নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে চাঞ্চল্যকর মা-মেয়েকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের পলাতক আসামি মো. ইব্রাহিমকে (৪৫) নিয়ে ভোটার অন্তর্ভুক্তি ক্যাম্প পরিদর্শন করেছেন উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক নুরুল আলম শিকদার।
শনিবার (১৫ মার্চ) দুপুরে চরএলাহী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে নুরুল আলম শিকদার পলাতক আসামিসহ নিজের ফেসবুকে লাইভ করলে বিষয়টি দেখে এলাকায় বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়।
অভিযুক্ত মো. ইব্রাহিম চরএলাহী ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান প্রয়াত আবদুল মতিন তোতার ছেলে। তোতা কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির যুগ্ম-আহ্বায়ক ও চরএলাহী বিএনপির সভাপতি ছিলেন। ইব্রাহিমসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে গত ২৭ অক্টোবর কোম্পানীগঞ্জ থানায় চাঞ্চল্যকর মা-মেয়েকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ মামলা দায়ের করা হয়।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, ভুক্তভোগী চরএলাহীর বিচ্ছিন্ন দ্বীপ চরবালুয়ার এক নারীর (৩৫) স্বামী কাভার্ড ভ্যান চালক। বাড়িতে তিনি তার মেয়ে (১৭) ও দেবরসহ (২১) থাকেন। তাদের বাড়ির কাছাকাছি তেমন কারও বাড়িঘরও নেই। গত ২০ অক্টোবর রাত ১১টার দিকে একই ইউনিয়নের ইব্রাহিম তার সহযোগী সাইফুল, রাসেদ, হাসান, হারুন ও রাজুকে নিয়ে তাদের বাড়িতে ঢুকে দেবরকে বেঁধে রেখে আসামিরা মা-মেয়েকে উপর্যুপরি ধর্ষণ করেন।
আসামিদের মধ্যে, চরএলাহী গ্রামের জয়নাল আবেদীনের ছেলে মো. রাজিব ওরফে রাজু (৩০), চরবালুয়া গ্রামের নুরনবীর ছেলে মো. রাসেদ (৩৫), বেলায়েত হোসেনের ছেলে মো. হাসান (৪২) ও মো. হানিফ চৌকিদারের ছেলে মো. হারুনকে (৩০) মামলার একদিনের মধ্যে গ্রেপ্তার করে পুলিশ ও র্যাব। তারা এখন কারাগারে আছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক চরএলাহীর এক বাসিন্দা খবরের কাগজকে বলেন, পুলিশ ইচ্ছাকৃতভাবে ইব্রাহিমকে ধরছে না। কারণ সে চরএলাহী ঘাটের ইজারাদারদেরকে তার বাবার হত্যা মামলায় আসামি করে জেলে পাঠিয়ে এখন প্রতিদিন লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন। তা থেকে দৈনিক হারে রাজনীতিবিদ, প্রশাসনকে ভাগ দিয়ে আসছেন।
অভিযুক্ত মো. ইব্রাহিম খবরের কাগজকে বলেন, ‘এ মামলায় আমাকে মিথ্যা আসামি করা হয়েছে। জেলে থাকা চারজনও নির্দোষ। তারপরও আমি ফেরারী। জামিনের জন্য যাইনি। আজ (শনিবার) শিকদার আংকেল আসার পর উনার সঙ্গে দেখা করতে যাই। সেটা ফেসবুক লাইভে যাওয়ায় সবাই দেখেছে। আমি এ মামলার প্রত্যাহার চাই।’
সংঘবদ্ধ ধর্ষণের পলাতক আসামিকে নিয়ে ভোটার ক্যাম্পে যাওয়ার বিষয়টি খবরের কাগজকে নিশ্চিত করেন বিএনপি নেতা নুরুল আলম শিকদার।তিনি বলেন, সে গুরুতর আসামি হলে পুলিশ তাকে ধরে না কেন? আমি ওই পথ দিয়ে যাওয়ার সময় ভোটারদের সমাগম শুনে ভেতরে যাই। সেখানে ইব্রাহিম তোতা আমার সঙ্গে ছিল।
কোম্পানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গাজী মুহাম্মদ ফৌজুল আজিম খবরের কাগজকে বলেন, ধর্ষণ মামলার পলাতক আসামির খোঁজ পেলে অবশ্যই পুলিশ গ্রেপ্তার করবে। ইব্রাহিমকে গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত আছে।
ইকবাল হোসেন মজনু/মাহফুজ