ঢাকা ২৩ আষাঢ় ১৪৩৩, মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই ২০২৬

সর্বশেষ
আজকের মুদ্রার বাজার: ৭ জুলাই, ২০২৬ বিলাসী যুবক থেকে ছেঁড়া চাদরের শহিদ জুনে মূল্যস্ফীতি কমে ৯.১৬ শতাংশ চীনে বন্যা ও বজ্রঝড়ে ১০ জনের প্রাণহানি যশোর-মাগুরা মহাসড়কে রহস্যজনক প্রাইভেটকার উদ্ধার বিশ্বকাপে কোনো দলই একক আধিপত্য বিস্তার করতে পারছে না: স্কালোনি দিনাজপুরে অপহরণ ও চাঁদা দাবির অভিযোগে যুব নাগরিক শক্তির নেতাসহ গ্রেপ্তার ৫ ৬ দিন বিরতির পর বসছে সংসদ অধিবেশন হাতিয়ায় মাছ ধরতে গিয়ে নিখোঁজ মিলনের মরদেহ উদ্ধার মাদারীপুরে ডিবি পুলিশের ওপর হামলা করে আসামি ছিনতাই পদত্যাগ করলেন রবার্তো মার্তিনেস পটিয়া পৌরসভার তিন  টেন্ডার নিয়ে বিতর্ক, বিক্ষুব্ধ স্থানীয় ঠিকাদাররা সোনারগাঁ ইউনিভার্সিটিতে শুরু হয়েছে ফল আপরাইজ অ্যাডমিশন ফেয়ার জাকার্তা বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত শহর, ঢাকা ‘সহনীয়’ অবস্থানে পেকুয়ায় পাহাড় ধসে ১ শিশু নিহত সাজেকে কীটনাশকে প্রস্তুত চা পান করে অসুস্থ ১২ গ্রামবাসী সিলেটে ব্যবস্থাপনা ও ইজারা নিয়ে সিসিক-বাজার কমিটি দ্বন্দ্ব যুক্তরাষ্ট্রের বিদায়ের পর লুকাকুর ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প ডান্স’ ভাইরাল বালোগুনের লাল কার্ড বিতর্কে রেফারির পাশে ফিফা সোনারগাঁয় এসএসসি পরীক্ষার্থীকে অপহরণের অভিযোগ লিডিং ইউনিভার্সিটি বিএনসিসি প্লাটুনের কালেক্টিভ ক্যাম্পে গৌরবময় অর্জন আবারও ইতালির প্রধানমন্ত্রী মেলোনিকে ট্রাম্পের খোঁচা ব্রাজিলের বিপক্ষে জয় কীভাবে উদযাপন করলেন হালান্ড? ফাঁশ করলেন বান্ধবী ৫ বিভাগে ভারী বর্ষণের পূর্বাভাস ট্রাম্প ন্যাটো সম্মেলনে যোগ দেওয়ার আগে ইউক্রেনে রাশিয়ার ব্যাপক হামলা গৃহযুদ্ধের আশঙ্কায় ৬০ শতাংশ ইসরায়েলি প্রস্তুতিমূলক কাজেই ৪ বছর পার রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় প্রকল্প চবিতে ক্যানটিন সংস্কারে অনিয়মের অভিযোগ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে সমাহিত অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক আমার আগে পর্তুগাল কিছুই জেতেনি: রোনালদো

পর্দা আল্লাহর অমোঘ বিধান

প্রকাশ: ১১ অক্টোবর ২০২৪, ০৩:০০ পিএম
আপডেট: ১২ অক্টোবর ২০২৪, ১০:২৭ এএম
পর্দা আল্লাহর অমোঘ বিধান
বোরকা পরা মুসলিম নারীদের ছবি। ইন্টারনেট

ইসলাম পর্দার বিধান দিয়েছে নারীকে সম্মানের স্থানে অধিষ্ঠিত করা, তাদের সতীত্বের হেফাজত এবং ব্যভিচারমুক্ত সমাজ গঠনে উদ্বুদ্ধ করতে। এই বিধান মানা মুসলমানদের জন্য ফরজ। এটি পরিত্যাগের কোনো সুযোগ নেই।  আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘হে নবি, আপনি মুমিন (পুরুষদের) বলে দিন, তারা যেন তাদের দৃষ্টি নিচু করে এবং লজ্জাস্থানের হেফাজত করে, এটা তাদের জন্য অধিকতর পবিত্র। তারা যা কিছু করে আল্লাহ সে বিষয়ে অবগত। এবং ঈমানদার নারীদের বলুন, তারা যেন তাদের দৃষ্টি এবং তাদের লজ্জাস্থানের হেফাজত করে। তারা যেন যা সাধারণত প্রকাশমান; তা ছাড়া তাদের সৌন্দর্য প্রদর্শন না করে। তাদের গ্রীবা ও বক্ষদেশ যেন মাথার কাপড় দিয়ে আবৃত করে।’ (সুরা নুর, আয়াত: ৩০-৩১)। এই আয়াত দিয়ে প্রমাণিত হয়, পর্দার বিধান সরাসরি আল্লাহর পক্ষ থেকে এসেছে এবং পবিত্র কোরআনে একাধিক জায়গায় এ সম্পর্কে সুস্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে।

রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর স্ত্রীরা আল্লাহর এই বিধান পালনের মাধ্যমে সমাজে এক অনন্য উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। কোরআনে নবির স্ত্রীদের বা উম্মুল মুমিনদের পর্দা নিয়ে কয়েকটি আয়াত রয়েছে। আল্লাহ বলেন, ‘হে নবি, আপনি আপনার স্ত্রীদের, কন্যাদের ও মুমিন নারীদের বলুন, তারা যেন তাদের চাদরের কিয়দংশ নিজেদের ওপর টেনে দেয়। এতে তাদের চেনা সহজ হবে। ফলে তাদের উত্ত্যক্ত করা হবে না। আল্লাহ ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।’ (সুরা আহজাব, আয়াত: ৫৯) । দুঃখজনক যে, ইসলাম ধর্মের অনুসারী হয়েও অনেকে এই বিধান সম্পর্কে বিরূপ মন্তব্য করে; যা কাম্য নয়। 

আরও পড়ুন : স্বপ্নে জাহান্নাম দেখলে কী হয়?

বহুকাল ধরে প্রচলিত আছে, পর্দা হচ্ছে নারীর রক্ষাকবচ। কেননা একজন নারী পর্দার মাধ্যমে যেভাবে নিজেকে আবৃত করে; এর মাধ্যমে সমাজে সে শঙ্কামুক্তভাবে চলাফেরা করতে পারে। কেননা বখাটে ছেলেরা বোরকাবিহীন নারীকে উত্ত্যক্ত করলেও একজন পর্দানশীন নারীর দিকে স্বভাবত খারাপ দৃষ্টিতে তাকায় না। তবে লক্ষণীয় যে, পর্দার নামে শরীর দেখা যায় বা শরীরের অঙ্গপ্রতঙ্গ বাহ্যিকভাবে বোঝা যায় এবং পর-পুরুষকে দৃষ্টি আকর্ষণ করে, এমন পোশাক পরা হারাম। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘জাহান্নামবাসী দুই প্রকার মানুষ, আমি যাদের (এ পর্যন্ত) দেখিনি। একদল মানুষ, যাদের সঙ্গে গরুর লেজের মতো চাবুক থাকবে, তা দ্বারা তারা লোকজনকে মারবে এবং একদল স্ত্রী লোক, যারা কাপড় পরিহিত উলঙ্গ, যারা অন্যদের আকর্ষণকারী ও আকৃষ্ট, তাদের মাথার চুলের অবস্থা উটের হেলে পড়া কুঁজের মতো। ওরা জান্নাতে যেতে পারবে না, এমনকি এর সুগন্ধিও পাবে না। অথচ এত এত দূর থেকে এর সুঘ্রাণ পাওয়া যায়।’ (মুসলিম, হাদিস: ৫৪৭৫) 

বর্তমানে এই মুসলিমপ্রধান দেশে অনেককে পর্দা ও বোরকার বিরোধিতা করতে দেখা যায়। এর অন্যতম কারণ হচ্ছে, সমকালীন সময়ে শিক্ষাব্যবস্থাকে আধুনিকায়ন তথা বহির্বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলার নামে পাশ্চাত্যের অন্ধ অনুকরণ ও অনুসরণ করা হচ্ছে। যা একটি মুসলিমপ্রধান দেশে কখনোই কাম্য নয়; বরং এ দেশের শিক্ষাব্যবস্থা হওয়া উচিত অশ্লীলতামুক্ত ও ইসলাম অনুমোদিত পন্থায়। যেখানে একজন ব্যক্তি শৈশব থেকেই কোরআন-সুন্নাহর জ্ঞান অর্জনের মাধ্যমে নিজেকে খোদাভীরু হিসেবে গড়ে তুলতে পারবে। 
পর্দাহীনতা মানুষকে ব্যভিচারের দিকে নিয়ে যায়। ব্যভিচার হারাম। ব্যভিচারকারীদের জন্য রয়েছে জাহান্নামের ভয়ংকর আজাব। আল্লাহ বলেন, ‘আর তোমরা ব্যভিচারের কাছেও যেও না। নিশ্চয়ই এটা অশ্লীল কাজ এবং মন্দ পথ।’ (সুরা বনি ইসরাইল, আয়াত: ৩২)

আরও পড়ুন : কখন তায়াম্মুম করতে হয়?

আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিত হওয়ার নামে কেউ যদি ইসলামি জ্ঞানার্জনে অবহেলা করে, পাশ্চাত্যের অনুসরণ করে এবং আল্লাহর বিধান পালনে বাধা দেয়, তার জন্য রয়েছে কঠোর শাস্তি। আল্লাহ বলেন, ‘যারা মুমিনদের মধ্যে অশ্লীলতার প্রসার কামনা করে, তাদের জন্য রয়েছে দুনিয়া ও আখেরাতে মর্মন্তুদ শাস্তি। আল্লাহ জানেন, তোমরা জানো না।’ (সুরা নুর, আয়াত: ১৯) 
পর্দা ইসলামের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিধান। এটি মানা ফরজ। এ সম্পর্কে সবাইকে যেমন সচেষ্ট হতে হবে, তেমন এই বিধান পালনে একজন মুসলিম হিসেবে অন্যদের উৎসাহিত করতে হবে। 

লেখক: খণ্ডকালীন শিক্ষক, আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম

 

সাহাবিদের গল্প-০৫ বিলাসী যুবক থেকে ছেঁড়া চাদরের শহিদ

প্রকাশ: ০৭ জুলাই ২০২৬, ১১:০২ এএম
বিলাসী যুবক থেকে ছেঁড়া চাদরের শহিদ
ছবি: সংগৃহীত

মক্কার অলিগলিতে যখন তিনি হেঁটে যেতেন, মানুষ ঘুরে তাকাত। দামি পোশাক, উন্নত সুগন্ধি, পরিপাটি চুলধনাঢ্য পরিবারের আদরের সন্তান মুসআব ইবনে উমাইর ছিলেন মক্কার তরুণদের মধ্যে সবচেয়ে পরিপাটি বিলাসী। সিরাত ও ইতিহাসগ্রন্থগুলো (তাবাকাতে ইবনে সাদ) তার এই বিলাসী জীবনের বিবরণ দিয়েছে, মা তাকে রাখতেন রাজপুত্রের মতো করে।

তারপর একদিন তিনি শুনলেন কোরআনের আহ্বান। ঈমান আনলেন। আর সঙ্গে সঙ্গে হারালেন সব মা তাকে বন্দি করলেন, সম্পদ থেকে বঞ্চিত করলেন, ঘর থেকে তাড়িয়ে দিলেন। সেই কোমল শরীরে উঠল মোটা, তালি দেওয়া কাপড়। কিন্তু অন্তরে? অন্তরে তখন এমন ঐশ্বর্য, যা মক্কার সব সোনা দিয়েও কেনা যায় না।

এই যুবকই হলেন ইসলামের প্রথম রাষ্ট্রদূতহিজরতের আগে মদিনায় গিয়ে যিনি ঘরে ঘরে ইসলামের আলো পৌঁছে দিয়েছিলেন। তারপর উহুদের ময়দান। ইসলামের পতাকা হাতে লড়তে লড়তে শহিদ হলেন মুসআব।

দাফনের সময় ঘটল হৃদয়বিদারক ঘটনাটি। খাব্বাব ইবনুল আরাত রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, ‘মুসআব উহুদের দিন শহিদ হলেন, অথচ তাকে কাফন দেওয়ার মতো একটি চাদর ছাড়া কিছুই পেলাম না। সেই চাদরে মাথা ঢাকলে পা বেরিয়ে যায়, পা ঢাকলে মাথা। তখন নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, চাদরে তার মাথা ঢেকে দাও, আর পায়ের ওপর ইজখির ঘাস বিছিয়ে দাও।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস ১২৭৬; সহিহ মুসলিম, হাদিস ৯৪০)

যে যুবকের একেকটি পোশাকের দাম ছিল বিপুল, তার কাফনের কাপড়টুকুও পুরো হলো না! দুনিয়ার হিসাবে এ কী ভয়ংকর ‘লোকসান’। অথচ আখিরাতের পাল্লায়? খাব্বাব রাদিয়াল্লাহু আনহু বলছেন, আমাদের কেউ কেউ পুরস্কারের কিছুই দুনিয়াতে ভোগ না করে চলে গেছেন; মুসআব তাদেরই একজন। তার পূর্ণ প্রতিদান জমা রইল আল্লাহর কাছে।

আজ আমাদের সারা জীবন কাটে ব্র্যান্ড, ব্যালান্স আর স্ট্যাটাসের পেছনে ছুটে। মুসআব রাদিয়াল্লাহু আনহু প্রশ্ন রেখে গেলেন, যে পোশাক কবরে যাবে না, তার জন্য এত আয়োজন; আর যে আমল কবরে সঙ্গী হবে, তার জন্য কতটুকু?

হে আল্লাহ! দুনিয়াকে আমাদের হাতে রাখুন, অন্তরে নয়। আমাদের শেষ পরিণতি মুসআবের মতো সম্মানের করুন। আমিন।

লেখক: আলেম ও সাংবাদিক

সাহাবিদের গল্প-০৪ শূলের মঞ্চে দুই রাকাত নামাজ

প্রকাশ: ০৬ জুলাই ২০২৬, ০৯:৩০ এএম
আপডেট: ০৬ জুলাই ২০২৬, ১১:২০ এএম
শূলের মঞ্চে দুই রাকাত নামাজ
ছবি: সংগৃহীত

মক্কার অদূরে তানইম প্রান্তর। উৎসবের আমেজে জড়ো হয়েছে কুরাইশরা–আজ বদরের প্রতিশোধ নেবে তারা। শূলের মঞ্চে দাঁড় করানো হয়েছে এক বন্দিকে। মৃত্যু নিশ্চিত জেনে বন্দি মানুষটি ঘাতকদের কাছে শুধু একটিই আবেদন করলেন, ‘আমাকে দুই রাকাত নামাজ পড়ার সুযোগ দাও।’

তিনি খুবাইব ইবনে আদি রাদিয়াল্লাহু আনহু। রাজি গোত্রের বিশ্বাসঘাতকতায় বন্দি হয়ে বিক্রি হয়েছিলেন মক্কায়, যেখানে বদরে নিহতদের স্বজনরা প্রতিশোধের আগুনে ফুঁসছিল।

অনুমতি মিলল। ধীরস্থির, প্রশান্ত দুই রাকাত নামাজ পড়লেন তিনি। সালাম ফিরিয়ে বললেন সেই ঐতিহাসিক কথা, ‘তোমরা যদি মনে না করতে যে আমি মৃত্যুর ভয়ে ভীত, তবে আমি নামাজ আরও দীর্ঘ করতাম!’ এরপর আবৃত্তি করলেন, ‘মুসলিম হিসেবে যখন আমার মৃত্যু হচ্ছে, তখন কোন পাশে আমি ঢলে পড়লাম তাতে কিছুই যায় আসে না। যখন এই মৃত্যু আল্লাহরই পথে...’

সহিহ বুখারিতে আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহুর বর্ণনায় এসেছে, মৃত্যুদণ্ডের আগে দুই রাকাত নামাজ পড়ার এই সুন্নত খুবাইবই সর্বপ্রথম চালু করেন। (সহিহ বুখারি, হাদিস ৩০৪৫)

একবার ভাবুন। সামনে নিশ্চিত মৃত্যু। সেই মুহূর্তে মানুষ কী চায়? প্রাণভিক্ষা? শেষবার প্রিয়জনের মুখ? খুবাইব চাইলেন নামাজ। কারণ তিনি জানতেন, কিছুক্ষণ পরেই তিনি যার সামনে দাঁড়াবেন, তার সামনে সিজদারত অবস্থায় শেষ প্রস্তুতিটুকু নিয়ে যাওয়াই সবচেয়ে বড় পাওয়া।

আর আমরা? সুস্থ শরীর, নিরাপদ ঘর, হাতে অফুরন্ত সময়। তবু আজানের ডাক শুনে বলি, ‘আর একটু পরে।’ মিটিং, ট্রাফিক, ঘুম–হাজারটা অজুহাতে নামাজ পেছাতে থাকি। খুবাইব রাদিয়াল্লাহু আনহু শূলের মঞ্চ থেকে আমাদের শিখিয়ে গেলেন; নামাজ বোঝা নয়, নামাজই মুমিনের শেষ আশ্রয়, শ্রেষ্ঠ প্রশান্তি। হে আল্লাহ! আমাদের জীবনের শেষ আমল যেন হয় নামাজ, আর অন্তরের শেষ কথা যেন হয় আপনার জিকির। আমিন।

লেখক: আলেম ও সাংবাদিক

৬ জুলাই  ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচি

প্রকাশ: ০৬ জুলাই ২০২৬, ০৭:০০ এএম
৬ জুলাই  ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচি
জুলাই, ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচির ছবি

প্রতিদিন সময়মতো পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করা ফরজ। নামাজ (সালাত) ইসলাজুলাইর পাঁচটি স্তম্ভের মধ্যে একটি এবং ইসলাজুলাইর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ফরজ ইবাদত।

আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে জিজ্ঞাসা করলাম, (হে আল্লাহর রাসুল!) আল্লাহর কাছে সবচেয়ে বেশি প্রিয় আমল কোনটি? রাসুলুল্লাহ (সা.) বললেন, ‘নামাজ (বুখারি মুসলিম)

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা সেভাবে নামাজ আদায় করো, যেভাবে আমাকে নামাজ আদায় করতে দেখেছ।’ (বুখারি, ৬৩১)

সঠিকভাবে নামাজ আদায় করতে হলে, নামাজের সময় জানতে হবে।

 

আজ ৬ জুলাই ২০২৬, সোমবার ঢাকা পার্শ্ববর্তী এলাকার নামাজের সময়সূচি তুলে ধরা হলো— 

জোহর

১২.০ মিনিট

আসর

৪.৪৩ মিনিট

 

মাগরিব

৬.৪ মিনিট

এশা

৮.২০ মিনিট

 

ফজর (৭ জুলাই)

.৫১ মিনিট

 

 

বিভাগীয় শহরের জন্য উল্লিখিত সময়ের সঙ্গে যেসব বিভাগে সময় যোগ-বিয়োগকরতে হবে।

বিয়োগ

চট্টগ্রাম: মিনিট

সিলেট: মিনিট

যোগ

খুলনা: মিনিট

রাজশাহী: মিনিট

রংপুর: মিনিট

বরিশাল: মিনিট

 

সূত্র: ইসলামিক ফাউন্ডেশন

আমল ৩৬০ জোড়াকে সচল রাখার ইবাদত

প্রকাশ: ০৫ জুলাই ২০২৬, ০৭:০০ পিএম
৩৬০ জোড়াকে সচল রাখার ইবাদত
ছবি: সংগৃহীত

প্রতিদিন সকালে ঘুম থেকে উঠেই শুরু হয় আমাদের অন্তহীন কর্মব্যস্ততা। অফিস, ব্যবসা কিংবা পড়ালেখার পেছনে ছুটতে ছুটতে আমরা ভুলে যাই এই মানবদেহের কথা, যা ৩৬০টি হাড়ের জোড়া নিয়ে গঠিত। চিকিৎসাবিজ্ঞান বলে, সুস্থভাবে বেঁচে থাকার জন্য এই প্রতিটি জোড়া সচল ও সুস্থ থাকা অপরিহার্য।

কিন্তু আমরা কি কখনো ভেবেছি, প্রতিদিন সকালে এই সুস্থতার জন্য আমাদের কোনো কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা উচিত? অথচ রাসুলুল্লাহ (সা.) আমাদের এমন এক সহজ আমল শিখিয়েছেন, যা প্রতিদিন সকালে আমাদের পুরো শরীরের সুস্থতার পক্ষ থেকে এক মহত্তম শুকরিয়া বা সাদকা হিসেবে গণ্য হয়। তা হলো–চাশতের নামাজ (সালাতুদ দুহা)।

ইসলামে সকালের এই নফল ইবাদতের গুরুত্ব অপরিসীম। হজরত আবু যার (রা.) থেকে বর্ণিত, নবি করীম (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, তোমাদের প্রত্যেকেই এমন অবস্থায় সকাল করে যে, তার (শরীরের) প্রত্যেক জোড়ার বিপরীতে একটি করে সাদকা দেওয়া আবশ্যক।

কাজেই প্রত্যেকবার সুবহানাল্লাহ বলা সাদকা, আলহামদুলিল্লাহ বলা সাদকা, লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ বলা সাদকা, আল্লাহু আকবর বলা সাদকা, সৎ কাজের আদেশ দেওয়া সাদকা এবং অসৎ কাজ থেকে নিষেধ করাও সাদকা। আর এই সবকিছুর পক্ষ থেকে চাশতের দুই রাকাত নামাজ আদায় করাই যথেষ্ট। (মুসলিম, ৭২০)

এই নামাজের নিয়ম ও সময় অত্যন্ত সহজ। সূর্য পুরোপুরি উদিত হওয়ার পর (সাধারণত সকাল ৮টা থেকে ৯টার পর) থেকে শুরু করে ঠিক দুপুর হওয়ার আগ পর্যন্ত এই নামাজ পড়া যায়। চাশতের নামাজ কমপক্ষে দুই রাকাত, তবে চাইলে চার, আট বা তার বেশিও পড়া যায়।

যান্ত্রিক জীবনে একটু সময় বের করে এই আমলটি করলে একদিকে যেমন সুন্নতের অনুসরণ হয়, অন্যদিকে সারা দিনের কাজের বরকত ও মানসিক প্রশান্তি লাভ করা যায়। তাই সকালের শত ব্যস্ততার মাঝেও মাত্র ৫টি মিনিট বরাদ্দ করে আসুন আমরা চাশতের এই অনন্য সুন্নতের সুবাসে নিজেদের জীবনকে ধন্য করি।

লেখক: আলেম ও সাংবাদিক 

নারীর জীবনের এ সিদ্ধান্ত কী শুধুই ব্যক্তিগত?

প্রকাশ: ০৫ জুলাই ২০২৬, ০৩:১৫ পিএম
আপডেট: ০৫ জুলাই ২০২৬, ০৩:৪৫ পিএম
নারীর জীবনের এ সিদ্ধান্ত কী শুধুই ব্যক্তিগত?
ছবি: সংগৃহীত

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মাঝে মধ্যেই দেখা যায়–কেউ নতুন ফ্যাশনের অংশ হিসেবে, কেউ আবার দুঃখ বা মানসিক আঘাতের প্রতিক্রিয়ায় মাথার সব চুল কামিয়ে ফেলছেন। অনেকেই এটিকে ব্যক্তিগত স্বাধীনতা বা আধুনিকতার প্রকাশ মনে করেন। কিন্তু একজন মুসলিম নারীর জীবনে কি এ সিদ্ধান্ত শুধু ব্যক্তিগত পছন্দের বিষয়, নাকি এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে শরিয়তের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিধান?

ইসলাম নারীর স্বাভাবিক সৌন্দর্য ও মর্যাদাকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে। আর সেই সৌন্দর্যের অন্যতম প্রতীক হলো তার চুল। এ কারণেই অধিকাংশ ইসলা ফকিহ নারীদের মাথা মুণ্ডন বা সম্পূর্ণ টাক করাকে বৈধ মনে করেননি।

হযরত আলী (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) নারীদের মাথা মুণ্ডন করতে নিষেধ করেছেন। যদিও এ বর্ণনাটি দুর্বল হিসেবে চিহ্নিত, তবু এর অর্থকে সমর্থন করে ইসলামের অন্যান্য দলিল ও ফকিহদের মতামত রয়েছে। এ কারণেই হজ বা উমরার সময়ও নারীরা মাথা মুণ্ডন করেন না; বরং চুলের অগ্রভাগ থেকে সামান্য অংশ কাটেন। (মিশকাতুল মাসাবিহ, ৪৪৮৫)

অন্যদিকে, শোক বা বিপদের কারণে চুল মুণ্ডন করাও ইসলামে কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। আবু মুসা আশ‘আরী (রা.) বর্ণনা করেন, তিনি রাসুলুল্লাহ (সা.) থেকে শুনেছেন যে, উচ্চৈঃস্বরে বিলাপকারিণী, কাপড় বিদীর্ণকারিণী এবং মাথা মুণ্ডনকারিণীর সঙ্গে তাঁর কোনো সম্পর্ক নেই। (ইবনু হিব্বান, ৩১৪০)

আরেক হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, সে ব্যক্তি আমাদের দলভুক্ত নয়, যে উচ্চৈঃস্বরে বিলাপ করে, কাপড় ছিঁড়ে ফেলে এবং মাথার চুল মুণ্ডন করে। (ইবনু হিব্বান, ৩১৪১)
এ ছাড়া নারীদের জন্য পুরুষের সাদৃশ্য গ্রহণ করাও ইসলামে নিষিদ্ধ। পোশাক-আশাক, চালচলন কিংবা চুলের ধরনে পুরুষদের অনুকরণ করলে রাসুলুল্লাহ (সা.) কঠোর সতর্কবাণী উচ্চারণ করেছেন। আয়িশা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) পুরুষের বেশ ধারণকারী নারীদের ওপর লা‘নত করেছেন। (মিশকাতুল মাসাবিহ, ৪৪৭০)

অতএব, শরিয়তের দৃষ্টিতে সৌন্দর্যচর্চা, শোক প্রকাশ কিংবা নিছক ফ্যাশনের কারণে নারীদের মাথার সব চুল কামিয়ে ফেলা বা টাক করা জায়েজ নয়। একজন মুমিন নারীর জন্য আল্লাহর বিধানের প্রতি আনুগত্যই প্রকৃত সৌন্দর্য, আর সেই সৌন্দর্যই তাকে দুনিয়া ও আখিরাতে সম্মানিত করে।

লেখক: আলেম ও সাংবাদিক