ময়মনসিংহের আদালতে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে মামলার আবেদন করার পর তা প্রত্যাহার করে নেওয়ায় উত্তর জেলা কৃষক দলের সদস্যসচিব শাহ মুহাম্মদ আলীকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৭ আগস্ট) কৃষক দলের কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক মো. শফিকুল ইসলাম স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, কৃষক দলের সভাপতি কৃষিবিদ হাসান জাফির তুহিন ও ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মোশারফ হোসেনের সিদ্ধান্ত মোতাবেক দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের সুস্পষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে ময়মনসিংহ উত্তর জেলা কৃষক দলের সদস্যসচিব শাহ মুহাম্মদ আলীকে সংগঠনের প্রাথমিক সদস্যপদসহ সব পর্যায়ের পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
মন্তব্য জানতে চাইলে বহিষ্কৃত শাহ মুহাম্মদ আলী বলেন, মামলার আবেদন করলেও দলীয় কোনো নেতা দায়ভার নিতে চাচ্ছিলেন না। তারা পাশ কাটিয়ে যাচ্ছিলেন। আদালতে মামলার আবেদন জমা দেওয়ার পর পরই বিএনপির অনেকে আওয়ামী লীগের কাছ থেকে টাকা লেনদেন শুরু করেন।
কারা আওয়ামী লীগের কাছ থেকে টাকা লেনদেন শুরু করেছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমি তাদের নাম বলতে চাই না। মামলাটি উত্তর জেলা কৃষক দলের আহ্বায়ক আবুল বাশার আকন্দ প্রস্তুত করেছেন। আমি শুধু স্বাক্ষর করেছি।’
শাহ মুহাম্মদ আলী আরও বলেন, ‘মামলায় বিএনপির তিনজন সমর্থক ও একজন ব্যবসায়ীর নাম দেওয়া হয়েছে ব্যক্তি আক্রোশে। তাই আমি মামলাটি প্রত্যাহারের আবেদন করি। আমি দুর্দিনে দলের সঙ্গে ছিলাম। আমাকে ভুল বুঝে বহিষ্কার করা হয়েছে।’
উত্তর জেলা কৃষক দলের আহ্বায়ক আবুল বাশার আকন্দ বলেন, ‘মামলা আমি রেডি করে দিইনি। দলীয় সিদ্ধান্তে শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে মামলার আবেদন করা হয়। যেহেতু দলীয়ভাবে মামলা করা হয়, তাই দল রেডি করে দিয়েছে। মামলার আবেদন করেও প্রত্যাহার করা মানে দলের সঙ্গে বেইমানি করা। তাই দল শাহ মুহাম্মদ আলীকে বহিষ্কার করেছে।’
গত ২০ জুলাই বৈষমবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় ফুলপুর পৌর শহরে সাইফুল ইসলাম ধান বিক্রি করার জন্য দুপুর ১২টা ৫০ মিনিটের দিকে আমুয়াকান্দা বাজারে যান। আন্দোলনকারীদের মিছিল চলাকালে পুলিশকে পেছনে রেখে এজাহারের ৬ থেকে ৬৭ নম্বর আসামিরা দেশীয় ও আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে উৎসুক জনতার ওপর আক্রমণ করে। এতে গুলিবিদ্ধ হয়ে সাইফুল ইসলাম নিহত হন। মামলার ১ থেকে ৫ নম্বর আসামির উসকানিতে ৬ থেকে ৬৭ নম্বর আসামিসহ অজ্ঞাতনামা আসামিরা সাইফুল ইসলামকে গুলি করে হত্যা করে।
ওই ঘটনায় ২০ আগস্ট আদালতে মামলার আবেদন করেন শাহ মুহাম্মদ আলী। মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খানসহ ৬৭ জনের নাম উল্লেখ করা হয়। অজ্ঞাত আসামি করা হয় ২৫০ থেকে ৩০০ জনকে। আদালত ওই ঘটনায় আগে মামলা হয়েছে কি না, জানতে চেয়ে পাঁচ দিন সময় দিয়ে ফুলপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) নির্দেশ দেন। এর মধ্যে ২৫ আগস্ট বাদী আদালতে মামলা প্রত্যাহারের আবেদন করলে আদালত আবেদন আমলে নিয়ে মামলা প্রত্যাহার করেন।
অন্যদিকে কৃষক সাইফুল ইসলাম হত্যার ঘটনায় ফুলপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) শাহাদাত হোসেন মুন্না বাদী হয়ে গত ২৩ জুলাই অজ্ঞাত ৫০ থেকে ৬০ দুষ্কৃতকারীর বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন। নিহত সাইফুল ইসলাম উপজেলার রহিমগঞ্জ ইউনিয়নের চক ঢাকিরকান্দা গ্রামের তৈয়ব আলীর ছেলে। কৃষিকাজ ও দিনমজুরি করে সংসার চালাতেন তিনি।