ঢাকা ১৪ আষাঢ় ১৪৩৩, রোববার, ২৮ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
ইংল্যান্ডের নকআউট প্রতিপক্ষ ডিআর কঙ্গো প্রতি উপজেলায় পুষ্টিবিদের পদ সৃষ্টির প্রস্তাব বিবিএফ চেয়ারপারসনের সম্পর্কের পরীক্ষায় ঢাকা-বেইজিং পার্সি টাউয়ের আলো ছড়ানো অভিযান মেসি বনাম রোনালদো লড়াইয়ের শেষ সমীকরণ মেসিবিহীন আর্জেন্টিনার জর্ডানের বিপক্ষে প্রথমার্ধেই দুই গোলের লিড কারাকাস বারবার কেন আক্রান্ত হয় ড্র করে গ্রুপ রানার্সআপ পর্তুগাল, শেষ বত্রিশে প্রতিপক্ষ ক্রোয়েশিয়া হরিরামপুরে সহিংসতার ঘটনায় ঘুরেফিরে এক নাম ময়লার স্তূপে ঢাকছে চট্টগ্রাম নগরীর সড়ক রেশমের শহরে বিদেশি কাপড়ের দাপট জামালপুর-১ আসনের সাবেক এমপি নূর মোহাম্মদ গ্রেপ্তার ভারতের ভ্রমণ ভিসার আবেদন আজ থেকে লোকোশেড থেকে আরএনবি পর্যন্ত অরাজকতা কালিমাখচিত পতাকা মিছিল আর্জেন্টিনা-জর্ডান ম্যাচের আগে ১ মিনিট নীরবতা কেন? ২৮ জুন: তুলা, বৃশ্চিক, ধনু, মকর, কুম্ভ ও মীনের আজকের রাশিফল ২৮ জুন: মেষ, বৃষ, মিথুন, কর্কট, সিংহ ও কন্যার আজকের রাশিফল ব্রাজিলের মাঝমাঠের প্রাণ ব্রুনো গুইমারায়েস উজবেকিস্তানকে হারিয়ে নকআউটে ডিআর কঙ্গো গ্রুপসেরা কলম্বিয়া, রানার্সআপ হয়ে নকআউটে পর্তুগাল জর্ডানের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার একাদশে ৯ পরিবর্তন বৈরী গ্যালারিই কানাডার প্রেরণা ২৮ জুন  ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচি আর্জেন্টিনা-জর্ডান ম্যাচে কার জয়ের সম্ভাবনা কত, জানাল সুপারকম্পিউটার হাড্ডাহাড্ডি লড়াই, বিরতিতে গোলশূন্য পর্তুগাল-কলম্বিয়া ৩৬ বছরের রেকর্ড ভেঙে ইতিহাস গড়লেন হ্যারি কেইন রেকর্ড গড়ে বিশ্বকাপের নকআউটে আফ্রিকার ৭ দেশ ঘানাকে হারিয়ে বিশ্বকাপের নকআউটে ক্রোয়েশিয়া গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে নকআউটে ইংল্যান্ড

রাজশাহীতে নির্ধারিত দামে মিলছে না ২৯ পণ্য

প্রকাশ: ১৭ মার্চ ২০২৪, ১০:২২ এএম
রাজশাহীতে নির্ধারিত দামে মিলছে না ২৯ পণ্য

দাম সহনীয় পর্যায়ে রাখতে ইফতারে বহুল ব্যবহৃত ২৯টি পণ্যের দাম সরকার নির্ধারণ করে দিয়েছে। কিন্তু রাজশাহীর বাজারে এই নির্দেশনার কোনো প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না। এ বিষয়ে ব্যবসায়ীরা বলছেন, পাইকারি বাজারে দাম কমেনি। আর ক্রেতারা বলছেন, দ্রুত সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে।

রাজশাহীর মাস্টারপাড়া কাঁচাবাজারে বাজার করতে এসেছেন মাসুদ রানা। তিনি বলেন, সরকার সব দাম কমিয়ে দিয়েছে। কিন্তু এগুলোর কোনো প্রভাব বাজারে পড়েনি। আগে বাজারে দাম কমলে সেটির প্রভাব পড়ত না। এখনো পড়েনি। তবে দাম বাড়লে সেটি আবশ্যই বেড়ে যেত। আমরা সাধারণ মানুষ। অল্প আয় করি। এভাবে যদি দাম বেড়ে যায় তো আমার হিমশিম খাচ্ছি।

সিরাজুল ইসলাম নামে আরেক ক্রেতা বলেন, ‘সরকার যদি বাজার মনিটরিং করে, তবে খুব দ্রুতই দাম আমাদের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে চলে আসবে। এ জন্য মনিটরিং বাড়াতে হবে।’

ফল বিক্রেতা মিজানুর রহমান বলেন, আমরা যে দামে কিনছি সেই অনুপাতেই বিক্রি করছি। শুক্রবার পেয়ারা কিনেছি ৭০ টাকায়। এরপর সেটি ৭৫ থেকে ৮০ টাকায় বিক্রি করেছি। শনিবার ৬০ টাকা কেজি কিনেছি ৬৫ টাকায় বিক্রি করছি।

সাহেব বাজারে মাংস ব্যবসায়ী জামাল উদ্দিন বলেন, ‘গরু কিনতে যে টাকা লাগে সেই অনুপাতে আমরা বিক্রি করছি। এতে ১০ টাকা লাভ হলেই যথেষ্ট। এখানে গরুর দামতো বাড়তি, আমরা কী করব?’ সরকারের বেঁধে দেওয়া দামে বিক্রি করা সম্ভব নয়।’ 

সার্বিক বিষয়ে জানতে রাজশাহী জেলা বাজার মনিটরিং কর্মকর্তা আফ্রিন হোসেনের সঙ্গে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। ফলে তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

সরেজমিনে রাজশাহীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, খুচরা বাজারে ছোলা প্রতি কেজি ৯৮ টাকায় বিক্রি করার নির্দেশনা দেওয়া হয়। কিন্তু গতকাল শনিবার সকাল থেকে রাজশাহীর বাজারে ছোলা বিক্রি হচ্ছে ১১০ থেকে ১১৫ টাকা দরে। এদিকে, বাজারে প্রতি কেজি গরুর মাংসের সর্বোচ্চ খুচরা দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৬৬৪ টাকা। এ ছাড়া ছাগলের মাংসের দাম ১ হাজার ৩ টাকা। তবে বাজারে বিক্রি হচ্ছে গরুর মাংস ৭৫০ টাকা কেজি। খাসির মাংস ১০৫০ থেকে ১১০০ টাকায়।

সরকার নির্ধারিত মাছের মধ্যে চাষের পাঙাশ মাছের খুচরা দাম ১৮১ টাকা ও কাতলা মাছের দাম সর্বোচ্চ ৩৫৪ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে এসব মাছের কোনোটিই নির্ধারিত দামে বিক্রি হচ্ছে না। প্রতি কেজি পাঙাশ মাছ বিক্রি হচ্ছে ৩৫০ টাকায়। কাতল মাছ বিক্রি হচ্ছে ৪৫০ থেকে ৫৫০ টাকা কেজি দরে। 

এ ছাড়া, সরকার নির্ধারিত দামে ব্রয়লার মুরগি ১৭৫ টাকা ও সোনালি মুরগি ২৬২ টাকা দরে কিনতে পারবেন ক্রেতারা। তবে বাস্তবে এই দামে কোনো কিছুই মেলেনি। ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ২০০ টাকা কেজি। আর সোনালি মুরগি বিক্রি হচ্ছে ৩১০ থেকে ৩২০ টাকা কেজি। এ ছাড়া প্রতি পিস ডিমের দাম সর্বোচ্চ সাড়ে ১০ টাকা নির্ধারিত করা হলেও বাজারে মিলছে ১০৮ টাকা ডজন। 

অন্যদিকে, সবজির মধ্যে বাঁধাকপি ও ফুলকপি ৩০ টাকা, প্রতি কেজি বেগুন ও সিম ৫০ টাকা ও আলু সাড়ে ২৮ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এ ছাড়া প্রতি কেজি টমেটো ৪০ টাকা, মিষ্টি কুমড়া ২৪ টাকা খুচরা মূল্য বেঁধে দিয়েছে সরকার। তবে বাজারে বাঁধাকপি ও ফুলকপি বিক্রি হচ্ছে ৪০-৪৫ টাকায়, বেগুন ও সিম বিক্রি হচ্ছে ৬০-৭০ টাকায়, টমেটো বিক্রি হচ্ছে ৫০ টাকা কেজি। মিষ্টি কুমড়া বিক্রি হচ্ছে ৩৫ টাকা কেজি। 

অন্যদিকে, বাজারে প্রতি কেজি জাহেদী খেজুর ১৫৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে রাজশাহী বাজারে সর্বনিম্ন খেজুর বিক্রি হচ্ছে ৩৫০ টাকা থেকে ৪৫০ টাকা কেজি। এ ছাড়া সাগর কলার হালি খুচরায় ৩০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে সেটিও বিক্রি হচ্ছে ৩৬ থেকে ৪০ টাকা হালিতে। এ ছাড়া চিড়ার খুচরা দাম ৬০ টাকা, বেসন ১২১ টাকা বেঁধে দিয়েছে কৃষি বিপণন অধিদপ্তর। তবে চিড়া বিক্রি হচ্ছে ৭০ থেকে ৮০ টাকা আর বেসন বিক্রি হচ্ছে ১৪০ থেকে ১৮০ টাকা দরে।

কারাকাস বারবার কেন আক্রান্ত হয়

প্রকাশ: ২৮ জুন ২০২৬, ০৮:৫১ এএম
আপডেট: ২৮ জুন ২০২৬, ০৮:৫৬ এএম
কারাকাস বারবার কেন আক্রান্ত হয়
ছবি: সংগৃহীত

ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসের পশ্চিমে আঘাত হেনেছে শক্তিশালী দুটি ভূমিকম্প। মাত্র এক মিনিটের ব্যবধানে পরপর এই জোড়া ভূমিকম্পে কেঁপে ওঠে পুরো দেশ। এর মধ্যে দ্বিতীয় ভূমিকম্পটির তীব্রতা এতই বেশি ছিল যে, এটি ১৯০০ সালের পর ভেনেজুয়েলার ইতিহাসে সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্প। এই ভয়াবহ দুর্যোগে এ পর্যন্ত হাজার জনের মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়েছে। ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়েছেন আরও শত শত মানুষ। উদ্ধারকারীরা ভারী যন্ত্রপাতি নিয়ে এখনো উদ্ধারকাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।

ভূমিকম্পের তীব্রতা ও কারাকাসের ভঙ্গুর অবকাঠামোর কারণে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বিশাল আকার ধারণ করেছে। সরকারি প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, এই দুর্যোগে দেশের অর্থনৈতিক ক্ষতির পরিমাণ ভেনেজুয়েলার মোট জিডিপির (১১১ বিলিয়ন ডলার) ১ থেকে ৭ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে।

কতটুকু ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কারাকাস?
যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) জানিয়েছে, প্রথম ভূমিকম্পটির মাত্রা ছিল ৭.২, যা কারাকাস থেকে প্রায় ১৬০ কিলোমিটার পশ্চিমে আঘাত হানে। এর ঠিক এক মিনিটেরও কম সময়ের মধ্যে ৭.৫ মাত্রার আরেকটি শক্তিশালী ভূকম্পন অনুভূত হয়।

ভেনেজুয়েলার ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলির প্রধান হোর্হে রদ্রিগেস জানান, দেশজুড়ে অন্তত ২৫০টি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত বা সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে। ঘটনার সময় প্রায় ২০০ জন মানুষ বিভিন্ন ভবনে আটকা পড়েছিলেন। রাজধানী কারাকাস ও এর আশপাশের উপকূলীয় এলাকায় অন্তত ৮টি হাসপাতাল, ভেনেজুয়েলান রেড ক্রসের সদর দপ্তর ও ফরাসি দূতাবাস মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
এ ছাড়া শহরের বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। স্বাস্থ্যমন্ত্রী কার্লোস আলভারাদো জানিয়েছেন, বিভিন্ন চিকিৎসা কেন্দ্রে শত শত মানুষের মরদেহ আনা হয়েছে। এ ছাড়া আহত হয়েছেন প্রায় ৪,৩০০ মানুষ। নিখোঁজ ও আটকে পড়াদের উদ্ধারে তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।

অতীতে কারাকাসের ক্ষয়ক্ষতির ইতিহাস
কারাকাসে ভূমিকম্পে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা এবারই প্রথম নয়। এর আগেও শহরটি বড় বড় ভূমিকম্পের শিকার হয়েছে। ১৮১২ সালে মেরিদা ও কারাকাসে একটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে। ইউএসজিএস-এর তথ্য অনুযায়ী, ওই সময় প্রায় ৩০,০০০ মানুষ মারা যায়। কারাকাসের পুরো ঔপনিবেশিক স্থাপত্য সে সময় ধূলিসাৎ হয়ে গিয়েছিল। ঘরবাড়ি, গির্জা ও সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে যায়। কারাকাসে আরেকটি বড় ভূমিকম্প আঘাত হানে ১৯৬৭ সালে। সে সময় বেশ কয়েকটি বহুতল ভবন ধসে পড়ে ও ২৪০ জন মানুষের মৃত্যু হয়।

কেন কারাকাস এত বেশি ঝুঁকিপূর্ণ?
ভূমিকম্পে কারাকাসের এত বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পেছনে বেশ কিছু ভৌগোলিক ও অবকাঠামোগত কারণ রয়েছে। ভেনেজুয়েলা ক্যারিবিয়ান ও দক্ষিণ আমেরিকান টেকটোনিক প্লেটের সীমানায় অবস্থিত হওয়ায় এখানে ভূমিকম্পের ইতিহাস বেশ দীর্ঘ। ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূ-পদার্থবিদ ভাশান রাইট জানান, কারাকাস একটি গভীর পলল অববাহিকায় অবস্থিত। এই ভৌগোলিক গঠনের কারণে ভূমিকম্পের তরঙ্গ আরও শক্তিশালী হয়ে আঘাত হানে। এ ছাড়া ভূমিকম্পগুলো ছিল ভূপৃষ্ঠের কাছাকাছি, মাত্র ৭.৮ কিলোমিটার গভীরে। অগভীর ভূমিকম্পের শক্তি সরাসরি জনপদে আঘাত করায় ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ অনেক বেশি হয়।

আরেকটি বড় কারণ হলো, কারাকাসের ভবন ও অবকাঠামো ভূমিকম্পসহনীয় করে তৈরি করা হয়নি। আল-জাজিরার সাংবাদিক তেরেসা বো জানান, কারাকাসের আলতামিরা এলাকায় সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। সেখানকার একটি ২২তলা ভবন ধসে পড়ার পর ধ্বংসস্তূপ থেকে বেঁচে যাওয়া মানুষকে উদ্ধার করা হচ্ছে। আলতামিরার অনেক ভবন পলল বা নরম মাটির ওপর তৈরি হওয়ায় সেগুলো সহজেই ধসে পড়েছে।

পাশাপাশি, ভেনেজুয়েলা দীর্ঘ সময় ধরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও অন্যান্য পশ্চিমা দেশের অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার মুখোমুখি। যদিও গত জানুয়ারিতে সামরিক অভিযানে সাবেক প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো অপসারিত হওয়ার পর কিছু নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হয়েছে, তাও কয়েক দশকের অবিনিয়োগের কারণে ভেনেজুয়েলার পক্ষে ভূমিকম্পসহনীয় নগর পরিকল্পনা বা অবকাঠামো তৈরি করা সম্ভব হয়নি।সূত্র: আল-জাজিরা

ময়লার স্তূপে ঢাকছে চট্টগ্রাম নগরীর সড়ক

প্রকাশ: ২৮ জুন ২০২৬, ০৮:৪৫ এএম
আপডেট: ২৮ জুন ২০২৬, ০৯:০৬ এএম
ময়লার স্তূপে ঢাকছে চট্টগ্রাম নগরীর সড়ক
সড়কের পাশে ময়লার স্তূপ। ছবিটি নগরের কাজীর দেউড়ি এলাকার জুবিলী রোড থেকে তোলা/ মোহাম্মদ হানিফ।

চট্টগ্রাম নগরীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ও ব্যস্ত সড়কের পাশে গড়ে উঠেছে আবর্জনার বিশাল স্তূপ। এসব স্তূপ থেকে ময়লা প্রায়ই সড়কের মাঝখানে চলে আসছে। এতে চলাচলে চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন নগরবাসী। বর্ষায় পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়ে উঠেছে। বৃষ্টির পানিতে পচা বর্জ্য সড়কে ছড়িয়ে পড়ে তৈরি হচ্ছে অসহনীয় দুর্গন্ধ। আবর্জনার কারণে নিরাপত্তা ঝুঁকিও বাড়ছে। ময়লার স্তূপ এড়িয়ে চলতে গিয়ে অনেক পথচারীকে সড়কের মাঝখানে নামতে হচ্ছে। এতে দুর্ঘটনার আশঙ্কা বাড়ছে।

গত বুধবার চট্টগ্রাম নগরের দুই নম্বর গেট এলাকায় গেয়ে দেখা যায়, বহদ্দারহাটমুখী সড়কের পাশে বিশাল ময়লার স্তূপ। ময়লাগুলো সড়কের মাঝখানেও ছড়িয়ে পড়েছে। সামনে এগোতেই দেখা যায়, ময়লাযুক্ত পানিতে মশার উপদ্রব। সেখানে সড়ক দখল করে এলোমেলোভাবে কয়েকটি ডাস্টবিনও রাখা হয়েছে। ময়লার গন্ধে নাক চেপে চলাফেরা করছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও পথচারীরা।

নগরের কাজীর দেউড়ি এলাকার জুবিলী রোডে বিএনপি দলীয় কার্যালয়ের সামনেও রয়েছে বড় ময়লার স্তূপ। সড়কের পাশে দেয়াল ও টিনশেড দিয়ে ঘেরা থাকলেও ময়লা নির্ধারিত সীমা ছাড়িয়ে সড়কে ছড়িয়ে পড়েছে। ফলে মানুষকে রাস্তার মাঝ দিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে।

একই চিত্র দেখা গেছে নগরের ওয়াসা, পুরান টিঅ্যান্ডটি সড়ক, সিনেমা প্যালেসের সামনে, বউবাজার, হালিশহর নয়াবাজার বিশ্বরোড, রাহাত্তারপুল, আন্দরকিল্লা, লালদীঘি জহুর হকার্স মার্কেট ও ফিরিঙ্গি বাজার এলাকায়। বাসাবাড়ি, হাসপাতাল ও অফিসের ময়লা-আবর্জনা সড়কের ওপর ফেলে রাখা হচ্ছে। কুকুর ও কাকের ঘাঁটাঘাঁটিতে সেগুলো রাস্তার মাঝখানে ছড়িয়ে পড়ছে।

নগরের জুবিলী রোড এলাকায় সড়কের ওপর ময়লা ফেলার সময় এক কিশোরকে কারণ জানতে চাইলে সে বলে, ‘সবাই ফেলে, তাই আমিও ময়লা ফেলছি।’

দুই নম্বর গেট এলাকার মসজিদ গলির বাসিন্দা মো. আবু নাঈম বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে দুই নম্বর গেট এলাকায় বহদ্দারহাট যাওয়ার মূল সড়কের ওপরেই আবর্জনা ফেলা হচ্ছে। উচ্ছিষ্ট খাবার ও নানা বর্জ্য ফেলায় দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। সামান্য বৃষ্টিতে আবর্জনা রাস্তায় ছড়িয়ে যাচ্ছে।’

কাজীর দেউড়ি জুবিলী রোড এলাকার বাসিন্দা মো. সানাউল্লাহ বলেন, ‘মেয়র সব সময় গ্রিন সিটি, ক্লিন সিটি তৈরির কথা বলেন। অথচ এলাকায় বিএনপি কার্যালয়ের সামনে বিশাল ময়লার স্তূপ পড়ে আছে। ময়লা সড়কের মাঝখানেও চলে যায়। ময়লার দুর্গন্ধে আমরা অতিষ্ঠ। কিন্তু এসব নিয়ে কারও মাথাব্যথা নেই।’

হালিশহর নয়াবাজার এলাকার বেসরকারি চাকরিজীবী মো. ইমাম আলী বলেন, ‘আগে রাত ১১টা থেকে ভোর ৫টার মধ্যে ময়লা পরিষ্কার ও বাসায় বাসায় গিয়ে ডোর টু ডোর ময়লা সংগ্রহ করা হতো। এখন এসব চর্চা নেই। সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্নতাকর্মীরাও আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করে না।

নগরের কাজীর দেউড়ি এলাকার সিএনজিচালক মো. দেলোয়ার বলেন, ‘নগরের অধিকাংশ জায়গায় রাস্তার পাশে ময়লার স্তূপ দেখা যায়। মাস্ক পরে থাকলেও নাক চেপে ধরতে হয়। কিছুদিন আগে দুই নম্বর গেট এলাকায় ময়লা এড়িয়ে চলতে গিয়ে এক ছাত্রী তার গাড়ির সামনে পড়ে গিয়েছিল।’

সিটি করপোরেশন সূত্র জানায়, চসিকের ৩ হাজার ২৭০ জন পরিচ্ছন্নতাকর্মী রয়েছে। বর্তমানে চট্টগ্রাম শহরে প্রতিদিন প্রায় ৩ হাজার টন বর্জ্য উৎপন্ন হয়। এর মধ্যে প্রায় ২ হাজার ২৬৯ টন সংগ্রহ করে চসিক। পরিচ্ছন্নতার কাজে ব্যবহৃত যানবাহন ও যন্ত্রপাতির সংখ্যা ২২৪টি।

চট্টগ্রাম করদাতা সুরক্ষা পরিষদের মুখপাত্র হাসান মারুফ রুমী বলেন, নগরের প্রতিটি ওয়ার্ডে পরিচ্ছন্নতা দেখভালের জন্য এখন কোনো কাউন্সিলর নেই। বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য প্রয়োজনীয় জনবল ও আধুনিক যন্ত্রপাতি নেই। নগরবাসী চসিককে ১৭ শতাংশ ট্যাক্স দেয়, যার মধ্যে ৭ শতাংশ ময়লার জন্য এবং ৩ শতাংশ সড়কবাতির জন্য। কিন্তু এর ফলাফল পাওয়া যাচ্ছে না। যেখানে সড়কবাতি নেই, সেখানে ময়লা বেশি ফেলা হয়। এগুলো সমাধান জরুরি।

চসিকের উপপ্রধান পরিচ্ছন্নতা কর্মকর্তা প্রণব কুমার শর্ম্মা বলেন, পুরো শহরের ময়লা একসঙ্গে সংগ্রহ করা সম্ভব নয়। তাই প্রতিটি ওয়ার্ডে ময়লা রাখার একটা নির্দিষ্ট স্থান করা হয়েছে। আগে তো ময়লা রাখার জায়গাগুলো খোলামেলা ছিল। এখন ইট দিয়ে বেষ্টনী করে দিয়েছি। কিন্তু ময়লা ফেলে রাখা হয় না। দুই নম্বর গেট এলাকার ময়লা রাখার স্থান সরিয়ে আনতে দ্রুত কাজ শুরু করা হবে। তবে সাধারণ মানুষকেও সচেতন হতে হবে।

রেশমের শহরে বিদেশি কাপড়ের দাপট

প্রকাশ: ২৮ জুন ২০২৬, ০৮:৪১ এএম
আপডেট: ২৮ জুন ২০২৬, ০৮:৪২ এএম
রেশমের শহরে বিদেশি কাপড়ের দাপট
রাজশাহীর পুরোনো সিল্ক শো-রুমগুলোয় দেশি-বিদেশি পোশাক বিক্রি করা হচ্ছে। সম্প্রতি নগরীর সিল্কপাড়ার সপুরা সিল্ক মিলস লিমিটেড থেকে তোলা/ খবরের কাগজ

একসময় রাজশাহীর নামের সঙ্গে জড়িয়ে ছিল ঝলমলে রেশমের শাড়ি, নরম-মসৃণ কাপড় আর এক সমৃদ্ধ শিল্পের ইতিহাস। এই রেশম কেবল একটি শিল্পই ছিল না, ছিল এ অঞ্চলের পরিচয়, গর্ব ও অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি। তবে সময়ের স্রোতে সেই গৌরবোজ্জ্বল শিল্প এখন অস্তিত্ব সংকটে। নগরীর পুরোনো সিল্ক শোরুমগুলোয় গেলে আগের মতো রেশমের আধিপত্য চোখে পড়ে না। তাক জুড়ে এখন শুধু ভারতীয় শাড়ি, চীনা কাপড়, নন-সিল্ক থ্রি-পিস ও নানান ধরনের রেডিমেড পোশাক। রাজশাহীর নিজস্ব রেশম যেন নিজের ঘরেই জায়গা হারাচ্ছে।

ব্যবসায়ীরা জানান, শুধু রেশম বিক্রি করে এখন ব্যবসা টিকিয়ে রাখা সম্ভব নয়। উৎপাদন ব্যয় কয়েকগুণ বেড়েছে, কিন্তু ক্রেতারা খুঁজছেন তুলনামূলক কম দামের পণ্য। ফলে ব্যবসা টিকিয়ে রাখতে দোকানে অন্য পণ্য রাখতে হচ্ছে।।

সপুরা সিল্ক মিলস লিমিটেডের ব্যবস্থাপক সাইদুর রহমান বলেন, ‘রেশমের ওপর নির্ভর করে ব্যবসা পরিচালনা করা এখন কঠিন হয়ে পড়েছে। উৎপাদন খরচ বাড়লেও বাজারে সে অনুযায়ী দাম পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে ব্যবসা টিকিয়ে রাখতে নন-সিল্ক পণ্য যুক্ত করতে হচ্ছে।’

জানা যায়, একসময় রাজশাহীর রেশম শিল্প ছিল একটি পূর্ণাঙ্গ অর্থনৈতিক চক্র। তুঁত চাষি, রেশম পোকার চাষি, কোকুন উৎপাদক, সুতা প্রস্তুতকারী, তাঁতি ও ব্যবসায়ী; সবাই ছিলেন একই শৃঙ্খলের অংশ। সেই চক্রের প্রায় প্রতিটি ধাপই আজ দুর্বল হয়ে পড়েছে।

বাংলাদেশ রেশম উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, দেশে বছরে প্রায় ৪০০ টন রেশম সুতার চাহিদা রয়েছে। কিন্তু স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত হচ্ছে মাত্র ৪০ থেকে ৪২ টন। ফলে বাজারের বড় অংশ নির্ভর করছে বিদেশি আমদানির ওপর।

রাজশাহীর ঐতিহ্যবাহী ঊষা সিল্কের জেনারেল ম্যানেজার জহুরুল ইসলাম বলেন, ‘রেশম উন্নয়ন বোর্ড কার্যকরভাবে উৎপাদন ব্যবস্থাকে সচল রাখতে পারেনি। ফলে স্থানীয় চাহিদা পূরণে বাধ্য হয়ে বিদেশ থেকে সুতা আমদানি করতে হচ্ছে।’ তিনি জানান, পাঁচ বছর আগে যে রেশম সুতা ৩-৪ হাজার টাকা কেজি পাওয়া যেত, বর্তমানে সেই সুতা কিনতে হচ্ছে প্রায় ৯ হাজার টাকায়। এতে রেশম কাপড়ের উৎপাদন ব্যয়ও কয়েকগুণ বেড়েছে।

মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব পড়েছে বাজারেও। এক দশক আগে যে রেশম শাড়ি ৩-৪ হাজার টাকায় কেনা যেত, এখন একই মানের শাড়ির দাম ৯-১০ হাজার টাকায় পৌঁছেছে। ফলে মধ্যবিত্তের একটি বড় অংশ রেশম কেনা থেকে সরে যাচ্ছেন।

সংকট দেখা দিয়েছে তুঁত চাষেও। একসময় উত্তরাঞ্চলের বহু কৃষকের প্রধান আয়ের উৎস ছিল এই চাষ। কিন্তু কম লাভ, বেশি শ্রম এবং প্রয়োজনীয় সহায়তার অভাবে কৃষকরা ধীরে ধীরে তুঁত চাষ ছেড়ে দিচ্ছেন। ২০১৫ সালে তুঁত চাষের জমির পরিমাণ ছিল ১৪৮ দশমিক ৫ একর। ২০২৪ সালে তা কমে দাঁড়িয়েছে ১৩৭ দশমিক ৬১ একরে।

রাজশাহীর চারঘাট উপজেলার তুঁতচাষি আব্দুল আওয়াল জানান, তার পূর্বপুরুষরাও তুঁত চাষ করতেন। কিন্তু কম লাভ ও সরকারি প্রণোদনার অভাবে তিনি এখন চাষ অনেকটাই কমিয়ে দিয়েছেন।

বাংলাদেশ রেশম শিল্প মালিক সমিতির তথ্য অনুযায়ী, রাজশাহী বিসিক শিল্প এলাকার ৭৬টি বেসরকারি রেশম কারখানার মধ্যে বর্তমানে ৭০টিই বন্ধ রয়েছে। সংশ্লিষ্টরা এর প্রধান কারণ হিসেবে কাঁচামালের সংকটকে দেখছেন। 

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ড. আমিনুজ্জমান সালেহ রেজা বলেন, ‘রাষ্ট্র পরিচালিত রেশম কারখানা বন্ধ হয়ে যাওয়া, আমদানি করা নিম্নমানের রেশমের প্রবেশ এবং স্থানীয় উৎপাদন ব্যবস্থার দুর্বলতা শিল্পটিকে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে গেছে।’ তিনি বলেন, ‘রেশম শিল্পকে পুনরুজ্জীবিত করতে হলে রেশম পোকার ডিম উৎপাদন থেকে কোকুন, সুতা, তুঁত চাষ ও বিপণন–সবকিছু একটি সমন্বিত মডেলের আওতায় আনতে হবে। কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ ঋণ, প্রযুক্তিগত সহায়তা ও ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত না হলে এই শিল্পের ঘুরে দাঁড়ানো কঠিন।’

বাংলাদেশ রেশম উন্নয়ন বোর্ডের পরিচালক (অর্থ ও পরিকল্পনা) ড. এম এ মান্নান বলেন, ‘শুধু সরকারের ওপর নির্ভর করলে চলবে না, রেশম শিল্পের পুনর্জাগরণে উদ্যোক্তাদেরও এগিয়ে আসতে হবে।’

কালিমাখচিত পতাকা মিছিল

প্রকাশ: ২৮ জুন ২০২৬, ০৮:৩৪ এএম
আপডেট: ২৮ জুন ২০২৬, ০৮:৪২ এএম
কালিমাখচিত পতাকা মিছিল
ছবি: খবরের কাগজ

বিশ্বকাপ ফুটবলকে ঘিরে এখন দেশের বিভিন্ন এলাকায় আর্জেন্টিনা, ব্রাজিল, পর্তুগালসহ অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর পতাকা উড়ছে। এ সময় দেশের বিভিন্ন স্থানে দেখা যাচ্ছে সাদা জমিনে কালো অক্ষরে কিংবা কালো জমিনে সাদা অক্ষরে লেখা ইসলামের কালিমা। রাজধানী থেকে জেলা শহর পর্যন্ত এই পতাকার ব্যবহার নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও গণমাধ্যমে শুরু হয়েছে ব্যাপক আলোচনা।

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, রাজধানীর যাত্রাবাড়ী ফ্লাইওভারে কালিমা লেখা পতাকা টানানোর কার্যক্রমে নির্দেশনা দিচ্ছেন মুফতি হারুন ইজহার। ভিডিওটি ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।

অন্যদিকে এনামুল হাসান নামে এক যুবককে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই ধরনের পতাকা বিক্রির প্রচার চালাতে দেখা গেছে। শুধু রাজধানী নয়, চট্টগ্রামের একটি বড় মিছিলে হাজারও মানুষের হাতে একই ধরনের পতাকা দেখা গেছে। এ ছাড়া পাবনা, গাইবান্ধাসহ দেশের আরও কয়েকটি জেলার ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে, যেখানে একই নকশার পতাকা বহন করতে দেখা যায় বিভিন্ন ব্যক্তিকে।

ইসলামে কালিমা তাইয়্যিবা মুসলমানদের ইমানের মৌলিক ঘোষণাপত্র। বিশ্বের সব মুসলমানের কাছে এই বাণী অত্যন্ত পবিত্র। তবে নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, বিভিন্ন সময়ে কিছু সশস্ত্র উগ্রবাদী সংগঠন নিজেদের পতাকা ও প্রচারের প্রতীকে কালিমার অপব্যবহার করেছে।

দেশে কোনো নির্দিষ্ট ধর্মীয় বাক্য বা কালিমা লেখা পতাকা ব্যবহারের ওপর আলাদা নিষেধাজ্ঞা নেই। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সাবেক এক অতিরিক্ত আইজিপি ও নিরাপত্তা বিশ্লেষক বলেন, ‘ধর্মীয় প্রতীক ব্যবহার করা আর উগ্রবাদী বার্তা ছড়িয়ে দেওয়া দুটি সম্পূর্ণ ভিন্ন বিষয়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দায়িত্ব হবে, যারা এসব পতাকা ব্যবহার করছেন তাদের উদ্দেশ্য, সংগঠনিক সম্পৃক্ততা এবং অর্থায়নের উৎস যাচাই করা। কেবল পতাকা দেখেই সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যেমন ঠিক নয়, তেমনি সম্ভাব্য উগ্রবাদী প্রচারণাকে উপেক্ষা করাও উচিত হবে না।’

নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে ব্যবহার করে বিভিন্ন মতাদর্শভিত্তিক প্রতীক দ্রুত ছড়িয়ে দেওয়ার প্রবণতা বেড়েছে। অনলাইনে পতাকা বিক্রি, ভিডিও প্রচার এবং বিভিন্ন স্থানে একই ধরনের প্রতীকের উপস্থিতি এসব বিষয় নিরাপত্তা সংস্থার জন্য পর্যবেক্ষণের ক্ষেত্র হতে পারে।

কুমিল্লায় যুবক হত্যা: ৯৯৯-এ ফোন করা প্রতিবেশী নারী আটক

প্রকাশ: ২৭ জুন ২০২৬, ১০:৩৫ পিএম
কুমিল্লায় যুবক হত্যা: ৯৯৯-এ ফোন করা প্রতিবেশী নারী আটক
নিহত বাহার। ছবি: সংগৃহীত

কুমিল্লার লালমাইয়ে মো. বাহার (৩২) নামের এক যুবককে গলা কেটে হত্যার অভিযোগ উঠেছে প্রতিবেশি নারীর বিরুদ্ধে। হত্যার পর ওই নারীই জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে ফোন করলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। এ ঘটনায় ঝুমুর নামের ওই নারীকে আটক করা হয়েছে।

শনিবার (২৭ জুন) সকালে লালমাই উপজেলার বাগমারা উত্তর ইউনিয়নের দত্তপুর পূর্বপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত বাহার ওই এলাকার আব্দুর রশিদের ছেলে। আটক ঝুমুর প্রতিবেশী রাসেল মিয়ার স্ত্রী।

সন্ধ্যায় বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন লালমাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নুরুজ্জামান। তিনি জানান, নিহতের স্বজনদের মাধ্যমে জানতে পেরেছি শনিবার সকালে বাহারকে বাড়ির পাশে নির্জন স্থানে ডেকে নেন ঝুমুর। পরে তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে হত্যা করেন। এছাড়া হত্যার পর অভিযুক্ত ঝুমুরই জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে ফোন করে পুলিশকে ঘটনাটি জানান। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। ঘটনাস্থল থেকে ঝুমুরকে আটক করা হয়। ঝুমুর ও বাহারের মধ্যে পরকীয়া সম্পর্কের যে গুঞ্জন উঠেছে- তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

ওসি বলেন, ওই নারী দাবি করছে- বাহার তাকে ধর্ষণের চেষ্টা করেছিল, তাই তাকে  কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। তবে তাকে ঘটনার বিষয়ে আরও জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা গেছে, ঝুমুর ও বাহারের মধ্যে অনৈতিক সম্পর্কের বিষয়ে আগেও এলাকায় কানাঘুষা চলছিল এবং এ নিয়ে সালিশ-বৈঠক হয়েছে।

নিহতের মা নেহারা বেগমের দাবি, প্রতিবেশীদের সঙ্গে জমি ও সীমানা নিয়ে বিরোধ ছিল। শনিবার সকালে ফজরের পর আমার ছেলে হাটতে বের হয়ে তাকে ডেকে নিয়ে হত্যা করা হয়েছে। তিনি জানান, বাহারের দুই হাতের আঙ্গুল অকার্যকর থাকায় স্বাভাবিক কোনো কাজকর্ম করতে পারত না।

জহির শান্ত/এসএন