ঢাকা ১৮ আষাঢ় ১৪৩৩, বৃহস্পতিবার, ০২ জুলাই ২০২৬

সর্বশেষ
২ জুলাই: তুলা, বৃশ্চিক, ধনু, মকর, কুম্ভ ও মীনের আজকের রাশিফল ২ জুলাই: মেষ, বৃষ, মিথুন, কর্কট, সিংহ ও কন্যার আজকের রাশিফল এইচএসসি-সমমান পরীক্ষা আজ, পরীক্ষার্থী ১২ লাখ ৭০ হাজার মরুর যোদ্ধাদের সামনে সুইস দেয়াল টরন্টোয় পর্তুগাল-ক্রোয়েশিয়ার আগুন লড়াই ২ জুলাই  ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচি আর্লিং নয়, ব্রাউট হালান্ড ’৯৮-এর বন্ধন ফিরেছে ’২৬-এ শেষ মুহূর্তের নাটকীয়তায় সেনেগালকে হারিয়ে শেষ ষোলোয় বেলজিয়াম ৩ মিনিটে দুই গোল শোধ, অতিরিক্ত সময়ে গড়াল বেলজিয়াম-সেনেগাল ম্যাচ বেলজিয়ামের বিপক্ষে প্রথমার্ধে এগিয়ে সেনেগাল কোর্তোয়াকে পরাস্ত করে বেলজিয়ামের জালে সেনেগালের গোল লিটন-তাসকিনকে ছাড়াই বাংলাদেশের টি-টোয়েন্টি দল ঘোষণা, অধিনায়ক হৃদয় বিশ্বকাপে পেলের রেকর্ড ভাঙলেন হ্যারি কেইন শেষ ষোলোয় মেক্সিকোর মুখোমুখি ইংল্যান্ড, ম্যাচ কবে? জোড়া গোল করে ইংল্যান্ডকে শেষ ষোলোয় তুললেন হ্যারি কেইন ইংল্যান্ডের সামনে ৬০ বছরের দুঃস্বপ্ন সোনারগাঁয় সেতুর নিচের ময়লার ভাগাড়, অতিষ্ট জনজীবন এমপাসির সেভে স্তব্ধ ইংল্যান্ড, প্রথমার্ধে এগিয়ে ডিআর কঙ্গো ইবির আইসিটি বিভাগে প্রভাষক নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ বর্ষার আগেই ডেঙ্গুর অশনিসংকেত: বাড়ছে রোগী, ভয়াবহতার আশঙ্কা বিশেষজ্ঞদের শুভেন্দু অধিকারীকে ৫০০ কেজি আম উপহার পাঠালো বাংলাদেশ সপ্তম মিনিটেই ইংল্যান্ডের জালে কঙ্গোর গোল টঙ্গীতে অস্ত্র নিয়ে মোটরসাইকেল মহড়া, গ্রেপ্তার ৩ নকআউটে ডিআর কঙ্গোর মুখোমুখি ইংল্যান্ড, একাদশে কারা? ঢাকার ৪ বাস টার্মিনাল স্থানান্তরে সম্ভাব্য স্থান পরিদর্শন উদ্ধারে ধীরগতি, ভেনেজুয়েলায় গভীর মানবিক বিপর্যয় জন্মহার বাড়াতে মা-বাবার জন্য অতিরিক্ত ছুটি চালু করল ফ্রান্স ভুয়া ইঞ্জিনিয়ার সেজে মোবাইল টাওয়ারে ডাকাতির ছক, গ্রেপ্তার ৪ টেকনাফে জেলের জালে মিলল ৫ কোটি ১০ লাখ টাকা মূল্যের ইয়াবা

আমদানি হলেও দাম কমছে না পেঁয়াজের

প্রকাশ: ১২ জুন ২০২৪, ০৯:২৫ এএম
আমদানি হলেও দাম কমছে না পেঁয়াজের
ছবি : খবরের কাগজ

সরকার ৭ লাখ ৯৭ হাজার কোটি টাকার বাজেট পেশ করেছে। মূল্যস্ফীতি সীমা ছাড়িয়ে গেলে তার লাগাম টানতে পেঁয়াজসহ ৩০টি নিত্যপণ্যের উৎসে কর ২ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১ শতাংশ প্রস্তাব করেছেন অর্থমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী। তারপরও পেঁয়াজ, আদা, রসুন, মরিচের দাম একটুও কমেনি। এমনকি ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানি হলেও কমছে না দাম বরং ভারতের পেঁয়াজের দামই বেশি, ৯০ টাকা কেজি।

খুচরা বিক্রেতারা বলছেন, মিল বা আড়তে কোনো জিনিসের দাম না কমলে খুচরায় কমবে না। বাজেটে যে পরিমাণ কর কমানো হয়েছে তা খুবই নগণ্য। ভোক্তা পর্যায়ে এর কোনো প্রভাবই পড়বে না। সরকার শুধু আইওয়াশ করেছে জনগণের। গতকাল বিভিন্ন বাজারে সংশ্লিষ্ট বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।

গত বৃহস্পতিবার ২০২৪-২৫ অর্থবছরের জন্য সরকার বাজেট ঘোষণা করে। তাতে রাজস্ব আদায় ধরা হয়েছে ৪ লাখ ৮০ হাজার কোটি টাকা। এই রাজস্ব আদায় করার জন্য কোনো কোনো ক্ষেত্রে বেশি করে শুল্ক আরোপ ও কর ধরা হয়েছে। আবার কিছু ক্ষেত্রে কর ছাড় ও কমানো হয়েছে। সরকার চলতি অর্থবছরে ৬ দশমিক ৫ শতাংশ মূল্যস্ফীতি নির্ধারণ করলেও প্রায় দেড় বছর থেকে মূল্যস্ফীতি সীমা ছাড়িয়ে গেছে। দেশে ব্যাপকভাবে হইচই পড়ে গেছে। তাই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকার ৩০টি নিত্যপণ্যে উৎসে কর ২ শতাংশ থেকে ১ শতাংশ করেছে। অর্থাৎ পণ্য আমদানির ক্ষেত্রে কোনো ব্যবসায়ীকে আগে ১০০ টাকায় ২ টাকা কর দিতে হতো। প্রস্তাবিত বাজেটে ১ শতাংশ করায় তাকে ১ টাকা দিতে হবে। এটা খুবই কম। এর কোনো প্রভাব বাজারে পড়বে না বলে ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করেন।

মোহাম্মদপুরের টাউনহল বাজারে নিউ ভ্যারাইটি স্টোরের লিটন খবরের কাগজকে উদাহরণ দিয়ে বলেন, ‘ধরেন আমি ১৪০ টাকা কেজি ডাল বিক্রি করছি। এতে উৎসে কর ১ টাকা করা মানে ১ টাকা ৪০ পয়সা কমছে। কিন্তু বাজারে কি খুচরা টাকা ও পয়সা আছে? ব্যাংক থেকেও তো দেয় না। ভিক্ষুকও নেয় না খুচরা পয়সা। তা হলে বাজারে কীভাবে ব্যবসায়ীরা খুচরা পাবেন এবং বিক্রেতারা কীভাবে এক কেজি ডালে ১৩৮ টাকা ৬০ পয়সা দোকানদারকে দেবেন? এটা তামাসা করা হয়েছে। মানুষের আইওয়াশ করা হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘শুধু ডাল নয়, চিনি, লবণ, আলু, পেঁয়াজ যাই বলি না কেন, কোথাও এটা সম্ভব না। শুধু মিডিয়ায় দেখানো হয়েছে যে নিত্যপণ্যের দাম কমবে। কিন্তু বাস্তবে তার প্রভাব পড়বে না। শুধু এই ব্যবসায়ীই নয়, অন্যান্য বাজারের খুচরা ব্যবসায়ীদেরও একই অভিযোগ। এভাবে পণ্যের উচ্চমূল্যের লাগাম টানা যাবে না।’

এই খুচরা ব্যবসায়ী প্রত্যেকটি মুদি আইটেমের নাম উল্লেখ করে বলেন, ‘এই যে সব মাল দেখছেন, কোনো কিছুর দাম একটুও কমেনি। ভবিষতেও কমবে না। কারণ লোক দেখানো মূল্য হ্রাস কাজে আসবে না। এ সময় মোল্লা, প্রাণ কোম্পানির এসআরওদের কাছে তিনি জানতে চান কোনো জিনিসের দাম কমেছে? তারা বলেন, না এ পর্যন্ত কোনো মেসেজ নেই। ভবিষতে আসলে জানানো হবে।’

একই মার্কেটের বিসমিল্লাহ স্টোরের বিক্রয়কর্মী জসিম বলেন, ‘আগের মতোই সব জিনিসের দাম। পেপার টিভিতে দেখলেও আমরা কম দামে কিনতে পারি না। তা হলে কীভাবে কম দামে বিক্রি করব? যেভাবে কম দেখানো হয়েছে, সেই দর আমরাও পাব কি না সন্দেহ। কারণ খুচরা পর্যায়ে অনেক কিছু আসে না। এখনো পেঁয়াজ ৮৫ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। ভারতের পেঁয়াজ ৯০ টাকা কেজি। এটা সাইজে বড়। এ জন্য দাম বেশি, যা উল্টো চিত্র।’

মসলা বিক্রেতা শফিকুল খবরের কাগজকে বলেন, ‘গোড়াতেই বেশি দাম। ৭০-৭৫ টাকা কেজি কেনা। লেবার খরচ আছে। বস্তায় কিছু পচে যায়। তাই ৮৫ টাকা কেজি বিক্রি করা হচ্ছে। আমদানি করাটা ৯০ টাকা। কোরবানির ঈদ ঘনিয়ে আসায় মসলার মধ্যে আদা, রসুনের দামও কমছে না। আগের মতোই রসুন ২৩০-২৪০ টাকা কেজি। ভারতের কেরালার আদার কেজি ২৯০-৩০০ টাকা। মায়ানমারের আদা ২৮০ টাকা ও চায়না আদা ২২০-২৪০ টাকা কেজি বিক্রি করা হচ্ছে।’

রাজধানীতে পেঁয়াজের মোকাম শ্যামবাজার। সেখানে যোগাযোগ করা হলে বাজার কমিটির সভাপতি মো. সাইদ বলেন, সরকার আমদানির সুযোগ দিলেও ব্যাংকে ডলার পাওয়া যায় না। এ জন্য এলসি করা যাচ্ছে না। সরকার শুধু টিসিবির জন্য পেঁয়াজ আমদানি করছে। বেসরকারিভাবে সে সুযোগ দেওয়া হচ্ছে না। এ জন্য দামও কমছে না। গতকাল রবিবার এই বাজারে ফরিদপুরের পেঁয়াজ ছিল ৬৯-৭০ টাকা। পাবনার পেঁয়াজ ৭২-৭৪ টাকা কেজি বিক্রি হয়েছে। এই ব্যবসায়ী আরও বলেন, সরকার বিভিন্ন পণ্যে যেভাবে কর কমিয়েছে, তার প্রভাব পড়বে না। কারণ খুচরা টাকা-পয়সা পাওয়া যায় না। 

সরকার প্যাকেট চিনির দাম ১৪৫ টাকা কেজি বেঁধে দিলেও তার চেয়ে কম দামে ১৩৫ টাকা কেজি খুচরা পর্যায়ে বিক্রি হচ্ছে বলে বিক্রেতারা জানান। এ ব্যাপারে বাংলাদেশ চিনি ব্যবসায়ী সমিতির সাবেক সভাপতি ও এফবিসিসিআইয়ের পরিচালক মো. হাসেম আলী বলেন, ‘চোরাইপথে ভারতের চিনিতে সারা দেশে ভরে গেছে। চিনির দাম একেবারে কমে গেছে। অনেক মিল বন্ধ হওয়ার পথে। সরকার সুযোগ দিলে অর্থাৎ চোরাচালান বন্ধ করলে চিনির ব্যবসা হবে, মিল চলবে।’

জলাবদ্ধতার দুষ্টচক্রে রাজধানী

প্রকাশ: ০১ জুলাই ২০২৬, ০৮:২৫ এএম
জলাবদ্ধতার দুষ্টচক্রে রাজধানী
ছবি: খবরের কাগজ

বর্ষা মৌসুম পুরোপুরি শুরু হয়নি। এ পর্যন্ত যে বৃষ্টিপাত হয়েছে, তাকে সেই অর্থে মুষলধারে বলা যাবে না। তবে রাজধানী ঢাকার জলাবদ্ধতা নিয়ে নগরবাসীর মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। গত কয়েক সপ্তাহের মাঝারি বৃষ্টিপাতেই আবারও স্পষ্ট হয়েছে সমস্যার বাস্তব চিত্র। বৃষ্টি থামার ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও রাজধানীর বিভিন্ন সড়ক ও অলিগলিতে পানি জমে থাকতে দেখা যাচ্ছে। জলজটে কোথাও যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে, কোথাও হাঁটুসমান পানিতে চলাচল করতে বাধ্য হচ্ছেন নগরবাসী। এতে পুরোদমে বর্ষা শুরুর আগে নতুন করে ভোগান্তির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

  • হাজার কোটি টাকার প্রকল্প, তবু পানির নিচে ঢাকা!
  • বৃষ্টি নামলেই থমকে যায় শহর, জলাবদ্ধতার পুরোনো আতঙ্কে নগরবাসী

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, জলাবদ্ধতা নিরসনের জন্য গত দেড় দশকে একের পর এক প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। খাল পুনরুদ্ধার, ড্রেনেজব্যবস্থার উন্নয়ন, পাম্পিং স্টেশন নির্মাণ, বক্স কালভার্ট সংস্কার এবং পানি নিষ্কাশনব্যবস্থার আধুনিকায়নে ব্যয় হয়েছে হাজার হাজার কোটি টাকা। এমনকি রাজধানীর খাল ও নালা ব্যবস্থাপনার দায়িত্বও বিভিন্ন সময়ে এক সংস্থা থেকে অন্য সংস্থার কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। কিন্তু এত সব উদ্যোগ ও বিপুল অর্থ ব্যয়ের পরও বাস্তব চিত্র খুব একটা বদলায়নি। সামান্য বৃষ্টিতেই রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা এখনো পানির নিচে তলিয়ে যায়। 

নগর পরিকল্পনাবিদ ও বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সমস্যার কারণ কেবল অবকাঠামোগত দুর্বলতা নয়, বরং দীর্ঘদিনের অপরিকল্পিত নগরায়ণ এবং সমন্বয়হীন ব্যবস্থাপনা। একসময় ঢাকার চারপাশে বিস্তৃত খাল, জলাধার ও নিম্নাঞ্চল বৃষ্টির পানি ধারণ এবং দ্রুত নিষ্কাশনের প্রাকৃতিক পথ হিসেবে কাজ করত। কিন্তু নগর সম্প্রসারণের সঙ্গে সঙ্গে এসব খালের বড় একটি অংশ দখল, ভরাট কিংবা সংকুচিত হয়ে গেছে। ফলে শহর তার স্বাভাবিক পানি ধারণ ও নিষ্কাশন ক্ষমতার উল্লেখযোগ্য অংশ হারিয়েছে। যে পানি একসময় খাল ও জলাধার হয়ে সহজেই নদীতে চলে যেত, এখন সেই পানিই সড়ক ও জনবসতিতে জমে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি করছে।

সিটি করপোরেশনের সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে অপরিকল্পিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা। রাজধানীতে প্রতিদিন প্রায় সাত হাজার টন বর্জ্য উৎপন্ন হয়, যার প্রায় ১৫ শতাংশই প্লাস্টিকজাত। এসব প্লাস্টিক, পলিথিন ও অন্য বর্জ্যের বড় অংশ শেষ পর্যন্ত গিয়ে জমা হয় ড্রেন, নালা ও খালে। ফলে পানি চলাচলের পথ বাধাগ্রস্ত হয় এবং সামান্য বৃষ্টিতেই ড্রেন উপচে পানি রাস্তায় উঠে আসে। অনেক স্থানে ড্রেনের অস্তিত্ব থাকলেও পলি ও ময়লার স্তূপে সেগুলো কার্যত অকার্যকর হয়ে পড়েছে।

কয়েক সপ্তাহ ধরে থেমে থেমে বৃষ্টির পর রাজধানীর নিউ মার্কেট, আজিমপুর, মালিবাগ, শান্তিনগর, সায়েদাবাদ, যাত্রাবাড়ী, ধানমন্ডি, মিরপুর, শেওড়াপাড়া, মতিঝিল, খিলক্ষেত, বাড্ডা, পুরান ঢাকা ও উত্তরার বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা দেখা গেছে। কোথাও সড়কে যানবাহন বিকল হয়ে পড়েছে, কোথাও দীর্ঘ সময় ধরে যানজট স্থায়ী হয়েছে। বিশেষ করে কর্মজীবী মানুষ, শিক্ষার্থী এবং রোগীদের দুর্ভোগ ছিল সবচেয়ে বেশি।
দুই সিটি করপোরেশনের তথ্য অনুযায়ী, রাজধানীর অন্তত ১৪১টি এলাকা বর্তমানে জলাবদ্ধতার ঝুঁকিতে রয়েছে। এর মধ্যে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের আওতায় রয়েছে ১০৮টি এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের আওতায় রয়েছে ৩৩টি এলাকা। ঝুঁকিপূর্ণ এসব এলাকা চিহ্নিত করা হয়েছে আগেই। তবে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই স্থায়ী সমাধানের কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি এখনো চোখে পড়ছে না।

এদিকে জলাবদ্ধতা নিরসনে নতুন করে বড় অঙ্কের বিনিয়োগের পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে। ‘খাল পুনরুদ্ধার, সংস্কার ও নান্দনিক পরিবেশ সৃষ্টি’ প্রকল্পের আওতায় প্রায় ৮৯৮ কোটি ৩৯ লাখ টাকা ব্যয়ের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ২০২২ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৭ সালের জুন পর্যন্ত চলমান এই প্রকল্পের আওতায় কালুনগর, জিরানী, মান্ডা ও শ্যামপুর খালের প্রায় ২০ দশমিক ৫৯ কিলোমিটার অংশ খনন ও স্লাজ (বর্জ্য জল, শিল্পকারখানা বা প্রাকৃতিকভাবে জমে থাকা ঘন, আঠালো কাদা বা কর্দমাক্ত মিশ্রণ) অপসারণ করা হবে। পাশাপাশি নির্মাণ করা হবে রিটেইনিং ওয়াল, সুরক্ষা বেষ্টনী, ওয়াকওয়ে, পাম্প স্টেশন এবং দূষণ নিয়ন্ত্রণে একাধিক ইটিপি।

তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, শুধু খাল খনন বা ড্রেন পরিষ্কার করলেই সমস্যার সমাধান হবে না। কারণ হিসেবে তারা জানিয়েছেন, ঢাকার পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার পুরো শৃঙ্খলই বিভিন্ন স্থানে বাধাগ্রস্ত। সড়কের ক্যাচপিট থেকে শুরু করে ড্রেন, খাল, স্লুইসগেট, পাম্প স্টেশন এবং নদীতে পানিপ্রবাহের প্রতিটি ধাপেই রয়েছে নানা প্রতিবন্ধকতা। কোথাও অবৈধ দখল, কোথাও বর্জ্যের স্তূপ, আবার কোথাও অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা পুরো ব্যবস্থাকে অকার্যকর করে তুলছে। ফলে একটি অংশ সংস্কার করা হলেও অন্য অংশের সমস্যার কারণে কাঙ্ক্ষিত সুফল পাওয়া যাচ্ছে না।

তবে বরাবরের মতো এবারও আশ্বাসের কথাই শোনালেন সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তারা। জলাবদ্ধতা নিরসনের অগ্রগতি সম্পর্কে জানতে চাইলে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জহিরুল ইসলাম খবরের কাগজকে বলেন, রাজধানীতে প্রায় ১০০টি হটস্পট চিহ্নিত করা হয়েছে এবং সেগুলো বিশেষ নজরদারিতে রাখা হচ্ছে।

তিনি বলেন, এক জায়গার পানি দ্রুত সরিয়ে অন্য জায়গায় ফেললে সেখানে আবার জলাবদ্ধতা তৈরি হচ্ছে। এটি স্বল্পমেয়াদি পরিকল্পনায় সমাধান সম্ভব নয়। চলতি বছর হয়তো কাঙ্ক্ষিতভাবে জলাবদ্ধতা নিয়ন্ত্রণ করা যাবে না। তবে আগামী বছরের জন্য দীর্ঘমেয়াদি ও কার্যকর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। 

প্রয়োজনীয় বাজেট পাওয়া গেলে আগামী বছর জলাবদ্ধতা নিয়ন্ত্রণে দৃশ্যমান অগ্রগতি আনা সম্ভব হবে বলে জানিয়েছেন এই কর্মকর্তা। জহিরুল ইসলাম বলেন, ‘বর্তমানে অনেক ছোট ড্রেন আমাদের ব্যবহৃত পলিথিন ও বর্জ্যে আটকে যায়। ফলে পানি চলাচল বাধাগ্রস্ত হয়ে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। এ ছাড়া আমাদের চারটি ড্রেনেজ পাম্প থাকলেও সেগুলো প্রয়োজনের তুলনায় পর্যাপ্ত নয় এবং সব কটি পূর্ণ সক্ষমতায় কাজ করছে না।’

এ বিষয়ে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসকের একান্ত সচিব (উপসচিব) ও অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ আবদুল্লাহ খবরের কাগজকে বলেন, রাজধানীর উত্তর অংশে কয়েকটি জলাবদ্ধপ্রবণ এলাকা রয়েছে, যেখানে বৃষ্টির সময় বিশেষ নজরদারি রাখা হয়। তিনি বলেন, ‘সাধারণ মানুষের কাছ থেকে কোনো অভিযোগ বা তথ্য পেলেই আমাদের টিম দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে ব্যবস্থা নেয়।’ 

এই কর্মকর্তা আরও বলেন, জলাবদ্ধতার অন্যতম প্রধান কারণ হলো ড্রেনেজব্যবস্থায় পলিথিন, ময়লা ও বর্জ্য জমে পানি চলাচল বাধাগ্রস্ত হওয়া। বিশেষ করে মিরপুর ও উত্তরখান এলাকায় এ সমস্যা বেশি দেখা যায়। তবে এটি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ছাড়া স্থায়ীভাবে সমাধান সম্ভব নয়। বর্তমানে বিভিন্ন উন্নয়নকাজ চলমান থাকায় অনেক ক্ষেত্রে তাৎক্ষণিকভাবে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।

এদিকে শত শত প্রকল্পের নামে হাজার হাজার কোটি টাকা কোথায় এবং কাদের পকেটে যাচ্ছে তার হিসাব করা প্রয়োজন। পরিকল্পনাবিদ ও ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানিং অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের নির্বাহী পরিচালক ড. আদিল মুহাম্মদ খান খবরের কাগজকে বলেন, ‘ঢাকায় সম্প্রতি মাত্র ৫৪ মিলিমিটার বৃষ্টিতেই ভয়াবহ জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। অথচ বর্ষা মৌসুমে ৫০ থেকে ১০০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত আমাদের দেশের জন্য স্বাভাবিক। সাধারণ বৃষ্টিতেই নগরজীবন অচল হয়ে পড়া প্রমাণ করে, দীর্ঘদিন ধরে জলাবদ্ধতা নিরসনে কোনো সমন্বিত ও কার্যকর পরিকল্পনা নেওয়া হয়নি।’

তিনি আরও বলেন, ওয়াসার প্রণীত মাস্টারপ্ল্যান সিটি করপোরেশনের কাছে দায়িত্ব হস্তান্তরের পর আর হালনাগাদ করা হয়নি। ফলে বিভিন্ন সংস্থার কার্যক্রম সমন্বয়হীনভাবে পরিচালিত হচ্ছে এবং জলাবদ্ধতা নিরসনে প্রত্যাশিত ফল মিলছে না। টেকসই সমাধানের জন্য আধুনিক মাস্টারপ্ল্যানের ভিত্তিতে খাল সংস্কার, ড্রেনেজব্যবস্থার উন্নয়ন ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর কার্যকর সমন্বয় নিশ্চিত করতে হবে।

এই পরিকল্পনাবিদ অভিযোগ করে বলেন, জলাবদ্ধতা নিরসনের নামে হাজার হাজার কোটি টাকার প্রকল্প নেওয়া হলেও সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ কমেনি। তাই এসব প্রকল্পের অর্থ কোথায় ব্যয় হয়েছে, কারা দায়ী–সেসব বিষয়ে সুষ্ঠু তদন্ত করে জবাবদিহি ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিশ্চিত করা উচিত। তা না হলে জনগণের অর্থের অপচয়ই চলতে থাকবে, কিন্তু কাঙ্ক্ষিত সুফল মিলবে না।

রাজস্ব আদায়ে রেকর্ড ঘাটতি

প্রকাশ: ৩০ জুন ২০২৬, ০৯:৫৮ এএম
রাজস্ব আদায়ে রেকর্ড ঘাটতি
ছবি: সংগৃহীত

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) কাছে নতুন করে তিন বছর মেয়াদি ঋণের আবেদন করেছে বাংলাদেশ। সংস্থাটি রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা পূরণের শর্ত দিয়ে ঋণচুক্তি নিয়ে আলোচনা শুরু করেছে। চলতি অর্থবছরে মোট রাজস্ব আদায়ে রেকর্ড ঘাটতি দেখা দিয়েছে। এতে অসন্তুষ্ট হয়েছে আইএমএফ। এনবিআরের কাছে ঘাটতির কারণ জানতে চেয়েছে সংস্থাটি। রাজস্ব আদায়ের এই ঘাটতিতে ঋণচুক্তি নিয়ে নতুন করে দর-কষাকষি শুরু করতে পারে আইএমএফ–এমন আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।

গতকাল সোমবার জাতীয় সংসদে বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, সরকার আইএমএফের সঙ্গে আলোচনায় ব্যর্থ হয়নি। বরং পূর্ববর্তী সরকার এমন কিছু শর্তে ঋণ নিতে সম্মত হয়েছিল, যা জনগণের স্বার্থের পরিপন্থি ছিল। সে কারণে বর্তমান সরকার ওই কর্মসূচি থেকে সরে এসে নতুন ঋণ কর্মসূচি নিয়ে আইএমএফের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে।

অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, নতুন করে ঋণ পেতে গত ৯ জুন আইএমএফকে আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠি দেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। সম্ভাব্য ঋণের পরিমাণ হতে পারে ৪০০ থেকে ৪৫০ কোটি ডলার। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসবে আইএমএফের নির্বাহী পর্ষদ থেকে। তবে আইএমএফের শর্ত মেনে সরকারকে এই ঋণ নিতে হবে। রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করা হবে অন্যতম শর্ত।

২০২৩ সালে আওয়ামী লীগ সরকার আইএমএফের সঙ্গে ৪৭০ কোটি ডলারের ঋণ চুক্তি করে। ২০২৫ সালের জুনে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে সেই ঋণের আকার বাড়িয়ে ৫৫০ কোটি ডলার করা হয়। অনুমোদিত ওই ঋণ কর্মসূচির আওতায় পাঁচ কিস্তিতে বাংলাদেশ মোট ৩৬৪ কোটি ডলার পেয়েছে। তবে ষষ্ঠ কিস্তির অর্থছাড় নিয়ে প্রায় এক বছর ধরে আলোচনা চললেও শেষ পর্যন্ত তা পাওয়া যায়নি। এর অন্যতম কারণ সরকার শর্ত পূরণ করতে পারেনি। 

আইএমএফকে দেওয়া চিঠিতে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, আগের কর্মসূচি গ্রহণের সময়কার অর্থনৈতিক ও নীতিগত বাস্তবতা এখন আর নেই। দেশে রাজনৈতিক পরিস্থিতি, বৈশ্বিক অনিশ্চয়তা এবং নতুন চ্যালেঞ্জের কারণে কিছু সংস্কার বাস্তবায়ন কঠিন হয়ে পড়েছিল। তবে সরকার সংস্কার কর্মসূচি থেকে সরে আসতে চায় না; বরং দেশের বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ধাপে ধাপে তা বাস্তবায়ন করতে চায়। চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, নির্বাচিত সরকারের সময়ে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা বাড়ানো হয়েছে। আশা করি শিল্প-বিনিয়োগ ও ব্যবসা-বাণিজ্যে গতি আসবে। ফলে রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হবে। এ ছাড়া রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করতে অনেক নতুন খাত অর্থনীতির মূলধারায় আনা হয়েছে। রাজস্ব আদায়ের আওতা বাড়ানো হয়েছে, প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো হয়েছে। রাজস্ব ফাঁকি বন্ধ করতে সরকার কঠোর। আশা করছি লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হবে।

এনবিআরের সাবেক চেয়ারম্যান ড. নাসির উদ্দিন খবরের কাগজকে বলেন, দেশের রাজস্ব আদায় পরিস্থিতি ভালো নয়। রাজস্ব-জিডিপির (মোট দেশজ উৎপাদন) হার আগের চেয়ে কমেছে। ৮ শতাংশের মধ্যে আটকে আছে। চলতি অর্থবছর শেষে ঘাটতি দাঁড়াতে পারে ৮৮ হাজার কোটি টাকা। আইএমএফ দীর্ঘদিন ধরেই বাংলাদেশের নিম্ন রাজস্ব-জিডিপি অনুপাতকে বড় দুর্বলতা হিসেবে চিহ্নিত করে আসছে। তাই ভবিষ্যতে ঋণচুক্তি নিয়ে সংস্থাটি আরও কঠোর শর্ত দিতে পারে। নতুন করে সরকারের সঙ্গে দর-কষাকষি হতে পারে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের এপ্রিল শেষে বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি দাঁড়িয়েছে ৪ দশমিক ৭৫ শতাংশে। চলতি অর্থবছরের জুলাই-মে সময়ে (১১ মাস) রপ্তানি আয় দাঁড়িয়েছে ৪৩ দশমিক ৮০ বিলিয়ন ডলার, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ২ দশমিক ৫৫ শতাংশ কম। 

গত ২১ মে অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে আইএমএফের এক ভার্চুয়াল বৈঠকে তিন বছর মেয়াদি নতুন কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা হয়। এরপর ৩ জুন আইএমএফের বাংলাদেশবিষয়ক মিশনপ্রধান আইভো ক্রিজনার এক বিবৃতিতে বলেন, ২০২৩ সালে কর্মসূচি অনুমোদনের পর বাংলাদেশের সামষ্টিক অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট উল্লেখযোগ্যভাবে বদলে গেছে। ব্যাংক খাতের দুর্বলতা, নিম্ন রাজস্ব আহরণ এবং নতুন সংস্কার উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তা এখন আরও স্পষ্ট। ফলে বর্তমান চ্যালেঞ্জ ও নতুন সরকারের অগ্রাধিকারকে প্রতিফলিত করে একটি নতুন কর্মসূচি নিয়ে সমঝোতার সুযোগ তৈরি হয়েছে।

অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, আগামী মাসের মাঝামাঝি আইএমএফের একটি প্রাক্‌-মিশন ঢাকা সফরে আসবে। সম্ভাব্য নতুন ঋণ কর্মসূচির আকার নিয়ে আলোচনা হবে। নতুন আলোচনায় রাজস্ব আহরণ বৃদ্ধি, ভ্যাট সংস্কার, করছাড় কমানো এবং কর প্রশাসনের আধুনিকায়ন গুরুত্ব পাবে। 

চলতি অর্থবছরের শুরু থেকেই রাজস্ব আদায়ের ঘাটতি ছিল। সময় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ঘাটতিও বাড়তে থাকে। সাময়িক হিসেবে চলতি অর্থবছরে ঘাটতি প্রায় ৯০ হাজার কোটি টাকা। এমন পরিস্থিতিতেও আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য এনবিআরকে ৬ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকা আদায়ের জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করতে হলে এনবিআরকে চলতি বছরের তুলনায় প্রায় ৫০ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করতে হবে। 

চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে এনবিআরের রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ৫ লাখ ৩ হাজার কোটি টাকা। এনবিআরের পরিসংখ্যান বিভাগের তথ্যানুসারে, চলতি অর্থবছরের গত ১১ মাসে ৪ লাখ ৪২ হাজার ৮৪ কোটি টাকার রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা থাকলেও আদায় হয়েছে ৩ লাখ ৬০ হাজার ৬৪২ কোটি টাকা। গত ১১ মাসে রাজস্ব ঘাটতি ৮১ হাজার ৪৪২ কোটি টাকা, ঘাটতির হার ১৮ দশমিক ৪২ শতাংশ। 

লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করতে হলে এনবিআরকে শেষ মাসে (জুন) চলতি অর্থবছরের গত ১১ মাসে আদায় করা রাজস্বের প্রায় ৪০ শতাংশ আদায় করতে হবে, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে ২৪১ শতাংশ বেশি। লক্ষ্য পূরণে অর্থবছরের শেষ মাস তথা চলতি জুনে আরও ১ লাখ ৪২ হাজার ৩৫৮ কোটি টাকার রাজস্ব আদায় করার কথা থাকলেও এনবিআর তা পারেনি। জুনের প্রথম ২০ দিনে ২৯ হাজার ৩১১ কোটি টাকার রাজস্ব আয় হয়েছে। সে হিসাবে ২০ জুন পর্যন্ত রাজস্ব আয়ের পরিমাণ দাঁড়ায় ৩ লাখ ৮৯ হাজার ৯৫৩ কোটি টাকা। গতকাল ২৯ জুন পর্যন্ত আদায়ের পর সাময়িক হিসাবে ঘাটতি প্রায় ৯০ হাজার কোটি টাকা। প্রসঙ্গত, সাময়িক হিসাবের চেয়ে প্রকৃত হিসাব কিছু কমবেশি হয়। 

এনবিআরের সাবেক চেয়ারম্যান ড. মো. আবদুল মজিদ খবরের কাগজকে বলেন, ‘রাজনৈতিক পটপরিবর্তন, সামষ্টিক অর্থনীতির পুনর্গঠন, চরম মূল্যস্ফীতির চাপ, বিনিয়োগের নেতিবাচক ধারা এবং বৈশ্বিক অনিশ্চয়তার কারণে রাজস্ব আদায়ে ধস দেখা দিয়েছে। এ ছাড়া লক্ষ্যমাত্রা বাড়ালেও আদায়কারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে এনবিআরের সক্ষমতা বাড়ানো হয়নি। এমন অবস্থায় আগামী অর্থবছরেও রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা বাড়ানো হয়েছে। এই লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সম্ভব হবে না বলে আশঙ্কা করছি।’ 

অর্থনীতির এই বিশ্লেষক হিসাব কষে বলেন, ১১ মাসের মতো শেষ মাসে অর্থাৎ জুনে ১০ শতাংশ রাজস্ব আদায় বেশি হলেও রাজস্ব ঘাটতি থাকবে প্রায় ১ লাখ কোটি টাকার কাছাকাছি।

‘গলদে ভরা’ প্রকল্প

প্রকাশ: ৩০ জুন ২০২৬, ০৯:২৩ এএম
আপডেট: ৩০ জুন ২০২৬, ০৯:৩১ এএম
‘গলদে ভরা’ প্রকল্প
খবরের কাগজ ইনফোগ্রাফ

মোট সেতু ৮২টি। কাজ শুরু হয়েছে ৪৬টির। প্রকল্পের শুরু চার বছর আগে। এখন পর্যন্ত আর্থিক অগ্রগতি হয়েছে মাত্র ১২ শতাংশ। সময় বাকি রয়েছে মাত্র এক বছর।

এখনো ১৬টি সেতুর নকশা তৈরিই হয়নি। ১ শতাংশ কাজও বাস্তবায়ন হয়নি ১৬টি সেতুর কাজ। বন্ধ রয়েছে ১২টি সেতুর নির্মাণ কাজ। দীর্ঘ সময় পার হলেও প্রকল্পের মোট কাজে অগ্রগতি নেই বললেই চলে।

‘পল্লি সড়কে গুরুত্বপূর্ণ সেতু নির্মাণ’ প্রকল্পের কাজের অগ্রগতি তদন্ত বিষয়ে আইএমইডির প্রতিবেদন বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, কারচুপি ও দায়িত্বশীলদের কর্মসম্পাদনে অবহেলার নিদারুণ চিত্র। প্রতিবেদনে দেখা গেছে, এই প্রকল্পের জন্য নিযুক্ত ঠিকাদাররা বালির পরিবর্তে মাটি ব্যবহার করেছেন। কাজ দেখভালের দায়িত্বে থাকা পরামর্শকরা দায়িত্ব পালন না করায় মাঠপর্যায়ে কাজে চরম অরাজকতা বিরাজ করছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়। সেখানে উল্লেখ করা হয়, পরামর্শকরা এ পর্যন্ত ১৭ কোটি টাকা নিলেও মাঠে সময় না দিয়ে এলজিইডি সদর দপ্তরের এসি রুমে সময় পার করছেন। পরামর্শকদের এ রকম দায়িত্বহীন কাজ আর্থিক শৃঙ্খলা ও সরকারি নীতিমালার পরিপন্থি ও সরকারি তহবিলের চরম অপচয়। প্রতিবেদন সম্পর্কে এক দায়িত্বশীল কর্মকর্তা বলেছেন, মনগড়া ফিজিবিলিটি স্টাডি (সম্ভাব্যতা যাচাই) করা হয়েছে, তাই প্রকল্পের এই দশা!

বাস্তবায়ন, পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের (আইএমইডি) নিবিড় পরিবীক্ষণ প্রতিবেদনে এসব তথ্য বেশ নিবীড়ভাবে তুলে ধরা হয়েছে।

২০২২ সালের ২২ মার্চ প্রকল্পটির অনুমোদন দেয় সরকার। খরচ ধরা হয় ৪ হাজার ৫০ কোটি টাকা। প্রকল্পটি ২০২৭ সালের জুনে শেষ হওয়ার কথা ছিল। ৩৫ উপজেলায় ৮২টি সেতু নির্মাণে এই সময় বেঁধে দেওয়া হয়। সম্পূর্ণ সরকারি অর্থে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে স্থানীয় সরকার, পল্লি উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর। শুরু থেকে (২০২২ সালের ১০ আগস্ট) প্রকল্প পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী শেখ মো. আবু জাকির সেকান্দার। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে তার নেতৃত্বে ৪০ জন লোকবল রয়েছে। কাজের মান দেখভাল করতে ও কাজের জবাবদিহি নিশ্চিত করতে প্রতি তিন মাসে পর প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি (পিআইসি) ও ছয় মাস পর প্রকল্প স্টিয়ারিং কমিটির (পিএসসি) সভা করার নিয়ম রয়েছে। এই চার বছরে পিআইসি সভা হয়েছে ৪টি ও পিএসসি ৪টি। ফলে পুরো প্রকল্পজুড়ে গলদ থেকেই গেছে।

এই প্রকল্পের জন্য প্রকৃত অর্থে কোনো ফিজিবিলিটি স্টাডি করা হয়নি। অনুমানের ওপর ভিত্তি করে মনগড়া সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের ফলে শুরু থেকে প্রকল্পটি গলদের মধ্য দিয়ে চলছে। প্রকল্পের মূল বাজেটে ডিজাইন ও ইঞ্জিনিয়ারিং কনসালটেন্সি খাতে ১৩ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়। তবে এলজিইডির নিজস্ব ডিজাইন ইউনিট দিয়ে এসব সেতুর নকশা তৈরি করা হয়েছে। পরে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েটে) থেকে ভেটিং নেওয়া হয়। তবে অনেক সেতুতেই গলদ থেকে যায়। প্রকল্পের ডিজাউন ও পরিকল্পনার সময় হাইড্রোলজিক্যাল (জলবৈজ্ঞানিক) ও মরফোলজিক্যাল (ভূ-গঠনিক) তথ্য সঠিকভাবে বিশ্লেষণ করা হয়নি, যা করা হয়েছে, বাস্তবতার সঙ্গে তা সংগতিপূর্ণ ছিল না।

এদিকে প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, পরামর্শকরা মাঠপর্যায়ে কাজ না করায় যথাযথ তদারকি হয়নি। এর ফলে উলম্ব (ভার্টিক্যাল) ছাড়ে ভুগছে ৫টি সেতু।   

এদিকে প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, এক শতাংশও বাস্তবায়ন হয়নি ১৫টি সেতুর কাজ। এগুলো হচ্ছে নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জের ১টি, রাজবাড়ীর কালুখালীর ১টি, চট্টগ্রামের রাউজানের ১টি, জামালপুরের মাদারগঞ্জের ১টি, সরিষাবাড়ীর ১টি, সাতক্ষীরার কালীগঞ্জের ১টি, ময়মনসিংহের হালুয়াঘাটের ১টি, নেত্রোকোনার কেন্দুয়ার ১টি, ঢাকার নবাবগঞ্জের ১টি, মানিকগঞ্জের ঘিওরের ১টি, সাটুরিয়ার ১টি, টাঙ্গাইলের বাসাইলের ১টি, মেহেরপুরের গাংনীর ১টি ও সিরাজগঞ্জের কামারখন্দের ১টি সেতু নির্মাণের কোনো কাজই শুরু হয়নি এই চার বছরে। এসব সেতু ২০ মিটার থেকে শুরু করে ৫০০ মিটার পর্যন্ত দীর্ঘ হওয়ার কথা। এ পর্যন্ত সাড়ে ৩ হাজার মিটার সেতু নির্মাণ হয়েছে, যার পেছনে খরচ হয়েছে ৪৫৪ কোটি টাকা। বাকি ১৪ হাজার ১৯৭ মিটার সেতুর নির্মাণকাজ চলমান রয়েছে। কোনো সংযোগ সড়ক নির্মাণ করা হয়নি। ভূমি অধিগ্রহণও করা হয়নি।

পিপিআর-২০০৮ লঙ্ঘন

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, প্রকল্পের প্রাক-সম্ভাব্যতা যাচাই ও ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট প্রপোজাল বা ডিপিপি প্রণয়ন প্রক্রিয়ায় মাঠপর্যায়ের বাস্তব কারিগরি উপাত্ত ও জ্যামিতিক নকশার সঠিক প্রতিফলন ঘটেনি। ফলে কিছু প্যাকেজের বাস্তবায়নযোগ্যতা প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে। এই প্রকল্পে ৪৭ পরামর্শকের মধ্যে ১৭ জনই ঢাকায় হেডকোয়ার্টারে অবস্থান করছেন। সারা দেশে কাজ হলেও তারা মাঠে সময় দেননি। এর ফলে মাঠপর্যায়ে লজিস্টিক ও টেকনিক্যাল গাইডেন্সের ঘাটতি দেখা দিয়েছে। ফলে বিভিন্ন ক্ষেত্রে ত্রুটি আছে।

নিশ্চিত করা হয়নি নির্মাণসামগ্রীর গুণগত মান

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, নিবিড় তদারকির অভাবে ঠিকাদাররা চুক্তির শর্ত ভেঙে যা ইচ্ছা তাই করছেন। গার্ডারে ব্যবহৃত নির্মাণসামগ্রীর গুণগত মান নিশ্চিত করা হয়নি। কুমিল্লা সদর উপজেলায় গোমতী নদীর ওপর ৩১০ মিটার দীর্ঘ সেতু নির্মাণে চুক্তি ভঙ্গ করে বালির পরিবর্তে মাটি ও খোয়ার পরিবর্তে নিম্নমানের ম্যাটেরিয়াল ব্যবহার করা হয়েছে। গার্ডারের রড দীর্ঘ সময় উন্মুক্ত রাখায় মরিচা পড়েছে। এই উপজেলার কালখের পাড়-জনতা বাজার সেতুতে ঠিকাদারের গাফিলতি দেখা যায়। সঠিক প্রক্রিয়ায় কিউরিং হয়নি সেখানে। তবে এই সেতুর সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা দাবি করছেন, কাজ হচ্ছে। ২০২৭ সালের জুনে পুরো কাজ শেষ হয়ে যাবে।

মাগুরা সদরে ফটকি নদীতে ভাবনহাতি ট্রিকারখালি সড়কে ১৫০ মিটার দীর্ঘ সেতু নির্মাণেও ঠিকাদারের চুক্তির শর্ত লঙ্ঘনের প্রমাণ পাওয়া গেছে। সেখানে কাজ হয়েছে মাত্র ৩৭ শতাংশ। চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার শিবগঞ্জে পাগলা নদীতে মনাকশাহাট রোডে ১৭২ মিটার সেতু নির্মাণে সম্পূর্ণ নদীতে বাঁধ দিয়ে সাটারিং করা হয়েছে। অন্য সেতু নির্মাণেও কিছু না কিছু ত্রুটি পাওয়া গেছে। ত্রুটিপূর্ণ পরিকল্পনা গ্রহণ, প্রকল্প ব্যবস্থাপনার দুর্বলতায় অগ্রগতি খুবই কম হয়েছে। ঠিকাদাররা ঢিলেমি করলেও তাদের চুক্তি বাতিলে কোনো প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ২০২৬ সালের মার্চ পর্যন্ত ৭৬ শতাংশ অগ্রগতি হওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে হয়েছে ১২ শতাংশ। পরিবেশের কোনো সমস্যা না হলেও ৮২টি সেতুর মধ্যে ১৪টির টেন্ডার প্রক্রিয়া শুরু হয়নি।

সার্বিক বিষয়ে প্রকল্প পরিচালক শেখ মো. আবু জাকির সেকান্দার খবরের কাগজকে বলেন, ‘সব প্রকল্পেই প্রথমে কাজের গতি বাড়ে না। আগে কম হলেও জুন পর্যন্ত আর্থিক অগ্রগতি ১৫ শতাংশ হয়েছে। ৩টা সেতুর ডিজাইন বাকি রয়েছে। আগামী বছরের জুনে মেয়াদ শেষ হলেও ১ বছর সময় বাড়ানোর প্রক্রিয়া চলছে। ফিজিবিলিটি স্টাডিতে কোনো ত্রুটি নেই। পরামর্শকরা যেখানে দরকার সেখানেই কাজ করছেন। ডিজাইনতো হেড অফিসে বসেই করতে হয়। তাদের ১৭ কোটি টাকা বেতন দেওয়া হয়েছে। সব ঠিকাদারই দায়সারা কাজ করছেন, এমনটা নয়। দুই একটা ব্যতিক্রম হতে পারে। কোথায় ত্রুটি পাওয়া গেলে তা সারানো হচ্ছে।’

আদ্-দ্বীন হাসপাতাল বন্ধ: অনিশ্চয়তায় বিদেশি শিক্ষার্থীরা

প্রকাশ: ৩০ জুন ২০২৬, ০৯:০০ এএম
আপডেট: ৩০ জুন ২০২৬, ০৯:০৬ এএম
আদ্-দ্বীন হাসপাতাল বন্ধ: অনিশ্চয়তায় বিদেশি শিক্ষার্থীরা
ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীর মগবাজারে অবস্থিত আদ্-দ্বীন হাসপাতাল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় শিক্ষাজীবন ও ক্যারিয়ার নিয়ে অনিশ্চয়তায় পড়েছেন আদ্-দ্বীন উইমেন্স মেডিকেল কলেজের দেশি-বিদেশি শিক্ষার্থীরা। বিশেষ করে ২৯৫ জন বিদেশি শিক্ষার্থী আছেন চরম অনিশ্চয়তায়। নিয়ম অনুযায়ী শিক্ষার্থীদের ক্লিনিক্যাল ক্লাস ও ইন্টার্নশিপ করতে হয় মেডিকেল কলেজের হাসপাতালেই। কিন্তু হাসপাতাল বন্ধ থাকায় শিক্ষাজীবনের এই পর্যায়গুলো বর্তমানে বন্ধ আছে। শেষ পর্যন্ত এই সংকটের দেশীয় সমাধান হলেও বিদেশি শিক্ষার্থীরা আছেন বেশি বিপাকে।

কারণ এই সমস্যা সমাধানের অপেক্ষায় তাদের এই দেশে অবস্থানের নিয়মিত খরচ চালিয়ে যেতে হচ্ছে। এদিকে বিশেষ করে বিদেশি শিক্ষার্থীরা এমন অনিশ্চয়তার মধ্যে থাকায় বিদেশে বাংলাদেশের স্বাস্থ্য শিক্ষাব্যবস্থার সুনাম ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তাদের মতে, এই সমস্যা অব্যাহত থাকলে বিদেশি শিক্ষার্থীরা এই দেশে পড়াশোনা করতে আসার ক্ষেত্রে সংশয়ে থাকবেন।

ভারতের কাশ্মীর থেকে আসা আদ্-দ্বীন উইমেন্স মেডিকেল কলেজের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী মেহরিম গত বৃহস্পতিবার দৈনিক খবরের কাগজকে বলেন, মেডিকেলসংক্রান্ত ভারতীয় আইন অনুযায়ী বিদেশে পড়া শিক্ষার্থীদের একই কলেজের অধীন হাসপাতালে ইন্টার্নশিপ সম্পন্ন করা বাধ্যতামূলক। তাই এই পর্যায়ে তার মেডিকেল পড়া সম্পন্ন হতে চললেও ক্যারিয়ার গঠনের ক্ষেত্রে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।

একই বর্ষের আরেক শিক্ষার্থী বাংলাদেশি নাগরিক ফারহা জামান পূর্বাশা বলেন, একই আইন বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও। তাই তাদের ক্ষেত্রে একই অনিশ্চয়তা রয়েছে।

বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের কেউ কেউ এখন অন্য মেডিকেল কলেজে মাইগ্রেশনের চেষ্টা করছেন। এ প্রসঙ্গে জিজ্ঞাসা করলে শিক্ষার্থী পূর্বাশা বলেন, নিয়মের পরিবর্তন না হওয়া পর্যন্ত অনিশ্চয়তা তো থেকেই যায়, অর্থাৎ নিজ প্রতিষ্ঠানেই ইন্টার্নি ও ক্লিনিক্যাল ক্লাস করতে হবে।

আদ্-দ্বীন ফাউন্ডেশনের পরিচালক (কোম্পানি অ্যাফেয়ার্স) তারিকুল ইসলাম মুকুল গতকাল রবিবার দৈনিক খবরের কাগজকে বলেন, ‘আমাদের শিক্ষার্থীদের অন্য মেডিকেল কলেজে ইন্টার্নশিপ করতে সরকার চিঠি দিয়ে আমাদের নির্দেশনা দিয়েছে। কিন্তু বিদ্যমান আইনে আমরা তা করতে পারি না। বিষয়টি চিঠি দিয়ে আমরা সরকারকে জানিয়েছি। এর পরিপ্রেক্ষিতে সরকার কী বলে, তা জানার অপেক্ষায় আছি।’

সম্প্রতি ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় গত ১১ জুন আদ্-দ্বীন ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠান আদ্-দ্বীন হাসপাতালের নিবন্ধন স্থগিত করে স্বাস্থ্যসেবা অধিদপ্তর। ফাউন্ডেশনের সহকারী পরিচালক (মেডিকেল) মো. সিদ্দিকুর রহমান সুমন বলেন, ‘ওই স্থগিতাদেশের বিরুদ্ধে আপিল করা হয়েছে। আশা করি ইতিবাচক কিছু হবে।’

তিনি জানান, কলেজের বিদেশি শিক্ষার্থীদের প্রায় সবাই ভারতীয়। ২৯৫ বিদেশি শিক্ষার্থীর মধ্যে ৮৬ জন ইন্টার্ন এবং ২০৯ জন মেডিকেল শিক্ষার্থী।

এদিকে নিজেদের শিক্ষাজীবন ও ভবিষ্যৎ পেশা জীবনের এমন অনিশ্চয়তা কাটাতে গত সোমবার স্বাস্থ্যসেবা অধিদপ্তর ও স্বাস্থ্যশিক্ষা অধিদপ্তরে যান বিদেশি শিক্ষার্থী ও ইন্টার্ন চিকিৎসকরা। যদিও দীর্ঘ অপেক্ষার পরও দুই অধিদপ্তরের কোনো মহাপরিচালকের দেখা পাননি তারা।

বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিল (বিএমডিসি) এবং ভারতের ন্যাশনাল মেডিকেল কমিশনের (এনএমসি) নীতিমালা অনুযায়ী একই কলেজ থেকে কোর্স সম্পন্ন করা এবং ইন্টার্নশিপ নিশ্চিতের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। এমন বাস্তবতায় ডিগ্রির কার্যকারিতা হারানোর আশঙ্কায় রয়েছেন শিক্ষার্থী ও ইন্টার্ন চিকিৎসকরা। বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের বাস্তবতা বিবেচনায় সরকার যদি নিয়মে পরিবর্তন আনে, তাতে হয়তো বাংলাদেশের শিক্ষার্থীরা অন্য মেডিকেলে ইন্টার্নশিপ সম্পন্ন করতে পারবেন। কিন্তু বিদেশি শিক্ষার্থীদের অনিশ্চয়তা রয়েই যাবে। তাই তারা অনিশ্চয়তায় ভুগছেন বেশি। বিদেশি শিক্ষার্থীরা অনিশ্চয়তায় থাকলে তা ভবিষ্যতে বিদেশি শিক্ষার্থী বাংলাদেশে আসার সম্ভাবনা কমিয়ে দিতে পারে বলেও মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এদিকে আদ্-দ্বীন মেডিকেল কলেজের বিদেশি শিক্ষার্থীদের ইন্টার্নশিপ-সংক্রান্ত চলমান বিষয়াবলি ও সৃষ্ট জটিলতা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে চিকিৎসকদের সংগঠন ন্যাশনাল ডক্টরস ফোরাম (এনডিএফ)। গত বুধবার সংগঠনটির সভাপতি অধ্যাপক ডা. মো. নজরুল ইসলাম ও জেনারেল সেক্রেটারি অধ্যাপক ডা. মাহমুদ হোসেন এক যৌথ বিবৃতিতে এই উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

বিবৃতিতে বলা হয়, বাংলাদেশে অধ্যয়নরত বিদেশি মেডিকেল শিক্ষার্থীরা দেশের প্রচলিত আইন, বিধিবিধান ও একাডেমিক নীতিমালা অনুসরণ করে শিক্ষা কার্যক্রম সম্পন্ন করে থাকেন। তাই তাদের ইন্টার্নশিপ-সংক্রান্ত যে কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে মানবিক, একাডেমিক ও আন্তর্জাতিক মানদণ্ড বিবেচনায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

তারা আরও উল্লেখ করেন, বিদেশি শিক্ষার্থীদের ইন্টার্নশিপ বিষয়ে দীর্ঘসূত্রতা বা অনিশ্চয়তা তাদের পেশাগত জীবন, উচ্চশিক্ষা ও ভবিষ্যৎ কর্মসংস্থানের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। একই সঙ্গে এটি আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের চিকিৎসা শিক্ষাব্যবস্থার ভাবমূর্তির সঙ্গেও সম্পর্কিত। দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের বেসরকারি মেডিকেল কলেজগুলো বিভিন্ন দেশের শিক্ষার্থীদের মানসম্মত চিকিৎসা শিক্ষা প্রদানের মাধ্যমে একটি ইতিবাচক অবস্থান তৈরি করেছে। আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে অর্জিত এই সুনাম ধরে রাখতে বিদেশি শিক্ষার্থীদের ইন্টার্নশিপ সম্পন্ন করার বিষয়ে সুস্পষ্ট নীতিমালা ও কার্যকর ব্যবস্থা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

বিজ্ঞপ্তিতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, চিকিৎসা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলা হয়, সব পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে দ্রুত একটি গ্রহণযোগ্য, ন্যায়সংগত ও টেকসই সমাধান নিশ্চিত করা প্রয়োজন, যেন বিদেশি শিক্ষার্থীদের শিক্ষা কার্যক্রম ও পেশাগত অগ্রগতি কোনোভাবেই ব্যাহত না হয়। দেশের চিকিৎসা শিক্ষাব্যবস্থার আন্তর্জাতিক মর্যাদা অক্ষুণ্ন রাখতে এবং বেসরকারি মেডিকেল শিক্ষার সুনাম বজায় রাখতে এই সমস্যার দ্রুত ও কার্যকর সমাধান জরুরি বলে মনে করে সংগঠনটি।

চট্টগ্রাম বিমানবন্দরে যাত্রী ছাউনির অভাবে ভোগান্তি

প্রকাশ: ৩০ জুন ২০২৬, ০৮:৫৭ এএম
আপডেট: ৩০ জুন ২০২৬, ০৯:০৬ এএম
চট্টগ্রাম বিমানবন্দরে যাত্রী ছাউনির অভাবে ভোগান্তি
ছবি: খবরের কাগজ

চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে কোনো যাত্রী ছাউনি বা ওয়েটিং লাউঞ্জ নেই। ফলে প্রতিদিন চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন দেশের দূর-দূরান্ত থেকে আসা শত শত যাত্রী ও তাদের স্বজনরা। রোদ-বৃষ্টির মধ্যে খোলা আকাশের নিচে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে তাদের। বিশেষ করে চলমান বর্ষা মৌসুমে এই ভোগান্তি চরমে পৌঁছেছে। বৃষ্টি হলেই ঠাঁই পেতে সামনের পার্কিং মাঠের দুই পাশে থাকা মাত্র দুটি দোকানে হুড়োহুড়ি ও ঠাসাঠাসি করে দাঁড়াতে হচ্ছে ভুক্তভোগীদের। 

গত বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, বিমানবন্দরের কনকোর্স হলের বাইরে পার্কিং এলাকার বিশাল মাঠটি পুরোপুরি উন্মুক্ত। রোদ কিংবা বৃষ্টি থেকে বাঁচার মতো কোনো যাত্রী ছাউনি সেখানে নেই। তবে পার্কিংয়ের পশ্চিম পাশে গাছের প্রাকৃতিক ছায়া থাকায় যাত্রীর স্বজনরা রোদ থেকে কিছুটা রক্ষা পেলেও বৃষ্টিতে রক্ষা পান না। মাঠের দুই প্রান্তে দুটি ছোট কনফেকশনারি ও চায়ের দোকান রয়েছে। আকাশ মেঘলা হলেই কিংবা বৃষ্টি শুরু হলেই শত শত মানুষ ওই দোকান দুটির নিচে আশ্রয় নেওয়ার জন্য হুড়োহুড়ি শুরু করেন। ধারণক্ষমতার চেয়ে কয়েকগুণ বেশি মানুষ জড়ো হওয়ায় সেখানে তৈরি হয় এক দমবন্ধকর পরিস্থিতি।

ভুক্তভোগীদের দাবি, চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরকে সত্যিকার অর্থে আন্তর্জাতিক মানের করে তুলতে এবং প্রবাসীদের রেমিট্যান্সের প্রতি সম্মান জানাতে অতি দ্রুত টার্মিনালের বাইরে একটি সুপরিসর, আধুনিক যাত্রী ছাউনি এবং ওয়াশরুমের ব্যবস্থা করা হোক।

বিমানবন্দরের পার্কিং এলাকায় বৃষ্টিতে ভিজতে ভিজতে এক প্রবাসীর বড় ভাই আশরাফুল ইসলাম বলেন, ‘আমার ভাই চার বছর পর ওমান থেকে দেশে ফিরছে। তার বিমান নামার কথা ছিল দুপুর ১২টায়, কিন্তু সেটি লেট করে ২টায় নেমেছে। দুই ঘণ্টা ধরে আমরা বাইরে দাঁড়িয়ে আছি। একটু আগে বৃষ্টিতে কোথাও দাঁড়ানোর জায়গা পাইনি। বাধ্য হয়ে পার্কিংয়ের কোণার একটি ছোট টং দোকানে আরও ৫০-৬০ জনের সঙ্গে গাদাগাদি করে দাঁড়িয়েছি। আন্তর্জাতিক একটি বিমানবন্দরে যাত্রী ছাউনি পর্যন্ত নেই, এটা ভাবতেই লজ্জা লাগে।’

একই ভোগান্তির কথা জানান ফটিকছড়ি থেকে আসা রাবেয়া বেগম। তিনি তার স্বামীকে বিদায় জানাতে এসেছেন। কোলে চার বছরের শিশুকে নিয়ে একটি দোকানের চালার নিচে কোনোমতে দাঁড়িয়ে থাকা রাবেয়া বলেন, ‘কোলের বাচ্চা নিয়ে সকাল থেকে রোদে পুড়েছি। এখন বৃষ্টিতেও ভিজতে হচ্ছে। এখানে বসার কোনো ব্যবস্থা নেই। দোকানের সামনে দাঁড়িয়ে থাকায় দোকানদাররাও বিরক্ত হচ্ছেন। আমরা তো ফ্রিতে আসিনি, পার্কিং ফি দিয়ে ভেতরে ঢুকেছি। তাহলে আমাদের বসার জায়গা কেন থাকবে না?’

সাতকানিয়া থেকে আসা আরেক ভুক্তভোগী তরুণ ব্যবসায়ী জাহেদুল হাসান ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘বিমানবন্দরটিকে আন্তর্জাতিক বলা হলেও এর সুযোগ-সুবিধা গ্রামীণ বাস টার্মিনালের চেয়েও খারাপ। বিমানবন্দরে কোটি কোটি টাকার উন্নয়ন কাজ হয়, অথচ সাধারণ মানুষের বসার একটি শেড তৈরি করার কথা কারও মাথায় আসে না।’

এদিকে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ পার্কিংয়ের দুই পাশে দুটি যাত্রী ছাউনি থাকার কথা জানালেও সেগুলোতে দোকান ভাড়া দিয়ে রাখা হয়েছে। দোকানিরা ক্রেতাদের বসার জন্য চেয়ার দিয়ে ছাউনি দখল করে রেখেছে। এতে ছাউনি দুটি দর্শনার্থীদের কোনো কাজে আসে না।

চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের প্রকৌশলী ও মুখপাত্র মোহাম্মদ ইব্রাহিম খলিল বলেন, ‘পার্কিংয়ের দুই পাশে দুটি যাত্রী ছাউনি আছে। তবে তা পর্যাপ্ত নয়। ভবিষ্যতে যাত্রীদের সুবিধার কথা বিবেচনা করে যাত্রী ছাউনি বাড়ানোর প্রস্তাব করা হবে। বর্তমানে যে যাত্রী ছাউনি আছে সেটা ২০০১ সালের মাস্টারপ্ল্যানের। বর্তমানে নতুন করে মাস্টারপ্ল্যান তৈরি করা হচ্ছে। সেখানে যাত্রীদের সুবিধার কথা বিবেচনায় রেখে উন্নয়ন কাজ করা হবে।’