ঢাকা ২৯ আষাঢ় ১৪৩৩, সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬

সর্বশেষ
বরিশালের পথে প্রধানমন্ত্রী, একঝলক দেখতে মহাসড়কে নেতাকর্মীদের ভিড় হবিগঞ্জে আতঙ্ক ছড়াচ্ছে ত্রিপুরার ‘চাকমা গেট’ পূবালী ব্যাংকের ‘ক্যাশলেস রাজশাহী’ অনুষ্ঠানে ১৪টি ইলেকট্রনিক বুথের উদ্বোধন পানিবন্দি ৫ শতাধিক পরিবার হাত নেড়ে নেতাকর্মীদের ভালোবাসার জবাব দিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঘোষণা ঢাকা ও দিল্লির জন্য তাৎপর্যপূর্ণ প্রধানমন্ত্রীর বরিশাল যাত্রা, শুভেচ্ছা জানালেন ফরিদপুরের হাজারো নেতাকর্মী প্রধানমন্ত্রীকে দেখতে মাওয়া প্রান্তে জনতার ঢল অপরূপা প্রজাপতি নীল পুনম শিল্প-শিক্ষা সহযোগিতা জোরদার করতে একসঙ্গে কাজ করবে ইউসিবিডি ও কারমো গ্রুপ ইউসিটিসিতে ‘ফ্রেশারস মিট অ্যান্ড গ্রিট’ অনুষ্ঠিত সেমিফাইনালে চার দৈত্য আদালতের রায়ে আইনি সংকটে মমতা ২৫ বছর পূর্ণের আগে পদত্যাগে মিলবে না পেনশন সুবিধা জয়পুরহাটে বজ্রপাতে যুবকের মৃত্যু দ. চীন সাগরে চীনের দাবিকে অবৈধ বলল ১৪ দেশ ও ইইউ শেখ হাসিনা দেশে ফিরলে তাকে জেলে যেতে হবে: চিফ প্রসিকিউটর বরিশালে বিএনপির পৃথক মিছিল, স্পষ্ট বিভাজন! টানা বর্ষণের ক্ষত সড়কে বরিশালের পথে প্রধানমন্ত্রী দেশজুড়ে অব্যাহত থাকবে ভারী বর্ষণ ১৩ জুলাই: তুলা, বৃশ্চিক, ধনু, মকর, কুম্ভ ও মীনের আজকের রাশিফল ১৩ জুলাই: মেষ, বৃষ, মিথুন, কর্কট, সিংহ ও কন্যার আজকের রাশিফল প্রথমবার ইংলিশ পরীক্ষা দেবেন মেসি পেলে-ম্যারাডোনার পাশে বেলিংহ্যাম ১৩ জুলাই ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচি বিশ্বকাপ আমাকে বদলে দিয়েছে: হালান্ড ফ্রান্স-স্পেন ম্যাচ কে জিতবে, অপ্টার ভবিষ্যদ্বাণী সেমিফাইনালের আগে ফ্রান্সকে নিয়ে মন্তব্য, তোপের মুখে স্পেনের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বিশ্বকাপে নতুন ইতিহাসের সামনে মেসি

মতলবে কিশোর গ্যাংয়ের ৫ সদস্য গ্রেপ্তার

প্রকাশ: ১৪ জুন ২০২৫, ০৪:১৩ পিএম
আপডেট: ১৪ জুন ২০২৫, ০৪:৪১ পিএম
মতলবে কিশোর গ্যাংয়ের ৫ সদস্য গ্রেপ্তার
ছবি: খবরের কাগজ

চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণ উপজেলায় যৌথ বাহিনী অভিযান চালিয়ে দেশীয় অস্ত্রসহ কিশোর গ্যাংয়ের পাঁচ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে।

শনিবার (১৪ জুন) দুপুরে এ তথ্য নিশ্চিত করেন চাঁদপুর আর্মি ক্যাম্পের অপারেশনাল অফিসার লেফটেন্যান্ট জাবিদ হাসান।

গ্রেপ্তাররা হলো- মতলব দক্ষিণ উপজেলার ঘোড়াদারী গ্রামের আব্দুল খালেক (১৮), আব্দুল সালাম (১৪), ফারহান তালুকদার (১৮), শান্ত ব্যাপারী (১৭) ও সবুজ মিজি (১৮)।

লেফটেন্যান্ট জাবিদ হাসান বলেন, 'শুক্রবার (১৩ জুন) দিনগত রাতে চাঁদপুর আর্মি ক্যাম্প ও মতলব দক্ষিণ থানা পুলিশের সমন্বয়ে তালিকাভুক্ত অপরাধী ও কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে অভিযান চালানো হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে দুটি ছুরি, একটি এন্টিকাটার, একটি কাঁচি এবং চারটি মোবাইল জব্দ করা হয়।

গ্রেপ্তারদের মতলব দক্ষিণ থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। গত বছরের  ৪ সেপ্টেম্বর থেকে যৌথ বাহিনীর নেতৃত্বে চাঁদপুর জেলায় অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী, মাদককারবারি এবং অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার কার্যক্রম চলমান রয়েছে বলে জানান এই কর্মকর্তা।

রিফাত/

হবিগঞ্জে আতঙ্ক ছড়াচ্ছে ত্রিপুরার ‘চাকমা গেট’

প্রকাশ: ১৩ জুলাই ২০২৬, ০৯:২২ এএম
আপডেট: ১৩ জুলাই ২০২৬, ০৯:২৬ এএম
হবিগঞ্জে আতঙ্ক ছড়াচ্ছে ত্রিপুরার ‘চাকমা গেট’
ত্রিপুরার ‘চাকমা গেট’। ছবি: সংগৃহীত

অতিবৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে সিলেট বিভাগের বিস্তীর্ণ অঞ্চল প্লাবিত হলেও এ বছর খোয়াই অববাহিকার দুর্যোগ ভাবিয়ে তুলেছে প্রশাসন ও পরিবেশবিদদের। হবিগঞ্জের বাল্লা সীমান্ত হয়ে চুনারুঘাট, হবিগঞ্জ সদর হয়ে বয়ে যাওয়া এই নদী বর্ষায় দুর্ভোগের কারণ হয় প্রতিবছর। তবে এই বছর বন্যা পরিস্থিতি আগের সব দুর্যোগকে ছাপিয়ে গেছে। আবহাওয়াবিদ, পরিবেশবিদদের অভিযোগ, এবারের এই আতঙ্কের নাম ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের ‘চাকমা গেট’ বা চাকমাঘাট ব্যারাজ। 

উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল এবং আকস্মিকভাবে এই গেট খুলে দেওয়ার ফলে হবিগঞ্জের খোয়াই নদীর পানি বিপৎসীমার ২২০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে ভয়াবহ প্লাবনের সৃষ্টি করেছে।

খোয়াই নদীর উৎপত্তিস্থল ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের আঠারোমুড়া পাহাড়ের পূর্ব দিকে। হবিগঞ্জের বাল্লা স্থলবন্দরের কাছে এ নদী বাংলাদেশে ঢুকেছে। ১৬০ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের নদীটির ৯৪ কিলোমিটার অংশ পড়েছে বাংলাদেশে। ৯০ দশকের মাঝামাঝি সময় ভারত সরকার ত্রিপুরার তেলিয়ামুড়া এলাকায় ‘চাকমা গেট’ নামে ব্যারাজ তৈরি করে। গত এক সপ্তাহে ত্রিপুরায় ভারী বৃষ্টিপাত হয়েছে। তখন চাকমাগেটের সব কপাট খুলে দেওয়া হয়। ফলে ঢলে ভেসে যায় খোয়াই অববাহিকা। 

গত এক সপ্তাহ ধরে হবিগঞ্জে মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টিপাত হলেও খোয়াই নদীর পানি বিপৎসীমার নিচেই ছিল। কিন্তু গত ৯ জুলাই পরিস্থিতি হঠাৎ বদলে যায়। কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে পানি বেড়ে রাতে বিপৎসীমার ২২০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। আকস্মিক এই স্রোতে জেলার কয়েকটি উপজেলায় বাঁধ ভেঙে লোকালয়ে পানি ঢুকে পড়ে। আবার একদিনের ব্যবধানে নদীর পানি নেমে আসে বিপৎসীমার ৭ সেন্টিমিটার নিচে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড, পরিবেশকর্মী ও বিশেষজ্ঞ পর্যবেক্ষকরা বলছেন, ত্রিপুরায় ভারী বৃষ্টির পর চাকমা গেট খুলে দেওয়ায় স্বল্প সময়ের মধ্যে বিপুল পরিমাণ পানি খোয়াই নদী দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করে। এতে ঢলের স্বাভাবিক প্রবাহপথে পরিবর্তন দেখা দেয় এবং হবিগঞ্জের নদী অববাহিক এলাকায় বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

এবারের ঢলে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে পড়েছে হবিগঞ্জ শহর রক্ষা বাঁধের মাছুলিয়া পয়েন্ট। স্থানীয়দের আশঙ্কা, বাঁধ ভেঙে গেলে শহরের বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হওয়ার পাশাপাশি বড় ধরনের প্রাণহানি ও সম্পদের ক্ষতি হতে পারে।

পাউবো হবিগঞ্জের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সাইদুর রহমান খবরের কাগজকে বলেন, ‘ভারী বর্ষণ হলে আমরা উদ্বিগ্ন থাকি, কখন ভারতীয় কর্তৃপক্ষ চাকমা গেট খুলে দেয়। হঠাৎ গেট খুলে দিলে খোয়াই নদীর পানির স্তর ৮ থেকে ১০ ফুট বেড়ে যায়।’

‘খোয়াই রিভার ওয়াটার কিপার’-এর সংগঠক তোফাজ্জল সোহেল বলেন, ‘চাকমা ব্যারাজের মাধ্যমে শুষ্ক মৌসুমে তারা (ভারতীয় কর্তৃপক্ষ) পানি ধরে রাখে, আর বর্ষা মৌসুমে পানি ছেড়ে দেয়। গত ৯ জুলাই ভারত ঠিক এ কাজটিই করেছে। তাদের বেশি বৃষ্টিপাত হওয়ায় গেট খুলে দিয়েছে। এমন ঘটনা আন্তর্জাতিক নদী আইনের লঙ্ঘন।

সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল-পরিবেশ বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আনোয়ারুল ইসলাম খবরের কাগজকে বলেন, ‘এবারের রেইনফলের প্যাটার্নে দেখা যাচ্ছে, আপস্ট্রিমে বিশেষ করে বরাক ভ্যালিতে বৃষ্টির পরিমাণ তুলনামূলকভাবে করিমগঞ্জ ও ত্রিপুরা ভ্যালির থেকে কম। এ কারণে ওয়াটার ফ্লো খোয়াই নদীতে বেশি।’

সিলেটের সীমান্ত নদীগুলো যেসব পয়েন্টে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে, তার প্রায় সবই অবাধে বালু, পাথর উত্তোলন করা হয়েছে। যার কারণে নদীর স্বাভাবিক গতি ব্যাহত হয়েছে। ‘এ কারণে পানির স্বাভাবিক ড্রেনেজ ক্যাপাসিটি বা নরমাল ওয়াটার ফ্লো ব্যাহত হচ্ছে। বিশেষ করে সুরমার আপস্ট্রিমে।’ যোগ করেন ড. মোহাম্মদ আনোয়ারুল ইসলাম।

পানিবন্দি ৫ শতাধিক পরিবার

প্রকাশ: ১৩ জুলাই ২০২৬, ০৯:১৮ এএম
পানিবন্দি ৫ শতাধিক পরিবার
বুকসমান পানিতে ডুবে গেছে সড়ক। এর মধ্যে দিয়ে স্থানীয়দের প্রয়োজনীয় কাজ করতে হচ্ছে। চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার বড়দুয়ারা গ্রামের ভান্ডারীপাড়া থেকে গতকাল তোলা। ছবি: খবরের কাগজ

টানা ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলায় সাঙ্গু নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করে লোকালয়ে প্রবেশ করেছে। এতে বাজালিয়া ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের বড়দুয়ারা গ্রামের ৫ শতাধিক পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, এ গ্রামের অধিকাংশ বসতঘরে হাঁটু থেকে বুকসমান পানি। অনেকে ঘরবাড়ি ছেড়ে আত্মীয়স্বজনের বাড়িতে চলে গেছেন। আবার অনেকে প্রতিবেশীদের বাড়ির দোতলায় অবস্থান নিয়েছেন। অনেক পুরুষকে মসজিদের দোতলায় অবস্থান নিতে দেখা গেছে। কাঁচা-পাকা সড়কগুলো এখন পানির নিচে। কোথাও কোথাও নৌকা ছাড়া চলাচলের উপায় নেই।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গ্রামটিতে ৫ শতাধিক পরিবার বসবাস করে। বন্যার পানি বসতঘরে প্রবেশ করার পর থেকে এখন পর্যন্ত সরকারিভাবে মাত্র ৫০ প্যাকেট শুকনো খাবার বিতরণ করা হয়েছে। তবে শনিবার (১১ জুলাই) বিকেলে বড়দুয়ারা মাদক প্রতিরোধ ও সমাজ উন্নয়ন কমিটির উদ্যোগে ২ শতাধিক পানিবন্দি পরিবারের মধ্যে ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করা হয়। এ ছাড়া গ্রামের বিভিন্ন ব্যবসায়ী ও প্রবাসীর ব্যক্তিগত উদ্যোগে প্রতিদিন এক বেলা করে রান্না করা খাবার বিতরণ করা হচ্ছে।

আরও জানা যায়, পানিবন্দি অবস্থায় নারী, শিশু ও বৃদ্ধরা সবচেয়ে বেশি কষ্টে রয়েছেন। নিরাপদ শৌচাগারের অভাব, বিশুদ্ধ পানির সংকট এবং স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ না থাকায় তারা বিভিন্ন সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন। আবার বুড়ির দোকান ব্রিজ এলাকায় কেরানীহাট-বান্দরবান মহাসড়ক কোমরসমান পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় অনেক বৃদ্ধ ও অসুস্থ ব্যক্তি সরকারি কিংবা বেসরকারি হাসপাতালে স্বাভাবিকভাবে যাতায়াত করতে পারছেন না। এতে তারা চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। এ ছাড়া এ গ্রামের বিস্তীর্ণ কৃষিজমি, সবজিখেত, পুকুর ও মাছের প্রজেক্ট পানিতে তলিয়ে গেছে। এতে অনেকেই আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন।

বড়দুয়ারা গ্রামের গর্জন্যাপাড়ার বাসিন্দা নুরুল ইসলাম বলেন, ‘তিন বছর পর এত বড় বন্যা দেখলাম। বাড়ির ভেতর পানি উঠে যাওয়ায় পরিবারের সদস্যদের এক নিকটাত্মীয়ের বাড়িতে পাঠিয়ে দিয়ে আমি এলাকায় অবস্থান করছি। বাড়িতে থাকা আসবাবপত্র ও প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের অনেক ক্ষতি হয়েছে। কিন্তু দুঃখের বিষয়, এখন পর্যন্ত কোনো ধরনের সরকারি শুকনো খাবার বা ত্রাণসামগ্রী পাইনি।’

ওই এলাকার বাসিন্দা সাজেদা বেগম বলেন, ‘ছেলেমেয়ে নিয়ে খুব কষ্টে আছি। এক প্রতিবেশীর বাড়ির দোতলায় আশ্রয় নিয়েছি। এখানে রান্না করার কোনো পরিবেশ নেই। সরকারিভাবে কোনো ত্রাণও পাইনি। তবে ব্যক্তি উদ্যোগে প্রতিদিন এক বেলা করে রান্না করা খাবার বাড়িতে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে।’

একই গ্রামের বড় হুজুর পাড়ার যুবক মো. মহিউদ্দিন বলেন, ‘২০২৩ সালের পর এবার ভয়াবহ বন্যা দেখলাম। এ বন্যায় আমাদের গ্রামের প্রায় ৯৫ শতাংশ মানুষ পানিবন্দি ও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। অথচ যাদের ক্ষতি হয়নি তারাই ত্রাণসামগ্রী পাচ্ছেন। এখানকার বিস্তীর্ণ ফসলে জমি পানির নিচে চলে গেছে। অসংখ্য পুকুরের মাছ ভেসে গেছে।’

সাতকানিয়া উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মোহাম্মদ আলমগীর বলেন, ‘উপজেলার জন্য এখন পর্যন্ত ৯ লাখ টাকা ও ১৭৫ টন চাল বরাদ্দ পেয়েছি। এখন পর্যন্ত ওই টাকার শুকনো খাবার এবং ৯০ টন চাল বিতরণ করা হয়েছে। আমরা পর্যায়ক্রমে প্রতিটি এলাকায় সরকারি সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করছি।’

তিনি বলেন, ‘বাজালিয়া ইউনিয়নের জন্য ১ টন চাল বারাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া দ্রুত সময়ের মধ্যে বড়দুয়ারা এলাকায় ত্রাণসামগ্রী পৌঁছানো হবে। এ বিষয়ে আমি প্রশাসনিক কর্মকর্তা এবং স্থানীয় ইউপি সদস্যের সঙ্গে কথা বলেছি।’

জয়পুরহাটে বজ্রপাতে যুবকের মৃত্যু

প্রকাশ: ১৩ জুলাই ২০২৬, ০৮:৫৬ এএম
জয়পুরহাটে বজ্রপাতে যুবকের মৃত্যু
খবরের কাগজ ইনফোগ্রাফিক

জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলায় বজ্রপাতে রাশেদুল ইসলাম (২৩) নামের এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে।

রবিবার (১২ জুলাই)  রাত ৮টার দিকে বাঁশখুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। রাশেদুল ইসলাম একই গ্রামের মোজাফ্ফর রহমানের ছেলে।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, রাশেদুল রাত ৮টার দিকে শালাইপুর বাজার থেকে সাইকেলে করে বাড়ি ফিরছিলেন। এসময় বৃষ্টির মধ্যে বজ্রপাতে গুরুতর আহত হন তিনি। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

পাঁচবিবি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাফিজ মোহাম্মদ রায়হান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, মরদেহ বর্তমানে হাসপাতালে রয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে পরিবারের কাছে মরদেহ হস্তান্তর করা হবে।

সাগর/এএফ

টানা বর্ষণের ক্ষত সড়কে

প্রকাশ: ১৩ জুলাই ২০২৬, ০৮:৪৫ এএম
আপডেট: ১৩ জুলাই ২০২৬, ০৮:৫২ এএম
টানা বর্ষণের ক্ষত সড়কে
টানা বর্ষণের কারণে জমে থাকা পানির কারণে সড়কের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে, যা পানি নেমে যাওয়ার পর দৃশ্যমান হয়। চট্টগ্রাম নগরীর রূপাবাদ এলাকা থেকে গতকাল তোলা। ছবি: খবরের কাগজ

চট্টগ্রামে আট দিন ধরে ভারী বর্ষণ চলছে। নগরীতে ঘটেছে পাহাড়ধস আর প্রাণহানির মতো ঘটনা। নষ্ট হয়েছে নিচু এলাকার বাসিন্দাদের ঘর, আসবাবপত্র, দোকানের মালামাল। কোমরসমান পানিতে ভোগান্তিও সয়েছেন অনেকে। বর্তমানে বৃষ্টি অব্যাহত থাকলেও সড়ক থেকে পানি নেমে গেছে। তবে বেরিয়ে এসেছে রাস্তার ক্ষত। ছোট-বড় খানাখন্দ সৃষ্টি হওয়ায় বিপাকে পড়ছেন গাড়িচালকরা। সেই সঙ্গে দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন যাত্রীরা।

রবিবার (১২ জুলাই) সকালে সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, নগরীর হালিশহর এলাকায় পোর্ট কানেকটিং রোড, উত্তর আগ্রাবাদ, ঈদগাঁ রোড, সিডিএ অ্যাভিনিউ, মুরাদপুর, অক্সিজেন, বায়েজিদ বোস্তামী সড়ক, জিইসি, অক্সিজেন-কুয়াইশ সংযোগ সড়ক, আমবাগান সড়ক, মুরাদপুরসহ বিভিন্ন এলাকার সড়ক খানাখন্দে ভরা। ঈদগাঁ এলাকার নজির আহমদ সড়ক ও রঙ্গীপাড়া এলাকায় ওয়াসার স্যুয়ারেজ প্রকল্পের কাজের কারণে খোঁড়াখুঁড়ির পর আর ঢালাই করা হয়নি। এসব সড়কে যাতায়াতকারী চালকরা বলছেন, টানা বৃষ্টির কারণে নগরীর বিভিন্ন সড়কে পানি জমে যাওয়ায় ছোট-বড় খানাখন্দ তৈরি হয়েছে। ফলে গাড়ি চালানো দায় হয়ে পড়েছে। ছোট-বড় দুর্ঘটনার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

নগরীর রঙ্গীপাড়া এলাকার বাসিন্দা আল আমিন বলেন, ‘এই এলাকার সড়কটি দুই বছর আগেও খুব সুন্দর ছিল। ওয়াসার স্যুয়ারেজের কাজের কারণে ভালো পিচ ঢালা সড়কটি মেশিন দিয়ে কেটে ফেলা হয়। এরপর এ অঞ্চলের বাসিন্দাদের জীবনে নেমে আসে ভোগান্তি। দুই বছর ধরে মানুষ কষ্ট পাচ্ছেন। এই এলাকায় গাড়ি আনতে গেলে বাড়তি ভাড়া গুনতে হচ্ছে। সম্প্রতি বৃষ্টির কারণে সড়কের অবস্থা আরও বেহাল হয়ে গেছে। আমরা সিটি করপোরেশনের কাছে এই সড়কটি দ্রুত সংস্কার করে দেওয়ার অনুরোধ জানাই।’

অক্সিজেন এলাকার বাসিন্দা ইমরানুল হক বলেন, ‘অক্সিজেন মোড় থেকে শুরু করে আশপাশের সংযুক্ত সড়কগুলোর অবস্থা বেহাল। কারও কোনো মাথাব্যথা নেই। মুরাদপুর, অক্সিজেন দুই নম্বর গেট সড়কের অবস্থাও ভালো না। অথচ এগুলো নগরীর ব্যস্ত সড়ক। দ্রুত এসব সড়ক মেরামত করা না হলে যেকোনো সময় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।’

গত এক সপ্তাহের ভারী বর্ষণের সঙ্গে জোয়ারের পানি একত্রিত হওয়ায় নগরীর বিভিন্ন এলাকায় কোথাও কোমরসমান, আবার কোথাও হাঁটুপানি উঠে যায়। ক্ষয়ক্ষতিও হয়েছে অনেক। তবে কী পরিমাণ সড়কের ক্ষতি হয়েছে তা এখনো নিরূপণ করেনি চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক)। সংস্থাটি জানিয়েছে, ক্ষয়ক্ষতি চিহ্নিতকরণ এবং করণীয় ঠিক করতে ৪ সংসদীয় আসনভিত্তিক সমন্বয় কমিটি গঠন করা হবে।

জানতে চাইলে চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, নগরীর জলাবদ্ধতা ও সাম্প্রতিক রেকর্ড বৃষ্টিতে ক্ষয়ক্ষতি চিহ্নিতকরণ এবং করণীয় সুপারিশে চারটি সংসদীয় আসনভিত্তিক সমন্বয় কমিটি গঠন করা হবে। প্রতিটি কমিটিতে সংশ্লিষ্ট সব সেবা সংস্থার প্রতিনিধিদের অন্তর্ভুক্ত করা হবে, যাতে সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে মাঠপর্যায়ে সমস্যাগুলো দ্রুত চিহ্নিত ও সমাধান করা যায়।

তিনি বলেন, চট্টগ্রামের নাগরিক সমস্যাগুলো কোনো একক প্রতিষ্ঠানের পক্ষে সমাধান করা সম্ভব নয়। সমন্বিত উদ্যোগই এ সমস্যার স্থায়ী সমাধানের একমাত্র পথ। প্রতিটি কমিটিতে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন, চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ), চট্টগ্রাম ওয়াসাসহ সংশ্লিষ্ট সব সেবা সংস্থার প্রতিনিধিরা থাকবেন। কমিটিগুলো সাম্প্রতিক রেকর্ড বৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামোর পরিমাণ, জলাবদ্ধতাপ্রবণ এলাকা, খাল-নালা, ড্রেনেজব্যবস্থা এবং ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো সংস্কারে করণীয় সরেজমিনে চিহ্নিত করবে। এরপর সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সমন্বয়ে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ নিশ্চিত করা হবে। এতে জনগণের দুর্ভোগ কমবে এবং উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন আরও গতিশীল হবে।

পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিসের আবহাওয়াবিদ বিশ্বজিৎ চৌধুরী জানিয়েছেন, গত এক দিনে (রবিবার বেলা ৩টা পর্যন্ত) ১৫১ দশমিক ৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।

সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টির প্রবণতা এখনো অব্যাহত রয়েছে। চট্টগ্রামেও ভারী থেকে অতিভারী বর্ষণের আশঙ্কা রয়েছে। এ কারণে নিচু এলাকায় জলাবদ্ধতা এবং পাহাড়ি এলাকায় ভূমিধসের ঝুঁকিও রয়েছে। 

সামাজিক মাধ্যমে ছড়ানো মরদেহ ভাসানোর খবর গুজব: ইউএনও

প্রকাশ: ১২ জুলাই ২০২৬, ১১:২৪ পিএম
আপডেট: ১২ জুলাই ২০২৬, ১১:২৬ পিএম
সামাজিক মাধ্যমে ছড়ানো মরদেহ ভাসানোর খবর গুজব: ইউএনও
ছবি: সংগৃহীত

সাতকানিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খোন্দকার মাহমুদুল হাসান জানিয়েছেন, বন্যার ফলে কবরস্থানে দাফন করার মতো জায়গা না পেয়ে একটি মরদেহ কলাগাছের ভেলায় ভাসিয়ে দেওয়ার যে ভিডিওটি ভাইরাল হয়েছে এটি সম্পূর্ণ গুজব। মূলত যে ব্যক্তি মারা গেছেন তিনি তার ছেলের সঙ্গে কলাগাছের ভেলা নিয়ে মাছ ধরতে গিয়েছিলেন। তিনি সেখানে হঠাৎ করে অসুস্থ হয়ে মাথা ঘুরে পড়ে যান। এরপর তাকে ওই ভেলায় করে বাড়িতে নেওয়ার পর হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করলে জানাজা সহকারে তার দাফন কার্য সম্পন্ন হয়।

স্থানীয় বাসিন্দা মাওলানা মাহমুদুল করিম কাসেমী বলেন, ওইদিন আসরের নামাজের পর ফোরকান মাছ ধরার সময় অসুস্থ হয়ে পড়লে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে কলাগাছের ভেলার সাহায্যে কেরানীহাট এলাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করলে পুনরায়  ভেলার সাহায্যে বাড়িতে নেওয়া হয়। সেখানে তাকে দাফন করার মতো কোন জায়গা না থাকায় আমিসহ স্থানীয় ইউপি সদস্য এবং গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গরা সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে দস্তিদারহাট এলাকার ফকিরমুড়া নামক একটি পাহাড়ে দাফন করার সিদ্ধান্ত হয়। এরপর ওইদিন রাত ৯টার দিকে দস্তিদারহাট বাজারে জানাজা শেষে সেখানে তাকে দাফন করা হয়। আমি নিজেও সেখানে উপস্থিত ছিলাম।

প্রসঙ্গত, উপজেলার কেঁওচিয়া ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চালক মো. ফোরকান বাড়ির পাশে মাছ ধরার সময় হঠাৎ অসুস্থ হয়ে মারা যান। এরপরও পরিবারের সদস্যরা তিনি বেঁচে আছেন মনে করে স্থানীয়দের সহযোগিতায় হাসপাতালে নেওয়ার জন্য ৩০০ গজ দূরে অপেক্ষমান সিএনজিচালিত অটোরিকশায় তোলার জন্য কলাগাছের ভেলার সাহায্যে নিয়ে যাওয়ার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওটি দ্রুত সময়ের মধ্যে ভাইরাল হয়ে যায়। নেটিজেনরা এ ভিডিওটিকে কবর দেওয়ার মতো জায়গা না পেয়ে মরদেহ ভেলায় বেঁধে ভাসিয়ে দেওয়া হয়েছে দাবি করে প্রচার করতে থাকেন।

আরিফুল ইসলাম/এসএন