে নারীদের সংরক্ষিত আসন ৫০ করা হয়। অবৈধভাবে ক্ষমতা গ্রহণ, সংবিধান স্থগিত বা বাতিলের ক্ষেত্রে শাস্তির বিধানসহ প্রায় ৫৪টি বিষয় সংযুক্ত করা হয়েছিল। এছাড়া ধর্মনিরপেক্ষতা, সংরক্ষিত নারী আসনের সংখ্যা বৃদ্ধি এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে জাতির পিতা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার বিষয়ও এতে অন্তর্ভুক্ত ছিল।

শেখ হাসিনা সরকার পতনের পর এ সংশোধনী বাতিল চেয়ে রিট করেন সুজনের সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার। পরে আরও চারজন পক্ষভুক্ত হন। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে হাইকোর্ট তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিলসহ কয়েকটি বিষয় অবৈধ ঘোষণা করেন। এর বিরুদ্ধে আপিল করেন রিটকারীরা।

গত রবিবার থেকে টানা তিন দিনের শুনানিতে রিটকারীরা পুরো পঞ্চদশ সংশোধনী বাতিলের আবেদন জানান। তবে জামায়াতে ইসলামীর পক্ষের আইনজীবীরা সংবিধানের মৌলিক কাঠামোর সঙ্গে সাংঘর্ষিক বিষয়গুলো আদালতের মাধ্যমে বাতিলের আবেদন করেন। রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতিসংক্রান্ত বিষয়গুলো সংসদের ওপর ছেড়ে দেওয়ার আবেদনও জানান তারা।

অমিয়/