পবিত্র কোরআনে এরশাদ হয়েছে, ‘তোমাদের জন্য হারাম করা হয়েছে মৃত জন্তু, রক্ত, শূকরের মাংস, আল্লাহ ছাড়া অন্যের নামে জবাই করা পশু আর শ্বাসরোধে মৃত জন্তু, শৃঙ্গাঘাতে মৃত জন্তু এবং হিংস্র পশুতে খাওয়া জন্তু; তবে তোমরা জবাই করতে পেরেছ, তা ছাড়া। আর যা মূর্তি পূজার বেদির ওপর বলি দেওয়া হয়েছে এবং জুয়ার তির দ্বারা ভাগ্য নির্ণয় করা—এই সব পাপ কাজ...।’ (সুরা মায়েদা, আয়াত: ৩)
সুরা মায়েদাতে নিষিদ্ধ খাদ্যশ্রেণি কিছুটা বিস্তৃতভাবে আলোচিত হয়েছে, সেখানে মৃত জন্তুর প্রকার উল্লিখিত হয়েছে। যথা—
১. শ্বাসরোধে মৃত জন্তু: যে প্রাণীর গলায় রশি ইত্যাদি আটকে দমবন্ধ হয়ে কিংবা বন্ধ জায়গায় আটকে মারা যায়।
২. প্রহারে মৃত জন্তু: যে প্রাণীকে লাঠি ইত্যাদি ভারী ও শক্ত কিছু দিয়ে পিটিয়ে মেরে ফেলা হয়।
৩. ওপর থেকে পড়ে মারা যাওয়া জন্তু: যে প্রাণী কোনো উঁচু স্থান থেকে বা গভীর কূপে পড়ে মারা যায়।
৪. অন্য প্রাণীর শিংয়ের আঘাতে মৃত জন্তু: যে প্রাণী প্রতিযোগিতা বা মারামারির সময় অন্য প্রাণীর শিংয়ের আঘাতে মারা যায়।
৫. হিংস্র পশুতে খাওয়া জন্তু: যে প্রাণীকে বাঘ, সিংহ বা হিংস্র কোনো প্রাণী আংশিক খেয়ে ফেলার পর মারা যায়।
এই পাঁচটি প্রকার উল্লেখের পর আল্লাহতায়ালা বলেছেন, ‘তবে যা তোমরা জবাই করতে পেরেছ তা ছাড়া।’ অর্থাৎ এই প্রাণীগুলোর মাঝে যেগুলো জীবিত থাকবে এবং (জীবিত থাকাকালীনই) জবাই করতে পারলে সেগুলো খাওয়া হালাল হবে।
উল্লিখিত কোনো জন্তু আহত হওয়ার পর তার মধ্যে যদি সামান্য প্রাণস্পন্দন থাকে এবং তৎক্ষণাৎ পশুটি জবাই করা হয়, তাহলে সেটি খাওয়া হালাল হবে। অবশ্য কোনো কোনো ফকিহ মনে করেন, প্রাণীর মধ্যে প্রাণের স্থিতি থাকতে হবে। আর প্রাণের স্থিতির নিদর্শন হলো, জবাই করলে রক্ত প্রবাহিত হওয়া এবং জবাইয়ের সময় জোরে ঝাঁকুনি দেওয়া।
এই বক্তব্যের শুদ্ধতার পক্ষে প্রমাণ হিসেবে আলি (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসটি দলিল হতে পারে। আলি (রা.) বলেছেন, ‘প্রহারে আঘাতপ্রাপ্ত, পতনে আহত এবং শৃঙ্গাঘাতে আহত জন্তুকে যদি হাত-পা নাড়ানো অবস্থায় (অর্থাৎ জীবিত থাকাবস্থায়) জবাই করার অবকাশ পাও, তাহলে তুমি সেটি খেতে পারো।’ (তাফসিরে তাবারি, খণ্ড: ৯, পৃষ্ঠা: ৫০৩)
বিখ্যাত তাবিয়ি জাহহাক (রহ.) বলেন, ‘প্রাক-ইসলামি যুগের লোকেরা এসব আঘাতপ্রাপ্ত জন্তু (জবাই করা ছাড়াই) খেত। কিন্তু আল্লাহতায়ালা ইসলামি বিধানে সেগুলো খেতে নিষেধ করেছেন। তবে এর মধ্যে যেগুলো এমন অবস্থায় পাওয়া যাবে যার পা, লেজ বা চোখ নাড়াচাড়া করছে, তখন সেটি জবাই করলে খাওয়া হালাল হবে।' (তাফসিরে তাবারি, খণ্ড: ৯, পৃষ্ঠা: ৫০৪)
লেখক: আলেম, গবেষক ও সাংবাদিক