ঢাকা ২৫ আষাঢ় ১৪৩৩, বৃহস্পতিবার, ০৯ জুলাই ২০২৬

সর্বশেষ
চীনে জুতা কারখানায় অগ্নিকাণ্ডে নিহত ২৮ সাতকানিয়ায় পানিবন্দি ৮ নারী ও শিশুকে উদ্ধার করলেন এসিল্যান্ড ইরান হামলা না থামালে যুক্তরাষ্ট্রের হামলা আরও ভয়ানক হবে: ট্রাম্প সরোয়ার আলমগীরই হলেন চট্টগ্রাম-২ আসনের এমপি চাঁপাইনবাবগঞ্জ জার্নালিস্ট ফোরাম, ঢাকার সভাপতি মোবারক, সম্পাদক সবুজ মাছ ধরতে গিয়ে তলিয়ে যাওয়া নিখোঁজ তরুণের মরদেহ উদ্ধার জঙ্গি সন্দেহে সিঙ্গাপুর ফেরত ২ জন রিমান্ডে লাল কার্ডের রাজা এবার ফ্রান্স-মরক্কো ম্যাচের রেফারি গঙ্গা চুক্তি নিয়ে আলোচনা অব্যাহত, আশাবাদ ব্যক্ত পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর ‘মদ ও জুয়া নিষিদ্ধকরণ’ বিলসহ সংসদে দুইটি বিল প্রত্যাহার এবার বাস্তবের ‘মোয়ানা’ আসছে পর্দায় দুই বছর পর খুলল আখাউড়া-ভারত ভ্রমণ ভিসার পথ মার্কিন বিমান হামলায় ৩ আইআরজিসি সদস্য নিহত সাতকানিয়ায় পানির স্রোতে ভেসে উঠলো ৩টি মরদেহ ফ্যান্টাসী কিংডম-খবরের কাগজ প্রতিদিনের অনলাইন কুইজ বিজয়ী আরও দুটি নতুন ইলেকট্রিক বাইক আনলো রিভো বাংলাদেশ ৩১ আগস্ট স্থানীয় সরকার নির্বাচনের ভোটার তালিকা প্রকাশ করবে ইসি আর্জেন্টিনা কি সত্যিই বাড়তি সুবিধা পাচ্ছে? আর্জেন্টিনা শিবিরে স্বস্তির খবর চকরিয়ায় পাহাড়ধসে ২ শিশুর মৃত্যু, পানিবন্দি লাখো মানুষ একটু অসচেতনতায় হারিয়ে যাচ্ছে অসামান্য উপহার জামালপুরে সাবেক এমপি নূর মোহাম্মদ শোন অ্যারেস্ট বহিরাগত প্রবেশে নিরাপত্তা শঙ্কায় ইবির শিক্ষার্থীরা বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে জাতীয় পরিবেশ পদক পেলেন আদনান আজাদ জনপ্রশাসনে বড় পদোন্নতি, ১৭২ জন হলেন যুগ্মসচিব কারেনের সেঞ্চুরিতে জিম্বাবুয়ের পুঁজি ২৪৭ প্রিয় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় খাদ্যে ভেজাল নিয়ে সংসদে এমপিদের অসন্তোষ, খাদ্য প্রতিমন্ত্রীর আশ্বাস আহসান হাবীব: কবিতায় নিবিড়, গভীর অর্থায়নের সূচনা অধ্যায়ের ২০টি জ্ঞানমূলক প্রশ্ন ও উত্তর, ১ম পর্ব, এইচএসসির ফিন্যান্স, ব্যাংকিং ও বিমা ১ম পত্র

সংস্কারে সমর্থন জাতিসংঘের স্থিতিশীলতার স্বার্থে জাতীয় ঐকমত্য প্রয়োজন

প্রকাশ: ১৬ মার্চ ২০২৫, ০৩:৩৯ পিএম
আপডেট: ১৬ মার্চ ২০২৫, ০৩:৪১ পিএম
স্থিতিশীলতার স্বার্থে জাতীয় ঐকমত্য প্রয়োজন

দেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নিয়ে সংস্কার কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। সে অনুযায়ী সংস্কার কমিশনও গঠন করা হয়েছে। জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস বাংলাদেশ সফরে এসে সরকারের উদ্যোগ নেওয়া এই সংস্কার কর্মসূচির প্রতি পূর্ণ সমর্থন ব্যক্ত করেছেন। গত শুক্রবার প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে তার কার্যালয়ে তিনি এক বৈঠকে মিলিত হন। প্রধান উপদেষ্টা গুতেরেসকে জানান, রাজনৈতিক দলগুলো যদি সংক্ষিপ্ত সংস্কার প্যাকেজ নিয়ে একমত হয়, তবে নির্বাচন আগামী ডিসেম্বরেই হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তিনি এও জানান, রাজনৈতিক দলগুলো যদি বৃহৎ সংস্কার প্যাকেজ গ্রহণ করে, সে ক্ষেত্রে নির্বাচন আগামী বছরের জুনে অনুষ্ঠিত হবে। যদিও দেশের বর্তমান অবস্থা খুব একটা ভালো নেই। নারী, শিশু ধর্ষণ ও সামাজিক অপরাধসমূহ মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এখনো ভেতরে ভেতরে গুছিয়ে উঠতে পারেনি। অপরাধীদের হাতে থানা লুটের অস্ত্র এখনো রয়ে গেছে। 

আগামী নির্বাচন সামনে রেখে দল পুনর্গঠন-প্রক্রিয়া নিয়ে কাজ করছে রাজনৈতিক দলগুলো। ইতোমধ্যে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) নামে একটি নতুন রাজনৈতিক দল আত্মপ্রকাশ করেছে। দল গোছানো ও নিবন্ধনের শর্ত পূরণে মনোযোগ দিয়েছেন এর নীতিনির্ধারকরা। সরকারের সংস্কার ইস্যুতে জাতিসংঘের মতো আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সমর্থন থাকলেও এ ক্ষেত্রে দেশের ভেতরে রাজনৈতিক দলগুলোর পূর্ণ সমর্থন থাকা খুবই প্রয়োজন। সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের স্বার্থে দেশের রাজনৈতিক দলগুলোর মতামতকে প্রাধান্য দিতে হবে। সংস্কার ভাবনায় রাজনৈতিক দলগুলো কী চায়, সেটিও রাজনৈতিক দলগুলোকে পরিষ্কার করতে হবে। প্রধান উপদেষ্টা নিজেও সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ এবং অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন নিশ্চিতের ব্যাপারে অনেকটাই আশাবাদী। এ জন্য স্থিতিশীলতার স্বার্থে রাজনৈতিক দলগুলোর জাতীয় ঐকমত্য দরকার। 

প্রধান উপদেষ্টা জাতিসংঘের মহাসচিব গুতেরেসকে দেশের চলমান সংস্কার-প্রক্রিয়া নিয়ে অবহিত করেছেন। তিনি বলেছেন, অন্তর্বর্তী সরকার ছয়টি সংস্কার কমিশনের রিপোর্টের বিষয়ে ইতোমধ্যে প্রায় ১০টি রাজনৈতিক দল তাদের মতামত জমা দিয়েছে। দলগুলো কমিশনের সুপারিশগুলোর সঙ্গে একমত হলে জুলাই সনদে স্বাক্ষর করবে; যা দেশের গণতান্ত্রিক উত্তরণের পাশাপাশি রাজনৈতিক, বিচারিক, নির্বাচনসংক্রান্ত, প্রশাসনিক, দুর্নীতি দমন এবং পুলিশ সংস্কারের একটি রূপরেখা হবে। ঘণ্টাব্যাপী বৈঠকে জাতিসংঘ মহাসচিব ড. ইউনূসকে বলেন, 'আমি সংস্কার কর্মসূচির প্রতি আমাদের সম্পূর্ণ প্রতিশ্রুতি প্রকাশ করতে চাই।' তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, বাংলাদেশের এই সংস্কার-প্রক্রিয়া একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন এবং দেশের একটি বাস্তব রূপান্তর নিশ্চিত করবে। যদিও সংস্কার-প্রক্রিয়াটি জটিল হতে পারে। অর্থাৎ অন্তর্বর্তী সরকারের সংস্কার পদক্ষেপে পাশে থাকবে জাতিসংঘ।

দেশের চলমান পরিস্থিতিতে জাতিসংঘ মহাসচিবের আগমন সংকট নিরসনে বড় ভূমিকা রাখবে। অন্তর্বর্তী সরকারের সংস্কার ও নির্বাচন-প্রক্রিয়া নিয়ে প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠকে তিনি স্পষ্ট ধারণা পেয়েছেন। এ ক্ষেত্রে তিনি পূর্ণ সমর্থনও ব্যক্ত করেছেন। এ ছাড়া তিনি রোহিঙ্গাদের মানবিক সহায়তায় বিশ্ববাসীকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন। যা খুবই ইতিবাচক। আশা করছি, অন্তর্বর্তী সরকার দেশের স্থিতিশীলতার স্বার্থে রাজনৈতিক দলগুলোর মতামতকে প্রাধান্য দিয়ে একটি জাতীয় ঐকমত্য সৃষ্টি করতে সক্ষম হবে।

চট্টগ্রাম অঞ্চলে টানা বর্ষণ ও পাহাড়ধস দুর্ভোগ লাঘবে জরুরি ব্যবস্থা নিন

প্রকাশ: ০৯ জুলাই ২০২৬, ১২:১৭ পিএম
দুর্ভোগ লাঘবে জরুরি ব্যবস্থা নিন

১৯৮৩ সালের পর ৪৩ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ বৃষ্টি হয়েছে বন্দরনগরী চট্টগ্রামে। স্মরণকালের সর্বোচ্চ বৃষ্টিতে এবং পাহাড়ি ঢলে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও পার্বত্য জেলাগুলোর বিস্তীর্ণ নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। এতে সড়ক, রেল ও বিমান যোগাযোগ ব্যাহত হচ্ছে। পাহাড়ি ঢল, বন্যা, দেয়াল ও পাহাড়ধসে বেশ কয়েকজন নিহত হয়েছেন। ঝুঁকিতে রয়েছেন সেখানকার লাখো বাসিন্দা। পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্থানীয় প্রশাসন কয়েক শ আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত করেছে এবং ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বাসিন্দাদের দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিচ্ছে। জানমালের নিরাপত্তা রক্ষায় খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানের সব পর্যটনকেন্দ্র সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। বৈরী আবহাওয়ার কারণে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের আওতাধীন চট্টগ্রাম ও রাঙামাটি জেলার গতকালের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। টানা ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে বান্দরবানের সার্বিক পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। জেলার বিভিন্ন স্থানে পাহাড়ধসের আশঙ্কা দেখা দেওয়ায় জনমনে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। দুই দিনের অতিভারী বর্ষণে দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলজুড়ে পাহাড়ধস, জলাবদ্ধতা, সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন, নদীর পানি বাড়ার কারণে জনজীবনে দুর্ভোগ নেমে এসেছে। টানা বৃষ্টিতে বিপাকে পড়েছেন শ্রমজীবী ও নিম্ন আয়ের মানুষ।

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্নতা বিভাগ জানিয়েছে, নালা-খাল পরিষ্কারের কাজ চললেও অতিবৃষ্টি ও জোয়ারের কারণে পানি নামতে সময় লাগছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে চসিকের বিশেষ টিম মাঠে কাজ করছে। প্রাণহানি এড়াতে ৯টি ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ের পাদদেশে বসবাসকারীদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যেতে নির্দেশ দিয়েছে জেলা প্রশাসন। সিটি মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন নগরের নিম্নাঞ্চল পরিদর্শন করে বলেছেন, প্লাস্টিকজাতীয় পণ্য আটকে থাকায় খাল-নালা দিয়ে স্বাভাবিক পানি চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। প্রবল বৃষ্টির সঙ্গে জোয়ারের পানি যোগ হয়ে অনেক এলাকায় জলজট তৈরি হয়েছে।

২০১৭ সালে উখিয়া ও টেকনাফে বনভূমি উজাড় করে গড়ে তোলা ৩৩টি রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরে বর্তমানে প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গা বসবাস করছে। সংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, এর মধ্যে অন্তত ১ লাখ মানুষ ভূমিধসের উচ্চঝুঁকিতে রয়েছে। 
বন্যা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকলেও বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে বন্যা ও পাহাড়ধসের ঝুঁকি বাড়বে। এদিকে ফেনীতে ২০২৪ সালের ভয়াবহ বন্যার স্মৃতি কাটিয়ে উঠতে পারেনি ফেনীর মানুষ। সেই ক্ষত না শুকাতেই উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে টানা বর্ষণে জেলার প্রধান নদীগুলোর পানি আবারও বাড়তে শুরু করেছে। এদিকে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, বর্তমানে অধিকাংশ নদীর পানি বিপৎসীমার নিচে থাকলেও আগামী কয়েক দিনে ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টির কারণে কয়েকটি নদ-নদীর পানি দ্রুত বাড়তে পারে।

পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলে টানা বর্ষণে জনসাধারণকে বড় ধরনের ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। বিশেষ করে নিম্ন আয় ও খেটে খাওয়া মানুষের অসুবিধা চরমে। শুধু পার্বত্য চট্টগ্রামই নয়, এ সময়ে দেশের বিভিন্ন নিম্নাঞ্চল টানা বৃষ্টিতে প্লাবিত হচ্ছে। এ অবস্থায় মানুষের জানমালের নিরাপত্তায় সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া জরুরি। সম্ভাব্য পাহাড়ধস ও প্রাকৃতিক দুর্যোগে যাতে সাধারণ মানুষের ক্ষয়ক্ষতি না ঘটে, সে বিষয়ে সরকারকে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। ভূমিধসের উচ্চ ঝুঁকিতে থাকা এলাকাগুলোতে শুধু সতর্কতা জারি করলেই হবে না, তাদের বিকল্প বাসস্থানের ব্যবস্থা করতে হবে। অব্যাহত বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে জনসাধারণের ভোগান্তি যাতে আর না বাড়ে, সে জন্য সরকারি সংস্থাগুলোকে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। আশা করি, সরকারের উচ্চ পর্যায় থেকে এ ব্যাপারে দিকনির্দেশনা দেওয়া হবে।

এইচএসসিতে ঝরে পড়ার হার উদ্বেগজনক অবস্থা উত্তরণে কৌশল নির্ধারণ জরুরি

প্রকাশ: ০৮ জুলাই ২০২৬, ০৩:১১ পিএম
অবস্থা উত্তরণে কৌশল নির্ধারণ জরুরি

চলতি উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি ও সমমান) পরীক্ষায় এবার অনুপস্থিতি আগের তুলনায় কয়েক গুণ বেশি। বিষয়টি শিক্ষাসংশ্লিষ্টদের কাছে উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ বছর নিয়মিত শিক্ষার্থীদের মধ্যে ৩৬ শতাংশ পরীক্ষা দেওয়ার জন্য ফরমই পূরণ করেনি। দুই বছর আগে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় পাস করে একাদশ শ্রেণিতে নিবন্ধন করেছিল প্রায় ১৫ লাখ শিক্ষার্থী। তাদের মধ্যে এবার এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার জন্য ফরম পূরণ করেছে প্রায় সাড়ে ৯ লাখ শিক্ষার্থী, অর্থাৎ নিয়মিত শিক্ষার্থীদের প্রায় সাড়ে ৫ লাখ পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে না। প্রথম তিন দিনের অনুপস্থিতির সংখ্যাটি যোগ করলে পরীক্ষা না দেওয়া পরীক্ষার্থীর সংখ্যা আরও বেশি হবে। এমন ব্যাপক অনুপস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, শিক্ষাব্যবস্থার কঙ্কাল বেরিয়ে এসেছে। এখন প্রয়োজন এ সমস্যা থেকে বেরিয়ে আসার কৌশল দ্রুত নির্ধারণ করা।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে উচ্চমাধ্যমিকে অনুপস্থিতির হার ক্রমাগত বাড়ছে। বিভিন্ন বোর্ডের তুলনামূলক অনুপস্থিতির হার দেখলেই তা অনুমান করা যায়। প্রথমত, ১১টি শিক্ষা বোর্ডে ২০২৫ সালের পরীক্ষার প্রথম দিন ১৯ হাজার ৭৫৯ পরীক্ষার্থী অনুপস্থিত ছিল। ২০২৪ সালে প্রথম দিনে অনুপস্থিত ছিল ১৫ হাজার ২০৩ পরীক্ষার্থী। এর আগের বছর ২০২৩ সালে আটটি শিক্ষা বোর্ডের অধীন অনুষ্ঠিত পরীক্ষায় অনুপস্থিত ছিল ৫ হাজার ৫২২ জন। ওই বছর বন্যার কারণে চট্টগ্রাম, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা পরে শুরু হয়েছিল।

এইচএসসি পরীক্ষায় অসদুপায় অবলম্বনের অভিযোগে বহিষ্কারের সংখ্যাও বেড়েছে। তা ছাড়া বিপুলসংখ্যক পরীক্ষার্থী ঝরে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে হাজারও স্বপ্ন ঝরে পড়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ হারে ঝরে পড়ার কারণ খুঁজে বের করা দরকার। সরকারকে তা বুঝতে হবে। আমরা কতটা যোগ্য শিক্ষক নিয়োগ দিতে পেরেছি, সেটাও দেখতে হবে। আমাদের শিক্ষক, অভিভাবক- সবাইকে সচেতন হতে হবে। শিক্ষার্থীদের মধ্যে একটা ধারণা জন্মেছে যে, রাস্তায় নামলেই সবকিছু পেয়ে যাবে। ২০২৪ সালের আন্দোলনের পর শিক্ষার্থীদের দ্রুত ক্লাসে পড়া উচিত ছিল। কিন্তু তা হয়নি। 
সচিবালয়ে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় নিয়মিত শিক্ষার্থীদের মধ্যে ৩৬ শতাংশই অংশ না নেওয়ার বিষয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাব দেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন। শ্রেণিকক্ষে ঠিকমতো পড়াশোনা হচ্ছে না, অন্যদিকে এখন পরীক্ষা সঠিকভাবে হচ্ছে। সবকিছু মিলিয়ে এবার হয়তো কিছুসংখ্যক ছাত্রছাত্রী চিন্তা করেছে... বিগত দিনের মতো প্রস্তুতি ছাড়া কেউ যেতে (পরীক্ষার হলে) পারছে না। সে জন্য বোধহয় হারটি বেড়েছে। কিন্তু এটি খুব খারাপ ইন্ডিকেটর (সূচক)। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। এ জন্য শিক্ষক প্রশিক্ষণের ওপর বেশি গুরুত্ব দেওয়া হবে।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মোহাম্মদ কামরুল আহসান খবরের কাগজকে বলেন, সরকারের বর্তমান নকলবিরোধী অবস্থানের কারণে যাদের প্রস্তুতি ভালো নয়, তারা আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে পড়েছে। সরকারের এ উদ্যোগকে কেউ কেউ সমালোচনা করছে বা ট্রল করছে। তবে দীর্ঘ মেয়াদে ভালো হয়েছে। নকলবিরোধী অবস্থানের কারণে উপস্থিতি কমেছে, কিন্তু কঙ্কালটা বেরিয়ে এসেছে, শিক্ষাব্যবস্থার চিত্রটা উঠে এসেছে। এই ক্ষত শুকাতে এখন সরকারকে কৌশল নির্ধারণ করতে হবে।

এইচএসসি পরীক্ষায় শিক্ষার্থীদের একটি বড় অংশের অনুপস্থিতি মনে করিয়ে দেয় শিক্ষাব্যবস্থার মূলে কিছু পদ্ধতিগত সমস্যা রয়েছে। এ ছাড়া পারিবারিক, সামাজিক, অর্থনৈতিক ও ব্যক্তিগত কারণ থাকতে পারে। এ অবস্থার উত্তরণে সরকারকে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। আশঙ্কার বিষয় হবে বিপুলসংখ্যক তরুণ জনগোষ্ঠী আনুষ্ঠানিক শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হবে এবং তারা অদক্ষ মানবসম্পদে পরিণত হওয়ার ঝুঁকিতে থাকবে। আশা করছি, সরকার বিষয়টিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে এই উদ্বেগজনক পরিস্থিতি মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ কৌশল নির্ধারণ করবে।

নিষ্পত্তি হচ্ছে না রাজস্ব মামলা এনবিআরের দক্ষতা ও সক্ষমতা বাড়াতে হবে

প্রকাশ: ০৭ জুলাই ২০২৬, ০৩:১৬ পিএম
এনবিআরের দক্ষতা ও সক্ষমতা বাড়াতে হবে

দেশে বহু রাজস্ব মামলা এখনো আদালতে পড়ে আছে। এসব মামলাজট দীর্ঘদিনের বিষয়। ২০১১ সালে মামলাজট কমানোর জন্য বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি (এডিআর) পদ্ধতি প্রবর্তন করা হলেও এ পদ্ধতি সফল হতে পারেনি। প্রায় ৩১ হাজার রাজস্ব মামলা অনিষ্পত্তি থাকায় প্রায় ১ লাখ কোটি টাকার রাজস্ব অনাদায়ি রয়েছে। এর সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে নতুন মামলা। ফলে অনাদায়ি রাজস্বের পরিমাণও দিনে দিনে বাড়ছে। রাজস্ব আইন ও বিধির ভিন্ন ভিন্ন ব্যাখ্যা, দীর্ঘ প্রশাসনিক প্রক্রিয়া এবং কর নির্ধারণে মতপার্থক্যের কারণে মামলা বাড়ছে। অর্থনীতির বিশ্লেষকরা রাজস্ব মামলা নিষ্পত্তি না হওয়ার অন্যতম কারণ হিসেবে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) দক্ষতা ও সক্ষমতার অভাবকে দায়ী করেছেন।

রাজস্ব মামলা নিষ্পত্তিতে বিলম্ব হওয়ার বেশ কিছু কারণ রয়েছে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন। এর মধ্যে দায়িত্বরত এনবিআর কর্মকর্তাদের মামলা সম্পর্কে ধারণা কম থাকা, এনবিআরের প্রস্তুতির অভাব, আদালতে সময়মতো তথ্যপ্রমাণ উপস্থাপন করতে না পারা, মামলা শেষ হওয়ার আগেই দায়িত্বরত কর্মকর্তার বদলির বিষয়গুলো জড়িত। অর্থনীতিবিদরা বলছেন, অভিজ্ঞ আইনজীবীদের ফি বেশি থাকে। কিন্তু রাজস্ব মামলা পরিচালনায় বাজেট কম থাকে। এত স্বল্প বাজেটে অভিজ্ঞ আইনজীবী নিয়োগ দেওয়া সম্ভব হয় না। এমন পরিস্থিতিতে রাজস্ব মামলা পরিচালনায় কম অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আইনজীবী নিয়োগ দিতে বাধ্য হয়। এতে করে মামলা পরিচালনায় দক্ষতার ঘাটতি পরিলক্ষিত হয়। অনেক সময় এনবিআরের তদন্তেও মামলায় বিপক্ষদের কাছ থেকে অনৈতিক সুবিধা নিয়ে এনবিআরসংশ্লিষ্টদের মামলায় সময়ক্ষেপণে জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেছে। 
এনবিআরের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশের আদালতে আয়কর, মূসক ও শুল্ক-সংক্রান্ত মোট মামলার সংখ্যা ৩১ হাজার ৭০০টি। জড়িত অর্থের পরিমাণ ৯৯ লাখ ৭০০ কোটি টাকা। কমপক্ষে ৪ হাজার ৭০০ করসংক্রান্ত মামলার বিপরীতে জড়িত অর্থের পরিমাণ অন্তত ৩৫ হাজার ৭০০ কোটি টাকা। মূসকের মামলার সংখ্যা ১১ হাজারের বেশি। জড়িত অর্থের পরিমাণ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বেশি। শুল্কের মামলার সংখ্যা ১৫ হাজারের বেশি। এর মধ্যে শুধু চট্টগ্রামেই ১২ হাজার মামলা চলমান। জড়িত অর্থের পরিমাণ প্রায় ২৬ হাজার কোটি টাকা।

তথ্যমতে, সবচেয়ে বেশি মামলা আছে বর্তমানে হাইকোর্ট বিভাগে। হাইকোর্ট বিভাগে শুধু ভ্যাট-সংক্রান্ত মামলা আছে প্রায় ৪ হাজার ৫০০, যেখানে রাজস্ব জড়িত আছে প্রায় ২৩ হাজার কোটি টাকা। ভ্যাট অফিস, অ্যাটর্নি জেনারেলের অফিস এবং আদালত একত্রে ক্রাশ প্রোগ্রাম গ্রহণ করে অন্তত সমজাতীয় মামলাগুলো নিষ্পত্তি করা যায় বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

অভিযোগ উঠেছে, এনবিআরের অদক্ষতায় নিষ্পত্তি হচ্ছে না রাজস্ব মামলা। তাই রাজস্ব মামলা নিষ্পন্ন করতে হলে সরকারকে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। এনবিআরকে ঢেলে সাজিয়ে আধুনিক ও যুগোপযোগী করতে হবে। কর নির্ধারণ, মূল্যায়ন ও রিটার্ন যাচাইয়ের ক্ষেত্রে প্রযুক্তিনির্ভর ও স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা চালু করতে হবে, যাতে ব্যক্তিনির্ভর সিদ্ধান্তের সুযোগ কমে যায়। এতে করদাতা ও কর প্রশাসনের মধ্যে বিরোধ কমে আসবে এবং ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত হবে। এনবিআরসংশ্লিষ্টদের মামলায় সময়ক্ষেপণে জড়িত থাকার প্রমাণ মিললে তাদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। সর্বোপরি এনবিআরসংশ্লিষ্টদের কৌশলী ও দক্ষ করে গড়ে তুলতে ও প্রতিষ্ঠানের সক্ষমতা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিতে হবে। আশা করি, সরকার দেশের মানুষের হয়রানি কমাতে এবং রাজস্ব বাড়াতে সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে।

ভূমিকম্প-ঝুঁকিতে বাংলাদেশ পূর্বপ্রস্তুতি ও সতর্কতা জরুরি

প্রকাশ: ০৬ জুলাই ২০২৬, ০২:৪৯ পিএম
পূর্বপ্রস্তুতি ও সতর্কতা জরুরি

সম্প্রতি নানা মাত্রার ভূমিকম্পে কেঁপেছে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল। কয়েক দিনের ব্যবধানে বাংলাদেশ ও পার্শ্ববর্তী অঞ্চলে একাধিকবার ভূমিকম্প জনসাধারণের মনে গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। সাম্প্রতিক সময়ে ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল বা উপকেন্দ্র যখন রাজধানীর একেবারে দোরগোড়ায়, তখন এই উদ্বেগ আর উৎকণ্ঠা ছড়িয়ে পড়ে সব জায়গায়। অনেকের কাছে এই ঘন ঘন মৃদু ঝাঁকুনিগুলো সাময়িক বা বিচ্ছিন্ন ঘটনা মনে হলেও ভূতত্ত্ববিদদের মতে, এটি একটি ভয়াবহ সতর্কবার্তা। বাংলাদেশের মতো ঘনবসতিপূর্ণ ভূমিকম্প-ঝুঁকিতে থাকা দেশের জন্য এটি চিন্তার বিষয়। সম্প্রতি দক্ষিণ আমেরিকার দেশ ভেনেজুয়েলায় মাত্র ৩৯ সেকেন্ডের ব্যবধানে আঘাত হানা ৭ দশমিক ২ ও ৭ দশমিক ৫ মাত্রার প্রলয়ংকারী জোড়া ভূমিকম্প বিশ্ববাসীর মনে আতঙ্ক ছড়িয়েছে। ভূমিকম্প এমন একটি মহাবিপর্যয়, যা নিয়ন্ত্রণ করা মানুষের পক্ষে সম্ভব নয়। তবে সঠিক পূর্বপ্রস্তুতি ও সতর্কতার মাধ্যমে ক্ষয়ক্ষতি এবং প্রাণহানি বহুলাংশে কমিয়ে আনা সম্ভব।

ভূতাত্ত্বিক অবস্থানগত কারণে বাংলাদেশ ভূমিকম্প-ঝুঁকিতে রয়েছে। বাংলাদেশের উত্তর ও পূর্বে ভারতীয়, ইউরেশীয় ও বার্মিজ প্লেটের সংযোগস্থল বা বাউন্ডারি রয়েছে, যা রিখটার স্কেলে ৮ মাত্রারও বেশি শক্তিশালী মেগা আর্থকোয়েক তৈরি করতে সক্ষম। বিশেষ করে মধুপুর ফল্ট, ডাউকি ফল্ট এবং সিলেট-চট্টগ্রামের সাবডাকশন জোনগুলো দীর্ঘ সময় ধরে ভূগর্ভে বিপুল পরিমাণ শক্তি সঞ্চয় করে চলেছে। বিজ্ঞানী ও দুর্যোগ বিশেষজ্ঞরা বারবার সতর্ক করছেন যে বাংলাদেশে যেকোনো সময় বড় ধরনের ভূমিকম্প আঘাত হানতে পারে। বিশেষ করে ঢাকার মতো ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় অসংখ্য ভবন ধস এবং ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। ঢাকা-চট্টগ্রাম বা সিলেটের মতো মেগা সিটিগুলোয় অপরিকল্পিত আবাসন এবং ভবন নির্মাণ বিধিমালা বা রাজউকের নিয়ম লঙ্ঘনের এক ভয়াবহ প্রতিযোগিতা রয়েছে। রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের জরিপ অনুযায়ী ঢাকার অর্ধেকের বেশি ভবন ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত। কিন্তু আমরা ভূমিকম্প মোকাবিলার জন্য কোনো ধরনের প্রস্তুতিই ভালোভাবে সম্পন্ন করতে পারিনি। যদিও গত বৃহস্পতিবার নগর ভবনে আয়োজিত এক সভায় ভূমিকম্পের ঝুঁকি মোকাবিলায় কার্যকর প্রস্তুতির বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। সভায় ভূমিকম্পসহ বড় ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় সিটি করপোরেশন, রাজউক এবং ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের মধ্যে সমন্বয় আরও জোরদার করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সাম্প্রতিক সময়ে ঘটে যাওয়া বেশ কিছু ভূমিকম্পের ফলে মানবিক বিপর্যয় ও ধ্বংসাত্মক অবস্থা নিরূপণ করে যথাসম্ভব প্রস্তুতি গ্রহণের জন্য বাংলাদেশে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করা খুবই জরুরি।

গত কয়েক বছরে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশের সক্ষমতা বৃদ্ধি পেলেও ভূমিকম্প মোকাবিলার ক্ষেত্রে বড় ধরনের ঘাটতি রয়ে গেছে। নগর পর্যায়ে নিয়মিত মহড়ার অভাব, উদ্ধার সরঞ্জামের সীমাবদ্ধতা, প্রশিক্ষিত উদ্ধারকর্মীর স্বল্পতা এবং বিল্ডিং কোড বাস্তবায়নের দুর্বলতা উদ্বেগজনক। এ অবস্থায় বড় ধরনের ভূমিকম্প ঘটলে ঢাকাসহ বিভাগীয় শহরগুলোকে ভয়াবহ বিপর্যয় দেখতে হবে এবং বাস্তব পরিস্থিতি মোকাবিলা করা কঠিন হয়ে পড়বে।

রাজধানীর মতো ঘনবসতিপূর্ণ শহরে সরু গলিতে যাতে ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি সহজে পৌঁছাতে পারে, সে জন্য দীর্ঘমেয়াদি নগর পুনর্বাসন পরিকল্পনা ও রাস্তা প্রস্তুতকরণ প্রকল্প হাতে নিতে হবে। ভবন নির্মাণের ক্ষেত্রে শতভাগ ভূমিকম্প-সহনীয় প্রযুক্তির সঠিক প্রয়োগ হচ্ছে কি না, তা মাঠপর্যায়ে কঠোরভাবে তদারকি করতে হবে। ভূমিকম্পের মতো এমন একটি দুর্যোগ মোকাবিলা শুধু সরকারের একার পক্ষে সম্ভব নয়। এ ক্ষেত্রে অন্য স্টেক হোল্ডারদের নিয়ে সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। বিশেষ করে সরকারের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়, স্থানীয় সরকার, রাজউক এবং নগর পরিকল্পনাবিদদের সমন্বয়ে একটি উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন জাতীয় ভূমিকম্প প্রস্তুতি ও বাস্তবায়ন সেল গঠন করতে হবে। আশা করছি, সরকার একটি সমন্বিত পদক্ষেপের মাধ্যমে ভূমিকম্প মোকাবিলায় সক্ষমতার পরিচয় দেবে।

বিদ্যুৎ বিলে গ্রাহক ভোগান্তি স্বস্তি ফেরাতে পদক্ষেপ নিন

প্রকাশ: ০৬ জুলাই ২০২৬, ০২:৩৪ পিএম
স্বস্তি ফেরাতে পদক্ষেপ নিন

দেশের বিভিন্ন স্থানে অস্বাভাবিক বিদ্যুৎ বিলে গ্রাহক ভোগান্তি বাড়ছে। একদিকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লোডশেডিং, অন্যদিকে প্রিপেইড ও ডিজিটাল বিদ্যুৎ মিটারে অস্বাভাবিক বিল কেটে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও প্রতিদিন অসংখ্য গ্রাহক অতিরিক্ত অর্থ কেটে নেওয়ার অভিযোগ তুলছেন। খবরের কাগজের জেলা প্রতিনিধিদের পাঠানো তথ্যেও জনদুর্ভোগের এ রকম চিত্র ফুটে উঠেছে। ভুক্তভোগীদের দাবি, কোনো নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে তৈরি করা এই অস্বাভাবিক বিলের বোঝা তাদের ওপর অন্যায়ভাবে চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। পাবনা প্রতিনিধির তথ্যমতে, মিটার রিডিং না করে জুন মাসে মনগড়া ও ‘ভূতুড়ে’ অতিরিক্ত বিল ধরিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে পাবনা পল্লি বিদ্যুৎ সমিতি-২-এর আওতাধীন কাশীনাথপুর জোনাল ও সাথিয়া সাব-জোনাল অফিসের বিরুদ্ধে। হঠাৎ করে বিদ্যুৎ বিল দ্বিগুণ থেকে তিন গুণ হয়ে যাওয়ায় চরম ক্ষোভ ও বিপাকে পড়েছেন বেড়া ও সাথিয়া উপজেলার শত শত সাধারণ গ্রাহক। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, বিদ্যুতের দাম বাড়লেও বিলের অঙ্ক যেভাবে লাফিয়ে বেড়েছে, তা কোনোভাবেই স্বাভাবিক নয়। এদিকে সারা দেশের বেশ কিছু উপজেলায় দুই মাস ধরে বিদ্যুৎ অফিস ঘেরাও, ভাঙচুর ও মানববন্ধন হয়েছে কয়েক দফা। সারা দেশে বিদ্যুৎ বিলের নামে ডাকাতির ঘটনায় গ্রাহকদের ক্ষোভ প্রকাশের পর বিদ্যুৎ বিভাগও নড়েচড়ে বসেছে। বিদ্যুৎ বিভাগ অস্বাভাবিক বিলের প্রকৃত কারণ অনুসন্ধান, অভিযোগ দ্রুত নিষ্পত্তি এবং অনিয়ম প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়েছে, অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিল-সংক্রান্ত অভিযোগ নিরসনে বিতরণ সংস্থার সঙ্গে সরাসরি বা হটলাইনে যোগাযোগের জন্য গ্রাহকদের অনুরোধ জানিয়েছে বিদ্যুৎ বিভাগ।

বিদ্যুৎসংকটের দ্বিমুখী চাপে অতিষ্ঠ হয়ে উঠছেন গ্রাহকরা। কয়েক মাস ধরে গ্রাহকদের পক্ষ থেকে অস্বাভাবিক বিদ্যুৎ বিলের অভিযোগ রয়েছে। বিশেষ করে মে-জুন মাসে বিলের নামে গ্রাহকদের কাছ থেকে বিপুল অঙ্কের টাকা কেটে নেওয়া হয়েছে। তাদের মতে, বিদ্যুতের ব্যবহার প্রায় আগের মতো থাকলেও বিল বেড়েছে দ্বিগুণ, কোথাও কোথাও এর থেকেও বেশি। এ ধরনের অভিযোগ বর্তমানে রাজধানী থেকে বিভাগীয় শহর, জেলা থেকে উপজেলাসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তের গ্রাহকদের মুখে মুখে। অন্যদিকে শহরের তুলনায় গ্রামে বেশি লোডশেডিং হওয়ায় বেশি ভোগান্তিতে পড়েছে এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা। গ্রাহকরা বলছেন, কাঙ্ক্ষিত বিদ্যুৎ না পেয়েও কেন তাদের অস্বাভাবিক বিলের বোঝা বহন করতে হবে। শুধু বিলের পরিমাণ নয়, রিচার্জের পর কোন খাতে কত টাকা কাটা হচ্ছে, তা নিয়েও অসন্তোষ রয়েছে। গ্রাহকদের অভিযোগ, ভ্যাট, ডিমান্ড চার্জ, মিটার ভাড়া ও অন্য খাতে অর্থ কেটে নেওয়া হলেও তার স্বচ্ছ হিসাব অধিকাংশ ক্ষেত্রে দেখা যায় না। ফলে প্রকৃত বিদ্যুৎ বিল ও অতিরিক্ত চার্জের পরিমাণ সম্পর্কে তারা নিশ্চিত হতে পারছেন না।

জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতের বিশ্লেষকদের মতে, বিষয়টিকে বিচ্ছিন্ন অভিযোগ বলে উড়িয়ে দেওয়ার সুযোগ নেই। ডিজিটাল মিটারের সফটওয়্যার, কনফিগারেশন, ওভার-রিডিং কিংবা বিলিংব্যবস্থায় কোনো ত্রুটি বা অনিয়ম রয়েছে কি না, তা স্বাধীনভাবে তদন্ত করা জরুরি। ডিজিটালব্যবস্থায় যদি অনিয়ম ঘটে থাকে, তবে সংশ্লিষ্টদের জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে। আগে অনিয়ম হতো ম্যানুয়ালি, এখন হচ্ছে ডিজিটাল পদ্ধতিতে। 
জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ও কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) জ্বালানি উপদেষ্টা অধ্যাপক এম শামসুল আলম খবরের কাগজকে বলেন, রাষ্ট্রীয় সংস্থায় দুর্নীতি বন্ধ না হলে জনগণের সঙ্গে এসব প্রতারণা চলতে থাকবে। বিদ্যুৎ খাতে বর্তমান সংকট কোনো আকস্মিক ঘটনা নয়, বরং দীর্ঘদিনের অনিয়ম, দুর্বল ব্যবস্থাপনা ও জবাবদিহির অভাবের ফল। বিদ্যুৎ খাতে কাঠামোগত অনিয়ম, দুর্নীতি ও অপচয় বন্ধ না করলে শুধু গ্রাহকের ওপর অতিরিক্ত মূল্য চাপিয়ে এই সংকট কাটানো সম্ভব নয়। যারা অনিয়মের মাধ্যমে রাষ্ট্র ও ভোক্তার ক্ষতি করছে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা এবং পুরো খাতে কার্যকর জবাবদিহি নিশ্চিত করাই এখন সবচেয়ে জরুরি।

দেশের বিভিন্ন স্থানে বিদ্যুৎ বিল নিয়ে যে তুঘলকি কাণ্ড ঘটছে, তা সরকারকে খতিয়ে দেখতে হবে। বিশেষ করে ডিজিটালব্যবস্থায় যদি অনিয়ম থাকে, সে ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্টদের জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে। গ্রাহকদের এ ধরনের ভোগান্তি থেকে স্বস্তি দিতে বিদ্যুৎ খাতে কাঠামোগত অনিয়ম, দুর্নীতি, অপচয় রোধকল্পে সরকারকে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে। সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোর মধ্যে সমন্বয়হীনতা দূর করে স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক ব্যবস্থা গড়ে তুলতে পারলে সাধারণ গ্রাহকদের স্বস্তি ফিরে আসবে।