ঢাকা ১৯ আষাঢ় ১৪৩৩, শুক্রবার, ০৩ জুলাই ২০২৬

সর্বশেষ
মেসিকে নিয়ে আবেগ-পেশাদারত্বে কেপ ভার্দে শেষ ষোলোতে স্পেনের মুখোমুখি পর্তুগাল, ম্যাচ কবে-কখন? নরওয়ের বিপক্ষে নামার আগে ব্রাজিল শিবিরে ধাক্কা অফসাইডে কপাল পুড়ল ক্রোয়েশিয়ার, শেষ ষোলোতে পর্তুগাল ব্রাজিলের চেয়ে এবার আর্জেন্টিনাই এগিয়ে ৩ জুলাই  ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচি পর্তুগালকে সমতায় ফেরালেন রোনালদো বিশ্বকাপে ইতিহাস গড়লেন উনাই সিমন মেসিকে চিঠি লিখে মানুর স্বপ্নপূরণ গোলহীন প্রথমার্ধে পর্তুগাল-ক্রোয়েশিয়া ১৬ বছরের জট খুলল স্পেনের ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে পর্তুগালের একাদশে পরিবর্তন শেষ ষোলোতে স্পেনের প্রতিপক্ষ কারা? আর্জেন্টিনাকে কেপ ভার্দে কোচের হুঁশিয়ারি অস্ট্রিয়াকে উড়িয়ে শেষ ষোলোতে স্পেন পর্তুগাল-ক্রোয়েশিয়া ম্যাচ কে জিতবে, সুপারকম্পিউটারের ভবিষ্যদ্বাণী কেন বাতিল হলো কুকুরেয়ার গোল? ওয়ারজাবালের গোলে এগিয়ে বিরতিতে স্পেন স্পেন-অস্ট্রিয়া ম্যাচে কে জিতবে, জানাল সুপারকম্পিউটার অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে স্পেনের একাদশে ২ পরিবর্তন আলিয়ঁস ফ্রঁসেজে জাকিয়া খান চন্দনার পরাবাস্তববাদী চিত্রপ্রদর্শনী নজরুল বর্ষের উদ্বোধনী আয়োজনে দর্শক সংকট বঙ্গোপসাগরে লঘুচাপ, চার সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত কালকিনিতে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করায় ৫ ড্রেজার জব্দ ভেনিজুয়েলায় ভূমিকম্পের ৮ দিন পর ধ্বংসস্তূপ থেকে একজনকে জীবিত উদ্ধার সহকারী সচিব হলেন ৩৪ কর্মকর্তা জাবিতে কালেমা খচিত পতাকা টানানোর ঘটনায় তদন্ত কমিটি, চার শিক্ষার্থীকে শোকজ নৌবহরে যুক্ত হলো জাপানের পাঁচটি পেট্রোল বোট সাদাপাথর পর্যটনকেন্দ্রে গোসলে নেমে নিখোঁজ চিকিৎসক টঙ্গীতে চাঁদা দাবি করায় যুবদল নেতাসহ ১৯ জনের নামে মামলা, গ্রেপ্তার ১১

চোখের হেফাজত মানে ঈমানের হেফাজত

প্রকাশ: ২০ জুন ২০২৫, ০৭:০০ পিএম
চোখের হেফাজত মানে ঈমানের হেফাজত
প্রতীকী ছবি

আল্লাহতায়ালার দেওয়া নেয়ামতের মধ্যে একটি বড় নেয়ামত হলো চোখ। চোখের মাধ্যমেই আমরা আল্লাহতায়ালার সৃষ্টিসমূহ দেখি, তারপর চিন্তা ও উপলব্ধি করে জ্ঞান অর্জন করি। ইমাম কুরতবি (রহ.)-এর মতে, ‘চোখ অন্তরে কোনো কিছু প্রবেশের বড় দরজা।’ অর্থাৎ চোখ হলো মানবাত্মার চিন্তার খোরাকের প্রবেশদ্বার। অন্তরে প্রশান্তি আর পরকালে সুখময় জীবনলাভের জন্য চোখের যেমন বিকল্প নেই, তেমনি বড় বড় পাপ কাজের দিকে এগিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রেও চোখের দৃষ্টির বিকল্প নেই। সাধারণত বড় বড় পাপ কাজ সম্পাদনের প্রাথমিক ধাপ হলো চোখ। 


পশ্চিমা সংস্কৃতিকে অন্ধ অনুকরণ করতে গিয়ে মানুষ দিন দিন তাদের ধর্মীয় মূল্যবোধ হারিয়ে ধ্বংসের দিকে আপতিত হচ্ছে। তাই সমাজকে এই ধ্বংসের দ্বারপ্রান্ত থেকে বাঁচাতে দৃষ্টির হেফাজতের বিকল্প নেই। দৃষ্টির হেফাজতের মাধ্যমেই একজন মুসলমান প্রকৃত মুমিনে পরিণত হতে পারে। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা পবিত্র কোরআনে বলেছেন, মুমিনদেরকে বলুন, তারা যেন তাদের দৃষ্টি নত রাখে এবং তাদের যৌনাঙ্গের হেফাজত করে। এটাই তাদের জন্য অধিক পবিত্র। নিশ্চয় তারা যা করে আল্লাহ তা অবহিত আছেন। (সুরা নূর, ৩০)


দৃষ্টির মাধ্যমে শয়তান মানুষকে পথভ্রষ্ট করে দিতে যেমন উদ্ধত, তেমনি আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালাও দৃষ্টির হেফাজতের মাধ্যমে মানুষের অন্তরে প্রশান্তি দান করতে সর্বদা প্রস্তুত। দৃষ্টির হেফাজতের মাধ্যমেই আল্লাহতায়ালা মানুষের অন্তরে নূর সৃষ্টি করেন। আর এ নূরের কারণে একজন ব্যক্তির ইলমের পথ খুলে যায় এবং ইলমের সব উপকরণ তার জন্য সহজ হয়ে যায়। এটি মানুষের অন্তরে তৃপ্তি, আনন্দ এবং উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি করে। আমরা যখনই বেগানা কোনো নারী বা পুরুষের দিকে দৃষ্টিপাত করি তখন আমাদের মনে অস্থিরতা কাজ করে। যার কারণে আমরা কাজে-কর্মে মনোযোগ দিতে পারি না, রাতে শান্তিতে ঘুমাতে পারি না। দৃষ্টির হেফাজতের মাধ্যমে আল্লাহতায়ালা অন্তরের এসব অশান্তি, ছটফটানি, আফসোস থেকে মানুষকে হেফাজত করে। 


চোখের হেফাজত মানুষকে জাহান্নাম থেকে দূরে থাকতে সাহায্য করে। কেননা কুদৃষ্টি মানুষকে অশ্লীল কাজের দিকে ধাবিত করে। দৃষ্টির হেফাজত দ্বারা মানুষের দূরদর্শিতা বৃদ্ধি পায় এবং সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্তে উপনীত হতে সক্ষম হয়। এ সম্পর্কে আল্লামা কিরমানী (রহ.) বলেন, যে ব্যক্তি তার বাহ্যিক দিকসমূহকে সুন্নাত দ্বারা সাজায়, আর সব সময় অন্তর দিয়ে আল্লাহর কথা চিন্তা করে, নিষিদ্ধ বস্তু হতে চোখকে হেফাজত করে, প্রবৃত্তিকে অন্যায় কর্ম হতে বিরত রাখে এবং হালাল খায়- সে সঠিক সিদ্ধান্তে উপনীত হতে কখনোই অক্ষম হবে না। অর্থাৎ, নিজেকে কুপ্রবৃত্তি থেকে দূরে রাখতে দৃষ্টির হেফাজতের গুরুত্ব অপরিসীম। 


দৃষ্টি সংযত নিয়ে আমাদের সমাজে নারীদের মধ্যে কিছু ভুল ধারণা আছে। অনেকে মনে করেন আল্লাহতায়ালা কেবল পুরুষদেরকেই দৃষ্টি সংযত করার নির্দেশ দিয়েছেন। কাজেই একজন নারীর বেগানা পুরুষের দিকে তাকানোকে তারা তেমন ক্ষতিকর মনে করেন না। অনেক পর্দাশীল নারীদের অন্তরেও এ ভুল ধারণা লালিত আছে। কিন্তু আল্লাহতায়ালা নারী-পুরুষ উভয়কেই দৃষ্টি সংযত রাখার নির্দেশ দিয়েছেন এ কথা আমরা অনেকেই জানি না। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা বলেন, মু’মিনা নারীদের বলুন, তারা যেন তাদের দৃষ্টি অবনত রাখে এবং নিজেদের লজ্জাস্থান হেফাজত করে। (সুরা নূর, ৩১) 


দৃষ্টি সংযত রাখা মানে অন্ধ হয়ে চলাকে বুঝায় না, বরং হারাম বস্তুকে উপেক্ষা করাই হলো দৃষ্টি সংযত রাখা। চোখের মাধ্যমেই যেহেতু ফিতনার আশঙ্কা বেশি থাকে, সেহেতু আমাদের দৃষ্টিকেই প্রথমে সংযত রাখতে হবে। আর দৃষ্টি সংযত রাখার প্রধান উপায় হলো দৃষ্টি অবনত রাখা। হারাম বা ফিতনার দিকে নিয়ে যায় এমন বস্তু থেকে সর্বদা দৃষ্টি অবনত রাখতে হবে। আর যদি অনিচ্ছা সত্ত্বেও সেসব বস্তুর প্রতি দৃষ্টি চলে যায়, তা হলে সাথে সাথেই তা ফিরিয়ে নিতে হবে। দ্বিতীয়বার যেন মুখ ফেরানো না হয়। কেননা দ্বিতীয়বারের তাকানোতে শয়তানের কুমন্ত্রণা থাকে। আমাদেরকে যখনই শয়তান দৃষ্টির খিয়ানত করার কুমন্ত্রণা দেয়; সাথে সাথেই আল্লাহর জিকিরে নিমগ্ন থাকতে হবে। কারণ আল্লাহর জিকির মানুষকে শয়তানের কুমন্ত্রণা থেকে হেফাজত করে এবং অন্তরে প্রশান্তি দান করে। আল্লাহতায়ালা ইরশাদ করেন, ‘নিশ্চয়ই যারা আল্লাহকে ভয় করে, শয়তানের কোনো দল যখন তাদের ঘিরে ধরে, তারা আল্লাহকে স্মরণ করে। সুতরাং তাদের অনুভূতি চলে আসে।’ (সুরা আরাফ, ২০১) 


পরিশেষে, দৃষ্টিকে সংযত রাখতে হলে আমাদেরকে বিশুদ্ধচিত্তে নিয়ত করতে হবে। প্রত্যেক কাজ নিয়তের ওপর নির্ভরশীল। আমরা যখন পাপ থেকে দূরে থাকার নিয়ত করি, আল্লাহতায়ালা তখন আমাদের ওপর খুশি হন। আল্লাহ ফেরেশতাদের বলেন, আমার বান্দা যখন পাপ করার ইচ্ছা করে, তখন তোমরা তা আমলনামায় লিখো না যতক্ষণ না সে ওই পাপটি করে। যদি সে তা করে সমান পাপ লিখ। আর যদি সে তা আমার কারণে ত্যাগ করে, তা হলে তার এই পাপটি নেকি হিসেবে লিখো। আর যদি বান্দা নেকি করার ইচ্ছা করে কিন্তু সে ওই নেকি করেনি, তার জন্য তা নেকি হিসেবে লিখো। অতঃপর যদি সে নেকি করে তা হলে তার জন্য ওই নেকি দশগুণ থেকে সাতশ গুণ পর্যন্ত লিখো। (বুখারি ও মুসলিম)। হতে পারে দৃষ্টি সংযত রাখার ইচ্ছা পোষণ এবং তা বাস্তবে লালন করার মাধ্যমেই আল্লাহতায়ালা আমাদের নেকির পরিমাণ দশগুণ থেকে সাতশ গুণ বাড়িয়ে দেবেন। 

 

লেখক: শিক্ষার্থী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

৩ জুলাই  ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচি

প্রকাশ: ০৩ জুলাই ২০২৬, ০৭:০০ এএম
৩ জুলাই  ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচি
জুলাই, ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচির ছবি

প্রতিদিন সময়মতো পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করা ফরজ। নামাজ (সালাত) ইসলাজুলাইর পাঁচটি স্তম্ভের মধ্যে একটি এবং ইসলাজুলাইর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ফরজ ইবাদত। আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে জিজ্ঞাসা করলাম, (হে আল্লাহর রাসুল!) আল্লাহর কাছে সবচেয়ে বেশি প্রিয় আমল কোনটি? রাসুলুল্লাহ (সা.) বললেন, ‘নামাজ (বুখারি মুসলিম)

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা সেভাবে নামাজ আদায় করো, যেভাবে আমাকে নামাজ আদায় করতে দেখেছ।’ (বুখারি, ৬৩১)

সঠিকভাবে নামাজ আদায় করতে হলে, নামাজের সময় জানতে হবে।

 

আজ ৩ জুলাই ২০২৬, শুক্রবার ঢাকা পার্শ্ববর্তী এলাকার নামাজের সময়সূচি তুলে ধরা হলো

জোহর

১২.০ মিনিট

আসর

৪.৪২ মিনিট

মাগরিব

৬.৪ মিনিট

এশা

৮.২০ মিনিট

ফজর (৫ জুলাই)

.৪৯ মিনিট

বিভাগীয় শহরের জন্য উল্লিখিত সময়ের সঙ্গে যেসব বিভাগে সময় যোগ-বিয়োগ করতে হবে।

বিয়োগ

চট্টগ্রাম: মিনিট

সিলেট: মিনিট

যোগ

খুলনা: মিনিট

রাজশাহী: মিনিট

রংপুর: মিনিট

বরিশাল: মিনিট

 

সূত্র: ইসলামিক ফাউন্ডেশন

আত্মিক প্রশান্তি লাভের দারুণ উপায়

প্রকাশ: ০২ জুলাই ২০২৬, ০৭:০০ পিএম
আত্মিক প্রশান্তি লাভের দারুণ উপায়
বান্দার সঙ্গে তার স্রষ্টার সবচেয়ে গোপন ও মধুর সংলাপ। ছবি: সংগৃহীত

গভীর রাত। চারদিক নিস্তব্ধ, পুরো পৃথিবী তখন গভীর ঘুমে মগ্ন। ঠিক তখনই কিছু মানুষ বিছানার মোহ ত্যাগ করে পরম তৃপ্তিতে দাঁড়িয়ে যান জায়নামাজে। যখন চারপাশের সব কোলাহল থেমে যায়, তখনই শুরু হয় বান্দার সঙ্গে তার স্রষ্টার সবচেয়ে গোপন ও মধুর সংলাপ। দিনের ব্যস্ততা আর যান্ত্রিক জীবনের ক্লান্তি দূর করে আত্মিক প্রশান্তি পাওয়ার এর চেয়ে দারুণ উপায় আর কী হতে পারে?

ইসলামে রাতের এই ইবাদত বা তাহাজ্জুদ নামাজের গুরুত্ব অপরিসীম। রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর অনন্য সুন্নতগুলোর মধ্যে এটি অন্যতম, যা একজন বিশ্বাসীকে আল্লাহর সবচেয়ে কাছাকাছি নিয়ে যায়। ফরজ ইবাদতের পর আল্লাহর কাছে এই সময়ের প্রার্থনার মর্যাদা সবচেয়ে বেশি।

হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে জিজ্ঞাসা করা হলো, ফরজ নামাজের পর কোন নামাজ সর্বোত্তম? তিনি বললেন, ‘ফরজ নামাজের পর সর্বোত্তম নামাজ হলো, রাতে উঠে নামাজ পড়া।’ (মুসলিম, ১১৬৩)

আমাদের যান্ত্রিক জীবনে আমরা যখন মানসিক চাপ, হতাশা কিংবা নানা সমস্যায় জর্জরিত হই, তখন রাতের এই শেষ প্রহরে আল্লাহর দরবারে হাত তোলাই হতে পারে সব সমস্যার সমাধান। হাদিসে এসেছে, রাতের শেষ তৃতীয়াংশে মহান আল্লাহ দুনিয়ার আকাশে নেমে আসেন এবং বান্দাদের ডাকতে থাকেন–কে আছো ক্ষমা চাওয়ার, যাকে আমি ক্ষমা করব? কে আছো রিজিক চাওয়ার, যাকে আমি রিজিক দেব?

এই নামাজ শুধু পরকালের পুণ্যই বাড়ায় না, বরং মানুষের ভেতরের অহংকার দূর করে মনকে করে তোলে শান্ত ও কোমল। সারা দিনের পাপের পঙ্কিলতা থেকে মুক্ত হতে রাতের এই নির্জন ইবাদত এক জাদুকরী ভূমিকা পালন করে। তাই আসুন, অলসতা কাটিয়ে অন্তত দুই রাকাত নামাজের মাধ্যমে হলেও রাতের এই সোনালি সুযোগকে কাজে লাগাই, জীবনকে করি সুন্নাহর আলোয় আলোকিত।

লেখক: আলেম ও সাংবাদিক 

বন্ধুরা বাজি ধরলে আপনার অংশ নেওয়া কি ঠিক হবে?

প্রকাশ: ০২ জুলাই ২০২৬, ০২:৫৫ পিএম
বন্ধুরা বাজি ধরলে আপনার অংশ নেওয়া কি ঠিক হবে?
ছবি: সংগৃহীত

বিকেলের নরম আলোয় বন্ধুদের সঙ্গে ক্রিকেটের পিচে নামার আনন্দই আলাদা। কিন্তু ধরুন, ম্যাচ শুরুর আগেই বন্ধুরা মিলে হুট করে বাজি ধরে বসল–‘যে দল হারবে, তারা জয়ী দলকে বড় অংকের টাকা বা বিকেলের নাশতা খাওয়াবে।’ আপনি হয়তো ব্যক্তিগতভাবে এই বাজিতে টাকা দিচ্ছেন না, কেবল নিজের আনন্দের জন্য স্বাভাবিকভাবে খেলছেন। কিন্তু কখনো কি ভেবে দেখেছেন, বন্ধুদের এই অনৈতিক বাজি ধরার কারণে আপনার নির্দোষ খেলাটিও গুনাহের কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে কি না?

আমাদের সমাজে এটি একটি বড় ব্যাধি। অনেকেই মনে করেন, নিজে বাজি না ধরলে বুঝি অন্য সবার সঙ্গে খেলায় কোনো সমস্যা নেই। কিন্তু ইসলামি শরিয়তের সূক্ষ্ম বিধান এই সাধারণ ভাবনার চেয়ে অনেক গভীর ও সতর্কতামূলক।

ইসলামে জুয়া বা বাজি ধরা সম্পূর্ণ হারাম। আপনি নিজে বাজি না ধরলেও, যখন আপনি এমন একটি ম্যাচে অংশ নিচ্ছেন–যেখানে অন্য পক্ষগুলো বাজি ধরেছে, তখন আপনি পরোক্ষভাবে সেই নিষিদ্ধ বাজি বা জুয়ার ম্যাচটিকে সফল করতে সাহায্য করছেন। ইসলামে যেকোনো গুনাহের কাজে সাহায্য করা বা অংশীদার হওয়া সমান অপরাধ। পবিত্র কোরআনে আল্লাহতায়ালা স্পষ্ট নির্দেশ দিয়ে বলেছেন, তোমরা সৎকর্ম তাকওয়ার ক্ষেত্রে একে অন্যকে সহযোগিতা করবে। গুনাহ জুলুমের কাজে একে অন্যের সহযোগিতা করবে না। আল্লাহকে ভয় করে চলো। নিশ্চয়ই আল্লাহর শাস্তি অতি কঠিন। (সুরা মায়েদা, ০২)

এই আয়াত থেকে স্পষ্ট যে, একজন মুমিন হিসেবে আমাদের দায়িত্ব হলো যেকোনো অন্যায় ও নিষিদ্ধ পরিবেশ থেকে নিজেকে সম্পূর্ণ দূরে রাখা। বাজি ধরা ম্যাচটিতে আপনার অংশগ্রহণ সেই জুয়ার আসরকে জমিয়ে তুলতে সাহায্য করে, যা শরিয়তের দৃষ্টিতে মোটেও জায়েজ নয়।

খেলাধুলা শরীর ও মন সতেজ রাখার একটি চমৎকার মাধ্যম, যতক্ষণ না তা কোনো হারামের সঙ্গে যুক্ত হয়। তাই বন্ধুরা যখনই খেলার মাঠে বাজি ধরার মতো কোনো অনৈতিক সিদ্ধান্ত নেবে, একজন সচেতন মুসলিম হিসেবে আপনার উচিত তাদের বোঝানো এবং তা থেকে বিরত রাখা। তারা যদি না শোনে, তবে নিজের ঈমান ও আমল রক্ষা করতে সেই ম্যাচ বর্জন করাই হবে সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ।

 

লেখক: আলেম ও সাংবাদিক

সাহাবিদের গল্প-০১ মৃত্যু দাঁড়িয়ে ছিল গুহার মুখে

প্রকাশ: ০২ জুলাই ২০২৬, ১১:২২ এএম
মৃত্যু দাঁড়িয়ে ছিল গুহার মুখে
ছবি: সংগৃহীত

রাতের অন্ধকারে সাওর পাহাড়ের খাড়া পথ বেয়ে উঠছেন দুজন মানুষ। পেছনে মক্কা নগরীযেখানে ঘোষণা হয়ে গেছে; যে এই দুজনের সন্ধান দেবে, তার জন্য ১০০ উটের পুরস্কার। সামনে অনিশ্চিত মরুপথ। একজন আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, অন্যজন তার পরম বন্ধু আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহু।

গুহার অন্ধকারে দুজন আশ্রয় নিলেন। ওদিকে রক্তের নেশায় উন্মত্ত কুরাইশ খুঁজতে খুঁজতে পৌঁছে গেল গুহার একেবারে মুখে। এত কাছেপায়ের শব্দ শোনা যায়, কথার আওয়াজ ভেসে আসে। আবু বকরের বুক কেঁপে উঠল; নিজের জন্য নয়, প্রিয় নবিজির জন্য। তিনি ফিসফিস করে বললেন, ‘ওদের কেউ যদি নিজের পায়ের দিকে তাকায়, আমাদের দেখে ফেলবে!’

জবাবে ভেসে এল ইতিহাসের সবচেয়ে প্রশান্ত কণ্ঠস্বর, ‘হে আবু বকর! সেই দুজন সম্পর্কে তোমার ধারণা কী, যাদের তৃতীয়জন স্বয়ং আল্লাহ?’ (সহিহ বুখারি, হাদিস ৩৬৫৩)

আল্লাহতায়ালা কোরআনে এই মুহূর্তটি অমর করে রেখেছেন, ‘তিনি তার সঙ্গীকে বলছিলেন, চিন্তা করো না, নিশ্চয়ই আল্লাহ আমাদের সঙ্গে আছেন। অতঃপর আল্লাহ তার ওপর নিজের প্রশান্তি নাজিল করলেন।’ (সুরা তাওবা, ৪০)

ভেবে দেখুন, পৃথিবীর সব হিসাব বলছিল ধরা পড়া অনিবার্য। কিন্তু যার অন্তরে আল্লাহর ওপর ভরসা পূর্ণতা পেয়েছে, তার অভিধানে ‘অনিবার্য বিপদ’ বলে কিছু নেই। কুরাইশরা গুহার মুখ পর্যন্ত এসেও ফিরে গেল।

আজ আমরা কত তুচ্ছ কারণে ভেঙে পড়ি! চাকরি হারানোর ভয়, পরীক্ষার ফল, ব্যবসার লোকসান, সংসারের টানাপোড়েনমনে হয় সব শেষ। অথচ গুহার সেই রাত আমাদের শেখায়, হিসাবের সব দরজা বন্ধ হয়ে গেলেও আল্লাহর দরজা খোলা থাকে। ‘লা তাহজান, ইন্নাল্লাহা মাআনা’চিন্তা করো না, আল্লাহ আমাদের সঙ্গে আছেন এই একটি বাক্যই মুমিনের সারা জীবনের পাথেয়।

হে আল্লাহ! জীবনের প্রতিটি অন্ধকার গুহায় আমাদের অন্তরে সেই প্রশান্তি দান করুন, যা আপনি আপনার নবি ও সিদ্দিকের অন্তরে দিয়েছিলেন। আমিন।

লেখক: আলেম ও সাংবাদিক

২ জুলাই  ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচি

প্রকাশ: ০২ জুলাই ২০২৬, ০৭:০০ এএম
২ জুলাই  ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচি
জুলাই, ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচির ছবি

প্রতিদিন সময়মতো পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করা ফরজ। নামাজ (সালাত) ইসলাজুলাইর পাঁচটি স্তম্ভের মধ্যে একটি এবং ইসলাজুলাইর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ফরজ ইবাদত। আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে জিজ্ঞাসা করলাম, (হে আল্লাহর রাসুল!) আল্লাহর কাছে সবচেয়ে বেশি প্রিয় আমল কোনটি? রাসুলুল্লাহ (সা.) বললেন, ‘নামাজ (বুখারি মুসলিম)

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা সেভাবে নামাজ আদায় করো, যেভাবে আমাকে নামাজ আদায় করতে দেখেছ।’ (বুখারি, ৬৩১)

সঠিকভাবে নামাজ আদায় করতে হলে, নামাজের সময় জানতে হবে।

 

আজ ২ জুলাই ২০২৬, বৃহস্পতিবার ঢাকা পার্শ্ববর্তী এলাকার নামাজের সময়সূচি তুলে ধরা হলো— 

জোহর

১২.০ মিনিট

আসর

৪.৪২ মিনিট

মাগরিব

৬.৪ মিনিট

এশা

৮.২০ মিনিট

ফজর (৩ জুলাই)

.৪৯ মিনিট

 

 

 

 

 

 

 

 

 

বিভাগীয় শহরের জন্য উল্লিখিত সময়ের সঙ্গে যেসব বিভাগে সময় যোগ-বিয়োগ করতে হবে।

বিয়োগ

চট্টগ্রাম: মিনিট

সিলেট: মিনিট

যোগ

খুলনা: মিনিট

রাজশাহী: মিনিট

রংপুর: মিনিট

বরিশাল: মিনিট

 

সূত্র: ইসলামিক ফাউন্ডেশন