একজন বাদশাহ তার উজিরকে বললেন, ‘আমাকে এমন একটি বাক্য খোদাই করে এনে দাও, যেটা পড়লে সুখ বা দুঃখ কোনোটিই স্থায়ী হয় না। উজির বাদশাহকে একটি বাক্য এনে দিলেন। বাক্যটি হলো, ‘এ সময় দ্রুতই ফুরিয়ে যাবে।’
সত্যিই বাক্যটি এমন যে, তা স্মরণ করলে সুখে আত্মহারা বা দুঃখে ম্রিয়মাণ হওয়ার সুযোগ নেই। কষ্ট-যাতনা যত তীব্রই হোক না কেন, বিপদ যত বড়ই হোক না কেন, তা যেমন একসময় কেটে যাবেই, ঠিক তেমনি জীবনের সুখ-সমৃদ্ধি-নেয়ামত চিরকাল থাকবে না। একসময় তাও নিঃশেষ হয়ে যাবে। এটাই হলো দুনিয়ার বৈশিষ্ট্য। পৃথিবী নশ্বর, ধ্বংসশীল। পৃথিবীর ধন-সম্পদ, অভাব-যাতনা, আনন্দ বা বেদনা সবই ধ্বংসশীল।
অপরদিকে, জান্নাত চিরস্থায়ী। এর ধ্বংস নেই; এর নেয়ামতরাজিরও শেষ নেই। এর বাসিন্দারাও হবে স্থায়ী। তারা কখনো জান্নাত ত্যাগ করবে না। এমনকি মৃত্যুও কখনো স্পর্শ করবে না তাদের। পবিত্র কোরআনে এরশাদ হয়েছে, ‘প্রথম মৃত্যুর (অর্থাৎ দুনিয়ার মৃত্যুর) পর তারা সেখানে আর কোনো মৃত্যু আস্বাদন করবে না। আর তাদের তিনি রক্ষা করবেন জাহান্নামের শাস্তি থেকে।’ (সুরা দুখান, আয়াত: ৫৬)
আল্লাহ বলেন, ‘যারা ঈমান এনেছে ও সৎকাজ করেছে, তাদের আতিথেয়তার জন্য রয়েছে জান্নাতুল ফেরদাউস। সেখানে তারা স্থায়ীভাবে বসবাস করবে; সেখান থেকে স্থানান্তরিত হতে চাইবে না কখনো।’ (সুরা কাহফ, আয়াত: ১০৮)
আল্লাহর রাসুল (সা.) স্পষ্ট ভাষায় ঘোষণা করেছেন, ‘বিচারকাজ শেষ হওয়ার পর মৃত্যুকে একটি প্রাণীর আকৃতি দিয়ে জান্নাত ও জাহান্নামের মধ্যবর্তী স্থানে জবাই করা হবে। এরপর জান্নাতবাসীকে উদ্দেশ করে বলা হবে, তোমরা চিরকাল এখানেই থাকবে। এখানে তোমাদের মৃত্যু হবে না। একইভাবে জাহান্নামবাসীকে সম্বোধন করে বলা হবে, তোমরা এখানে স্থায়ী হবে। এখানে মৃত্যু তোমাদের স্পর্শ করতে পারবে না।’ (বুখারি, হাদিস: ৪৭৩০)
কোরআন-হাদিসের এসব বর্ণনা থেকে স্পষ্টতই বোঝা যায়, জান্নাত অবিনশ্বর। যারা জান্নাতে প্রবেশ করবে, তারা অমরত্ব লাভ করবে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে জান্নাতে প্রবেশ করবে, সে চিরকাল নেয়ামত ও সুখ-শান্তি ভোগ করবে। কখনো দুর্ভোগের শিকার হবে না। তার পোশাক কখনো পুরোনো হবে না। এমনকি তার যৌবনও কখনো ফুরিয়ে যাবে না।’ (মুসলিম, হাদিস: ২৮৩৬)
আরেকটি হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, ‘(জান্নাতে প্রবেশের পর আল্লাহ জান্নাতবাসীকে ডেকে বলবেন) এখানে তোমরা সব সময় সুস্থ থাকবে, কখনো অসুস্থ হবে না। অমরত্ব লাভ করবে, কখনো মৃত্যুবরণ করবে না। সব সময় যুবক থাকবে, কখনো বৃদ্ধ হবে না। সবসময় নেয়ামতপ্রাপ্ত হবে, কখনো দুর্ভোগের শিকার হবে না। নিচের আয়াতটিতে তিনি এই মহাসত্যের প্রতিই ইঙ্গিত করেছেন—‘তাদেরকে ডেকে বলা হবে, এই হলো জান্নাত। তোমাদের কর্মের প্রতিদানে তোমাদের এর অধিকারী করা হয়েছে।’ (সুরা আরাফ, আয়াত: ৪৩; মুসলিম, হাদিস: ২৮৩৮)
লেখক: আলেম, সাংবাদিক ও গবেষক