শহরের পাশাপাশি গ্রামেও বাড়ির ছাদে বাগান করা বেশ জনপ্রিয়তা পেয়েছে। এখন অনেক বাড়ির ছাদে তাকালেই বিভিন্ন ধরনের বাগান চোখে পড়ে। পরিকল্পিতভাবে উদ্যোগ নেওয়া হলে বাড়ির ছাদে যেকোনো গাছ, এমনকি শাকসবজিও ফলানো সম্ভব।
শখ থেকে ছাদবাগান শুরু করলেও অনেকে এখন বাণিজ্যিক চিন্তাধারাও করছেন। এমনই একজন শখের ছাদবাগান উদ্যোক্তা জয়পুরহাটের দুর্গাদহের মিনহাজুল ইসলাম কমল। যিনি ছাদবাগান করে সাফল্য পেয়েছেন। তার এই সাফল্যে অনুপ্রাণিত হয়ে অনেকেই ছাদবাগান গড়তে আগ্রহও দেখাচ্ছেন।
২০১৫ সালে সদর উপজেলার দুর্গাদহ বাজারে নিজের দোতলা ভবনে নিচতলায় সার-কীটনাশকের ব্যবসা আর উপর তলায় পরিবার নিয়ে বসবাস করছেন মিনহাজুল ইসলাম কমল। অবসর সময়ে খবর আর কৃষিবিষয়ক অনুষ্ঠান দেখা তার শখ। একসময় বিভিন্ন টিভি চ্যানেলে প্রচারিত কৃষিবিষয়ক অনুষ্ঠান দেখে ছাদবাগান করার ইচ্ছে জাগে তার। ২০২০ সালে নিজ বাড়ির ছাদে ড্রামের টব বানিয়ে তাতে মাটি ও জৈবসার মিশিয়ে বিশেষ ধরনের পিট তৈরি করে দেশি-বিদেশি নানা জাতের চারা লাগিয়ে গড়ে তুলেছেন ফলদ, ঔষধি, সবজি ও ফুলের বাগান।
তার এ বাগানে রয়েছে ড্রাগন, মাল্টা, ডালিম, লিচু, আমলকী, সিডলেস কাগুজি লেবু, আজোয়া খেজুর, বারোমাসি আমড়া, আম, বল সুন্দরী কুল, ছবেদা, জাম্বুরা, আনারস, আখ, পেয়ারাসহ বিভিন্ন প্রকার ফলের গাছ। আছে বেগুন, মিষ্টিকুমড়া, পেঁপে, ঢ্যাঁড়শ, লাউ, পালংশাক, মুলাসহ নানা প্রকারের সবজি। এ ছাড়া ছাদে দেখা গেল পাথরকুচি, কালমেঘ, তুলসী, ডায়াবেটিক নিয়ন্ত্রক গাছসহ বিভিন্ন ধরনের ঔষধি গাছ। দেখা মিলল বিলুপ্তপ্রায় বট ও পাইকর গাছেরও। ছাদের চারকোনে দৃষ্টিনন্দন গোলাপ, জবা, গাঁদা, রজনীগন্ধা, পাতাবাহারসহ নানা ফুলের সমারোহ। দেখে বোঝার উপায় নেই এটি কোনো ছাদ নাকি সবুজ ফসলের মাঠ।
তার এই সাফল্য দেখে বিভিন্ন এলাকা থেকে সৌখিন মানুষ ও নতুন উদ্যোক্তারা ছুটে আসছেন তার বাগান দেখতে ও পরামর্শ নিতে। এমনই কয়েকজনের দেখা মিলল কমলের ছাদবাগানে। তাদের একজন রবিউল ইসলাম সোহেল। তিনি জয়পুরহাট শহরের আমতলী এলাকা থেকে এসেছেন। তিনি জানান, ছাদবাগান উদ্যোক্তা কমলের ছাদবাগানের সুনাম শুনে দেখতে এসেছেন। তিনিও একটি ছাদবাগান করতে চান। তাই কোথায় থেকে চারা কিনবেন, কীভাবে চারা রোপণ করবেন, কোন পদ্ধতিতে চাষাবাদ করলে সফল হবেন এমন নানা বিষয়ে পরামর্শ নিতেই তার কাছে এসেছেন তিনি।
ছাদবাগান দেখতে আসা পরেশ চন্দ্র মন্ডল বলেন, ‘আমি কমলের ছাদবাগান দেখতে এসেছি। এসে দেখলাম এখানে বিভিন্ন রকমের ফল, ঔষধি, সবজি ও ফুল আছে। এখানে সম্পূর্ণ নিরাপদ উপায়ে বিষমুক্ত সবজি ও ফল উৎপাদন হচ্ছে। আমিও এখান থেকে ফিরে আমার বাড়ির ছাদেও ছাদবাগান গড়ে তুলতে চাই।’
ছাদবাগান উদ্যোক্তা মিনহাজুল ইসলাম কমল বলেন, ‘বিভিন্ন টিভি চ্যানেলে কৃষিবিষয়ক অনুষ্ঠান দেখে ছাদবাগান করতে অনুপ্রাণিত হই। ২০২০ সালে করোনাকালে যখন ঘরবন্দি সে সময় বাড়ির ছাদে গড়ে তুলি এই বাগান। প্রতিদিন নিয়ম করে বাগান পরিচর্যার কাজ করি। এই বাগান থেকে আমার পরিবার বিষমুক্ত ফল ও সবজি পাচ্ছে। পরিবারের চাহিদা পূরণ করে অতিরিক্ত ফল ও সবজি আত্মীয়-স্বজন ও প্রতিবেশীদের বণ্টন করে দেই। আগামীতে এই বাগান আরও বড় পরিসরে বাণিজ্যিকভাবে করার পরিকল্পনা রয়েছে।’
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক কৃষিবিদ রাহেলা পারভীন বলেন, ‘সার ব্যবসায়ী মিনহাজুল ইসলাম কমলের মতো প্রত্যেককে ছাদবাগান করার মতো নান্দনিক কাজকে গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। এ ধরনের ছাদবাগান গড়ে পারিবারিক ফল-সবজি ও পুষ্টির চাহিদা মেটানো সম্ভব। এতে করে নিজেরা উপকৃত হওয়ার পাশাপাশি সমাজও উপকৃত হবে। ছাদবাগান স্থাপনে আগ্রহীদের কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে প্রযুক্তিগত সহায়তা, পরমর্শসহ সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে।