একজন শাসক যখন পালিয়ে যায় তখন তার পদত্যাগপত্র গুরুত্বপূর্ণ থাকে না বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান।
তিনি বলেন, ‘শাসক যখন পালিয়ে যায় তখন তার পদত্যাগ করা না করা দিয়ে কিছু আসে যায় না। শেখ হাসিনার পদত্যাগ নিয়ে শুরু থেকে ধুম্রজাল সৃষ্টি করা হয়েছে।’
মঙ্গলবার (২২ অক্টোবর) সকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবে বাংলাদেশ লেবার পার্টির ৪৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে ‘রাষ্ট্র সংস্কার ও নির্বাচন: জাতীয় ঐক্য’ শীর্ষক আলোচনাসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য তিনি এ মন্তব্য করেন।
লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরানের সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য রাখেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য বেগম সেলিমা রহমান, গণফোরামের সমন্বয় কমিটির কো-চেয়ারম্যান সুব্রত চৌধুরী, জাতীয়তাবাদী সমমনা জোটের সমন্বয়ক ডা. ফরিদুজ্জামান ফরহাদ, লেবার পার্টির মহাসচিব খন্দকার মিরাজুল ইসলাম প্রমুখ।
নজরুল ইসলাম খান বলেন, ‘রাষ্ট্রপতি যখন জাতির সামনে তিন বাহিনী প্রধানকে সঙ্গে নিয়ে বলছেন প্রধানমন্ত্রী পদত্যাগ করেছেন এবং তিনি তা গ্রহণ করেছেন। তখন কোনো কথা থাকে না। কেনো এখন কথা বদলে গেল, এ বিষয়ে খোঁজ নেওয়া সরকারের দায়িত্ব। এ প্রসঙ্গে নতুন করে আলোচনা সন্দেহজনক ও দুশ্চিন্তার।’
তিনি বলেন, ‘সরকারের দায়িত্ব জনগণের স্বস্তি নিশ্চিত করা। প্রশাসন পুলিশ তার পূর্ণাঙ্গ শক্তি নিয়ে কাজ করতে পারছে না। জনগণ সরকারের পক্ষে থাকলেও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব সরকারকেই নিতে হবে।’
নজরুল ইসলাম খান বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধ করে স্বাধীন করা দেশ দখল হয়ে গিয়েছিল। ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মধ্যদিয়ে নতুন পরিস্থিতি এসেছে। ষড়যন্ত্র থেমে নেই, নানান ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করতে হবে। সরকার সবল না, সরকারকে সহযোগিতা করতে হবে। সমাজের বিভিন্নস্থানে বিশৃঙ্খলার চেষ্টা চলছে, তা মোকাবিলা করা হয়েছে। সমস্যা বাড়ানোর জন্য নয়, কমানোর জন্য সরকারকে সহযোগিতা করতে হবে। কোনো ব্যক্তি গোষ্ঠীর বিশেষ চিন্তা বাস্তবায়ন করা উচিত হবে না।’
নজরুল ইসলাম খান বলেন, ‘সবার মতামত নিয়ে তারেক রহমান ৩১দফা প্রস্তাব প্রকাশ করেছেন। প্রধানমন্ত্রী পরপর দুইবারের বেশি দায়িত্ব পালন করতে পারবে না। কিছু রাজনৈতিক দল সংখ্যানুপাতে আসন বণ্টনের কথা বলছে, আগে বলে নাই। এটি সব রাজনৈতিক দলের আলোচনার মাধ্যমে সিদ্ধান্তের বিষয়। ভারত ইংল্যান্ডেও সংখ্যানুপাতের উদাহরণ নেই। সংখ্যানুপাতের সমস্যা মোকাবিলা করছে নেপাল। যেসব দল সংখ্যানুপাতের ভিত্তিতে আসন বণ্টন চায় তাদের অনেকের নির্বাচনে আসন পাওয়ারও সম্ভাবনা নাই।’
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য বেগম সেলিমা রহমান বলেন, ‘দেশের মূল জায়গাগুলোতে ফ্যাসিস্টের দোসররা বসে আছে। পতিত সরকার পরিকল্পিতভাবে উঠে আসার চেষ্টা করছে। তবে ফিরে আসা এতটা সহজ হবে না।’ দেশের শাসন কাজ পরিচালনা করতে অন্তর্বর্তী সরকার বাধার শিকার হচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন।
রাষ্ট্রপতিকে ফ্যাসিস্ট সরকারের দোসর উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘রাষ্ট্রপতির উদ্দেশ্য কী? তিনি তো ফ্যাসিস্ট সরকারের দোসর। তাদের শপথ বলে কিছু নেই, তাদের শপথ হলো দুর্নীতি অনিয়মের শপথ।’
শফিকুল ইসলাম/অমিয়/