শিশুদেরকে অন্যের সঙ্গে তুলনা না করে তাদের নিজ নিজ প্রতিভা বিকশিত করার সুযোগ দিতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি ও অ্যানিমেল সায়েন্সেস বিশ্ববিদ্যালয়ের (সিভাসু) উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ লুৎফুর রহমান।
শুক্রবার (৩ জানুয়ারি) বিকেলে চট্টগ্রাম মহানগরীর নাসিরাবাদ সরকারি (বালক) উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে মাইজভাণ্ডারী একাডেমির উদ্যোগে সপ্তদশ শিশু-কিশোর সমাবেশের সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার উদ্বোধনকালে তিনি এ কথা বলেন।
অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ লুৎফুর রহমান বলেন, যেকোনো জাতি যদি সামনের দিকে এগিয়ে যেতে চায় এবং বিশ্বে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে চায়, তবে শিক্ষার কোনো বিকল্প নেই। শিক্ষা তখনই পরিপূর্ণ হবে যখন শিক্ষার সঙ্গে অন্যান্য উপকরণ যেমন- শিক্ষার পাশাপাশি খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা যুক্ত থাকবে। সে হিসেবে মাইজভাণ্ডারী একাডেমির এই আয়োজন জাতিকে সামনের দিকে এগিয়ে নেওয়ার আয়োজন।
তিনি বলেন, এই প্রতিযোগিতায় যারা অংশগ্রহণ করেছে তাদের মধ্যে একটি প্রতিযোগিতার মনোভাব সৃষ্টি হবে। ফলে শিশু-কিশোরদের মধ্যে যে সুপ্ত প্রতিভা রয়েছে তা বিকশিত হবে। তাদের মধ্যে নেতৃত্বগুণ সৃষ্টি হবে। তাদের মনের বিকাশ হবে।
অভিভাবকদের উদ্দ্যেশে উপাচার্য বলেন, অভিভাবকদের একটা সমস্যা আছে। আপনারা যখন আপনাদের ছেলে-মেয়েদেরকে কোনো প্রতিযোগিতার জন্য তৈরি করেন, তখন তাদেরকে অন্যের সঙ্গে তুলনা করেন। তুমি ওর মতো নও কেন? সে এটি পারছে তুমি কেন পারছো না, পাশের বাড়ি এই ছেলে-মেয়ে এভাবে চলে, তুমি কেন ওভাবে চলতে পারো না? এসব বলা ভুল। এ রকম ভুল করা যাবে না। কারণ সৃষ্টিকর্তা একেক জনকে একেক গুণে সৃষ্টি করেছে। একটি শিশু কোনো একটা বিষয়ে পারদর্শী হবে, অন্যজন অন্য বিষয়ে পারদর্শী হবে। তাই তাদেরকে সুস্থ প্রতিযোগিতার কথা বলবেন কিন্তু এর কারণে যেন তার মনোবল নষ্ট হয়ে না যায়। তাদের নিজ নিজ দক্ষতায় এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ করে দিতে হবে। তা হলে একটি উন্নত জাতি গড়ে উঠবে।
সপ্তদশ শিশু-কিশোর সমাবেশের প্রধান সমন্বয়ক এইচ এম রাশেদ খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন শাহানশাহ্ হযরত সৈয়দ জিয়াউল হক মাইজভাণ্ডারী (ক.) ট্রাস্টের অধ্যাপক এ ওয়াই এমডি জাফর, উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মো. জসীম উদ্দিন, মাইজভাণ্ডারী একাডেমির সাবেক সভাপতি অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন।
এদিকে, উপমহাদেশের প্রখ্যাত সুফি দরবার, মাইজভাণ্ডার শরিফের প্রতিষ্ঠাতা আধ্যাত্ম পুরুষ ও বিশ্বময় সমাদৃত ত্বরিকা-ই-মাইজভাণ্ডারীয়ার প্রবর্তক গাউসুল আযম হযরত মাওলানা শাহ্ সুফি সৈয়দ আহমদ উল্লাহ্ মাইজভাণ্ডারীর (ক.) ১১৯তম বার্ষিক ওরস শরিফ উপলক্ষে শাহানশাহ্ হযরত সৈয়দ জিয়াউল হক মাইজভাণ্ডারী (ক.) ট্রাস্টের উদ্যোগে ১০ দিনব্যাপী কর্মসূচির অংশ হিসেবে মাইজভাণ্ডারী একাডেমি এই প্রতিযোগিতার আয়োজন করেন।
তাওফিক/