ঢাকার তুরাগে এক কলেজছাত্রীকে অস্ত্রের মুখে তুলে নিয়ে ধর্ষণের ঘটনায় অভিযুক্ত টাঙ্গাইল শহর আওয়ামী লীগ নেতা গোলাম কিবরিয়া ওরফে বড় মনিরকে কলেজ সভাপতির পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। তিনি ভূঞাপুর উপজেলার লোকমান ফকির মহিলা ডিগ্রি কলেজে সভাপতি হিসেবে সম্প্রতি দায়িত্ব পেয়েছিলেন।
গতকাল সোমবার এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে গোলাম কিবরিয়াকে কলেজের সভাপতির পদ থেকে বহিষ্কার করার কথা জানিয়েছে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। এদিন বিকেলে ভূঞাপুর লোকমান ফকির মহিলা ডিগ্রি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ গোলাম রব্বানী রতন বিষয়টি খবরের কাগজকে নিশ্চিত করেছেন। গোলাম কিবরিয়ার জায়গায় ভূঞাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) সাময়িক দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তরের পরিচালক আতাউর রহমানের সই করা বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, নৈতিক স্খলন, একজন কলেজ শিক্ষার্থীর সঙ্গে অসদাচরণ ও ধষর্ণের অভিযোগ উত্থাপিত হওয়ায় জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত টাঙ্গাইলের লোকমান ফকির মহিলা কলেজের সভাপতি মো. গোলাম কিবরিয়াকে তার পদ থেকে অপসারণ করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
সভাপতি পদে তার মনোনয়ন বাতিল করে টাঙ্গালের ভূঞাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে সভাপতির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। ১ এপ্রিল বিশ্ববিদ্যালয়ের কলেজ পরিদর্শক স্বাক্ষরিত চিঠিতে এই আদেশ দেওয়া হয়। চিঠিতে বলা হয়েছে, এডহক কমিটির মেয়াদ হবে আগামী ১০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। এ সময়ের মধ্যে নিয়মিত গভর্নিং বডি গঠনের কার্যক্রম অবশ্যই সম্পন্ন করতে হবে।
গত ২৯ মার্চ তুরাগ থানার প্রিয়াঙ্কা সিটি আবাসিক এলাকায় বড় মনিরের ফ্ল্যাট থেকে এক কলেজছাত্রীকে উদ্ধার করা হয়। তাকে অস্ত্রের মুখে আটকে রেখে ধর্ষণ করা হয় বলে মামলায় বড় মনিরের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন ওই কলেজছাত্রী। ওই দিন রাতে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বর থেকে আসা একটি ফোন কলের সূত্র ধরে বড় মনিরের ফ্ল্যাট থেকে ওই কলেজছাত্রীকে উদ্ধার করে পুলিশ। তবে রাতেই ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান বড় মনির। পরে তার বিরুদ্ধে থানায় ধর্ষণ মামলা হয়েছে।
এ ছাড়া গত বছর টাঙ্গাইলে এশা নামে আরেক কলেজছাত্রীকে ধর্ষণ এবং তারপর জোর করে গর্ভপাত করানোর অভিযোগও আনা হয় বড় মনিরের বিরুদ্ধে। এশার করা ধর্ষণ মামলায় বড় মনির গ্রেপ্তার হন। শেষ পর্যন্ত এশার রহস্যজনক মৃত্যু হয়। টাঙ্গাইলের শিক্ষক নিক্সন হত্যার সঙ্গে বড় মনি জড়িত বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীর পরিবারের সদস্যরা।