কুমিল্লার দাউদকান্দির দৌলতেরকান্দি গ্রামে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে বিশালদেহী ষাঁড় ‘রাজাবাবু’। বয়স ২৪ মাস, ওজন ২৬ মণ। লম্বায় ৯ ফুট ৫ ইঞ্চি, উচ্চতায় ৬ ফুট। আপেল, কমলা, তরমুজসহ নানা ফল খায়। মালিক আব্দুল আউয়াল দাম হাঁকছেন ১৫ লাখ টাকা। প্রতিদিন দেখতে ভিড় করছেন শত শত মানুষ। মা ফিরোজা বেগম দেখাশোনা করেন। গরুটিকে বাড়িতেই বিক্রি করতে চান মালিক।
স্থানীয়দের ধারণা, এবারের ঈদুল আজহায় রাজাবাবুই হবে কুমিল্লার সবচেয়ে বড় কোরবানির গরু। এর দাম হাঁকানো হয়েছে ১৫ লাখ টাকা।
মালিক আব্দুল আউয়াল জানান, কোরবানির হাটে তোলার আগেই যদি বাড়ি থেকে বিক্রি করা যায়, তা হলে কিছুটা কষ্ট কমবে। কারণ, প্রতিদিন গরুটির পেছনে প্রচুর খরচ হয়। গরম বেশি পড়লে দিনে দুই-তিনবার গোসল করাতে হয়। বিদ্যুৎ না থাকলে হাতপাখা দিয়ে বাতাস করতে হয়। এমনকি প্রতিরাতে কেউ না কেউ জেগে থাকে গরুটির দেখাশোনার জন্য।
আউয়াল আরও জানান, প্রায় ৮ বছর ধরে প্রতিবছর ৫ থেকে ৬টি গরু কোরবানি ঈদের জন্য লালন-পালন করে আসছেন। চার বছর আগে শখ করে ঢাকার গাবতলী থেকে হোলস্টাইন ফ্রিজিয়ান জাতের একটি বকনা গরুর বাচ্চা কিনে আনেন তিনি। সেটিকে লালন-পালন করে বড় করার পর বাড়িতেই জন্ম নেয় ‘রাজাবাবু’। এখন ষাঁড়টির বয়স ২৪ মাস হলেও তার ওজন দাঁড়িয়েছে ২৬ মণে। প্রতি মাসে এক মণের বেশি ওজন বাড়ে গরুটির।
রাজাবাবুর দেখাশোনার দায়িত্বে রয়েছেন আব্দুল আউয়ালের মা ফিরোজা বেগম। আউয়াল বলেন, ‘মাত্র ২৪ মাস বয়স রাজাবাবুর। আমার মা শখ করে তার নাম রেখেছেন। স্নেহ, আদর আর ভালোবাসায় রাজাবাবুকে আমরা যত্ন করে লালন-পালন করেছি। বিক্রি করতে কষ্ট হবে, কিন্তু কিছু করার নেই। আমাদের কাছে তাকে রাখার মতো নিরাপদ জায়গা নেই।’