ঢাকা ১৯ আষাঢ় ১৪৩৩, শুক্রবার, ০৩ জুলাই ২০২৬

সর্বশেষ
সুচালো মাথা ব্যাঙের কথা বাড়ি যেন এক টুকরো আর্জেন্টিনার ক্যানভাস ট্রুম্যান-বুশের পথ ছেড়ে ব্যক্তিগত আয়ে রেকর্ড ট্রাম্পের কানসাসে নকআউট যুদ্ধ: কলম্বিয়ার সামনে ঘানা ৩ জুলাই: তুলা, বৃশ্চিক, ধনু, মকর, কুম্ভ ও মীনের আজকের রাশিফল ভারতে এআই-সৃষ্ট ভুয়া নজিরে রায়, সুপ্রিমকোর্টে বাতিল দৃশ্যমান অগ্রগতি ছাড়াই শেষ যুক্তরাষ্ট্র-ইরান বৈঠক ৩ জুলাই: মেষ, বৃষ, মিথুন, কর্কট, সিংহ ও কন্যার আজকের রাশিফল মেসিকে নিয়ে আবেগ-পেশাদারত্বে কেপ ভার্দে শেষ ষোলোতে স্পেনের মুখোমুখি পর্তুগাল, ম্যাচ কবে-কখন? নরওয়ের বিপক্ষে নামার আগে ব্রাজিল শিবিরে ধাক্কা অফসাইডে কপাল পুড়ল ক্রোয়েশিয়ার, শেষ ষোলোতে পর্তুগাল ব্রাজিলের চেয়ে এবার আর্জেন্টিনাই এগিয়ে ৩ জুলাই  ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচি পর্তুগালকে সমতায় ফেরালেন রোনালদো বিশ্বকাপে ইতিহাস গড়লেন উনাই সিমন মেসিকে চিঠি লিখে মানুর স্বপ্নপূরণ গোলহীন প্রথমার্ধে পর্তুগাল-ক্রোয়েশিয়া ১৬ বছরের জট খুলল স্পেনের ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে পর্তুগালের একাদশে পরিবর্তন শেষ ষোলোতে স্পেনের প্রতিপক্ষ কারা? আর্জেন্টিনাকে কেপ ভার্দে কোচের হুঁশিয়ারি অস্ট্রিয়াকে উড়িয়ে শেষ ষোলোতে স্পেন পর্তুগাল-ক্রোয়েশিয়া ম্যাচ কে জিতবে, সুপারকম্পিউটারের ভবিষ্যদ্বাণী কেন বাতিল হলো কুকুরেয়ার গোল? ওয়ারজাবালের গোলে এগিয়ে বিরতিতে স্পেন স্পেন-অস্ট্রিয়া ম্যাচে কে জিতবে, জানাল সুপারকম্পিউটার অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে স্পেনের একাদশে ২ পরিবর্তন আলিয়ঁস ফ্রঁসেজে জাকিয়া খান চন্দনার পরাবাস্তববাদী চিত্রপ্রদর্শনী নজরুল বর্ষের উদ্বোধনী আয়োজনে দর্শক সংকট

রাসুলুল্লাহ (সা.) যেভাবে খাবার খেতেন

প্রকাশ: ১৭ মে ২০২৪, ০৯:০০ এএম
রাসুলুল্লাহ (সা.) যেভাবে খাবার খেতেন
প্রতীকী ছবি

দস্তরখানা বিছিয়ে খাবার খেতেন: রাসুলুল্লাহ (সা.) দস্তরখানা বিছিয়ে বসে বিসমিল্লাহ বলে খাবার খেতেন। (বুখারি, ৫৩৮৬) ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন, আমার খালাম্মা একবার রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর জন্য কাঁধের গোশত ও দুধসহ কিছু খাবার হাদিয়া পাঠালেন। তিনি খাবারগুলো দস্তরখানার ওপরে রাখলেন। রাসুলুল্লাহ (সা.) দুধ পান করলেন এবং ছাগলের গোশত খেলেন। এই হাদিস দ্বারা বোঝা যায়, রাসুলুল্লাহ (সা.) দস্তরখানা বিছিয়ে খেতেন। (তুহফাতুল কারি, ১০/৩৫৬)

বিসমিল্লাহ বলে ডান হাত দিয়ে খাবার খেতেন, মধ্যখান থেকে নয়; বরং সামনে থেকে খেতেন: উমর ইবনে আবু সালামা (রা.) বলেন, “আমি রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর লালন-পালনে ছিলাম। খাবারের পাত্রে আমার হাত ছোটাছুটি করত। 
রাসুলুল্লাহ (সা.) আমাকে বললেন, ‘হে ছেলে, বিসমিল্লাহ বলে ডান হাতে খাও এবং তোমার কাছে থেকে (সম্মুখ) খাও।” (বুখারি, ৫০৬; মুসলিম, ২০২২) রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা বাম হাত দিয়ে খাবার খেয়ো না ও পান করো না। কারণ, শয়তান বাম হাত দিয়ে খাবার খায় ও পান করে।’ (তিরমিজি, ১৯১২) রাসুলুল্লাহ (সা.) আরও বলেছেন, ‘খাবারের মধ্যস্থলে বরকত নাজিল হয়। সুতরাং তোমরা পাশ থেকে খাও, মধ্যস্থল থেকে খেয়ো না।’ (তিরমিজি, ১৮০৫)

বিসমিল্লাহ বলতে ভুলে গেলে অন্য দোয়া পড়তেন: রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যখন তোমরা খানা খেতে শুরু করো, তখন আল্লাহর নাম স্মরণ করো। আর যদি আল্লাহর নাম স্মরণ করতে ভুলে যাও, তাহলে বিসমিল্লাহি আউয়ালুহু ওয়া আখিরুহু বলো।’ (রিয়াজুস সালেহিন, ৭২৯)

একাকী না খেয়ে সম্মিলিতভাবে খাবার খেতেন: রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা সম্মিলিতভাবে তোমাদের খাবার খাও এবং আল্লাহর নামে খাও; দেখবে তোমাদের খাদ্যে বরকত হবে।’ (আবু দাউদ, ৩৭৬৬; ইবনে মাজাহ, ৩২৮৬) তিনি আরও বলেছেন, ‘তোমরা একসাথে খাও এবং পৃথক হয়ে থেকো না। কারণ জামাতের সঙ্গে বরকত আছে।’ (আবু দাউদ, ৩৭৬৪; ইবনে মাজাহ, ৩২৮৭)

হাত ও আঙুল চেটে খেতেন: রাসুলুল্লাহ (সা.) খাওয়ার সময় সর্বদা হাত চেটে খেতেন। না চাটা পর্যন্ত কখনো হাত মুছতেন না। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা যখন খাবার গ্রহণ করো তখন আঙুল চেটে খাও। কারণ বরকত কোথায় রয়েছে, তা তোমরা জানো না।’ (ইবনে মাজাহ, ১৯১৪)

খাবারের লোকমা তুলে খেতেন: খাবার খাওয়ার সময় থালা-বাসন থেকে খাবারের লোকমা বা কিছু ভাত, রুটি কিংবা অন্য খাবার পড়ে যায়। রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর খাবার সময় যদি কোনো খাবার পড়ে যেত, তাহলে তিনি তা তুলে খেতেন। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমাদের খাবার আহারকালে যদি লোকমা পড়ে যায়, তাহলে ময়লা ফেলে তা খাও। শয়তানের জন্য ফেলে রেখো না।’ (তিরমিজি,  ১৯১৫, ইবনে মাজাহ, ৩৪০৩)

হেলান দিয়ে খাবার খেতেন না: কোনো কিছুর ওপর হেলান দিয়ে খাবার খেতে নিষেধ করেছেন রাসুলুল্লাহ (সা.)। আবু হুজাইফা (রা.) বলেন, ‘আমি রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর দরবারে ছিলাম। তিনি এক ব্যক্তিকে বলেন, আমি টেক লাগানো অবস্থায় (হেলান দিয়ে) কোনো কিছু খাই না।’ (বুখারি, ৫১৯০; তিরমিজি, ১৯৮৬)

খাবারের দোষ-ত্রুটি ধরতেন না: আবু হুরায়রা (রা.) বলেন, ‘রাসুলুল্লাহ (সা.) কখনো খাবারের দোষ-ত্রুটি ধরতেন না। পছন্দ হলে খেতেন আর অপছন্দ হলে পরিত্যাগ করতেন।’ (বুখারি, ৫১৯৮; ইবনে মাজাহ, ৩৩৮২)

খাবারের গরম ভাব দূর করে খেতেন: আবু হুরায়রা (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘ভাপ না চলে যাওয়া পর্যন্ত কোনো খাবার খাওয়া উচিত নয়।’ (বাইহাকি, ১৯৭৮) তিনি আরও বলেছেন, ‘খাবারের বেশি গরম ভাপ দূর করে খেলে তাতে বরকত বেশি হয়।’ (মুসনাদে আহমাদ, ২৬৪১৮)

খাবারে ও পানিতে ফুঁ দিতেন না এবং পানির পাত্রে নিশ্বাস ফেলতেন না: ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, ‘রাসুলুল্লাহ (সা.) কখনো খাবারে ফুঁ দিতেন না। এমনকি ফুঁ দিতেন না কোনো কিছু পানকালেও।’ (ইবনে মাজাহ, ৩৪১৩)
পানির পাত্রে নিঃশ্বাস ফেলতেও নিষেধ করেছেন রাসুলুল্লাহ (সা.)। তিনি বলেছেন, ‘তোমরা (পান করার সময়) পাত্রে নিঃশ্বাস ফেলো না।’ (বুখারি, ১৫৪) আবু সাইদ খুদরি (রা.) বলেন, ‘খাবারে ফুঁ দিতে রাসুলুল্লাহ (সা.) নিষেধ করেছেন। এ ছাড়া পানির পাত্রে শ্বাস ছাড়তে নিষেধ করেছেন।’ (তিরমিজি, ১৮৮৭) আবু কাতাদা (রা.) বর্ণনা করেছেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যখন তোমাদের কেউ পানি পান করবে, পানির পাত্রে যেন শ্বাস না ছাড়ে।’ (তিরমিজি, ১৮৮৯)

অতিভোজন না করে পরিমিত খাবার খেতেন: রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘মানুষের ভরা পেটের চেয়ে খারাপ পাত্র আর নেই। আদম সন্তানের কোমর সোজা রাখার জন্য কয়েকটি লোকমাই যথেষ্ট। সুতরাং সে যদি তাতে তুষ্ট না হতে পারে, তাহলে (পেটকে তিন ভাগে ভাগ করে নেবে) এক-তৃতীয়াংশ খাদ্যের জন্য, এক-তৃতীয়াংশ পানির জন্য এবং অপর এক-তৃতীয়াংশ শ্বাস-প্রশ্বাসের জন্য ঠিক করে নেবে।’ (তিরমিজি, ২৩৮০; ইবনে মাজাহ, ৩৩৪৯) রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘মুসলিমরা খায় এক পেটে আর কাফেররা খায় সাত পেটে।’ (বুখারি, ৫৩৯৬)

খাবার শেষে কুলি করতেন ও হাত ধুয়ে নিতেন: রাসুলুল্লাহ (সা.) খাবার শেষে কুলি করতেন ও হাত ধুতেন। (বুখারি, ৫৩৯০; মুসনাদে আহমাদ, ২৭৪৮৬) আবু হুরায়রা (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘(খাবার পর) হাত না ধুয়ে যে হাতে তরকারি বা গোশতের ঝোল লেগে থাকাবস্থায় শয়ন করে; এর কারণে তার কোনো ক্ষতি হলে, সে যেন নিজেকেই এর জন্য দোষারোপ করে।’ (আবু দাউদ, ৩৮৫২; তিরমিজি, ১৮৬০)
খাবারের পাত্রও চেটে খেতেন: ‘রাসুলুল্লাহ (সা.) আঙুল ও খাওয়ার পাত্র চেটে খাওয়ার নির্দেশ দিয়ে বলেছেন, তোমাদের জানা নেই, তোমাদের কোন খাবারের মধ্যে বরকত রয়েছে।’ (মুসলিম, ৫৪২০)

খাওয়ার শুরু ও শেষে দোয়া পড়তেন: রাসুলুল্লাহ (সা.) খাওয়ার শুরু ও শেষে দোয়া পড়তেন। খাওয়ার শুরুতে যে দোয়াটি পড়তেন তা হলো—বাংলা উচ্চারণ: বিসমিল্লাহি ওয়া আলা বারাকাতিল্লাহ। বাংলা অর্থ: আল্লাহর নামে ও তাঁর বরকতের প্রত্যাশায়। (মুসতাদরাকে হাকিম, ৭১৬৩) আর খাওয়ার শেষে যে দোয়াটি পড়তেন তা হলো—বাংলা উচ্চারণ: আলহামদুলিল্লাহিল্লাজি আতয়ামানা ওয়া সাকানা ওয়া জায়ালানা মিনাল মুসলিমিন। বাংলা অর্থ: সব প্রশংসা ওই আল্লাহর, যিনি আমাদের পানাহার করিয়েছেন এবং মুসলমান বানিয়েছেন। (আবু দাউদ, ৩৮৫০)

দস্তরখানা উঠানোর দোয়া পড়তেন: খাবার শেষে দস্তরখানা ও থালা-বাসন উঠানোর সময় রাসুলুল্লাহ (সা.) এই দোয়াটি পড়তেন। বাংলা উচ্চারণ: আলহামদুলিল্লাহি হামদান কাসিরান তাইয়িবান মুবারাকান ফিহি। গাইরা মাকফিইন ওয়ালা মুয়াদদাইন ওয়ালা মুসতাগনা আনহু রব্বানা। বাংলা অর্থ: হে আল্লাহ, সমস্ত প্রশংসা তোমার। অধিক প্রশংসা তোমার জন্য, যা পবিত্র ও বরকতময়। হে প্রভু, তোমার অনুগ্রহ থেকে মুখ ফেরানো যায় না। এর অন্বেষণ ত্যাগ করা যায় না এবং এর প্রয়োজন থেকে মুক্ত থাকা যায় না। (বুখারি, ৫৪৫৮) 

লেখক: আলেম, গবেষক ও সাংবাদিক

৩ জুলাই  ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচি

প্রকাশ: ০৩ জুলাই ২০২৬, ০৭:০০ এএম
৩ জুলাই  ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচি
জুলাই, ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচির ছবি

প্রতিদিন সময়মতো পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করা ফরজ। নামাজ (সালাত) ইসলাজুলাইর পাঁচটি স্তম্ভের মধ্যে একটি এবং ইসলাজুলাইর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ফরজ ইবাদত। আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে জিজ্ঞাসা করলাম, (হে আল্লাহর রাসুল!) আল্লাহর কাছে সবচেয়ে বেশি প্রিয় আমল কোনটি? রাসুলুল্লাহ (সা.) বললেন, ‘নামাজ (বুখারি মুসলিম)

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা সেভাবে নামাজ আদায় করো, যেভাবে আমাকে নামাজ আদায় করতে দেখেছ।’ (বুখারি, ৬৩১)

সঠিকভাবে নামাজ আদায় করতে হলে, নামাজের সময় জানতে হবে।

 

আজ ৩ জুলাই ২০২৬, শুক্রবার ঢাকা পার্শ্ববর্তী এলাকার নামাজের সময়সূচি তুলে ধরা হলো

জোহর

১২.০ মিনিট

আসর

৪.৪২ মিনিট

মাগরিব

৬.৪ মিনিট

এশা

৮.২০ মিনিট

ফজর (৫ জুলাই)

.৪৯ মিনিট

বিভাগীয় শহরের জন্য উল্লিখিত সময়ের সঙ্গে যেসব বিভাগে সময় যোগ-বিয়োগ করতে হবে।

বিয়োগ

চট্টগ্রাম: মিনিট

সিলেট: মিনিট

যোগ

খুলনা: মিনিট

রাজশাহী: মিনিট

রংপুর: মিনিট

বরিশাল: মিনিট

 

সূত্র: ইসলামিক ফাউন্ডেশন

আত্মিক প্রশান্তি লাভের দারুণ উপায়

প্রকাশ: ০২ জুলাই ২০২৬, ০৭:০০ পিএম
আত্মিক প্রশান্তি লাভের দারুণ উপায়
বান্দার সঙ্গে তার স্রষ্টার সবচেয়ে গোপন ও মধুর সংলাপ। ছবি: সংগৃহীত

গভীর রাত। চারদিক নিস্তব্ধ, পুরো পৃথিবী তখন গভীর ঘুমে মগ্ন। ঠিক তখনই কিছু মানুষ বিছানার মোহ ত্যাগ করে পরম তৃপ্তিতে দাঁড়িয়ে যান জায়নামাজে। যখন চারপাশের সব কোলাহল থেমে যায়, তখনই শুরু হয় বান্দার সঙ্গে তার স্রষ্টার সবচেয়ে গোপন ও মধুর সংলাপ। দিনের ব্যস্ততা আর যান্ত্রিক জীবনের ক্লান্তি দূর করে আত্মিক প্রশান্তি পাওয়ার এর চেয়ে দারুণ উপায় আর কী হতে পারে?

ইসলামে রাতের এই ইবাদত বা তাহাজ্জুদ নামাজের গুরুত্ব অপরিসীম। রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর অনন্য সুন্নতগুলোর মধ্যে এটি অন্যতম, যা একজন বিশ্বাসীকে আল্লাহর সবচেয়ে কাছাকাছি নিয়ে যায়। ফরজ ইবাদতের পর আল্লাহর কাছে এই সময়ের প্রার্থনার মর্যাদা সবচেয়ে বেশি।

হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে জিজ্ঞাসা করা হলো, ফরজ নামাজের পর কোন নামাজ সর্বোত্তম? তিনি বললেন, ‘ফরজ নামাজের পর সর্বোত্তম নামাজ হলো, রাতে উঠে নামাজ পড়া।’ (মুসলিম, ১১৬৩)

আমাদের যান্ত্রিক জীবনে আমরা যখন মানসিক চাপ, হতাশা কিংবা নানা সমস্যায় জর্জরিত হই, তখন রাতের এই শেষ প্রহরে আল্লাহর দরবারে হাত তোলাই হতে পারে সব সমস্যার সমাধান। হাদিসে এসেছে, রাতের শেষ তৃতীয়াংশে মহান আল্লাহ দুনিয়ার আকাশে নেমে আসেন এবং বান্দাদের ডাকতে থাকেন–কে আছো ক্ষমা চাওয়ার, যাকে আমি ক্ষমা করব? কে আছো রিজিক চাওয়ার, যাকে আমি রিজিক দেব?

এই নামাজ শুধু পরকালের পুণ্যই বাড়ায় না, বরং মানুষের ভেতরের অহংকার দূর করে মনকে করে তোলে শান্ত ও কোমল। সারা দিনের পাপের পঙ্কিলতা থেকে মুক্ত হতে রাতের এই নির্জন ইবাদত এক জাদুকরী ভূমিকা পালন করে। তাই আসুন, অলসতা কাটিয়ে অন্তত দুই রাকাত নামাজের মাধ্যমে হলেও রাতের এই সোনালি সুযোগকে কাজে লাগাই, জীবনকে করি সুন্নাহর আলোয় আলোকিত।

লেখক: আলেম ও সাংবাদিক 

বন্ধুরা বাজি ধরলে আপনার অংশ নেওয়া কি ঠিক হবে?

প্রকাশ: ০২ জুলাই ২০২৬, ০২:৫৫ পিএম
বন্ধুরা বাজি ধরলে আপনার অংশ নেওয়া কি ঠিক হবে?
ছবি: সংগৃহীত

বিকেলের নরম আলোয় বন্ধুদের সঙ্গে ক্রিকেটের পিচে নামার আনন্দই আলাদা। কিন্তু ধরুন, ম্যাচ শুরুর আগেই বন্ধুরা মিলে হুট করে বাজি ধরে বসল–‘যে দল হারবে, তারা জয়ী দলকে বড় অংকের টাকা বা বিকেলের নাশতা খাওয়াবে।’ আপনি হয়তো ব্যক্তিগতভাবে এই বাজিতে টাকা দিচ্ছেন না, কেবল নিজের আনন্দের জন্য স্বাভাবিকভাবে খেলছেন। কিন্তু কখনো কি ভেবে দেখেছেন, বন্ধুদের এই অনৈতিক বাজি ধরার কারণে আপনার নির্দোষ খেলাটিও গুনাহের কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে কি না?

আমাদের সমাজে এটি একটি বড় ব্যাধি। অনেকেই মনে করেন, নিজে বাজি না ধরলে বুঝি অন্য সবার সঙ্গে খেলায় কোনো সমস্যা নেই। কিন্তু ইসলামি শরিয়তের সূক্ষ্ম বিধান এই সাধারণ ভাবনার চেয়ে অনেক গভীর ও সতর্কতামূলক।

ইসলামে জুয়া বা বাজি ধরা সম্পূর্ণ হারাম। আপনি নিজে বাজি না ধরলেও, যখন আপনি এমন একটি ম্যাচে অংশ নিচ্ছেন–যেখানে অন্য পক্ষগুলো বাজি ধরেছে, তখন আপনি পরোক্ষভাবে সেই নিষিদ্ধ বাজি বা জুয়ার ম্যাচটিকে সফল করতে সাহায্য করছেন। ইসলামে যেকোনো গুনাহের কাজে সাহায্য করা বা অংশীদার হওয়া সমান অপরাধ। পবিত্র কোরআনে আল্লাহতায়ালা স্পষ্ট নির্দেশ দিয়ে বলেছেন, তোমরা সৎকর্ম তাকওয়ার ক্ষেত্রে একে অন্যকে সহযোগিতা করবে। গুনাহ জুলুমের কাজে একে অন্যের সহযোগিতা করবে না। আল্লাহকে ভয় করে চলো। নিশ্চয়ই আল্লাহর শাস্তি অতি কঠিন। (সুরা মায়েদা, ০২)

এই আয়াত থেকে স্পষ্ট যে, একজন মুমিন হিসেবে আমাদের দায়িত্ব হলো যেকোনো অন্যায় ও নিষিদ্ধ পরিবেশ থেকে নিজেকে সম্পূর্ণ দূরে রাখা। বাজি ধরা ম্যাচটিতে আপনার অংশগ্রহণ সেই জুয়ার আসরকে জমিয়ে তুলতে সাহায্য করে, যা শরিয়তের দৃষ্টিতে মোটেও জায়েজ নয়।

খেলাধুলা শরীর ও মন সতেজ রাখার একটি চমৎকার মাধ্যম, যতক্ষণ না তা কোনো হারামের সঙ্গে যুক্ত হয়। তাই বন্ধুরা যখনই খেলার মাঠে বাজি ধরার মতো কোনো অনৈতিক সিদ্ধান্ত নেবে, একজন সচেতন মুসলিম হিসেবে আপনার উচিত তাদের বোঝানো এবং তা থেকে বিরত রাখা। তারা যদি না শোনে, তবে নিজের ঈমান ও আমল রক্ষা করতে সেই ম্যাচ বর্জন করাই হবে সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ।

 

লেখক: আলেম ও সাংবাদিক

সাহাবিদের গল্প-০১ মৃত্যু দাঁড়িয়ে ছিল গুহার মুখে

প্রকাশ: ০২ জুলাই ২০২৬, ১১:২২ এএম
মৃত্যু দাঁড়িয়ে ছিল গুহার মুখে
ছবি: সংগৃহীত

রাতের অন্ধকারে সাওর পাহাড়ের খাড়া পথ বেয়ে উঠছেন দুজন মানুষ। পেছনে মক্কা নগরীযেখানে ঘোষণা হয়ে গেছে; যে এই দুজনের সন্ধান দেবে, তার জন্য ১০০ উটের পুরস্কার। সামনে অনিশ্চিত মরুপথ। একজন আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, অন্যজন তার পরম বন্ধু আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহু।

গুহার অন্ধকারে দুজন আশ্রয় নিলেন। ওদিকে রক্তের নেশায় উন্মত্ত কুরাইশ খুঁজতে খুঁজতে পৌঁছে গেল গুহার একেবারে মুখে। এত কাছেপায়ের শব্দ শোনা যায়, কথার আওয়াজ ভেসে আসে। আবু বকরের বুক কেঁপে উঠল; নিজের জন্য নয়, প্রিয় নবিজির জন্য। তিনি ফিসফিস করে বললেন, ‘ওদের কেউ যদি নিজের পায়ের দিকে তাকায়, আমাদের দেখে ফেলবে!’

জবাবে ভেসে এল ইতিহাসের সবচেয়ে প্রশান্ত কণ্ঠস্বর, ‘হে আবু বকর! সেই দুজন সম্পর্কে তোমার ধারণা কী, যাদের তৃতীয়জন স্বয়ং আল্লাহ?’ (সহিহ বুখারি, হাদিস ৩৬৫৩)

আল্লাহতায়ালা কোরআনে এই মুহূর্তটি অমর করে রেখেছেন, ‘তিনি তার সঙ্গীকে বলছিলেন, চিন্তা করো না, নিশ্চয়ই আল্লাহ আমাদের সঙ্গে আছেন। অতঃপর আল্লাহ তার ওপর নিজের প্রশান্তি নাজিল করলেন।’ (সুরা তাওবা, ৪০)

ভেবে দেখুন, পৃথিবীর সব হিসাব বলছিল ধরা পড়া অনিবার্য। কিন্তু যার অন্তরে আল্লাহর ওপর ভরসা পূর্ণতা পেয়েছে, তার অভিধানে ‘অনিবার্য বিপদ’ বলে কিছু নেই। কুরাইশরা গুহার মুখ পর্যন্ত এসেও ফিরে গেল।

আজ আমরা কত তুচ্ছ কারণে ভেঙে পড়ি! চাকরি হারানোর ভয়, পরীক্ষার ফল, ব্যবসার লোকসান, সংসারের টানাপোড়েনমনে হয় সব শেষ। অথচ গুহার সেই রাত আমাদের শেখায়, হিসাবের সব দরজা বন্ধ হয়ে গেলেও আল্লাহর দরজা খোলা থাকে। ‘লা তাহজান, ইন্নাল্লাহা মাআনা’চিন্তা করো না, আল্লাহ আমাদের সঙ্গে আছেন এই একটি বাক্যই মুমিনের সারা জীবনের পাথেয়।

হে আল্লাহ! জীবনের প্রতিটি অন্ধকার গুহায় আমাদের অন্তরে সেই প্রশান্তি দান করুন, যা আপনি আপনার নবি ও সিদ্দিকের অন্তরে দিয়েছিলেন। আমিন।

লেখক: আলেম ও সাংবাদিক

২ জুলাই  ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচি

প্রকাশ: ০২ জুলাই ২০২৬, ০৭:০০ এএম
২ জুলাই  ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচি
জুলাই, ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচির ছবি

প্রতিদিন সময়মতো পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করা ফরজ। নামাজ (সালাত) ইসলাজুলাইর পাঁচটি স্তম্ভের মধ্যে একটি এবং ইসলাজুলাইর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ফরজ ইবাদত। আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে জিজ্ঞাসা করলাম, (হে আল্লাহর রাসুল!) আল্লাহর কাছে সবচেয়ে বেশি প্রিয় আমল কোনটি? রাসুলুল্লাহ (সা.) বললেন, ‘নামাজ (বুখারি মুসলিম)

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা সেভাবে নামাজ আদায় করো, যেভাবে আমাকে নামাজ আদায় করতে দেখেছ।’ (বুখারি, ৬৩১)

সঠিকভাবে নামাজ আদায় করতে হলে, নামাজের সময় জানতে হবে।

 

আজ ২ জুলাই ২০২৬, বৃহস্পতিবার ঢাকা পার্শ্ববর্তী এলাকার নামাজের সময়সূচি তুলে ধরা হলো— 

জোহর

১২.০ মিনিট

আসর

৪.৪২ মিনিট

মাগরিব

৬.৪ মিনিট

এশা

৮.২০ মিনিট

ফজর (৩ জুলাই)

.৪৯ মিনিট

 

 

 

 

 

 

 

 

 

বিভাগীয় শহরের জন্য উল্লিখিত সময়ের সঙ্গে যেসব বিভাগে সময় যোগ-বিয়োগ করতে হবে।

বিয়োগ

চট্টগ্রাম: মিনিট

সিলেট: মিনিট

যোগ

খুলনা: মিনিট

রাজশাহী: মিনিট

রংপুর: মিনিট

বরিশাল: মিনিট

 

সূত্র: ইসলামিক ফাউন্ডেশন