ঢাকা ২৯ আষাঢ় ১৪৩৩, সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬

সর্বশেষ
বিশ্বকাপে বিরল কীর্তি গড়ল সেমিফাইনালের ৪ দল আর্জেন্টিনা নাকি ইংল্যান্ড, ফাইনালে কে উঠবে? জানাল সুপারকম্পিউটার ইংল্যান্ডকে ‘অপূর্ণ কাজ’ শেষ করার আহ্বান হ্যারি কেইনের ২০৩০ বিশ্বকাপে ৬৪ দলের পরিকল্পনা ফিফার স্পেনকে ভয় পায় না ফ্রান্স: ইব্রাহিমা কোনাতে সামাজিক মাধ্যমে ছড়ানো মরদেহ ভাসানোর খবর গুজব: ইউএনও ইউএস-বাংলার বহরে যুক্ত হচ্ছে ২১ নতুন বোয়িং, বিনিয়োগ ১৪ হাজার কোটি টাকা সোনারগাঁয়ে বাবা ছেলেকে কুপিয়ে জখম হরমুজ প্রণালী বন্ধ ঘোষণা ইরানের রাজধানীতে দুর্ঘটনার শিকার জবি শিক্ষকদের বাস, আহত  ৩ নৌবাহিনীর বৃক্ষরোপণ অভিযান উদ্বোধন বরিশাল সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী বাস্তুচ্যুতদের পুনর্বাসনে প্রধানমন্ত্রীর উদ্যোগের কথা জানালেন প্রতিমন্ত্রী আগৈলঝাড়া থানায় হামলার প্রধান আসামিসহ গ্রেপ্তার ৬ বৃষ্টি আর উজানের ঢলে বাড়ছে কাপ্তাই হ্রদের পানি, নিম্নাঞ্চল প্লাবিত চট্টগ্রামে প্রকাশ্যে ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে আহত বিশ্বমঞ্চে ইল্লিয়ীন, ডি-৮ হালাল এক্সপোতে উজ্জ্বল বাংলাদেশের ফ্যাশন ঝিনাইদহে ফি দিতে দেরি, পরীক্ষার হল থেকে বের করে দেওয়া হলো শিক্ষার্থীকে ত্রাণ ও সহায়তা নিয়ে বন্যাদুর্গতদের পাশে যুবদল আনোয়ারায় ত্রাণ বিতরণে নাহিদ, বেড়িবাঁধ নির্মাণে লুটপাটের অভিযোগ জমিরউদ্দিন সরকারকে শেষ শ্রদ্ধা জানালেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশে বন্যা পরিস্থিতি: ক্ষতিগ্রস্ত ১০ লাখের বেশি মানুষ, নিহত ৫১ নাটোরে সরকারি হাসপাতালে নবজাতকের মৃত্যু, চিকিৎসককে মারধর চট্টগ্রামে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি, পানিবন্দি দেড় লাখ যে আমল ৩৬০ জোড়ার সদকা টেলিটক বিক্রি নয়, বরং আপগ্রেড করা হচ্ছে: আইসিটি মন্ত্রী রাজস্ব ফাঁকি ও মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে কোনো ছাড় নয়: অর্থমন্ত্রী ওসমানী বিমানবন্দর থেকে যুক্তরাজ্যপ্রবাসী নারী গ্রেপ্তার রাজনীতির প্রতিশ্রুতি বৃক্ষরোপণ ও ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে দেশ নেই

ঈদ ফ্যাশনে কুর্তি

প্রকাশ: ১৫ মার্চ ২০২৫, ১১:৫৫ এএম
আপডেট: ১৫ মার্চ ২০২৫, ১১:৫৯ এএম
ঈদ ফ্যাশনে কুর্তি
মডেল: জেরিন, পোশাক: গ্রামীণ চেক, ছবি: জাকির হোসেন

ফ্যাশনপ্রেমীরা ঈদে নান্দনিক পোশাক পরতে পছন্দ করেন। এবার ঈদে আবহাওয়া থাকবে গরম। তাই পোশাক হতে হবে আরামদায়ক। সেই সঙ্গে হতে হবে স্টাইলিশও। বর্তমানে ইন্টারনেট, ফেসবুক ও বিদেশি ম্যাগাজিনের কারণে বিশ্বের যেকোনো ফ্যাশন ট্রেন্ড সবার হাতের মুঠোয়। আমাদের দেশীয় ফ্যাশনও তাই প্রতিনিয়ত তাল মিলিয়ে চলছে বৈশ্বিক ট্রেন্ডের সঙ্গে। ফ্যাশন ডিজাইনাররাও প্রতিনিয়ত আনছেন নিত্যনতুন ডিজাইন। ডিজাইনের বৈচিত্র্য এখন সবচেয়ে বেশি দেখা গেছে কুর্তিতে। 

কুর্তিতে ফুর্তি
ফ্যাশনেবল তরুণীরা কুর্তি পরতে পছন্দ করে। কাট আর প্যাটার্নের নান্দনিক উপস্থাপনা হওয়ার কারণে সব সময়ের ফ্যাশনে মানানসই। অফিসে, ক্লাসে এমনকি ইনফরমাল পার্টিতেও খুব সহজে পরতে পারবেন। কেবল সাদামাটা নয়, গর্জিয়াস আউটলুকের কুর্তি যেকোনো অনুষ্ঠানে পরে যাওয়া যায়। এই কুর্তিকে আসলে মিনিমাল ফ্যাশনের সমকালীন ধারাকে নতুনভাবে সামনে নিয়ে এসেছে। তাই এবারের ঈদে কুর্তি কাটিং ও প্যাটার্নে রয়েছে ভিন্নতা। গলায়, হাতা অথবা বটম লাইনে নিয়ে আসা হয়েছে বৈচিত্র্যতা। শর্ট স্লিভ, কোয়ার্টার, সেমি কোয়ার্টার ও ফুল স্লিভ সব রকম হাতার কুর্তি রয়েছে। আভিজাত্য এনে দিতে এসব পোশাকে হাতায় বৈচিত্র্যের পাশাপাশি ব্যবহার করা হয়েছে ফ্লাওয়েন্স, লেয়ার্ড ট্রাম্পেটস। নতুনত্ব এসেছে নেক লাইনেও। বড় গোল গলা থেকে শুরু করে বোট নেক, ব্যান্ড কলার, হাইনেক, কোল্ড শোল্ডার, অফ শোল্ডার, পাঞ্জাবি গলাসহ সবই দেখা গেছে এবারের ঈদের পোশাকে। 

কাপড়ে বৈচিত্র্যতা
পোশাকের কাপড় হিসেবে সুতি, জর্জেট ও লিনেন কাপড় প্রাধান্য পেয়েছে। অনেকে গর্জিয়াস পোশাক পছন্দ করে, তাদের কথা মাথায় রেখে মসলিন, কোটা সিল্ক, অ্যান্টি সিল্ক ও সিনথেটিক, ভিসকস, ডবি সিল্ক, নিট, জ্যাকার্ড কাপড় ব্যবহার করা হয়েছে। জর্জেট ও মসলিন থ্রি-পিসের কাপড়ে হাত, গলা কিংবা পুরো জমিনে গোটাপাত্তি, জরি-চুমকি ছাড়াও সুতার ওপর পাথরের কাজে করে ঈদের দিনের জন্য জমকালো পোশাক। গরমের ভাবনায় সেগুলোকে আরামদায়ক রাখার চেষ্টা করা হয়েছে।

  শাড়ি, পাঞ্জাবি, সালোয়ার-কামিজের পাশাপাশি কুর্তির ডিজাইনে রয়েছে আধুনিকতা

 

নকশা যেমন
ঈদ ফ্যাশনে তরুণীরা সুতি, লিনেন, জর্জেট কাপড়ের টুপিস সেটগুলো বেশ পছন্দ করছে আরও আছে ফিউশনধর্মী কুর্তি। এগুলোর নকশাও বেশ নজরকাড়া। কুর্তিগুলোর জমিনজুড়ে স্ক্রিন প্রিন্ট, সাবলিমেশন প্রিন্ট, কারচুপি, এমব্রয়ডারি, জিওমেট্রিক, ট্র্যাডিশনাল, ফ্লোরাল প্রিন্ট, ডিজিটাল প্রিন্ট করা হয়েছে। অধিকাংশ ফ্যাশন হাউস পোশাকের মোটিফ ও নকশায় রেখেছে উৎসবের আমেজ।

পোশাকের রঙের মধ্যে রয়েছে অ্যাশ, লাইট ব্রাউন, মেরুন, সাদা, কালো, ক্রিম, ফিরোজা অফ হোয়াইট, লাল, গোলাপি, সবুজ, নীল, গ্রিন পিচ ও সি গ্রিন, ম্যাজেন্টা, স্কাই ব্লু। রঙের ফিউশন কিংবা নতুন রঙের ব্যবহারও অনেক ফ্যাশন হাউস করতে চেয়েছে। তবে তা খুব বেশি নয়। গরমের ফিচার রংগুলোর দিয়েই পোশাক নকশা করা হয়েছে।

গ্রীষ্ম মাথায় রেখে বেশির ভাগ হাউসেই রঙের উজ্জ্বল ব্যবহার বা ফুলেল মোটিফ ব্যবহার করা হয়েছে। কুচি দেওয়া কুর্তিগুলো বিশেষভাবে আকর্ষণ করেছে। তাই তো ঈদের সময় বন্ধুবান্ধব কিংবা আত্মীয়ের বাসার দাওয়াতে গেলে পরা যাবে অনায়াসে। দেশের অন্যতম ফ্যাশন হাউস গ্রামীণ চেক সব সময়ই চেষ্টা করে ঈদের পোশাকের ডিজাইনে ভিন্নতা আনতে। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ফ্যাশন সচেতন ক্রেতাদের চাহিদাকে প্রাধান্য দিয়ে পোশাক ডিজাইন করেছে। পোশাকের ডিজাইনে করা হয়েছে নানা নিরীক্ষাধর্মী কাজ।

শাড়ি, পাঞ্জাবি, সালোয়ার-কামিজের পাশাপাশি কুর্তির ডিজাইনে রয়েছে আধুনিকতা। গলা, হাতা এবং পোশাকের প্যাটার্নের নিরীক্ষাধর্মী কাজগুলোয় সমকালীন ট্রেন্ডের প্রকাশ ঘটেছে। তাতে তরুণীরা যাতে স্বাচ্ছন্দ্যে ওয়েস্টার্ন কাটিং ড্রেস পরতে পারে, সেভাবে পোশাক ডিজাইন করা হয়েছে। পোশাকে পুরোপুরি ওয়েস্টার্ন লুকও নেই, তবে তাতে বাঙালিয়ানা খুঁজে পাওয়া যাবে। সুতি, জ্যাকার্ড কটন, ভয়েল, লিনেন, সিল্ক, মসলিন, সিল্ক, হাফ সিল্ক, দুবাই সিল্ক, অরগাঞ্জা, ধুপিয়ান সিল্ক, মমো সিল্ক, সুইস কটন, ভিসকস, বিভিন্ন ধরনের কাপড়ের উপর এমব্রয়ডারি, অ্যাপ্লিক, ব্লক, হাতের কাজ, হ্যান্ডপেইন্ট, টাইডাই প্রভৃতি বেশি ব্যবহার করে ডিজাইন ও প্যাটার্নে আনা হয়েছে নতুনত্ব।রঙ হিসেবে সাদা, নীল, হলুদ, লাল, টিয়া, সাদা, কমলা, কালো, সবুজ, গোলাপি,  আকাশিকে প্রাধান্য  দেওয়া হয়েছে। 

যা দিয়ে পরবেন 
বাটন, ডেনিম কিংবা পেনসিল কাটের ফরমাল প্যান্ট দিয়ে পোশাকগুলো পরলে স্টাইলিশ লাগবে। এ ছাড়া টপসের সঙ্গে প্লাজো বেশ আরামদায়ক। কুর্তি সঙ্গে প্লাজো পরলে দেখতেও লাগবে বেশ ট্রেন্ডি। 

কোথায় পাবেন 
গ্রামীণ চেক, কে ক্র্যাফট-এর ইয়াংকে, অঞ্জন’স-এর নতুন ব্র্যান্ড মার্জিন, নিপুণ-এর মাকু, এক্সট্যাসি, টুয়েলভ, সেইলর, ক্লাবহাউজ, রঙ বাংলাদেশ, বিবিয়ানাতে পেয়ে যাবেন চমৎকার সব কুর্তি। এ ছাড়া নিউ মার্কেট, গাউসিয়া, মৌচাকসহ বিভিন্ন মার্কেটে নতুন কাট ও প্যাটার্নের সুন্দর ট্রেন্ডি কুর্তি পাবেন।

কলি

মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশ ২০২৬ মুকুট জিতলেন সামানজার সাঈদ

প্রকাশ: ১১ জুলাই ২০২৬, ০৭:৩৯ পিএম
আপডেট: ১১ জুলাই ২০২৬, ০৭:৪১ পিএম
মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশ ২০২৬ মুকুট জিতলেন সামানজার সাঈদ
ছবি: খবরের কাগজ

জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজন, আলোকসজ্জা আর নতুন প্রজন্মের স্বপ্নকে ঘিরে রাজধানীতে অনুষ্ঠিত হলো মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশ ২০২৬-এর গ্র্যান্ড ফিনালে। শনিবার (১১ জুলাই) রাজধানীর র‍্যাডিসন ব্লু ঢাকা ওয়াটার গার্ডেন হোটেলে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সামানজার সাঈদ-এর মাথায় ওঠে দেশের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ এই সৌন্দর্য প্রতিযোগিতার মুকুট। প্রথম রানারআপ হয়েছেন স্বাগতা সাহা আর দ্বিতীয় রানারআপের খেতাব অর্জন করেছেন লাবিবা মানজুর।

শুধু সৌন্দর্য নয়, বুদ্ধিমত্তা, নেতৃত্বের গুণ, আত্মবিশ্বাস, সামাজিক দায়বদ্ধতা এবং মানুষের জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন আনার অঙ্গীকার—এসব গুণাবলির ভিত্তিতেই নির্বাচিত হয়েছেন এবারের বিজয়ী। এর মধ্য দিয়ে তিনি আগামী আগস্টে ভিয়েতনামে অনুষ্ঠেয় ৭৩তম মিস ওয়ার্ল্ড ফেস্টিভ্যালে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ পেলেন। তিনি দায়িত্ব নিচ্ছেন মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশ ২০২৫ আকলিমা আতিকা কনিকার উত্তরসূরি হিসেবে।

এবারের প্রতিযোগিতার শীর্ষ পাঁচে জায়গা করে নিয়েছিলেন আয়শা রহমান, যুক্তা ভৌমিক, লাবিবা মানজুর, সামানজার সাঈদ এবং স্বাগতা সাহা ঐশী। এই পাঁচ প্রতিযোগীর মধ্য থেকেই বিচারকদের মূল্যায়নে সেরা নির্বাচিত হন সামানজার সাঈদ।

প্রতিযোগীদের মূল্যায়নে দায়িত্ব পালন করেন মিস ইউনিভার্স বাংলাদেশ ২০১৯ শিরিন আক্তার শীলা, মিস ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ ২০২৪ ইফা তাবাসসুম, মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশ ২০১৯ রাফাহ নানজেবা তোরসা, দ্য ডেইলি স্টার–এর লাইফস্টাইল সম্পাদক মেহরিন আফরোজ চৌধুরী এবং হাল ফ্যাশন–এর কনসালট্যান্ট শেখ সাইফুর রহমান। বিচারকরা প্রতিযোগীদের আত্মবিশ্বাস, যোগাযোগ দক্ষতা, মঞ্চে উপস্থিতি, ব্যক্তিত্ব, সামাজিক সচেতনতা এবং ‘বিউটি উইথ আ পারপাস’ দর্শনের সঙ্গে সামঞ্জস্য বিবেচনা করে বিজয়ী নির্বাচন করেন।

আয়োজকরা জানান, এবারের আয়োজন শুধু একজন সুন্দরী নির্বাচনের অনুষ্ঠান নয়; বরং মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশের নতুন যাত্রার সূচনা। ২০২৫ সালে আজরা মাহমুদ ট্যালেন্ট ক্যাম্প (এএমটিসি) জাতীয় ফ্র্যাঞ্চাইজির দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রতিযোগিতাটিকে নতুনভাবে সাজানো হয়েছে। লক্ষ্য হলো এমন তরুণীদের খুঁজে বের করা, যারা সৌন্দর্যের পাশাপাশি নেতৃত্ব, মানবিকতা এবং সামাজিক দায়িত্ববোধের মাধ্যমে সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তনের অনুপ্রেরণা হতে পারেন।

মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশের জাতীয় পরিচালক এবং আজরা মাহমুদ ট্যালেন্ট ক্যাম্পের প্রতিষ্ঠাতা আজরা মাহমুদ বলেন, “এটি শুধু নতুন একজন বিজয়ীর অভিষেক নয়; এটি মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশের নতুন দৃষ্টিভঙ্গির সূচনা। আমাদের লক্ষ্য এখন আর কেবল সৌন্দর্য নয়, বরং উদ্দেশ্য, নেতৃত্ব এবং সমাজসেবা। আমরা এমন একটি প্ল্যাটফর্ম গড়ে তুলতে চাই, যেখানে নারীরা পরিবর্তনের দূত, সমাজের প্রতিনিধি এবং আগামী প্রজন্মের রোল মডেল হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করতে পারবেন। একজন বিজয়ী যেন শুধু একটি মুকুট নয়, মানুষের জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন আনার শক্তি নিয়েও ঘরে ফেরেন।”

নতুন মুকুটধারী সম্পর্কে তিনি আরও বলেন, সামানজার সাঈদের মধ্যে অসাধারণ সম্ভাবনা, সৌন্দর্যের সঙ্গে ব্যক্তিত্ব ও মানবিক মূল্যবোধের সমন্বয় রয়েছে। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তিনি বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করে দেশের জন্য গৌরব বয়ে আনবেন বলে আমি আশাবাদী।

মুকুট জয়ের পর থেকেই আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার প্রস্তুতি শুরু করবেন সামানজার সাঈদ। আগামী কয়েক সপ্তাহ তিনি ব্যক্তিত্ব উন্নয়ন, আন্তর্জাতিক উপস্থাপনা, বিভিন্ন সামাজিক উদ্যোগ এবং ‘বিউটি উইথ আ পারপাস’-এর আওতায় মানবিক কার্যক্রম নিয়ে কাজ করবেন। এই বৈশ্বিক উদ্যোগের মূল লক্ষ্য সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে সক্ষম তরুণ নেতৃত্ব তৈরি করা।

বিশেষ তাৎপর্য নিয়ে এবার অনুষ্ঠিত হচ্ছে মিস ওয়ার্ল্ড প্রতিযোগিতা। কারণ ২০২৬ সালে বিশ্বসুন্দরী প্রতিযোগিতা উদযাপন করছে তাদের ৭৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। আগামী ৯ আগস্ট ভিয়েতনামের রাজধানী হ্যানয়ে শুরু হবে প্রায় এক মাসব্যাপী এই আন্তর্জাতিক আয়োজন। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের প্রতিযোগীরা সাংস্কৃতিক বিনিময়, সমাজসেবামূলক কার্যক্রম, বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ এবং প্রতিযোগিতায় অংশ নেবেন। সবশেষে ৫ সেপ্টেম্বর ভিয়েতনামের ন্যা ট্রাং শহরে অনুষ্ঠিত হবে ৭৫তম মিস ওয়ার্ল্ড গ্র্যান্ড ফিনালে, যেখানে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করবেন এবারের বিজয়ী।

মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশ ২০২৬ আয়োজনের সহযোগী ছিল আমিশি (জুয়েলারি পার্টনার), রেডিসন ব্লু ঢাকা ওয়াটার গার্ডেন (হসপিটালিটি পার্টনার), পারসোনা (অফিশিয়াল মেকওভার পার্টনার), আজরা মাহমুদ ট্যালেন্ট ক্যাম্প (গ্রুমিং পার্টনার), ভি ফ্রেম (ফটোগ্রাফি পার্টনার) এবং সিনে স্ক্রিপচার (ভিজ্যুয়াল পার্টনার)।

আয়োজকদের আশা, নতুন এই দৃষ্টিভঙ্গি ও আন্তর্জাতিক মানের প্রস্তুতির মাধ্যমে মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশ শুধু একটি প্রতিযোগিতা হিসেবেই নয়, বরং তরুণ নারীদের নেতৃত্ব, আত্মবিশ্বাস ও সমাজে ইতিবাচক ভূমিকা রাখার একটি শক্তিশালী প্ল্যাটফর্ম হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে।

মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশ 

মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশ হলো বিশ্বের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ সৌন্দর্য প্রতিযোগিতা মিস ওয়ার্ল্ড অর্গানাইজেশন-এর বাংলাদেশে আনুষ্ঠানিক জাতীয় ফ্র্যাঞ্চাইজি। জাতীয় পরিচালক আজরা মাহমুদের নেতৃত্বে আজরা মাহমুদ ট্যালেন্ট ক্যাম্প (এএমটিসি) এই প্ল্যাটফর্ম পরিচালনা করছে।

নতুন দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে পরিচালিত এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য শুধু সুন্দরী নির্বাচন নয়; বরং মেধা, মানবিকতা, সততা ও নেতৃত্বের গুণে উজ্জ্বল তরুণ বাংলাদেশি নারীদের খুঁজে বের করা, তাঁদের দক্ষতা উন্নয়ন, পরামর্শ ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে ক্ষমতায়ন করা। পেশাগত বিকাশ, সামাজিক সচেতনতা এবং বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক উদ্যোগে সম্পৃক্ত করার মাধ্যমে প্রতিযোগীদের এমনভাবে প্রস্তুত করা হয়, যাতে তাঁরা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করতে পারেন এবং একই সঙ্গে দেশ ও সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তনের অনুপ্রেরণা হয়ে উঠতে পারেন।

তারেক/

‘ইয়েস ফ্যাশন’র ট্রেন্ডি জুব্বা

প্রকাশ: ১১ জুলাই ২০২৬, ০৫:০২ পিএম
‘ইয়েস ফ্যাশন’র ট্রেন্ডি জুব্বা

ঋতু বৈচিত্র্যতায় বর্ষার অবস্থান ভিন্নতর। তাই ‘ইয়েস ফ্যাশন’ বর্ষা ঋতু উপযোগী, বেশ রুচিশীল ও উৎসব নির্ভর পোশাক তৈরি করেছে। ‘ইয়েস ফ্যাশন’ নিজের সৃজনশীলতায় তৈরি করছে একদম আলাদা স্টাইলের স্টাইলিস্ট সব পাঞ্জাবি। আপনার পছন্দের ব্র্যান্ড ‘ইয়েস ফ্যাশন’ এ পাবেন আধুনিক ফ্যাশনেবল ক্যাজুয়াল বা ফরমাল স্লিমফিট পাঞ্জাবি। 

‘ইয়েস ফ্যাশন’ এন্ড লাইফ স্ট্যাইল এর পাঞ্জাবিতে উৎসবের ছোঁয়া দিতে এবং আরামদায়ক পাঞ্জাবি তৈরির জন্য বরাবরই ভারত-চায়নার বিভিন্ন মিল কারখানা ঘুরে ভালো মানের উইন কটন, ডোবি কটন, ফেন্সি কটন কাপড় সংগ্রহ করে থাকে। 

সেই কাপড় দিয়ে সুদক্ষ ও প্রশিক্ষিত কর্মী দ্বারা নিজস্ব কারখানায়, নিজস্ব তত্ত্বাবধানে তৈরি ‘ইয়েস ফ্যাশন’র সমস্ত পাঞ্জাবি। এই আবহাওয়ায় নিজেকে মানানসই করে তুলে ধরতে বেছে নিন পছন্দের পাঞ্জাবিটি। 

/এমটি

মেহজাবীনের হাত ধরে ওসান লাইফস্টাইল মিরপুরে

প্রকাশ: ১১ জুলাই ২০২৬, ০৪:৫৪ পিএম
মেহজাবীনের হাত ধরে ওসান লাইফস্টাইল মিরপুরে

হালের জনপ্রিয় অভিনেত্রী ও মডেল মেহজাবীন চৌধুরীর হাত ধরেই ২০২৪ সালে ফ্যাশন ব্র্যান্ড ‘ওসান লাইফস্টাইল’র যাত্রা শুরু হয়েছিলো রাজধানীর যমুনা ফিউচার পার্কে। যাতে ক্রিয়েটিভ ডিরেক্টর হিসেবে কাজ করছেন সানজিদা আলম। ‘ওসান লাইফস্টাইল’র ক্রেতা চাহিদা বাড়ার কারণে এবার নতুন আউলেট-এর যাত্রা শুরু হয়েছে রাজধানীর মিরপুর-১০-এর আগোরা বিল্ডিংয়ে।

যথারীতি দ্বিতীয় শো-রুমটিও উদ্বোধন করেন মেহজাবীন চৌধুরী এবং সঙ্গে ছিলেন সানজিদা আলম। ওসান লাইফস্টাইল এমন একটি ফ্যাশন ব্র্যান্ড যেখানে এখানে ছেলে ও মেয়েদের যাবতীয় ট্রেন্ডি পোশাক, ডিজাইনারের করো পোশাকও পাওয়া যায়। 

শুক্রবার (১০ জুলাই) সন্ধ্যায় ওসান লাইফস্টাইল’র দ্বিতীয় শো-রুমটি উদ্বোধন শেষে ‘ওসান লাইফস্টাইল’ প্রসঙ্গে মেহজাবীন চৌধুরী বলেন, ‘শুরুতেই ধন্যবাদ জানাই সানজিদা আপুকে আমাকে ওসানের সাথে যুক্ত রাখার জন্য। সানজিদা আপু আসলে আমাকে অনেক ভালোবাসেন। মিরপুর বাসীদের জন্য সুখবর যে ওসান এখন মিরপুরে।

আর সত্যি বলতে কী ওসান খুউব অল্প সময়ের মধ্যেই ক্রেতাদের কাছে পছন্দের একটি ফ্যাশন ব্র্যান্ডে পরিণত হয়েছে। মেয়েদের ক্ষেত্রে দেখা যায় যে একেকজনের পছন্দ একেকরকম। কারো ওয়েষ্টার্ন গাউন পছন্দ, কারো বা শাড়ি আবার কারো সালোয়ার কামিজ পছন্দ। তো ওসানে আসলে সবকিছুই পাওয়া যাবে। এবার দেখলাম কিছু এক্সেসরিজও যুক্ত করা হয়েছে।

এখানে আসলে মেয়েদের ব্যবহারের জন্য সব ধরনের আইটেমই পাওয়া যায়। এই শো-রুমে ছেলেরদেরও আইটেম রাখা হয়েছে। যে কেউ এই ওসানে আসলে মা কিংবা বোন কিংবা স্ত্রী’র জন্য কিছু না কিছু ক্রয় করে নিতে পারবেন। আমার বিশ্বাস ভবিষ্যতে ওসানে আরো অনেক কিছুই যুক্ত হবে।’ 

ক্রিয়েটিভ ডিরেক্টর সানজিদা আলম বলেন, ‘এটা বলতেই হয় যে ওসান মানেই মেহজাবীন আপু। তিনি ওসানের একটা পার্ট। আর আমি চাই ওসান বাংলাদেশের মানুষের ভালোবাসার একটা ব্র্যা- হয়ে উঠুক। আমার স্বপ্ন, একদিন দেশের প্রতিটা জায়গায় ওসান থাকবে যেখানে আমাদের ওসান কুইনস’রা ভালোবাসা আর বিশ্বাস নিয়ে আসবেন। দেশীয় ব্র্যান্ড হয়েও আমরা একদিন আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিয়ে যাবো ওসানকে ইনশাআল্লাহ। আর মিরপুরে আমাদের স্বপ্নের আরেকটা অধ্যায়ের যাত্রা শুরু হলো।’ 

/এমটি 

 

ঘরেই বানান প্রাকৃতিক সাবান

প্রকাশ: ১১ জুলাই ২০২৬, ০১:১২ পিএম
ঘরেই বানান প্রাকৃতিক সাবান

সুন্দর ত্বক ও পরিচ্ছন্নতার জন্য সাবান একটি নিত্যপ্রয়োজনীয় উপকরণ। তবে বাজারে পাওয়া অনেক সাবানেই থাকে বিভিন্ন ধরনের রাসায়নিক উপাদান, যা সংবেদনশীল ত্বকের জন্য সব সময় উপযোগী নাও হতে পারে। তাই অল্প কিছু উপকরণ ও সহজ পদ্ধতি অনুসরণ করে ঘরে বসেই কীভাবে সাবান তৈরি করা যায় সে বিষয়ে জানাচ্ছেন আফরোজা খানম মুক্তা

রোজমেরি সাবান
উপকরণ
স্বচ্ছ সাবান বেস ১০০ গ্রাম, রোজমেরি তেল ১০ থেকে ১২ ফোঁটা, পছন্দমতো রং (গোলাপি), প্রয়োজনমতো রাবিং অ্যালকোহল, পছন্দমতো সিলিকন ছাঁচ। স্প্রে বোতল।

প্রণালি
একটা হাঁড়ির অর্ধেক পানি ভরে পানি ফুটিয়ে নিন। আরেকটা ছোট সসপ্যানে সাবানের বেস ছোট ছোট টুকরা করে কেটে নিন। পরে ফুটন্ত পানির ওপরে সসপ্যানের সাবানগুলো ৩০ সেকেন্ড গলিয়ে নিন। এবার গোলানো বেসের সঙ্গে রোজমেরি ওয়েল এবং গোলাপি রং ভালো করে মেশিয়ে নিন। মিশ্রণটি সিলিকন মোল্ডে ঢালুন।

সাবানের ওপর বুদবুদ থাকলে স্প্রে বোতল দিয়ে সামান্য অ্যালকোহল ছিটিয়ে দিন। বুদবুদ দূর হবে। সাবান শক্ত হলে তিন থেকে চার ঘণ্টা পর স্বাভাবিক তাপমাত্রায় রাখুন। সাবান শক্ত হলে মোল্ড থেকে বের করে নিন। তারপর সাবান প্যাকেট করে নিন। রোজমেরি সাবান ত্বককে সতেজ রাখে এবং তেলতেলে ভাব দূর করতে সাহায্য করে। 

হলুদের সাবান
উপকরণ
সাবান বেস (গ্লিসারিন বা শিয়া বাটার বেস) ১০০ গ্রাম, হলুদের গুঁড়া আধা চা-চামচ, হলুদ রঙের মাইকা পাউডার আধা চা-চামচ, পছন্দমতো এসেনশিয়াল অয়েল (ল্যাভেন্ডার বা টি ট্রি অয়েল) ১০ থেকে ১২ ফোঁটা, প্রয়োজনমতো রাবিং অ্যালকোহল, পছন্দমতো সিলিকন সাবানের ছাঁচ, স্প্রে বোতল, ডাবল বয়লারের জন্য দুটি পাত্র।

প্রণালি
সোপ বেজগুলো ছোট ছোট টুকরো করে কেটে নিন। পানির পাত্রের ওপর অন্য একটি পাত্র বসিয়ে (ডাবল বয়লার) বেজটি পুরোপুরি গলিয়ে নিন। গলানো তরল সাবানের সঙ্গে হলুদের গুঁড়া ভালোভাবে মিশিয়ে দিন। এটি অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল উপাদান হিসেবে কাজ করে। এবার আপনার পছন্দের এসেনশিয়াল অয়েল মিশিয়ে দিন। আর হলুদ রঙের মাইকা পাউডার দিন আধা চা-চামচ। তরল সাবানটি সাবানের সিলিকন মোল্ডে ঢেলে দিন। কয়েক ঘণ্টা বা সারা রাত ঘরের স্বাভাবিক তাপমাত্রায় রেখে দিন। সাবান শক্ত হয়ে গেলে ছাঁচ থেকে বের করে নিন।

অ্যালোভেরা সাবান
উপকরণ
গ্লিসারিন সাবান বেস ১০০ গ্রাম, তাজা অ্যালোভেরা জেল ১ থেকে ২ টেবিল-চামচ, পছন্দমতো এসেনশিয়াল অয়েল (ল্যাভেন্ডার বা টি ট্রি) ১০ থেকে ১২ ফোঁটা, ভিটামিন ই ক্যাপসুল ১ থেকে ২টি, সবুজ খাদ্য রং সামান্য (ঐচ্ছিক), গোট মিল্ক সোপ বেস প্রয়োজনমতো (ছোট ফুল তৈরির জন্য), সিলিকন সাবানের ছাঁচ।

প্রণালি
প্রথমে গোট মিল্ক সোপ বেস গলিয়ে ছোট ফুলের আকৃতির ছাঁচে ঢেলে নিন। ফুলের আকৃতির সাবানগুলো সম্পূর্ণ শুকিয়ে আলাদা করে রেখে দিন।

এরপর গ্লিসারিন সাবান বেস ছোট ছোট টুকরো করে কেটে ডাবল বয়লার পদ্ধতিতে সম্পূর্ণ গলিয়ে নিন। গলে যাওয়া মিশ্রণটি কিছুটা ঠাণ্ডা হলে এতে অ্যালোভেরা জেল, এসেনশিয়াল অয়েল এবং ভিটামিন ই ক্যাপসুলের ভেতরের তরল যোগ করুন। চাইলে আকর্ষণীয় রঙের জন্য সামান্য সবুজ ফুড কালারও মেশাতে পারেন।

সব উপকরণ ভালোভাবে মিশে গেলে সিলিকন ছাঁচের নিচে আগে থেকে তৈরি করা ফুলের আকৃতির সাবানগুলো সাজিয়ে রাখুন। এরপর প্রস্তুত তরল সাবানের মিশ্রণটি ধীরে ধীরে ছাঁচে ঢেলে দিন।

ছাঁচটি ২ থেকে ৩ ঘণ্টা ফ্রিজে অথবা ৪ থেকে ৫ ঘণ্টা স্বাভাবিক তাপমাত্রায় রেখে দিন। সাবান সম্পূর্ণ শক্ত হয়ে গেলে সাবধানে ছাঁচ থেকে বের করে নিন। প্রয়োজনে প্যাকেটজাত করে সংরক্ষণ করতে পারেন।

/এমটি 

নীলাম্বরী সাজে

প্রকাশ: ১১ জুলাই ২০২৬, ১২:২৪ পিএম
আপডেট: ১১ জুলাই ২০২৬, ১২:২৯ পিএম
নীলাম্বরী সাজে

বর্ষা এলে প্রকৃতি যেন নতুন করে সেজে ওঠে। এই ঋতুর আবহের সঙ্গে নীল রঙের রয়েছে এক গভীর সম্পর্ক। আকাশের বিস্তৃতি, বৃষ্টির জল আর প্রকৃতির প্রশান্ত সৌন্দর্য যেন নীলের নানা শেডে ধরা দেয়। তাই বর্ষা মৌসুমে ফ্যাশন সচেতনদের পোশাক নির্বাচনে নীল রং বিশেষ গুরুত্ব পায়। কামিজ, শাড়ি কিংবা বিভিন্ন ধরনের নকশাদার পোশাকে নীলের উপস্থিতি এই সময় হয়ে ওঠে আরও বেশি আকর্ষণীয়। লিখেছেন মুশফিরাত তাসকিন

কামিজে নীলের স্নিগ্ধতা
প্রাত্যহিক পোশাক হিসেবে কামিজের জনপ্রিয়তা সব সময়ই বেশি। বর্ষাকালে আরামদায়ক ও স্টাইলিশ লুকের জন্য বিভিন্ন শেডের নীল কামিজ হতে পারে চমৎকার পছন্দ। স্কাই ব্লু, পাউডার ব্লু, টারকোয়েজ, রয়্যাল ব্লু কিংবা নেভি ব্লু প্রতিটি শেডই ভিন্ন ভিন্ন সৌন্দর্য প্রকাশ করে।

এই মৌসুমে কটন, লিনেন কিংবা সফট ভিসকস কাপড়ের কামিজ বেশি আরামদায়ক। নীল রঙের কামিজে সাদা, রুপালি বা হালকা ধূসর সূচিকর্ম বর্ষার আবহকে আরও ফুটিয়ে তোলে। সঙ্গে সাদা বা অফ-হোয়াইট পালাজ্জো, স্ট্রেইট প্যান্ট কিংবা সিগারেট প্যান্ট যোগ করলে লুক হয়ে ওঠে পরিপাটি ও আধুনিক। অফিস, বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা দৈনন্দিন আড্ডা সব ক্ষেত্রেই নীল কামিজ একটি সহজ কিন্তু রুচিশীল ফ্যাশন স্টেটমেন্ট তৈরি করতে পারে।

শাড়িতে ধরা পড়ে বর্ষার স্নিগ্ধ সৌন্দর্য
বাংলাদেশের নারীদের পোশাকের ভান্ডারে শাড়ির স্থান সব সময়ই বিশেষ। আর বর্ষাকালে এই ঐতিহ্যবাহী পোশাকটি যেন পায় নতুন মাত্রা। মেঘলা আকাশ, বৃষ্টিস্নাত প্রকৃতি আর নীলাভ আবহের সঙ্গে নীল রঙের শাড়ির মেলবন্ধন তৈরি করে এক অনন্য সৌন্দর্য।
এই মৌসুমে জামদানি, তাঁত, কটন কিংবা মসলিনের নীল শাড়ি নারীদের প্রথম পছন্দের তালিকায় থাকে।

গাঢ় নীল, নেভি ব্লু, আকাশি কিংবা ফিরোজা প্রতিটি শেডই বর্ষার আবহে আলাদা আবেদন তৈরি করে। বিশেষ করে সাদা, রুপালি বা হালকা রঙের নকশায় সাজানো নীল শাড়ি বৃষ্টিভেজা দিনের সৌন্দর্যকে আরও উজ্জ্বল করে তোলে।

বর্তমান ফ্যাশন ধারায় ব্লক প্রিন্ট, বাটিক, টাই-ডাই এবং হ্যান্ডপেইন্টের নকশায় তৈরি নীল শাড়ির জনপ্রিয়তা চোখে পড়ার মতো। এসব শাড়িতে ঐতিহ্য ও আধুনিকতার মিশেলে তৈরি হয় আকর্ষণীয় এক স্টাইল স্টেটমেন্ট।

ওয়েস্টার্ন ও ফিউশন ড্রেসে নীলের আধিপত্য
ফ্যাশনের পরিবর্তিত ধারায় তরুণ প্রজন্মের মধ্যে ওয়েস্টার্ন ও ফিউশন পোশাকের জনপ্রিয়তা দিন দিন বাড়ছে। আর বর্ষাকালের ফ্যাশনে নীল রং যেন এসব পোশাকে যোগ করে আলাদা মাত্রা। আরামদায়ক, স্টাইলিশ এবং ঋতুর আবহের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হওয়ায় নীল রঙের ওয়েস্টার্ন ও ফিউশন ড্রেস এখন অনেকেরই পছন্দের তালিকায় শীর্ষে।

বর্ষার দিনে হালকা ও স্বস্তিদায়ক পোশাকের চাহিদা বেশি থাকে। সে কারণে নীল রঙের ম্যাক্সি ড্রেস, মিডি ড্রেস, কাফতান, টিউনিক কিংবা কো-অর্ড সেটগুলো হয়ে উঠেছে অত্যন্ত জনপ্রিয়। এসব পোশাক যেমন সহজে পরা যায়, তেমনি বৃষ্টিভেজা আবহে এনে দেয় স্নিগ্ধ ও ফ্যাশনেবল লুক। বিশেষ করে আকাশি, পাউডার ব্লু , টারকোয়েজ কিংবা রয়্যাল ব্লুর মতো শেডগুলো বর্ষার মেঘলা দিনের সঙ্গে চমৎকারভাবে মানিয়ে যায়।

ফিউশন ফ্যাশনের ক্ষেত্রে নীল রঙের কুর্তির সঙ্গে পালাজো, ক্রপ টপের সঙ্গে স্কার্ট কিংবা লং জ্যাকেটের সঙ্গে ফ্লোই ড্রেসের সমন্বয় বেশ জনপ্রিয়। ঐতিহ্য ও আধুনিকতার মিশেলে তৈরি এসব পোশাক তরুণীদের মধ্যে বিশেষভাবে সমাদৃত। অফিস, বিশ্ববিদ্যালয়, বন্ধুদের আড্ডা কিংবা ছোটখাটো সামাজিক আয়োজনে ফিউশন পোশাক সহজেই তৈরি করে স্মার্ট ও রুচিশীল উপস্থিতি।

ডেনিম ব্লু শেডের পোশাকও বর্ষাকালের একটি উল্লেখযোগ্য ট্রেন্ড। ডেনিম ড্রেস, শার্ট ড্রেস কিংবা ডেনিম জ্যাকেটের সঙ্গে নীল টপ বা কুর্তির সমন্বয় তৈরি করতে পারে একটি ক্যাজুয়াল অথচ স্টাইলিশ লুক। যারা আরাম ও ফ্যাশনকে সমান গুরুত্ব দেন, তাদের জন্য এটি হতে পারে আদর্শ পছন্দ।

অনুষঙ্গ নির্বাচনের ক্ষেত্রেও নীল ওয়েস্টার্ন ও ফিউশন পোশাক বেশ বহুমুখী। সাদা স্নিকার্স, বেইজ স্যান্ডেল, মিনিমাল গহনা কিংবা ছোট ক্রসবডি ব্যাগ পুরো লুককে আরও আকর্ষণীয় করে তোলে। বর্ষার দিনে স্বাভাবিক মেকআপ, হালকা কাজল এবং খোলা চুল বা সহজ হেয়ারস্টাইলের সঙ্গে নীল পোশাকের সমন্বয় এনে দেয় সতেজ ও আধুনিক উপস্থিতি।

অনুষঙ্গের সঠিক সমন্বয়
নীল রঙের পোশাকের সৌন্দর্য আরও আকর্ষণীয় করে তুলতে অনুষঙ্গ নির্বাচনে থাকতে হবে রুচিশীলতা ও ভারসাম্য। শাড়ি, কামিজ কিংবা ওয়েস্টার্ন ড্রেস যে ধরনের পোশাকই হোক না কেন, এর সঙ্গে মানানসই ব্যাগ, জুতা ও গহনা পুরো লুককে এনে দিতে পারে ভিন্ন মাত্রা।

নীল পোশাকের সঙ্গে সাদা, অফ-হোয়াইট, রুপালি, বেইজ কিংবা ধূসর রঙের অনুষঙ্গ বেশ মানানসই। ব্যাগ ও জুতার ক্ষেত্রে এসব রঙের ব্যবহার পোশাকের সৌন্দর্যকে আরও ফুটিয়ে তোলে। গহনায় অক্সিডাইজড সিলভার, মুক্তা বা হালকা নকশার মিনিমাল অলংকার বেছে নিলে লুক হয়ে ওঠে মার্জিত ও পরিশীলিত।

বর্ষার দিনগুলোর কথা মাথায় রেখে আরামদায়ক ও ব্যবহারিক জুতাও গুরুত্বপূর্ণ। এ সময় ওয়াটার-রেজিস্ট্যান্ট স্যান্ডেল, ফ্ল্যাটস কিংবা ব্লক হিল হতে পারে ভালো পছন্দ। চুলের সাজে খোঁপা, ঢিলেঢালা বেণি বা খোলা চুলের সঙ্গে কদম ফুলের স্পর্শ কিংবা ছোট্ট ফুলেল হেয়ার অ্যাকসেসরি যোগ করলে পুরো সাজে ফুটে উঠবে বর্ষার স্বাভাবিক সৌন্দর্য ও স্নিগ্ধতা।