ভারত ও কানাডার মধ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই এবার প্রবাসী ও কানাডীয় শিখরা ভারতীয় দূতাবাস ঘিরে বিক্ষোভ করেছে।
সোমবারের (২৫ সেপ্টেম্বর) এ বিক্ষোভে বিক্ষুব্ধরা ভারতের পতাকাও পুড়িয়েছে। পাশাপাশি এ সময় তাদের হাতে শোভা পাচ্ছিল খালিস্তানের পতাকা। যদিও বিক্ষোভ শান্তিপূর্ণ ছিল।
পতাকা পোড়ানোর প্রেক্ষিতে এখন পর্যন্ত কোনো প্রতিক্রিয়ার খবর পাওয়া যায়নি ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের থেকে।
সম্প্রতি পার্লামেন্টে কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো শিখ নেতা হরদীপ সিং নিজ্জার হত্যাকান্ডে ভারত সরকারের সম্পৃক্ততা থাকতে পারে বলে দাবি করেছেন। তিনি নিজ্জার হত্যাকান্ডের তদন্তে ভারতের সহায়তাও চেয়েছেন। ট্রুডোর এই দাবির প্রেক্ষিতেই কানাডীয় শিখদের মধ্যে ক্ষোভ দানা বেঁধেছে।
যদিও ভারতের পক্ষ থেকে ট্রুডোর অভিযোগকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও ভিত্তিহীন হিসেবে আখ্যা দেয়া হয়েছে। এ ঘটনার প্রেক্ষিতে দুই দেশই একে অপরের দূতাবাস কর্মকর্তাকে বহিস্কারও করেছে। ভারতীয় দূতাবাস কানাডীয়দের ভিসা দেওয়াও স্থগিত করেছে।
এদিকে ভারতীয় দূতাবাস ঘিরে আন্দোলনরত একজন শিখ বলেছেন, তাদের ভাইকে হত্যা করেছে ভারতীয় সন্ত্রাসীরা। অপর আরেক শিখ বলেন, ‘আমরা যেমন ভারতে নিরাপদ নই, তেমনি এখন কানাডাতেও নিরাপদ নই।’
বিক্ষুব্ধ শিখদের দাবি, প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডোর এ বিষয়ে পার্লামেন্টে বক্তব্য দানের পর ভারত সরকারের আর অজুহাত দেওয়ার সুযোগ নেই।
ভারতের পর কানাডাতেই সবচেয়ে বেশি শিখ সম্প্রদায়ের বাস। দেশটির জনসংখ্যার মোট ২ শতাংশ শিখ নাগরিক। দিল্লির দাবি, এদের অনেকেই বিচ্ছিন্নতাবাদি খালিস্তান আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত।
তবে অটোয়ার পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, কানাডা আইনের শাসনের ওপর আস্থাশীল। একজন কানাডীয়কে কানাডার মাটিতে হত্যা কোনো ভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় এবং তা আন্তর্জাতিক আইনের স্পষ্ট লঙ্ঘন।