ঢাকা ২৯ আষাঢ় ১৪৩৩, সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬

সর্বশেষ
সারাদেশে নারীসহ ১ লাখ নতুন স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু ধামরাইয়ে শ্বশুরবাড়ির সামনে জামাইয়ের আত্মহত্যা অতিবৃষ্টি ও বন্যা পরিস্থিতিতে মুমিনের করণীয় ৫ আমল মানবিক সংকটে ক্ষতিগ্রস্ত শিশুদের জন্য ব্র্যাক-লেগো ফাউন্ডেশনের ‘স্প্ল্যাশ’ উদ্যোগ পারিশ্রমিকে কফি ডেট থেকে ট্যুর, ভাইরাল ‘রেন্টাল গার্লফ্রেন্ড’ মূল্যতালিকা কুমারখালীতে মাদরাসাছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ স্পেনকে ভয় নয়, সমীহ করছে ফ্রান্স ফুসফুস ক্যানসারের ওষুধের ট্রায়ালে বড় সাফল্য আগামী ১৫ জুলাই সব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বৃক্ষরোপণের নির্দেশ সুনামগঞ্জে বিপৎসীমার ওপরে পানি, প্লাবিত হচ্ছে নতুন এলাকা ফ্লাইট এক্সপার্টের বিরুদ্ধে ৩৫ কোটি টাকার মানিলন্ডারিং মামলা মুষলধারে বৃষ্টিতে ডুবল কুমিল্লা, চরম দুর্ভোগে এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা নাটোরে ১ কিমি রাস্তায় তিন ভাঙা, চরম দুর্ভোগে শিক্ষার্থীরা ১৬ জুলাই শুরু হচ্ছে ইসকনের ৯ দিনব্যাপী জগন্নাথদেবের রথযাত্রা মহোৎসব ফরাসি দল নিয়ে স্পেনের সাবেক প্রধানমন্ত্রীর বিতর্কিত মন্তব্য, নিন্দার ঝড় পড়ে পাওয়া গল্পের ৩টি বহুনির্বাচনি প্রশ্ন ও উত্তর, ৮ম পর্ব, অষ্টম শ্রেণির বাংলা চুল পড়া ৯২ শতাংশ কমিয়ে দেয় ‘লাইট থেরাপি’ বিশ্বকাপে ভিএআর সুবিধাভোগী আর্জেন্টিনা-মেক্সিকো, খেসারত দিলো ক্রোয়েশিয়া-ইরান দুই দিনের ব্যবধানে কমল স্বর্ণের দাম, ভরিতে কত? নওগাঁয় স্বামী-স্ত্রীর রহস্যজনক মৃত্যু আর্জেন্টিনার সাফল্যকে অস্বাভাবিক বললেন মেসি পেকুয়ায় পাহাড়ধসে মাটির নিচে পানের বরজ, নিঃস্ব প্রবাস ফেরত চাষিরা আগামী ৫ বছরে দেশে ২৫ কোটি গাছ লাগানো হবে: প্রধানমন্ত্রী মুন্সীগঞ্জে ৫ মোটরসাইকেলসহ চোর চক্রের ৩ সদস্য গ্রেপ্তার হাতিয়ায় পানিবন্দিদের পাশে ছাত্রদল গাজীপুর থেকে হেঁটে ১৫০ কিলোমিটার পরিভ্রমণে তিন রোভার স্কাউট গোপালগঞ্জে ১২ লাখ টাকার অবৈধ চিংড়ির পোনা জব্দ চাঁদাবাজির মামলায় কথিত সাংবাদিক শফিকুলসহ ৩ জনের কারাদণ্ড মালয়েশিয়ায় বয়লার বিস্ফোরণে বাংলাদেশি যুবক নিহত গৌরনদীতে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে প্রধানমন্ত্রী

খাগড়াছড়িতে সবজি চাষে সফল প্রতিবন্ধী শফিউল

প্রকাশ: ২৬ মে ২০২৪, ০২:১১ পিএম
আপডেট: ২৮ মে ২০২৪, ০৯:২৩ এএম
খাগড়াছড়িতে সবজি চাষে সফল প্রতিবন্ধী শফিউল
ছবি: খবরের কাগজ

পাহাড়ি আঁকাবাঁকা সড়ক পেরিয়ে সবুজে ঘেরা গোমতির বান্দরছড়া গ্রাম। সেখানেই অন্যের কাছ থেকে বন্ধক নেওয়া ৯ বিঘা জমিতে সবজি সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছেন শারীরিক প্রতিবন্ধী মো. শফিউল বশর। অদম্য ইচ্ছাশক্তি আর দৃঢ় মনোবল নিয়ে প্রতিবন্ধিতা জয় করে এগিয়ে যাচ্ছেন তিনি। শারীরিক প্রতিবন্ধকতা ছাপিয়ে তিনি আজ সফল সবজি চাষি। অর্জন করেছেন সফল সবজি চাষির জাতীয় স্বীকৃতিও।

পাহাড়ি জনপদ খাগড়াছড়ির গোমতির বান্দরছড়া গ্রামের বাসিন্দা মো. শফিউল। নিজের জমি না থাকলেও চাষাবাদ করেও যে সাফল্যের চূড়া স্পর্শ করা যায় তার অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন তিনি।

১৯৯৬ সালে এক প্রতিবেশীর ঘরে লাগা আগুন নেভাতে গিয়ে বাম পায়ে বিষাক্ত কিছু লেগে সংক্রমণ দেখা দেয় শফিউল বশরের। দীর্ঘ চিকিৎসা শেষে ২০০১ সালে বাম পা কেটে ফেলতে হয় তার। তখন থেকেই ক্র্যাচে ভর করে চলছে তার জীবন-জীবিকা।

সম্প্রতি সবজি খেতের ছোট আইলে ক্র্যাচে ভর করে হাঁটতে হাঁটতে এই প্রতিবেদককে নিজের সবজি বিপ্লবের গল্প শোনান শারীরিক প্রতিবন্ধী মো. শফিউল বশর।

তিনি জানান, শারীরিকভাবে অক্ষম হয়ে গেলেও ভিক্ষাবৃত্তি নয়, নিজের মনের জোরে সাফল্যের স্বপ্ন দেখেছেন। নিজের দশ শতক জমিতে স্বপ্নের বাস্তবায়ন সম্ভব নয় এ চিন্তা থেকেই ১০-১২ বছর আগে বাড়ির আশপাশে অন্যের কাছ থেকে জমি বর্গা নিয়ে সবজি চাষ শুরু করেন।

সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বর্তমানে তার বাড়ির চারপাশে অন্যের কাছ থেকে বন্ধক নেওয়া ৯ বিঘা জমিতেই গড়ে তুলেছেন সবজি খেত। সবজি খেতে আলুর আড়ালে শোভা ছড়াচ্ছে মিষ্টি কুমড়া। তার সবজি জমিতে রয়েছে ক্ষীরা, ফুলকপি, বাঁধাকপি, কাঁচা মরিচ, ভেলু (ডালজাতীয়), করলা ও টমেটো। ডায়মন্ড জাতের আলুগাছের ফাঁকে ফাঁকে সাথী ফসল হিসেবে চাষ করেছেন ভুট্টা।

শারীরিক প্রতিবন্ধী হয়েও ক্র্যাচে ভর করেই সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত বাড়ির আঙিনায় গড়ে তোলা সবজি বাগান দেখভাল করেন শফিউল বশর নিজেই। তার পরামর্শেই সবজি উৎপাদনে নিরলসভাবে কাজ করছেন ৯-১০ জন নিয়মিত শ্রমিক।

বন্ধকি জমিতে সবজি চাষ করে বছরে ৫-৬ লাখ টাকা উপার্জন করেন এ চাষি। শুধু নিজের নয়, তার জমিতে নিয়মিত কাজ করা শ্রমিকদের পরিবারেও আর্থিক সচ্ছলতা এসেছে।

স্ত্রীসহ দুই ছেলে ও এক মেয়ে নিয়ে সুখের সংসার শফিউল বশরের। সবজি চাষ করে পরিবারের ব্যয় মিটিয়ে তার দুই ছেলেকে বি এ পাস করিয়েছেন। ছেলেরা শিক্ষিত হয়েও সানন্দে প্রতিবন্ধী বাবার কাজে সহযোগিতা করেন। শ্রমিকের সঙ্গেই কাজ করেন দুই ছেলে। ৯ বছর আগে মেয়ের বিয়ে দিয়েছেন সফল এ মানুষটি।

শারীরিক প্রতিবন্ধী সবজি চাষি মো. শফিউল বশরের বড় ছেলে আবুল বাশার বলেন, ‘লেখাপড়া শেষে চাকরির পেছনে না ছুটে বাবার স্বপ্ন পূরণে বাবার সঙ্গে কৃষিকাজে যুক্ত হয়েছি। বাবার অদম্য মনোবল আমাদের অনুপ্রাণিত করে।’

খাগড়াছড়ি জেলা উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. জয়নাল আবেদীন বলেন, ‘একজন প্রতিবন্ধী হয়েও প্রতিবন্ধিতাকে হার মানিয়ে সবজি চাষে বিপ্লব ঘটিয়েছেন শফিউল বশর, যা এলাকার মানুষকে উজ্জীবিত করেছে।’

শারীরিক প্রতিবন্ধী হয়েও স্বাবলম্বী হতে কোনো প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেনি উল্লেখ করে মাটিরাঙ্গা উপজেলা কৃষি কর্মকর্ত শেখ মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ‘মো. শফিউল বশর একই জমিতে একাধিক ফসল ফলান। ফলে ফসলে রোগ বালাইয়ের আক্রমণ কম হয়। পাশাপাশি কৃষকের আর্থিক ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনাও কম থাকে। প্রতিবন্ধী কৃষক শফিউল বশরের মতো কৃষি নৈপুণ্যে উদ্যোগী হয়ে অনেকে এগিয়ে আসবে বলে আশা করি।’ সূত্র: বাসস

শুল্কায়ন প্রক্রিয়া সহজ, ব্যবসার খরচ কমানোর দাবি

প্রকাশ: ১৩ জুলাই ২০২৬, ১০:০১ এএম
শুল্কায়ন প্রক্রিয়া সহজ, ব্যবসার খরচ কমানোর দাবি
ছবি: সংগৃহীত

শুল্কায়ন প্রক্রিয়া সহজীকরণের মাধ্যমে দ্রুত পণ্য খালাস নিশ্চিত ও ব্যবসার পরিচালন ব্যয় হ্রাস করার অনুরোধ জানিয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে (এনবিআর) চিঠি দিয়েছেন দি চিটাগং চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি মোহাম্মদ আমিরুল হক।

রবিবার (১২ জুলাই) সকালে এনবিআরের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আহসান হাবিবকে পাঠানো হয়।

চিঠিতে বলা হয়, সম্প্রতি অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরি কাস্টমস ও বন্দর প্রতিনিধিদের সাথে এক মতবিনিময় সভায় ব্যবসা পরিচালন সহজীকরণ, ব্যয় হ্রাস, চার দিনের মধ্যে পণ্য শুল্কায়ন সম্পন্ন ও বন্দর থেকে খালাসের নির্দেশনা প্রদান করেছিলেন।

পাশাপাশি বন্দরের কার্যক্রমে গতিশীলতা আনয়ন এবং জাহাজ ও পণ্যজট হ্রাসের লক্ষ্যে বন্দরের অচল স্ক্যানার মেশিনগুলো সচল করাসহ আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ দিক নির্দেশনা দেন যা দ্রুত পণ্য খালাসের সঙ্গে সঙ্গে আমদানিকারক ও ব্যবসায়ীদের খরচ কমাতে সহায়ক হবে।

তবে দুঃখের বিষয়, অর্থমন্ত্রীর নির্দেশনা দিলেও এখনও কাস্টমস কর্মকর্তাদের অসহযোগিতা, সদিচ্ছার অভাব, প্রশাসনিক সমন্বয়হীনতা ও দীর্ঘসূত্রিতার কারণে পণ্য খালাস প্রক্রিয়া দ্রুত হচ্ছে না। ফলে দেশীয় ব্যবসায়ীদের কাঁধে কাস্টমস ও বন্দরের বিশাল জরিমানা গুনতে হয়। ব্যবসা পরিচালন ব্যয় বৃদ্ধি পেয়ে আন্তর্জাতিক বাজারে দেশীয় পণ্যের প্রতিযোগিতা হ্রাস পাচ্ছে।

চিঠিতে আরও বলা হয়, একই পণ্যের বারবার পরীক্ষা করা, কন্টেইনার স্ক্যানিং করার পরেও গোপন সংবাদের দোহাই দিয়ে পুনরায় কায়িক পরীক্ষা, স্থানীয় রাসায়নিক পরীক্ষার সুযোগের সীমাবদ্ধতার অজুহাতে ল্যাব টেস্টের নামে ঢাকায় প্রেরণ, কন্টেইনার আনস্টাফিং এর সময় অপ্রয়োজনীয় কাগজপত্র চেকিং বাধ্যতামূলক নয় এমন অনেক পণ্য বিএসটিআই টেস্টের জন্য প্রেরণসহ আরও অনেক অকারণ জটিলতা সৃষ্টি করার ফলে ক্ষেত্র বিশেষে ৭ থেকে ৮ দিন বা আরও বেশি সময় লাগছে।

উদ্বেগের বিষয় জানিয়ে চিঠিতে বলা হয়, একই পণ্যের বিভিন্ন সংস্থার বার বার কায়িক পরীক্ষার ফলে যেকোন দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার মাঝেও পণ্য আনস্টাফিং করায় পণ্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

কিছু ক্ষেত্রে এ সব পণ্য বাজারে চালানোর মতো অবস্থায় থাকে না। এতে করে আমদানিকারকরা প্রচুর আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হন। আমদানিকৃত পণ্যের শুল্কায়নযোগ্য মূল্য নির্ধারণে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই বিদ্যমান বিধি অনুসরন না করে লোডিং দিয়ে শুল্কায়ন করা হচ্ছে।

এতে করে প্রকৃতপক্ষে পণ্য খালাস ব্যবস্থাকে আরও জটিল ও সময়সাপেক্ষ করে তোলা হচ্ছে যা ব্যবসা সহজীকরণের পথে অনেক বড় বাধা। খালাস কার্যক্রম বিলম্বিত হওয়ায় অতিরিক্ত সময়ের মাশুল প্রদান, বিভিন্ন টেস্ট ও ডকুমেন্টের জন্য অতিরিক্ত খরচ পণ্যের মূল্যের সাথে যুক্ত হয়ে ব্যবসা পরিচালনার খরচ এবং পণ্যের মূল্য উভয়ই বৃদ্ধি করছে।

এতে করে আন্তর্জাতিক স্টান্ডার্ড এর সাথে সামঞ্জস্য রেখে কাস্টমস আইন, ২০২৩ ঘোষিত হলেও পেপারলেস কাস্টমস, প্রি-অ্যারাইভাল প্রসেসিং, রিস্ক বেইজড এক্সামিনেশন ইত্যাদি পদ্ধতি অনুসরণের মাধ্যমে দ্রুত কাস্টমস ক্লিয়ারেন্সের সুফল ব্যবসায়ীরা পাচ্ছে না।

তাই চিঠিতে আন্তর্জাতিক মান অনুসরন করে দেশেও ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করে আমদানীকৃত পণ্যের শুল্কায়ন প্রক্রিয়া সহজীকরণের মাধ্যমে দ্রুত পণ্য খালাস তথা ব্যবসা পরিচালন ব্যয় হ্রাসের মাধ্যমে দেশীয় পণ্যের প্রতিযোগিতামূলক ধারা বজায় রাখার কার্যকর ও সময়োপযোগী পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে।

তারেক মাহমুদ/এএফ

দেশের স্বার্থ ক্ষুণ্ন হয় এমন কোনো চুক্তি আইএমএফের সঙ্গে হবে না: অর্থমন্ত্রী

প্রকাশ: ১৩ জুলাই ২০২৬, ০৯:২৯ এএম
আপডেট: ১৩ জুলাই ২০২৬, ০৯:৪৯ এএম
দেশের স্বার্থ ক্ষুণ্ন হয় এমন কোনো চুক্তি আইএমএফের সঙ্গে হবে না: অর্থমন্ত্রী
ছবি:খবরের কাগজ

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) সঙ্গে আগের সরকারের নেওয়া ঋণ কর্মসূচিকে ‘সম্পূর্ণ জনস্বার্থবিরোধী’ বলে মন্তব্য করেছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। জনস্বার্থ ও দেশের স্বার্থ ক্ষুণ্ন হয় এমন কোনো চুক্তি আইএমএফের সঙ্গে হবে না, এমন মন্তব্যও করেছেন তিনি। 

ঢাকা সফরত আইএমএফ প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠক শেষে গতকাল রবিবার (১২ জুলাই) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে অর্থমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

পাঁচ দিনের সফরে আইএমএফের ১২ সদস্যের প্রতিনিধিদল গতকালই ঢাকায় এসেছে। প্রথম দিনই দাতা সংস্থার প্রতিনিধিরা অর্থ বিভাগের সঙ্গে বৈঠক করেছে। চলতি সপ্তাহজুড়ে সরকারের বিভিন্ন দপ্তরের সঙ্গে বৈঠক করবে এ মিশন। গতকাল মিশনটির আটটি নির্ধারিত বৈঠক ছিল। এর মধ্যে বেলা দুপুর ১টায় ছিল অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে। তবে জাতীয় সংসদের সাবেক স্পিকার ও সাবেক অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকারের জানাজায় অংশ নিতে যাওয়ায় ওই বৈঠক বাতিল করা হয় বলে অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানায়।

আইএমএফের বাংলাদেশ মিশনপ্রধান ইভো ক্রজনারের নেতৃত্বে গতকাল দিনের প্রথম বৈঠকটি হয় অর্থসচিব মো. খায়েরুজ্জামান মজুমদারের সঙ্গে। এরপর অর্থ বিভাগের কর্মকর্তা এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিনিধিদের কাছে নিজেদের নীতি পরিকল্পনা উপস্থাপন করে আইএমএফ মিশন।

অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে বের হওয়ার সময় আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে আরও বলেন, ‘আমাদের মূল চিন্তা টাকা পাওয়া নয়, দেশের স্বার্থ রক্ষা করা। দেশের মানুষের স্বার্থ ক্ষুণ্ন করে আইএমএফের সঙ্গে কোনো কর্মসূচিতে সরকার যাবে না।’
আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী আরও বলেন, পূর্ববর্তী ফ্যাসিস্ট সরকারের নেওয়া আইএমএফের কর্মসূচিতে এমন অনেক শর্ত ছিল, যা একটি গণতান্ত্রিক ও নির্বাচিত সরকারের পক্ষে গ্রহণযোগ্য নয়। এই কারণে বর্তমান সরকার আগের প্রোগ্রাম থেকে বেরিয়ে এসে নতুন প্রোগ্রাম নিচ্ছে। নতুন করে ঋণচুক্তি করতে আলোচনা চলছে। দেশের স্বার্থে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।

অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘একটি নির্বাচিত সরকার হিসেবে বাংলাদেশের মানুষের এবং দেশের অর্থনীতির স্বার্থ সুরক্ষিত রাখাই আমাদের প্রধান অগ্রাধিকার। জনগণের অর্থনৈতিক স্বার্থ নিশ্চিত করে আইএমএফের সঙ্গে এমন একটি নতুন কর্মসূচিতে আমরা যাচ্ছি। যে কর্মসূচিতেই যাই না কেন, সেখানে বাংলাদেশের জনগণের স্বার্থ শতভাগ সংরক্ষিত থাকবে।’ 

এ সময় অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী দেশের চলমান রাজনীতি, অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক আর্থিক সহযোগিতা বিষয়ে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান ও পরিকল্পনা তুলে ধরেন সাংবাদিকদের সামনে। এই সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর অর্থনীতি পুনরুদ্ধারকে সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে বলে জানান তিনি।

অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, গতকালের বৈঠকগুলোর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল সম্ভাব্য দ্বিতীয় সহনশীলতা ও টেকসই সুবিধা (আরএসএফ) কর্মসূচি। এ কর্মসূচির প্রস্তুতি, সম্ভাব্য কাঠামো ও শর্ত নিয়ে বেলা ২ থেকে ৩টা পর্যন্ত আলোচনা হয়েছে। পাশাপাশি আগের সরকারের সময়ে নেওয়া প্রথম আরএসএফ কর্মসূচির আওতায় সংস্কার বাস্তবায়নের অগ্রগতিও পর্যালোচনা করা হয়েছে।

বিকেল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত বৈঠকগুলোয় ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট ও মধ্যমেয়াদি বাজেট কাঠামো, মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য, রাজস্ব আহরণের পরিকল্পনা, ভর্তুকি ও সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি, বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি), বড় উন্নয়ন প্রকল্পের বাস্তবায়ন পরিকল্পনা এবং অর্থায়নের উৎস নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এ ছাড়া ২০২৬-২৭ অর্থবছর ও মধ্যম মেয়াদে ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড কর্মসূচির ব্যয়, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিগুলো একীভূত করার পরিকল্পনা, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা, নতুন নিয়োগ, জনবলকাঠামো এবং বার্ষিক বেতন বৃদ্ধি নিয়েও আইএমএফের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। 

পরিবর্তন আসবে ভিসানীতিতে

আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, আধুনিক বাংলাদেশ গড়ার জন্যই কাজ করছে সরকার।  দেশের অর্থনৈতিক গতিশীলতা বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আস্থা বাড়াতে বর্তমান ভিসানীতিতে পরিবর্তন আনা হবে। একটি আধুনিক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হলে আমাদের বর্তমান ভিসানীতি রিভাইস বা সংশোধন করা দরকার। এই নীতিকে আরও সহজ ও আধুনিক করা হবে।

ভিসানীতি আধুনিকীকরণের ফলে দেশে বিদেশি পর্যটকদের আগমন বাড়বে, বিদেশি বিনিয়োগকারীরা স্বাচ্ছন্দ্যে বিনিয়োগ করতে পারবেন এবং বিশ্ববাসীর কাছে বাংলাদেশের ওপর আস্থা ও গ্রহণযোগ্যতা আরও সুদৃঢ় হবে বলে তিনি জানান।

জুলাই-সেপ্টেম্বরে রিটার্ন জমা দিলেই কর ছাড়

প্রকাশ: ১৩ জুলাই ২০২৬, ০৯:১৯ এএম
আপডেট: ১৩ জুলাই ২০২৬, ০৯:২৭ এএম
জুলাই-সেপ্টেম্বরে রিটার্ন জমা দিলেই কর ছাড়
ছবি:খবরের কাগজ

চলতি করবর্ষে পাঁচ শ্রেণির করদাতা ছাড়া বাকিদের অনলাইনে আয়কর রিটার্ন জমা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। ব্যক্তিশ্রেণির করদাতারা সারা বছর রিটার্ন জমা দিতে পারবেন। এবার ১ জুলাই থেকে ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে রিটার্ন জমা দিলে নির্দিষ্ট হারে কর ছাড় পাবেন। 

আয়কর আইনের নতুন বিধান অনুযায়ী, রিটার্ন জমার জন্য চলতি করবর্ষকে (১ জুলাই থেকে ৩০ জুন) চার প্রান্তিকে ভাগ করা হয়েছে। প্রথম প্রান্তিকে অর্থাৎ জুলাই থেকে সেপ্টেম্বরের মধ্যে রিটার্ন জমা দিলে পরিশোধযোগ্য করের ৫ শতাংশ অথবা সর্বোচ্চ ২৫ হাজার টাকা- যা কম, সেই পরিমাণ কর ছাড় পাওয়া যাবে। দ্বিতীয় প্রান্তিকে অর্থাৎ অক্টোবর থেকে ডিসেম্বরের মধ্যে রিটার্ন জমা দিলে অতিরিক্ত কোনো ছাড় বা জরিমানা থাকবে না। নির্ধারিত কর পরিশোধ করলেই হবে। তৃতীয় প্রান্তিকে অর্থাৎ জানুয়ারি থেকে মার্চের মধ্যে রিটার্ন জমা দিলে পরিশোধযোগ্য করের সঙ্গে অতিরিক্ত ২ শতাংশ অথবা ন্যূনতম ৩ হাজার টাকা– যা বেশি, তা পরিশোধ করতে হবে। চতুর্থ প্রান্তিকে অর্থাৎ এপ্রিল থেকে জুনের মধ্যে রিটার্ন জমা দিলে অতিরিক্ত ৫ শতাংশ অথবা ন্যূনতম ৫ হাজার টাকা– যা বেশি, সেই পরিমাণ অর্থ জরিমানা হিসেবে পরিশোধ করতে হবে। 

আয়কর আইনানুযায়ী, চলতি করবর্ষে নতুন করদাতাকে ন্যূনতম এক হাজার টাকা কর পরিশোধ করে রিটার্ন জমা দিলেই হবে। তবে পুরোনো করদাতাদের ক্ষেত্রে ন্যূনতম ৫ হাজার টাকা কর ধার্য আছে। 

এনবিআর সাবেক চেয়ারম্যান ড. মো. আবদুল মজিদ খবরের কাগজকে বলেন, চলতি করবর্ষে এনবিআর রিটার্ন উৎসাহিত করতে প্রণোদনা ও কর ছাড়ের বিধান রেখেছে। আশা করি, এতে অনেকে রিটার্ন জমা দিতে উৎসাহিত হবেন। 

রাজস্ব খাতের এই বিশ্লেষক বলেন, বর্তমানে দেশে করদাতার সংখ্যা এক কোটি ছাড়িয়েছে। অথচ প্রতি করবর্ষে গড়ে ৪০ লাখ থেকে ৪৫ লাখ রিটার্ন জমা পড়ে। অন্যদিকে যারা রিটার্ন জমা দেন তাদের অনেকে আবার রিটার্নে মিথ্যা তথ্য দেন। এভাবে বড় অঙ্কের কর ফাঁকি হচ্ছে। এনবিআরকে রিটার্ন জমা বাড়াতে পদক্ষেপ নিতে হবে। একই সঙ্গে রিটার্নে দেওয়া তথ্যের স্বচ্ছতাও নিশ্চিত করতে হবে। 

এনবিআর সূত্র জানায়, চলতি অর্থবছরে বার্ষিক করমুক্ত আয়সীমা সাড়ে ৩ লাখ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৪ লাখ টাকা করা হয়েছে। এর বেশি করযোগ্য আয়ের প্রথম ৩ লাখ টাকার ওপর ১০ শতাংশ, পরবর্তী ৪ লাখ টাকার ওপর ১৫ শতাংশ, পরবর্তী ৫ লাখ টাকার ওপর ২০ শতাংশ, পরবর্তী ২০ লাখ টাকার ওপর ২৫ শতাংশ এবং এর বেশি আয়ের ওপর ৩০ শতাংশ হারে কর দিতে হবে।

করদাতারা ব্যাংক ট্রান্সফার, ডেবিট কার্ড, ক্রেডিট কার্ড, বিকাশ, রকেট, নগদ অথবা অন্য কোনো মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস অ্যাপ ব্যবহার করে ঘরে বসেই কর পরিশোধ করে অনলাইনে আয়কর রিটার্ন দাখিল করতে পারেন। অফিস চলাকালিন সময়ে করদাতা (০২) ৫৫৬৬৭০৭০ নম্বরে ফোন করে রিটার্ন জমা বা রাজস্বসংক্রান্ত সমস্যার সমাধান জানতে পারবেন। অনলাইইনে রিটার্ণ দাখিলের ঠিকানা www.etaxnbr.gov.bd. 

অনলাইনে আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়ার জন্য এনবিআরের ওয়সাইটে ই রিটার্ন পোর্টালে নিবন্ধন করতে হবে। অনলাইইনে রিটার্ন দাখিলের জন্য সংশিষ্ট কর অঞ্চল থেকে করদাতাকে নিজস্ব ইউজার আইডি এবং পাসওয়ার্ড সংগ্রহ করতে হবে। এ ইউজার আইডি এবং পাসওয়ার্ড দিয়ে প্রত্যেক করবর্ষে রিটার্ণ দাখিল করতে পারবেন। এরপর ইটিআইএন ও পাসওয়ার্ড দিয়ে লগইন করে রিটার্ন সাবমিশনে গিয়ে নিজের আয়, বিনিয়োগ, সম্পদ ও দায় এবং প্রযোজ্য তথ্য ধাপে ধাপে পূরণ করে অনলাইনে রিটার্ন জমা দেওয়া যাবে। রিটার্ন পরিশোধের সনদ অনলাইনেই আসবে।

এনবিআর থেকে বিশেষ আদেশ দিয়ে পাঁচ শ্রেণির করদাতাদের অনলাইইনে রিটার্ন জমা দেওয়ায় ছাড় দেওয়া হয়েছে। আয়কর আইন অনুসারে, ৬৫ বছর বা তদূর্ধ্ব বয়সের প্রবীণ করদাতা, সনদপত্র দাখিল সাপেক্ষে শারীরিকভাবে অসমর্থ বা বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন করদাতা, বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশি করদাতা, মৃত করদাতার পক্ষে আইনগত প্রতিনিধি এবং বাংলাদেশে কর্মরত বিদেশি নাগরিক। 

এনবিআর সূত্র জানায়, অনেক বেসরকারি প্রতিষ্ঠান নিজস্ব কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কর জমা দিয়ে থাকে। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কর ফাঁকি ধরা পড়লে ওই কর্তৃপক্ষ দায়ী থাকবে। 

সূত্র আরও জানায়, কোন কোম্পানির শেয়ারহোল্ডার পরিচালক বা শেয়ারহোল্ডার চাকরিজীবী ও কোন ফার্মের অংশীদার হলে রিটার্ন দাখিল করতে হবে। মোটরগাড়ির মালিক হলে, সিটি করপোরেশন, পৌরসভা বা ইউনিয়ন পরিষদ হতে ট্রেড লাইসেন্স গ্রহণ করে কোনো ব্যবসা বা পেশা পরিচালন করলে, কোনো কোম্পানির বা গ্রুপ অব কোম্পানির পরিচালনা পরিষদে থাকলে বাধ্যতামূলক করদাতাকে আয়কর রিটার্ন জমা দিতে হবে। চিকিৎসক, আইনজীবী, চার্টার্ড অ্যাকাউন্টেন্ট, কস্ট অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট অ্যাকাউন্টেন্ট, প্রকৌশলী, স্থপতি অথবা সার্ভেয়ার বা সমজাতীয় পেশাজীবী হিসাবে নিবন্ধিত হলে আয়কর রিটান জমা দিতে হবে। 

কোনো বণিক, শিল্পবিষয়ক চেম্বার, ব্যবসায়িক সংঘ বা সংস্থার সদস্য হলে, কোনো সিটি করপোরেশন বা পৌরসভার কোনো পদে বা সংসদ সদস্য হিসেবে প্রার্থী হলে, সরকারি, আধা সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত সংস্থা বা স্থানীয় সরকারের কোনো টেন্ডারে অংশ নিলে চলতি আয় বছরে আয়কর রিটার্ন দাখিল বাধ্যতামূলক। করদাতা বেতন প্রাপ্ত হলে আয়কর বিবরণীর সঙ্গে বেতন বিবরণী জমা দিতে হবে। ব্যাংক হিসাব থাকলে বা ব্যাংক সুদ থেকে আয় থাকলে ব্যাংক বিবরণী বা ব্যাংক সার্টিফিকেট দিতে হবে।

দেশের তৈরি পোশাক খাতের সংকট বাড়ছে

প্রকাশ: ১২ জুলাই ২০২৬, ০৯:৪৬ এএম
আপডেট: ১২ জুলাই ২০২৬, ১০:৪৮ এএম
দেশের তৈরি পোশাক খাতের সংকট বাড়ছে
খবরের কাগজ ইনফোগ্রাফ

বাংলাদেশের রপ্তানি আয়ের অন্যতম খাত তৈরি পোশাকশিল্প। বছর দুয়েক থেকে এ খাত বহুমুখী সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। সাম্প্রতিক ভূরাজনৈতিক টানাপোড়েন, মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিরতা এবং প্রধান বাজারগুলোতে উচ্চ মূল্যস্ফীতির ফলে এখাতের সংকট বেড়ে মহাসংকটে রূপ নিয়েছে।

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) সবশেষ তথ্যানুসারে, তৈরি পোশাক খাত (আরএমজি) থেকে দেশের মোট রপ্তানি আয়ের ৮০ শতাংশের বেশি আসে। এ শিল্প ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ৩৮ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলার আয় করেছে, যা আগের অর্থবছরের ৩৯ দশমিক ৩৫ বিলিয়ন ডলার থেকে ১ দশমিক ৬৪ শতাংশ কম। এর মধ্যে নিট পোশাক রপ্তানি ২ দশমিক ৫৩ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ২০ দশমিক ৬২ বিলিয়ন ডলার এবং ওভেন পোশাক রপ্তানি শূণ্য দশমিক ৬১ শতাংশ কমে হয়েছে ১৮ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলার। তবে জুন মাসে আরএমজি খাতের রপ্তানি আয় ২১ দশমিক ৫২ শতাংশ বেড়ে ৩ দশমিক ৩৮ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে।

নিট পোশাকশিল্পের মালিকদের সংগঠন বিকেএমইএ-এর সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম খবরের কাগজকে বলেন, বিশ্ববাণিজ্যে তৈরি পোশাক খাতের বেশির ভাগ বাজারে উচ্চ মূল্যস্ফীতি চলছে। এর মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধকালীন পরিস্থিতি এখনো স্বাভাবিক হয়নি।

আন্তর্জাতিক বাজারে পোশাকের চাহিদা কমছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের রপ্তানিতে। এই পরিস্থিতির কবে উন্নয়ন ঘটবে তা বলা যাচ্ছে না। বিগত সরকারের সময়ে অনেক কারখানা বন্ধ হয়ে গিয়েছে। অনেক কারখানা বন্ধের পথে। অনেকে কাজ হারিয়েছে। এর প্রভাব পড়েছে দেশের অর্থনীতিতে। বন্ধ কারখানা চালু করতে সরকারের সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, একদিকে দেশে জ্বালানিসংকটের কারণে উৎপাদন খরচ বাড়ছে, অন্যদিকে ভূ-রাজনৈতিক টানাপোড়েনে প্রধান বাজারগুলোতে কমছে ক্রয়াদেশ (অর্ডার)। এই দ্বিমুখী সংকটে পড়ে অনেক পোশাক কারখানা এখন অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার লড়াই করছে।

তৈরি পোশাকশিল্পের উদ্যোক্তাদের সংগঠন বিজিএমইএ-এর তথ্য অনুযায়ী, দেশের প্রায় ৭০ শতাংশ পোশাক কারখানা সরাসরি বিদেশি অর্ডারের ওপর নির্ভরশীল। এসব কারখানার পুঁজির সংকট থাকে। অর্ডার কমে গেলে চলমান খরচ চালিয়ে নিতে হিমশিম খেতে হয়।

বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) সাবেক মহাপরিচালক ও বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ মুস্তফা কে মুজেরি খবরের কাগজকে বলেন, নিজস্ব ব্র্যান্ড তৈরি কিংবা সরাসরি বিদেশি খুচরা বাজারে প্রবেশের সক্ষমতা সীমিত হওয়ায় নতুন বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের দাপট বাড়তে সময় লাগছে। এরই মধ্যে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) ও যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে দেশের পোশাক রপ্তানিতে নেতিবাচক প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। বিশ্ববাজারে উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়ায় তারা পোশাকের পেছনে খরচ কমিয়ে দিয়েছেন।

বিকেএমইএ-এর সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশের পোশাক খাতের সবচেয়ে বড় ধাক্কাটি এসেছে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ ও অভ্যন্তরীণ জ্বালানিসংকটের কারণে। মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনার জেরে লোহিত সাগর রুট দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। ফলে জাহাজগুলোকে এখন আফ্রিকা ঘুরে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে হচ্ছে। এতে কাঁচামাল আমদানি ও তৈরি পোশাক বিদেশে পাঠাতে আগের চেয়ে অনেক বেশি সময় লাগছে।

তিনি আরও বলেন, দীর্ঘ পথ ব্যবহারের কারণে আন্তর্জাতিক রুটে জাহাজ ও কনটেইনারের ভাড়াও ঊর্ধ্বমুখী, যা ক্রেতা ও উৎপাদক উভয় পক্ষকেই বড় আর্থিক লোকসানে ফেলেছে।

উৎপাদন খরচ বেড়েছে

দেশে গ্যাস ও বিদ্যুতের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। কারখানাগুলোতে দৈনিক কয়েক ঘণ্টা লোডশেডিংয়ের কারণে জেনারেটর চালাতে অতিরিক্ত জ্বালানি লাগছে। ফলে উৎপাদন খরচ প্রায় ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। বাংলাদেশের এই অভ্যন্তরীণ সমস্যা ও বৈশ্বিক চাপের সুযোগ নিচ্ছে ভিয়েতনাম, ভারত ও পাকিস্তানের মতো প্রতিযোগী দেশগুলো। উন্নত বাণিজ্য, কূটনীতি ও স্থিতিশীল সরবরাহ চেইনের কারণে কিছু বড় আন্তর্জাতিক গ্রাহক বাংলাদেশ থেকে অর্ডার সরিয়ে এসব দেশে নিয়ে যাচ্ছে, বিশেষ করে দেশের এই সংকটের সময়ে শক্তিশালী প্রতিযোগী হিসেবে অবস্থান শক্ত করেছে ভিয়েতনাম।

প্রযুক্তিগত উৎপাদন, উচ্চতর কর্মক্ষমতা ও দক্ষ ব্যবস্থাপনার কারণে দেশটি অনেক ক্রেতার কাছে বিশ্বস্ত হয়ে উঠেছে। এ ছাড়া ইইউর সঙ্গে মুক্তবাণিজ্য চুক্তিসহ (এফটিএ) বিভিন্ন বাণিজ্য জোটে থাকায় ভিয়েতনাম বাড়তি সুবিধা পাচ্ছে।

এলডিসি উত্তরণ ও বন্ড অডিট শিথিল

স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে বাংলাদেশের আনুষ্ঠানিক উত্তরণের পর পর ইউরোপ ও আমেরিকার বাজারে এতদিন পেয়ে আসা শুল্কমুক্ত রপ্তানি সুবিধা (জিএসপি) হারানোর বড় ঝুঁকি রয়েছে। তাই এখন থেকেই এটি কাটিয়ে উঠতে তৈরি পোশাক খাতের সক্ষমতা বাড়ানোর প্রয়োজন রয়েছে।

ব্যবসা-বাণিজ্য সহজ করার উদ্দেশ্যে শতভাগ কমপ্লায়েন্ট পোশাকশিল্প প্রতিষ্ঠানে প্রতিবছর বন্ড অডিটের বাধ্যবাধকতা রহিত করার প্রস্তাব করেছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। এই পদক্ষেপের মধ্য দিয়ে শতভাগ রপ্তানিমুখী ও নিয়ম মেনে চলা কারখানার জন্য প্রতিবছর বন্ড অডিটের বাধ্যবাধকতা উঠে যাবে, যা কিছুটা স্বস্তি দেবে।

শুল্কনীতি ও অভ্যন্তরীণ সংকট

বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মানীয় ফেলো মোস্তাফিজুর রহমান খবরের কাগজকে বলেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নতুন শুল্কনীতির কারণে বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে তৈরি পোশাকশিল্প।

তিনি আরও বলেন, ইইউ ভবিষ্যতে আমাদের পোশাকশিল্পের ওপর কার্বন ট্যাক্স আরোপ করতে পারে। উন্নত দেশগুলোর বাজারে শুল্কমুক্ত সুবিধা হারানোর বড় ঝুঁকি তো রয়েছেই। আশঙ্কা করা হচ্ছে, এলডিসি থেকে উত্তরণ-পরবর্তী সময়ে দেশের পোশাকশিল্পকে তীব্র বৈশ্বিক প্রতিযোগিতার মুখে পড়তে হবে। শুধু আন্তর্জাতিক রুটেই নয়, অভ্যন্তরীণ রুটেও পরিবহন খরচ আকাশচুম্বী হয়ে উঠেছে। এর ফলেও মালিকদের হিমশিম খেতে হচ্ছে বলে তিনি জানান।

বিজিএমইএ-এর সভাপতি মাহমুদ হাসান খান খবরের কাগজকে বলেন, ‘মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের আগেও আমরা ব্যাংক ঋণের উচ্চ সুদ নিয়ে সংকটে ছিলাম। এরপর ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতার ফলে প্রথমে জ্বালানিসংকট এবং এর প্রভাবে জ্বালানি, বিদ্যুৎ ও গ্যাসের দাম বাড়ল। সব মিলিয়ে দেশের পোশাকশিল্প চরম সংকটে রয়েছে। এসব সমস্যার সমাধানে আমরা সরকারের কাছে দাবি জানিয়েছি।’

ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (ডিসিসিআই) সভাপতি তাসকীন আহমেদ খবরের কাগজকে বলেন, তৈরি পোশাকশিল্প বর্তমানে ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতার পাশাপাশি একাধিক কাঠামোগত ও বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন। উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি, জ্বালানিসংকট, উচ্চ সুদের হার এবং ডলারসংকট এগুলোর মধ্যে অন্যতম।

তিনি আরও বলেন, ‘গ্যাস ও বিদ্যুতের অনিয়মিত সরবরাহ উৎপাদন ব্যাহত করছে, আর কাঁচামাল ও পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি প্রতিযোগিতায় টিকে থাকার সক্ষমতা কমিয়ে দিচ্ছে। একই সঙ্গে পরিবেশগত মান, শ্রমমান ও কমপ্লায়েন্স নিশ্চিত করতে অতিরিক্ত বিনিয়োগের প্রয়োজন হচ্ছে। তাই শিল্পটির টেকসই প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করতে জ্বালানি নিরাপত্তা, নীতিগত স্থিতিশীলতা, ব্যবসা পরিচালনার ব্যয় হ্রাস এবং উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির ওপর বিশেষ জোর দেওয়া প্রয়োজন।’

বেনাপোল বন্দরে জলাবদ্ধতায় শত কোটি টাকার পণ্য ক্ষতিগ্রস্ত

প্রকাশ: ১১ জুলাই ২০২৬, ০১:১৬ পিএম
আপডেট: ১১ জুলাই ২০২৬, ০২:১৩ পিএম
বেনাপোল বন্দরে জলাবদ্ধতায় শত কোটি টাকার পণ্য ক্ষতিগ্রস্ত
ছবি: খবরের কাগজ

যশোরের বেনাপোল স্থলবন্দরে টানা দুই দিনের বৃষ্টিতে বিভিন্ন শেডে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হওয়ায় শত কোটি টাকার আমদানি করা পণ্য পানিতে ভাসছে। 

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) বিকাল থেকেই বিরামহীনভাবে বৃষ্টি হচ্ছে এ অঞ্চলে। টানা বৃষ্টিতে বেনাপোল বন্দরের ৩নং গেটের সামনে পাঁচটি শেডে বিভিন্ন ধরনের আমদানি করা মালামাল পানিতে তলিয়ে গেছে। কোথাও কোথাও হাঁটুপানি জমে গেছে। পানি পাম্প দিয়ে বের করার চেষ্টা চলছে।

বন্দর কর্তৃপক্ষ ও বন্দর ব্যবহারকারীরা এসব এলাকা পরিদর্শন করেছেন।

বন্দর ব্যবহারকারীরা বলছেন, দেশের সর্ববৃহৎ এই স্থলবন্দরে শেড ইয়ার্ডসহ বিভিন্ন স্থাপনা নির্মিত হলেও নাজুক ড্রেনেজ ব্যবস্থার কারণে সামান্য বৃষ্টি হলেই পানিতে তলিয়ে আমদানি করা মালামাল।

স্থানীয় বন্দর ব্যবহারকারী সংগঠনগুলো দীর্ঘদিন ধরে নানা অব্যবস্থাপনার কথা বললেও বন্দর কর্তৃপক্ষ কোনো কথা আমলে না নেওয়ায় প্রায় শতাধিক আমদানিকারকের সব হারিয়ে পথে বসার উপক্রম হয়েছে।

বিমা না থাকায় বন্দর কর্তৃপক্ষ কোনো ক্ষতিপূরণও দেয় না। পানি নিষ্কাশনের বিষয়ে কমিটি করা হলেও তার কোনো কার্যকারিতা নেই। গত বছরের বর্ষার সময় কমিটির লোকজনের তৎপরতা ২-১ দিন দেখা গেলেও পরে এ নিয়ে আর কোনো পরিকল্পনা করা হয়নি।

বেনাপোল বন্দরের ব্যবসায়ী বাবলুর রহমান বলেন, ‘বন্দরে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় চলাচলে মারাত্মক অসুবিধা হচ্ছে। কয়েকটি পণ্যাগারে পানি ঢুকে অনেক আমদানিকারকের লাখ লাখ টাকার মালামাল ভিজে নষ্ট হয়ে গেছে। বন্দরের ভাড়া প্রতিবছর বাড়লেও তারা বন্দরের উন্নয়নে কোনো ভূমিকা নিচ্ছে না। অধিকাংশ অবকাঠামো দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ছাড়া তৈরি হওয়ায় বৃষ্টির সময় জলাবদ্ধতা তৈরি হচ্ছে। বারবার আশ্বাস দিলেও স্থায়ী সমাধান করা হচ্ছে না।’

বেনাপোল আমদানি-রপ্তানিকারক সমিতির সভাপতি মহসিন মিলন জানান, দেশের সর্ববৃহৎ বেনাপোল স্থলবন্দরে অপরিকল্পিত উন্নয়ন ও পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় এই অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। সরকার এই বন্দরের কাস্টমসের মাধ্যমে বছরে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে ১০ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব আদায় করে থাকে। এত বড় বাণিজ্যিক স্থাপনায় বছরের পর বছর এই দুর্দশা চললেও সরকারের কোনো পদক্ষেপ না নেওয়া দুর্ভাগ্যজনক। বৃষ্টির পানি পণ্যাগারে ঢুকে মালামাল ভিজে নষ্ট হলে লোকসানের শিকার হতে হয় ব্যবসায়ীদের। এ নিয়ে ব্যবসায়ীরা একাধিকবার বন্দরের কাছে অভিযোগ করলেও কার্যকর কোনো উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়নি।

বেনাপোল স্থলবন্দরের পরিচালক শামীম হোসেন বলেন, ‘টানা বৃষ্টিতে বেশকিছু শেডে পানিতে মালামাল ভিজেছে। পাওয়ার পাম্প দিয়ে পানি নিষ্কাশনের চেষ্টা চলছে। তবে অবিরাম বৃষ্টি হওয়ায় কিছুটা বেগ পেতে হচ্ছে।’

বৃষ্টি বন্ধ হলে সমস্যা সমাধান হওয়ার আশা প্রকাশ করে তিনি বলেন, জলাবদ্ধতা নিরসনে স্থায়ী সমাধানের চেষ্টা করা হচ্ছে।

 নজরুল ইসলাম/খাদিজা রুমি/