পরিবেশগত দূষণজনিত কারণে অপরিণত মৃত্যু ও স্বাস্থ্যঝুঁকি সৃষ্টির ফলে বাংলাদেশে জিডিপি কমেছে ১৭.৬ শতাংশ। বিশ্ব ব্যাংক এক প্রতিবেদনে এ তথ্য প্রকাশ করেছে। বাংলাদেশ কান্ট্রি এনভায়রনমেন্টাল অ্যানালাইসিস শীর্ষক ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, বায়ুদূষণ, অনিরাপদ পানীয়, জল ও পয়োনিষ্কাশন জড়িত কারণে এ ক্ষতি হয়েছে। বায়ুদূষণ ও পরিবেশগত স্বাস্থ্যঝুঁকির শিকার হয়ে বছরে বাংলাদেশের ২ লাখ ৭২ হাজার মানুষের অপরিণত মৃত্যু ঘটে। এ ছাড়া এ দেশের জনগণ বার্ষিক ৫২০ লাখ দিন (৫.২ বিলিয়ন দিন) অসুস্থতায় ভোগে। বিশ্বব্যাংক জানায়, বাংলাদেশ উদ্বেগজনক হারে পরিবেশগত দূষণ ও স্বাস্থ্যঝুঁকির শিকার হচ্ছে। এর মারাত্মক প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে ৫ বছরের কম বয়সী শিশু, দরিদ্র জনগোষ্ঠী, নারী ও বৃদ্ধ। প্রতিবেদনটিতে বলা হয়, পরিবেশগত দূষণ শিশুদের মস্তিষ্কের চরম ক্ষতি করে চলেছে। যত্রতত্র শিল্প ও গৃহস্থালির বর্জ্য ফেলা, অব্যবস্থাপনা এবং শোধনহীন নালা-নর্দমা ও পরিবেশগত বিপন্ন বয়ে আনছে। এই দেশের নগরগুলোতে বিশুদ্ধ অক্সিজেন দুর্লভ হয়ে সুস্থ নিশ্বাস গ্রহণের প্রতিবন্ধকতা তৈরি করছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাংলাদেশে পরিবেশগত ক্ষতির কারণে অর্জিত উন্নয়ন টেকসই হচ্ছে না। চলতি মাসেই সুইজারল্যান্ড-ভিত্তিক প্রতিষ্ঠান আই কির্ডএয়ার বৈশ্বিক বায়ুমান প্রতিবেদন ২০২৩ প্রকাশ করে। সেই প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৩ সালে দেশ হিসেবে বায়ুদূষণের শীর্ষে ছিল বাংলাদেশ। আর নগর হিসেবে বিশ্বের দ্বিতীয় শীর্ষ নগর ছিল ঢাকা। পরিবেশগত সমস্যা নিরসনে অর্থ ও দক্ষতা দুটোই প্রয়োজন। তথ্য বলছে, বাংলাদেশ জলবায়ু খাতে যে অর্থায়ন হয়েছে, তার ৪০ শতাংশ এসেছে ঋণ হিসেবে। পরিবেশ দূষণের শীর্ষে অবস্থান করে বাংলাদেশ বিভিন্ন প্রতিবেদনে এটাই উঠে আসে। পরিবেশের এসব ক্ষতি বেশির ভাগ মনুষ্যসৃষ্ট। কিন্তু ক্ষতি কমাতে যেসব সংস্থা কাজ করে, এ দেশে তাদের ভূমিকা কার্যকর নয়। এজন্য পরিস্থিতি সুখকর হয় না। কিছুদিন আগে এক গবেষণায় শিশুদের শরীরে সিসার উপস্থিতির তথ্য পাওয়া গেছে কিন্তু তা নিয়ে আমাদের তেমন মাথাব্যথা নেই।
পরিবেশ দূষণের কারণে মানুষ ও জীবজন্তুর চরম ক্ষতি হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পৃথিবীর তাপমাত্রা বৃদ্ধির ফলে সমুদ্রের পানির উচ্চতা বাড়ছে। সমুদ্রের পানির উচ্চতা বৃদ্ধির ফলে বাংলাদেশের মতো নিম্নাঞ্চল তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। জাতীয় সংলাপে ড. আইনুন নিশাত বলেন, সমুদ্রের অংশ হয়ে যেতে পারে দেশের চার জেলার কিছু অঞ্চল। কল-কারখানা ও গৃহস্থালির বর্জ্য নির্দিষ্ট স্থানে রাখতে হবে এবং রি-সাইকেলিংয়ের ব্যবস্থা করতে হবে, এসব বর্জ্য যেন পরিবেশের জন্য হুমকি না হয় সেদিকটা খেয়াল রাখা জরুরি। পরিবেশ দূষণের হাত থেকে বাঁচতে হলে জনসচেতনতা বাড়াতে হবে। বনাঞ্চলের পরিমাণ বাড়াতে হবে। পরিবেশ দূষণের হাত থেকে বাংলাদেশকে মুক্ত করতে জনসচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি আইনের যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে।