ঢাকা ২৯ আষাঢ় ১৪৩৩, সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬

সর্বশেষ
গৌরনদীতে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে প্রধানমন্ত্রী যমজ ৩ বোনের ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি ব্যাংককে বারে আগুন, নিহত ২৭ নোবিপ্রবিতে গুচ্ছ ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের ভর্তির সময়সীমা বৃদ্ধি, ক্লাস শুরু ১৯ জুলাই শুল্কায়ন প্রক্রিয়া সহজ, ব্যবসার খরচ কমানোর দাবি শিবচরে প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষায় আপন দুই ভাইয়ের অনন্য সাফল্য জাককানইবিতে শুরু হলো ৪র্থ আন্তর্জাতিক নাট্যোৎসব সংবিধান সংশোধন-সংস্কার: মুখোমুখি সরকারি ও বিরোধী দল বিশুদ্ধ পানি ও খাবারের সংকট দুর্গম এলাকায় পৌঁছেনি ত্রাণ দেশের স্বার্থ ক্ষুণ্ন হয় এমন কোনো চুক্তি আইএমএফের সঙ্গে হবে না: অর্থমন্ত্রী বরিশালের পথে প্রধানমন্ত্রী, একঝলক দেখতে মহাসড়কে নেতাকর্মীদের ভিড় হবিগঞ্জে আতঙ্ক ছড়াচ্ছে ত্রিপুরার ‘চাকমা গেট’ পূবালী ব্যাংকের ‘ক্যাশলেস রাজশাহী’ অনুষ্ঠানে ১৪টি ইলেকট্রনিক বুথের উদ্বোধন জুলাই-সেপ্টেম্বরে রিটার্ন জমা দিলেই কর ছাড় পানিবন্দি ৫ শতাধিক পরিবার হাত নেড়ে নেতাকর্মীদের ভালোবাসার জবাব দিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঘোষণা ঢাকা ও দিল্লির জন্য তাৎপর্যপূর্ণ প্রধানমন্ত্রীর বরিশাল যাত্রা, শুভেচ্ছা জানালেন ফরিদপুরের হাজারো নেতাকর্মী প্রধানমন্ত্রীকে দেখতে মাওয়া প্রান্তে জনতার ঢল অপরূপা প্রজাপতি নীল পুনম শিল্প-শিক্ষা সহযোগিতা জোরদার করতে একসঙ্গে কাজ করবে ইউসিবিডি ও কারমো গ্রুপ ইউসিটিসিতে ‘ফ্রেশারস মিট অ্যান্ড গ্রিট’ অনুষ্ঠিত সেমিফাইনালে চার দৈত্য আদালতের রায়ে আইনি সংকটে মমতা ২৫ বছর পূর্ণের আগে পদত্যাগে মিলবে না পেনশন সুবিধা জয়পুরহাটে বজ্রপাতে যুবকের মৃত্যু দ. চীন সাগরে চীনের দাবিকে অবৈধ বলল ১৪ দেশ ও ইইউ শেখ হাসিনা দেশে ফিরলে তাকে জেলে যেতে হবে: চিফ প্রসিকিউটর বরিশালে বিএনপির পৃথক মিছিল, স্পষ্ট বিভাজন! টানা বর্ষণের ক্ষত সড়কে

ব্যাংকের পরিচালক পরিচয়ে স্বর্ণ ব্যবসায়ীর সঙ্গে প্রতারণা, আসামি গ্রেপ্তার

প্রকাশ: ০৯ জানুয়ারি ২০২৫, ০৭:০৩ পিএম
ব্যাংকের পরিচালক পরিচয়ে স্বর্ণ ব্যবসায়ীর সঙ্গে প্রতারণা, আসামি গ্রেপ্তার
পুলিশে হাতে আটক প্রতারণায় জড়িত আসামি আরাফাত রহমান সাহেদ। ছবি: সংগৃহীত

চাঁদপুর শহরের মহিলা কলেজ রোডের গোল্ডেন টাওয়ারে স্বর্ণ মহরা নামে জুয়েলারি দোকানে ন্যাশনাল ব্যাংকের পরিচালক পরিচয়ে ৪টি স্বর্ণের চেইন প্রতারণা করে নিয়ে যাওয়ার ঘটনায় মামলার আসামি আরাফাত রহমান সাহেদকে (৫৫) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

বৃহস্পতিবার (৯ জানুয়ারি) দুপুরে এই তথ্য নিশ্চিত করেন চাঁদপুর সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. বাহার মিয়া।

গ্রেপ্তার আসামি সাহেদ নোয়খালী জেলার সোনাইমুড়ী থানার ৭নং ইউনিয়নের বজরা গ্রামের মৃত মজিবুর রহমানের ছেলে। তার বর্তমান ঠিকানা রাজধানীর উত্তরা পশ্চিম থানার ১২ নম্বর সেক্টরের ৩নম্বর রোডের প্রিয়াংকা হাউজিং সোসাইটির ৯ নম্বর বাসা।

চাঁদপুর সদর মডেল থানা পুলিশ ও এই ঘটনায় ৩ জানুয়ারি দায়ের করা মামলার বিবরণ থেকে জানা গেছে, ন্যাশনাল ব্যাংক চাঁদপুর শাখার ব্যবস্থাপক মো. সাইফুল ইসলাম (৪৮) গত ২ জানুয়ারি ব্যাংকের পরিচালকের ছোট ভাইয়ের মৃত্যুর সংবাদ পেয়ে কুমিল্লা জেলার বড়ুয়া থানার সোনাইমুড়ি গ্রামে যান। যে কারণে তিনি ব্যাংকের কাজে ব্যবহৃত মোবাইলটি ব্যাংকের অফিসার শামছুল ইসলামের নিকট রেখে যান। ওই মোবাইলে প্রতারক সাহেদ সন্ধ্যা ৭টার দিকে একাধিকবার ফোন দেয়। তিনি ওই কল রিসিভ করতে পারেননি। পরে প্রতারক সাহেদ পুনরায় প্রায় রাত ৮টার দিকে দ্বিতীয়বার হোয়াটসঅ্যাপে কল দেন। প্রতারক সাহেদ তখন তার নাম মো. জুলকার নয়ন এবং ব্যাংকের পরিচালক পরিচয় দেন। একই সঙ্গে ব্যাংকের বিভিন্ন তথ্য জানতে চান। প্রতারকের মোবাইল নম্বর ও ছবির সঙ্গে ব্যাংকের পরিচালকের মিল পেয়ে তিনি তথ্য প্রদান করেন।

পরবর্তী সময়ে মামলার বাদী ব্যাংকের ম্যানেজার সাইফুল ইসলামকে প্রতারক সাহেদের সঙ্গে যোগাযোগ করার জন্য বলেন। সে আলোকে তিনি তার দেওয়া মোবাইল নম্বরে ফোন দেন। ওই সময় প্রতারক সাহেদের সঙ্গে কথা হলে তিনি বলেন সপরিবারে তিনি চাঁদপুরে এক বিয়েতে অংশগ্রহণ করবেন এবং তিনি মৎস্য গবষেণা ইনস্টিটিউটের রেস্ট হাউজে রয়েছেন। ম্যানেজারকে বিয়ের অনুষ্ঠানে দাওয়াত দেন এবং বলেন অনুষ্ঠানে আসলে তাকে ডিসি এবং এসপির সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিবেন।

কিছুক্ষণ পরে প্রতারক সাহেদ আবার ম্যানেজার সাইফুলকে ফোন দিয়ে বলেন-আমার স্ত্রী কিছু স্বর্ণের গহনা কিনবে তার পরিচিত কোনো জুয়ালারি দোকান আছে কি না। তিনি সরল মনে ব্যাংকের গ্রাহক মোজাম্মেল হক ও স্বর্ণ মহরার স্বত্তাধিকারী মো. নাজির আহম্মেদ এর কাছ থেকে স্বর্ণ কেনার পরমার্শ দেন।

এরপরই প্রতারক সাহেদ ওই দোকানে গিয়ে ৩ ভরি ৯.৫ আনা ওজনের ৫টি স্বর্ণের চেইন ক্রয় করেন এবং টাকা পরিশোধ করার জন্য তার ক্রেটিড কার্ড প্রদান করেন। ওই দোকানে ক্রেটিড কার্ড থেকে টাকা নেয়ার ব্যবস্থা না থাকায় দোকানের কর্মচারীকে তার গাড়িতে করে মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটে নিয়ে যায়। ওই কর্মচারীকে সেখানে বসিয়ে রেখে কৌশলে গাড়ী নিয়ে পালিয়ে যান প্রতারক সাহেদ।

এই ঘটনায় ন্যাশনাল ব্যাংক চাঁদপুর শাখার ম্যানেজার মামলা করার পর তদন্তকারী কর্মকর্তা চাঁদপুর সদর মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) স্বপন নন্দী তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার এবং সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে প্রতারক সাহেদকে রাজধানীর উত্তরা থেকে বুধবার (৮ জানুয়ারি) বিকেলে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়। রাতে তাকে চাঁদপুর সদর মডেল নিয়ে আসা হয়।

চাঁদপুর সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. বাহার মিয়া বলেন, ওই প্রতারক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করার পর তার দেওয়া তথ্যে মামলার আলামত হিসেবে ৬টি অ্যান্ড্রয়েড ফোন, নগদ ৯ লাখ ৮১ হাজার টাকা, ভিজিটিং কার্ড, ব্যাংকের স্ট্যাটমেন্ট ও স্বর্ণের খালি বক্স জব্দ করা হয়। প্রতারণা করে নেওয়া স্বর্ণের চেইনগুলো সে বিক্রি করে দেয়। তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে এবং ঘটনার সঙ্গে আরও কেউ জড়িত আছে কি না এবং আসামিকে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ডের আবেদন করা হবে।

ফয়েজ আহমেদ ফয়েজ/ মাহফুজ

 

যমজ ৩ বোনের ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি

প্রকাশ: ১৩ জুলাই ২০২৬, ১০:১৬ এএম
যমজ ৩ বোনের ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি
কুড়িগ্রামের তিন জমজ বোন তাবিয়া রহমান, তাহিয়া রহমান ও তাকিয়া রহমান। ছবি: খবরের কাগজ

প্রাথমিকে ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি পেয়েছে কুড়িগ্রামের তিন জমজ বোন তাবিয়া রহমান, তাহিয়া রহমান ও তাকিয়া রহমান। তাদের এ অর্জন জেলায় নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।

তারা তিন বোন কুড়িগ্রাম জজকোর্টের আইনজীবী তারিকুর রহমান তারিক ও গৃহিণী শাহিনা আক্তারের মেয়ে।

‎২০২৫ সালে অনুষ্ঠিত প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষায় তাহিয়া রহমান ও তাকিয়া রহমান কুড়িগ্রাম সরকারি বালিকা বিদ্যালয় থেকে এবং তাবিয়া রহমান অর্জুনডারা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে অংশগ্রহণ করে ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি পায়।

পরিবার ও শিক্ষকরা জানান, ছোটবেলা থেকেই তিন বোন অত্যন্ত মেধাবী, শান্ত ও শিষ্ট স্বভাবের। নিয়মিত পড়াশোনা, শৃঙ্খলাবোধ এবং শিক্ষকদের নির্দেশনা অনুসরণের কারণে তারা এ সাফল্য অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে।

‎তিন কন্যার এমন অর্জনে তাদের বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকা, আত্মীয়-স্বজন ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা আনন্দ প্রকাশ করেছেন। সন্তানের সাফল্যে গর্বিত বাবা-মা সকলের কাছে তাদের জন্য দোয়া চেয়েছেন। একই সঙ্গে মহান আল্লাহর কাছে কন্যাদের উত্তম জ্ঞান, নৈতিকতা ও সুন্দর ভবিষ্যৎ কামনা করেছেন।

‎বর্তমানে তাহিয়া রহমান ও তাকিয়া রহমান কুড়িগ্রাম সরকারি বালিকা বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণিতে এবং তাবিয়া রহমান কুড়িগ্রাম বর্ডার গার্ড স্কুলের ষষ্ঠ শ্রেণিতে অধ্যয়নরত রয়েছে।

একই পরিবারের তিন জমজ বোনের একসঙ্গে ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি অর্জনের বিরল সাফল্যে আনন্দের জোয়ার বইছে এলাকায়। স্থানীয়রা বলছেন, মেধা, অধ্যবসায় ও নিয়মিত পড়াশোনার স্বীকৃতি হিসেবে প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষায় ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি পেয়েছে তাবিয়া রহমান, তাহিয়া রহমান ও তাকিয়া রহমান।

বাবা আইনজীবী তারিকুর রহমান তারিক বলেন, মহান আল্লাহর কাছে তাদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ, উত্তম জ্ঞান ও নৈতিক চরিত্র গঠনের জন্য দোয়া কামনা করছি। পাশাপাশি সকলের কাছেও মেয়েদের জন্য দোয়া চাই।

কুড়িগ্রাম সররি কাকলেজের সাবেক অধ্যক্ষ মির্জা নাসির উদ্দিন বলেন, একই পরিবারের তিন জমজ বোনের একসঙ্গে ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি অর্জন শুধু তাদের পরিবারের গর্বই নয়, কুড়িগ্রামের শিক্ষা অঙ্গনের জন্যও একটি অনন্য ও অনুপ্রেরণামূলক দৃষ্টান্ত। তাদের এই সাফল্য অন্য শিক্ষার্থীদেরও মেধা ও পরিশ্রমের মাধ্যমে এগিয়ে যাওয়ার অনুপ্রেরণা জোগাবে।

‎কুড়িগ্রাম জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা স্বপন কুমার বলেন, যমজ তিন শিক্ষার্থীর জন্য রইল শুভকামনা। আগামীতে আরও ভালো করুক।
‎একই পরিবারের তিন বোনের ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি অর্জন কেবল তাদের পরিবারের জন্য নয়, কুড়িগ্রামের শিক্ষা অঙ্গনের জন্যও এক অনুপ্রেরণাদায়ক ঘটনা হয়ে থাকবে।

মৌলা শিরাজ/আজহার/

শিবচরে প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষায় আপন দুই ভাইয়ের অনন্য সাফল্য

প্রকাশ: ১৩ জুলাই ২০২৬, ০৯:৫৭ এএম
আপডেট: ১৩ জুলাই ২০২৬, ১০:০৭ এএম
শিবচরে প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষায় আপন দুই ভাইয়ের অনন্য সাফল্য
আফ্রিদি মিয়া ও সোয়েব মিয়া। ছবি: খবরের কাগজ
মাদারীপুরের শিবচর উপজেলায় ২০২৫ সালের প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষায় আপন দুই ভাইয়ের সাফল্য এলাকাজুড়ে আনন্দের আবহ সৃষ্টি করেছে।
 
শিবচর উপজেলার ভাওরকান্দি সানকির চর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আফ্রিদি মিয়া ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি অর্জন করেছে। একই বিদ্যালয়ের তার আপন ভাই সোয়েব মিয়া সাধারণ গ্রেডে বৃত্তি লাভ করেছে।
 
বৃত্তি প্রাপ্ত দুই ভাই উপজেলার বাঁশকান্দি ইউনিয়নের ভাওরকান্দি এলাকার হিরু মিয়া মাদবরের ছেলে।
 
রবিবার (১২ জুলাই) প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর প্রকাশিত ফলাফলে দেখা যায়, দুই ভাই একই বিদ্যালয় থেকে বৃত্তি অর্জন করে বিদ্যালয়ের সুনাম বৃদ্ধি করেছে। তাদের এই কৃতিত্বে শিক্ষক, সহপাঠী, অভিভাবক এবং স্থানীয় বাসিন্দারা উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন।
 
বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও স্থানীয়রা জানান, দুই ভাইই ছোটবেলা থেকেই অত্যন্ত মেধাবী, নিয়মিত পড়াশোনা ও শৃঙ্খলার মাধ্যমে তারা এই সাফল্য অর্জন করেছে। ভবিষ্যতেও তারা আরও ভালো ফলাফল করবে বলে আশা প্রকাশ করেন শিক্ষকরা।
 
শিক্ষার্থী আফ্রিদি মিয়া বলেন, আমার এই সফলতার পিছনে আমার বাবা-মা ও শিক্ষকদের অবদান অনেক। আমাদের দুই ভাইয়ের জন্য আপনারা দোয়া করবেন। আমি একজন চিকিৎসক হতে চাই।
 
তাদের বাবা হিরু মিয়া মাদবর বলেন, আমার দুই ছেলের এমন সাফল্যে আমি ও পরিবারের সদস্যরা খুব খুশি। আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছি। আমি সবার কাছে দোয়া চাই, যেন তারা ভবিষ্যতে আরও বড় অর্জনের মাধ্যমে দেশ ও জাতির কল্যাণে ভূমিকা রাখতে পারে।
 
রফিকুল ইসলাম/আজহার/

বিশুদ্ধ পানি ও খাবারের সংকট দুর্গম এলাকায় পৌঁছেনি ত্রাণ

প্রকাশ: ১৩ জুলাই ২০২৬, ০৯:৪১ এএম
আপডেট: ১৩ জুলাই ২০২৬, ০৯:৫২ এএম
বিশুদ্ধ পানি ও খাবারের সংকট দুর্গম এলাকায় পৌঁছেনি ত্রাণ
দুর্গম এলাকায় পৌঁছেনি ত্রাণ/ ছবি: খবরের কাগজ

কক্সবাজারের চকরিয়া, পেকুয়া ও মাতামুহুরীর নিম্নাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হলেও লক্ষাধিক মানুষ এখনো পানিবন্দি অবস্থায় চরম মানবিক সংকটে রয়েছেন। তলিয়ে গেছে নলকূপ ও শৌচাগার। যার ফলে তীব্র বিশুদ্ধ পানি, খাবার ও স্যানিটেশন-সংকট দেখা দিয়েছে। রান্নার সুযোগ না থাকায় দুর্গতরা শুকনো খাবার খেয়ে দিন পার করছেন। তবে দুর্গম এলাকাগুলোতে এখনো সরকারি ত্রাণ না পৌঁছানোর অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা। প্রশাসন অবশ্য দুর্গম এলাকায় ত্রাণ পৌঁছানো এবং দ্রুত পানি নিষ্কাশনের আশ্বাস দিয়েছে।

গতকাল রবিবার সরেজমিনে কয়েকটি এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, বন্যার পানিতে নলকূপ তলিয়ে যাওয়ায় বিশুদ্ধ পানির উৎস প্রায় অচল হয়ে পড়েছে। অনেক পরিবার বাধ্য হয়ে বন্যার পানি ব্যবহার করছে।

অন্যদিকে বাজার, সড়ক ও যোগাযোগব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় চাল, ডাল, শিশুখাদ্য ও নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী সংগ্রহ করাও কঠিন হয়ে পড়েছে। অনেক পরিবার গবাদিপশু ও সামান্য সহায়-সম্বল নিয়ে আশ্রয় নিয়েছে উঁচু স্থান কিংবা ঘরের মাচায়। বিচ্ছিন্ন এলাকাগুলোতে নৌকাই এখন যাতায়াতের একমাত্র মাধ্যম।

স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত বিশুদ্ধ পানি, স্যানিটেশন ও স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা না গেলে পানিবাহিত রোগ ছড়িয়ে পড়তে পারে। চকরিয়া উপজেলার কাকারা, বরইতলী, রসুলাবাদ, হারবাং ও বিবিরখীল এলাকার অনেক বাসিন্দা অভিযোগ করেন, বন্যার কয়েক দিন পেরিয়ে গেলেও তাদের এলাকায় এখনো কোনো সরকারি ত্রাণ পৌঁছেনি।

লক্ষ্যারচর এলাকার শামশুল আলম বলেন, ‘ঘরে এখনো পানি। রাতে ঠিকমতো ঘুমানোর জায়গা নেই, মাচায় কোনোমতে স্ত্রী-সন্তান নিয়ে থাকছি। চুলা জ্বালাতে না পারায় কয়েক দিন ধরে রান্না করতে পারিনি। নলকূপ ডুবে যাওয়ায় বিশুদ্ধ পানির সংকট। শৌচাগারও পানির নিচে থাকায় খুব কষ্টে দিন কাটছে। ঘরে যা খাবার ছিল সব শেষ। এখন সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন শুকনো খাবার, বিশুদ্ধ পানি আর দ্রুত ত্রাণ।’

বরইতলীর বাসিন্দা মোহাম্মদ আলম বলেন, ‘ঘরে যা খাবার ছিল সব শেষ। বাজারে যেতে পারছি না। ছোট ছোট সন্তানদের নিয়ে খুব কষ্টে আছি। এখন সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন খাবার আর বিশুদ্ধ পানির।’

কাকারা ইউনিয়নের আবদুল কাদের বলেন, ‘নৌকা ছাড়া বের হওয়ার উপায় নেই। কয়েক দিন ধরে অর্ধাহারে দিন কাটছে। দ্রুত ত্রাণ না এলে আরও বড় বিপদ হবে।’

বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে শিক্ষার্থীরাও। অনেকের বই-খাতা, স্কুলব্যাগ ও শিক্ষা উপকরণ পানিতে ভেসে গেছে। রসুল্লাবাদের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী তানজিলা আক্তার বলে, ‘আমার সব বই-খাতা নষ্ট হয়ে গেছে। সামনে পরীক্ষা। এখন কীভাবে পড়াশোনা করব বুঝতে পারছি না।’

কক্সবাজার পরিবেশ ও বন সংরক্ষণ পরিষদের সভাপতি দীপক শর্মা দীপু বলেন, ‘মাতামুহুরী নদী খনন, অবৈধ দখল উচ্ছেদ এবং স্বাভাবিক পানি প্রবাহ নিশ্চিত করা না গেলে প্রতিবছরই এ ধরনের দুর্যোগ আরও ভয়াবহ হবে। শুধু ত্রাণ নয়, স্থায়ী সমাধানের উদ্যোগ নিতে হবে।’

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, জলাবদ্ধতা দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার পেছনে স্লুইসগেট ব্যবস্থাপনার দুর্বলতাও দায়ী। কিছু স্লুইসগেট ইজারা নিয়ে স্থানীয় প্রভাবশালীরা মাছ চাষ করায় বন্যার সময়ও সময়মতো গেট খোলা হয় না। স্থানীয় বাসিন্দা আজিজ উদ্দিন বলেন, ‘সময়ে গেট খুললে এতদিন পানি আটকে থাকত না। মানুষের দুর্ভোগও অনেক কম হতো।’

কক্সবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. নুরুল ইসলাম বলেন, ‘বান্দরবান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে মাতামুহুরী নদীর পানি অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় চকরিয়া ও পেকুয়ার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। নদীর পানির উচ্চতা বেশি থাকায় স্লুইসগেট খুললেও পানি বের হওয়ার সুযোগ ছিল না। নদীর পানি কমে গেলে দ্রুত পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করা হবে।’

চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহীন দেলোয়ার বলেন, ‘বন্যাকবলিত সব ইউনিয়নের জন্য পর্যাপ্ত ত্রাণ বরাদ্দ পাওয়া গেছে। ইতোমধ্যে অনেক এলাকায় ত্রাণ বিতরণ করা হয়েছে। যেসব দুর্গম এলাকায় এখনো পৌঁছানো সম্ভব হয়নি, সেখানে নৌকার মাধ্যমে দ্রুত ত্রাণ পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। কোনো ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে সহায়তার বাইরে রাখা হবে না।’

জেলা প্রশাসক মো. আব্দুল মান্নান বলেন, ‘জেলার ৬৪০টি আশ্রয়কেন্দ্রে ১৫ হাজারের বেশি মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন। দুর্গত মানুষের জন্য সরকারিভাবে ২০০ মেট্রিক টন চাল, ৪৫০ প্যাকেট শুকনো খাবার এবং ১২ লাখ ৪৫ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রতিটি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় দ্রুত ত্রাণ পৌঁছে দিতে কাজ চলছে।’

নগদ অর্থ ও ত্রাণসামগ্রী বিতরণ

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, গত ৭ জুলাই থেকে গতকাল পর্যন্ত বিভিন্ন পর্যায়ে মানবিক সহায়তা হিসেবে বড় অঙ্কের নগদ অর্থ ও চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে শুধু ত্রাণ হিসেবেই মোট ৫ হাজার ৭০০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া ৬৪টি জেলার জন্য পৃথকভাবে ত্রাণ কার্যক্রম চলমান রয়েছে, এতে সর্বমোট চাল বরাদ্দ করা হয়েছে ৮ হাজার ৯৫০ মেট্রিক টন। দুর্যোগ সহায়তায় নগদ অর্থের পরিমাণ ৪ কোটি ৬০ লাখ টাকা।

সাতটি উপদ্রুত জেলায় গত কয়েক দিনের ত্রাণসহায়তার মধ্যে চট্টগ্রাম জেলায় ৬৫ লাখ টাকা ও ১ হাজার ২০০ মেট্রিক টন চাল, কক্সবাজার জেলায় ৩০ লাখ টাকা ও ৪৫০ মেট্রিক টন চাল, বান্দরবান জেলায় ২০ লাখ টাকা ও ৪০০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ করা হয়েছে। খাগড়াছড়ি জেলায় ২০ লাখ টাকা ও ৪০০ মেট্রিক টন চাল, রাঙামাটিতে ২৫ লাখ টাকা ও ৫০০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ করেছে মন্ত্রণালয়। মৌলভীবাজারে ১০ লাখ টাকা ও ২০০ মেট্রিক টন চাল এবং হবিগঞ্জ জেলায় ৫ লাখ টাকা ও ১০০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। 

বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি (বিডিআরসিএস) তাদের কেন্দ্রীয় জরুরি কার্যক্রম কেন্দ্রের মাধ্যমে সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। বিভিন্ন জেলা ইউনিটে নগদ অর্থ ও উদ্ধার সরঞ্জামও পাঠাচ্ছে তারা। দুর্যোগের তীব্রতা মোকাবিলায় বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি, সেভ দ্য চিলড্রেন ও কারিতাস বাংলাদেশের মতো আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোও তাদের আগাম সতর্কতামূলক ও সহায়তা কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে। 

বন্যাদুর্গত মানুষের পাশে যুবদল

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত চট্টগ্রাম, খাগড়াছড়ি, বান্দরবান, রাঙামাটি, কক্সবাজার, ফেনী, নোয়াখালী, কুমিল্লা, সিলেট, সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজারসহ বিভিন্ন জেলার দুর্গত মানুষের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে জাতীয়তাবাদী যুবদল কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির উদ্যোগে গঠিত মেডিকেল টিম মাঠপর্যায়ে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা ও প্রয়োজনীয় ওষুধ বিতরণ কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এর অংশ হিসেবে চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে মেডিকেল টিম বন্যাদুর্গতদের জন্য ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প ও ত্রাণ বিতরণ কর্মসূচি পালন করে।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন যুবদলের কেন্দ্রীয় সহসভাপতি ডা. লোহানী তাজুল ইসলাম, স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক ডা.গালিব হাসান ও সহ স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক ডা. মাহমুদুল হাসান খান সুমন ও ডা. আল মামুন হাসান খান এমিল ও ডা. সানিয়া নাসরিন।

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদল কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সভাপতি আবদুল মোনায়েম মুন্না ও সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম নয়ন এমপির দিকনির্দেশনায় এই মানবিক কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

হবিগঞ্জে আতঙ্ক ছড়াচ্ছে ত্রিপুরার ‘চাকমা গেট’

প্রকাশ: ১৩ জুলাই ২০২৬, ০৯:২২ এএম
আপডেট: ১৩ জুলাই ২০২৬, ০৯:৪৩ এএম
হবিগঞ্জে আতঙ্ক ছড়াচ্ছে ত্রিপুরার ‘চাকমা গেট’
ত্রিপুরার চাকমা গেট। ছবি: সংগৃহীত

অতিবৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে সিলেট বিভাগের বিস্তীর্ণ অঞ্চল প্লাবিত হলেও এ বছর খোয়াই অববাহিকার দুর্যোগ ভাবিয়ে তুলেছে প্রশাসন ও পরিবেশবিদদের। হবিগঞ্জের বাল্লা সীমান্ত হয়ে চুনারুঘাট, হবিগঞ্জ সদর হয়ে বয়ে যাওয়া এই নদী বর্ষায় দুর্ভোগের কারণ হয় প্রতিবছর। তবে এই বছর বন্যা পরিস্থিতি আগের সব দুর্যোগকে ছাপিয়ে গেছে। আবহাওয়াবিদ, পরিবেশবিদদের অভিযোগ, এবারের এই আতঙ্কের নাম ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের ‘চাকমা গেট’ বা চাকমাঘাট ব্যারাজ। 

উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল এবং আকস্মিকভাবে এই গেট খুলে দেওয়ার ফলে হবিগঞ্জের খোয়াই নদীর পানি বিপৎসীমার ২২০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে ভয়াবহ প্লাবনের সৃষ্টি করেছে।

খোয়াই নদীর উৎপত্তিস্থল ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের আঠারোমুড়া পাহাড়ের পূর্ব দিকে। হবিগঞ্জের বাল্লা স্থলবন্দরের কাছে এ নদী বাংলাদেশে ঢুকেছে। ১৬০ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের নদীটির ৯৪ কিলোমিটার অংশ পড়েছে বাংলাদেশে। ৯০ দশকের মাঝামাঝি সময় ভারত সরকার ত্রিপুরার তেলিয়ামুড়া এলাকায় ‘চাকমা গেট’ নামে ব্যারাজ তৈরি করে। গত এক সপ্তাহে ত্রিপুরায় ভারী বৃষ্টিপাত হয়েছে। তখন চাকমাগেটের সব কপাট খুলে দেওয়া হয়। ফলে ঢলে ভেসে যায় খোয়াই অববাহিকা। 

গত এক সপ্তাহ ধরে হবিগঞ্জে মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টিপাত হলেও খোয়াই নদীর পানি বিপৎসীমার নিচেই ছিল। কিন্তু গত ৯ জুলাই পরিস্থিতি হঠাৎ বদলে যায়। কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে পানি বেড়ে রাতে বিপৎসীমার ২২০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। আকস্মিক এই স্রোতে জেলার কয়েকটি উপজেলায় বাঁধ ভেঙে লোকালয়ে পানি ঢুকে পড়ে। আবার একদিনের ব্যবধানে নদীর পানি নেমে আসে বিপৎসীমার ৭ সেন্টিমিটার নিচে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড, পরিবেশকর্মী ও বিশেষজ্ঞ পর্যবেক্ষকরা বলছেন, ত্রিপুরায় ভারী বৃষ্টির পর চাকমা গেট খুলে দেওয়ায় স্বল্প সময়ের মধ্যে বিপুল পরিমাণ পানি খোয়াই নদী দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করে। এতে ঢলের স্বাভাবিক প্রবাহপথে পরিবর্তন দেখা দেয় এবং হবিগঞ্জের নদী অববাহিক এলাকায় বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

এবারের ঢলে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে পড়েছে হবিগঞ্জ শহর রক্ষা বাঁধের মাছুলিয়া পয়েন্ট। স্থানীয়দের আশঙ্কা, বাঁধ ভেঙে গেলে শহরের বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হওয়ার পাশাপাশি বড় ধরনের প্রাণহানি ও সম্পদের ক্ষতি হতে পারে।

পাউবো হবিগঞ্জের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সাইদুর রহমান খবরের কাগজকে বলেন, ‘ভারী বর্ষণ হলে আমরা উদ্বিগ্ন থাকি, কখন ভারতীয় কর্তৃপক্ষ চাকমা গেট খুলে দেয়। হঠাৎ গেট খুলে দিলে খোয়াই নদীর পানির স্তর ৮ থেকে ১০ ফুট বেড়ে যায়।’

‘খোয়াই রিভার ওয়াটার কিপার’-এর সংগঠক তোফাজ্জল সোহেল বলেন, ‘চাকমা ব্যারাজের মাধ্যমে শুষ্ক মৌসুমে তারা (ভারতীয় কর্তৃপক্ষ) পানি ধরে রাখে, আর বর্ষা মৌসুমে পানি ছেড়ে দেয়। গত ৯ জুলাই ভারত ঠিক এ কাজটিই করেছে। তাদের বেশি বৃষ্টিপাত হওয়ায় গেট খুলে দিয়েছে। এমন ঘটনা আন্তর্জাতিক নদী আইনের লঙ্ঘন।

সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল-পরিবেশ বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আনোয়ারুল ইসলাম খবরের কাগজকে বলেন, ‘এবারের রেইনফলের প্যাটার্নে দেখা যাচ্ছে, আপস্ট্রিমে বিশেষ করে বরাক ভ্যালিতে বৃষ্টির পরিমাণ তুলনামূলকভাবে করিমগঞ্জ ও ত্রিপুরা ভ্যালির থেকে কম। এ কারণে ওয়াটার ফ্লো খোয়াই নদীতে বেশি।’

সিলেটের সীমান্ত নদীগুলো যেসব পয়েন্টে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে, তার প্রায় সবই অবাধে বালু, পাথর উত্তোলন করা হয়েছে। যার কারণে নদীর স্বাভাবিক গতি ব্যাহত হয়েছে। ‘এ কারণে পানির স্বাভাবিক ড্রেনেজ ক্যাপাসিটি বা নরমাল ওয়াটার ফ্লো ব্যাহত হচ্ছে। বিশেষ করে সুরমার আপস্ট্রিমে।’ যোগ করেন ড. মোহাম্মদ আনোয়ারুল ইসলাম।

পানিবন্দি ৫ শতাধিক পরিবার

প্রকাশ: ১৩ জুলাই ২০২৬, ০৯:১৮ এএম
পানিবন্দি ৫ শতাধিক পরিবার
বুকসমান পানিতে ডুবে গেছে সড়ক। এর মধ্যে দিয়ে স্থানীয়দের প্রয়োজনীয় কাজ করতে হচ্ছে। চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার বড়দুয়ারা গ্রামের ভান্ডারীপাড়া থেকে গতকাল তোলা। ছবি: খবরের কাগজ

টানা ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলায় সাঙ্গু নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করে লোকালয়ে প্রবেশ করেছে। এতে বাজালিয়া ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের বড়দুয়ারা গ্রামের ৫ শতাধিক পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, এ গ্রামের অধিকাংশ বসতঘরে হাঁটু থেকে বুকসমান পানি। অনেকে ঘরবাড়ি ছেড়ে আত্মীয়স্বজনের বাড়িতে চলে গেছেন। আবার অনেকে প্রতিবেশীদের বাড়ির দোতলায় অবস্থান নিয়েছেন। অনেক পুরুষকে মসজিদের দোতলায় অবস্থান নিতে দেখা গেছে। কাঁচা-পাকা সড়কগুলো এখন পানির নিচে। কোথাও কোথাও নৌকা ছাড়া চলাচলের উপায় নেই।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গ্রামটিতে ৫ শতাধিক পরিবার বসবাস করে। বন্যার পানি বসতঘরে প্রবেশ করার পর থেকে এখন পর্যন্ত সরকারিভাবে মাত্র ৫০ প্যাকেট শুকনো খাবার বিতরণ করা হয়েছে। তবে শনিবার (১১ জুলাই) বিকেলে বড়দুয়ারা মাদক প্রতিরোধ ও সমাজ উন্নয়ন কমিটির উদ্যোগে ২ শতাধিক পানিবন্দি পরিবারের মধ্যে ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করা হয়। এ ছাড়া গ্রামের বিভিন্ন ব্যবসায়ী ও প্রবাসীর ব্যক্তিগত উদ্যোগে প্রতিদিন এক বেলা করে রান্না করা খাবার বিতরণ করা হচ্ছে।

আরও জানা যায়, পানিবন্দি অবস্থায় নারী, শিশু ও বৃদ্ধরা সবচেয়ে বেশি কষ্টে রয়েছেন। নিরাপদ শৌচাগারের অভাব, বিশুদ্ধ পানির সংকট এবং স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ না থাকায় তারা বিভিন্ন সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন। আবার বুড়ির দোকান ব্রিজ এলাকায় কেরানীহাট-বান্দরবান মহাসড়ক কোমরসমান পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় অনেক বৃদ্ধ ও অসুস্থ ব্যক্তি সরকারি কিংবা বেসরকারি হাসপাতালে স্বাভাবিকভাবে যাতায়াত করতে পারছেন না। এতে তারা চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। এ ছাড়া এ গ্রামের বিস্তীর্ণ কৃষিজমি, সবজিখেত, পুকুর ও মাছের প্রজেক্ট পানিতে তলিয়ে গেছে। এতে অনেকেই আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন।

বড়দুয়ারা গ্রামের গর্জন্যাপাড়ার বাসিন্দা নুরুল ইসলাম বলেন, ‘তিন বছর পর এত বড় বন্যা দেখলাম। বাড়ির ভেতর পানি উঠে যাওয়ায় পরিবারের সদস্যদের এক নিকটাত্মীয়ের বাড়িতে পাঠিয়ে দিয়ে আমি এলাকায় অবস্থান করছি। বাড়িতে থাকা আসবাবপত্র ও প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের অনেক ক্ষতি হয়েছে। কিন্তু দুঃখের বিষয়, এখন পর্যন্ত কোনো ধরনের সরকারি শুকনো খাবার বা ত্রাণসামগ্রী পাইনি।’

ওই এলাকার বাসিন্দা সাজেদা বেগম বলেন, ‘ছেলেমেয়ে নিয়ে খুব কষ্টে আছি। এক প্রতিবেশীর বাড়ির দোতলায় আশ্রয় নিয়েছি। এখানে রান্না করার কোনো পরিবেশ নেই। সরকারিভাবে কোনো ত্রাণও পাইনি। তবে ব্যক্তি উদ্যোগে প্রতিদিন এক বেলা করে রান্না করা খাবার বাড়িতে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে।’

একই গ্রামের বড় হুজুর পাড়ার যুবক মো. মহিউদ্দিন বলেন, ‘২০২৩ সালের পর এবার ভয়াবহ বন্যা দেখলাম। এ বন্যায় আমাদের গ্রামের প্রায় ৯৫ শতাংশ মানুষ পানিবন্দি ও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। অথচ যাদের ক্ষতি হয়নি তারাই ত্রাণসামগ্রী পাচ্ছেন। এখানকার বিস্তীর্ণ ফসলে জমি পানির নিচে চলে গেছে। অসংখ্য পুকুরের মাছ ভেসে গেছে।’

সাতকানিয়া উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মোহাম্মদ আলমগীর বলেন, ‘উপজেলার জন্য এখন পর্যন্ত ৯ লাখ টাকা ও ১৭৫ টন চাল বরাদ্দ পেয়েছি। এখন পর্যন্ত ওই টাকার শুকনো খাবার এবং ৯০ টন চাল বিতরণ করা হয়েছে। আমরা পর্যায়ক্রমে প্রতিটি এলাকায় সরকারি সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করছি।’

তিনি বলেন, ‘বাজালিয়া ইউনিয়নের জন্য ১ টন চাল বারাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া দ্রুত সময়ের মধ্যে বড়দুয়ারা এলাকায় ত্রাণসামগ্রী পৌঁছানো হবে। এ বিষয়ে আমি প্রশাসনিক কর্মকর্তা এবং স্থানীয় ইউপি সদস্যের সঙ্গে কথা বলেছি।’