উন্নত রাষ্ট্রগুলোতে ই-পাসপোর্টের ব্যবহার দিন দিন বাড়ছে। এ অবস্থায় এমআরপি পাসপোর্ট বহনকারী বাংলাদেশিদের পোহাতে হচ্ছে নানারকম ভোগান্তি। বিমানবন্দরে জটিলতা আরও চরমে। বাংলাদেশে সেবার দরজা ডিজিটালাইজড হলেও এখনো পড়ে রয়েছে পুরোনো ব্যবস্থায়। অনলাইনে আবেদন, আঙুলের ছাপ, ছবি তোলা- কোথায় নেই ভোগান্তি। এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় যেতে জুতা ক্ষয়ের পর মেলে সোনার হরিণরূপী সেই ই-পাসপোর্ট। ভোগান্তির বেড়াজালে বয়স্ক থেকে শিশুরা কেউ-ই রেহাই পাচ্ছেন না।
উন্নত প্রযুক্তির ই-পাসপোর্ট সেবা এখন ইস্যু করা হচ্ছে। এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে ২০১৮ সালের ৭ মে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় বাংলাদেশ ই-পাসপোর্ট ও স্বয়ংক্রিয় বার্তার নিয়ন্ত্রক ব্যবস্থাপনা প্রবর্তন নামে একটি প্রকল্পের অনুমোদন দেওয়া হয়। প্রথমে এর ব্যয় ধরা হয়েছিল ৪ হাজার ৬৩৬ কোটি টাকা। ২০১৮-এর জুলাই থেকে ২০২৮ সালের জুনের মধ্যে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের কথা। এদিকে প্রাক্কলিত ব্যয়ে সংকুলান না হওয়ায় প্রকল্পটি সংশোধন করে এক লাফেই তা প্রায় ৯৫ শতাংশ বাড়িয়ে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৯ হাজার ৩৮ কোটি টাকা।
প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আওতায় বাংলাদেশ ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তর। পরিকল্পনা কমিশনের সংশ্লিষ্ট সদস্য ড. মোহাম্মদ এমদাদ উল্লাহ মিয়া খবরের কাগজকে বলেন, ‘প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে বহির্বিশ্বের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে উন্নত প্রযুক্তিসম্পন্ন ই-পাসপোর্ট ইস্যু করা সম্ভব হবে। এর মাধ্যমে বাংলাদেশি পাসপোর্টের গ্রহণযোগ্যতা বাড়বে এবং ইমিগ্রেশন চেকপোস্টে আগত দেশি-বিদেশি নাগরিকদের গমনাগমন সহজ করা সম্ভব হবে।’
ই-পাসপোর্টধারী যাত্রীদের জন্য ই-গেট দিয়ে দ্রুততম সময়ের মধ্যে ইমিগ্রেশনের ব্যবস্থা থাকলেও তা চলছে আগের মতো ম্যানুয়ালি। এতে ইমিগ্রেশনে যাত্রীদের দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। স্বয়ংক্রিয়ভাবে ভিসা পরীক্ষা করা যায় না। কর্তৃপক্ষ বলছে, ই-ভিসা চালু হলে তা ই-গেটের সার্ভারের সঙ্গে যুক্ত করা হবে। এরপর ই-গেট ব্যবহার করে ইমিগ্রেশন সম্পন্ন করা সম্ভব হবে।
সূত্র মতে, বাংলাদেশে প্রবাসী যারা আছেন তারা অনেকেই ই-পাসপোর্টের সঠিক নিয়ম মেনে আবেদন করতে ব্যর্থ হলে ভোগান্তিতে পড়েন। সেবাটি যেহেতু নতুন, এ কারণে অনেকের কাছেই বিষয়টি অস্পষ্ট। অনেক আবেদনকারীর ঠিকানার কারণে ই-পাসপোর্ট পেতে সমস্যা হচ্ছে। পুলিশ ভেরিফিকেশনের সুবিধার জন্য এলাকাগুলো ম্যাপ করে ভাগ করেছে ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তর। এলাকা বিভক্ত হওয়ার কারণে এ অসুবিধায় পড়ছেন অনেকে।
পাসপোর্ট সংশোধনের জন্য আবেদন করেও ডেলিভারি দ্রুত না পাওয়াসহ নানা কারণে পাসপোর্ট পেতে জনসাধারণকে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। পাসপোর্ট অফিসের লোকবল স্বল্পতা, পর্যাপ্ত প্রিন্ট সরঞ্জামের অভাব, ঢিমেতালে চলা পুলিশ ভেরিফিকেশনের কারণে জট দিন দিন আরও দীর্ঘায়িত হচ্ছে। ভোটার আইডি ও জন্মনিবন্ধনে নামের গরমিল থাকায় দালালের খপ্পরে পড়ে বাড়তি জটিলতায় পড়ছেন ভুক্তভোগীরা।
ই-পাসপোর্টের চাহিদা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে নতুন সব আঞ্চলিক অফিসও স্থাপন করা প্রয়োজন। এতে গ্রাহকরা তাদের কাঙ্ক্ষিত সেবা পাবেন। জনভোগান্তিও কমবে। ই-পাসপোর্টের অনলাইন পোর্টালটির সার্ভার যাতে শক্তিশালী হয় সেদিকেও কর্তৃপক্ষকে বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে। কর্তৃপক্ষের ভুলের কারণে যাতে সাধারণ মানুষকে দুর্ভোগ না পোহাতে হয় সেদিকেও খেয়াল রাখতে হবে।