প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বেইজিংয়ে তিন দিনের সরকারি সফর শেষে দেশে ফিরেছেন। চীনা গণমাধ্যমে এই সফরের সংবাদ গুরুত্বের সঙ্গে প্রকাশ করা হয়েছে। বেশির ভাগ প্রতিবেদনের সারকথা হলো- প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বেইজিং সফর বাংলাদেশ ও চীনের সম্পর্ককে গভীর করেছে।
চীনের আন্তর্জাতিক সম্প্রচারমাধ্যম সিজিটিএনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, বুধবার দুই দেশ তাদের সম্পর্ককে একটি বিস্তৃত কৌশলগত সহযোগিতামূলক অংশীদারত্বে উন্নীত করেছে। চীনের প্রেসিডেন্টের বক্তব্যকে প্রাধান্য দিয়েই প্রতিবেদনটি তৈরি করে সিজিটিএন।
চীনা কমিউনিস্ট পার্টির (সিসিপি) সংবাদপত্র পিপলস ডেইলির ওয়েবসাইটে গতকাল বুধবার রাতে হাসিনা-শি জিনপিং বৈঠকের প্রতিবেদনকে প্রধান খবর করা হয়। দেশটির সরকারি সংবাদ সংস্থা সিনহুয়া থেকে নেওয়া প্রতিবেদনটির শিরোনাম ছিল ‘শি বাংলাদেশি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেছেন’।
এদিন সিসিপির আরেক মুখপত্র গ্লোবাল টাইমস শেখ হাসিনা ও শি জিনপিংয়ের বৈঠক নিয়ে একটি প্রতিবেদন করে। ‘চীন-বাংলাদেশ সম্পর্ক উন্নত ও বিস্তৃত হয়েছে’ শিরোনামের মন্তব্যধর্মী প্রতিবেদনে সিজিটিএনের মতো বক্তব্য ধরেই প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। পাশাপাশি শেখ হাসিনার বক্তব্যও প্রতিবেদনে তুলে ধরেছে গ্লোবাল টাইমস।
হংকংভিত্তিক ব্যক্তিমালিকানাধীন গণমাধ্যম সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট (এসসিএমপি) শেখ হাসিনার বেইজিং সফর নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করে। ‘চীন ও বাংলাদেশ বিদেশি হস্তক্ষেপের বিরুদ্ধে লড়াই ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা বাড়াতে দৃঢ় অঙ্গীকারবদ্ধ’ শিরোনামের প্রতিবেদনে বাংলাদেশে চীনের ঋণ নিয়েও আলোচনা করা হয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়, শেখ হাসিনা বেইজিং সফরকালে এশিয়া ইনফ্রাস্ট্রাকচার ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংকের প্রেসিডেন্ট জিন লিকুনের সঙ্গে দেখা করেছেন। প্রধানমন্ত্রী তাকে সুদের হার কমাতে অনুরোধ করেছেন।
এসসিএমপি প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, শেখ হাসিনার বেইজিং সফরের আগে চীনের কাছে ৫০০ কোটি ডলার ঋণ চাওয়া হবে বলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাছান মাহমুদ জানিয়েছেন। বাংলাদেশের এই ঋণের অনুরোধের বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে চীনের কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।