ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) নেতারা ইউক্রেনের প্রতি তাদের সমর্থন অব্যাহত রাখা এবং রাশিয়ার সঙ্গে চলমান সংঘাতের মধ্যে আরও প্রতিরক্ষা খাতে ব্যয় বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
ব্রাসেলসে গতকাল বৃহস্পতিবার (৬ মার্চ) এক শীর্ষ সম্মেলনে তারা ওই প্রতিশ্রুতি দেন। ইউক্রেনে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সহায়তা স্থগিত করার পর এই প্রতিশ্রুতি এসেছে।
ইইউ নেতারা ব্রাসেলসে এক বিশেষ প্রতিরক্ষা সম্মেলনে একত্রিত হন। সেখানে যুক্তরাষ্ট্রের ইউক্রেনের জন্য সহায়তা স্থগিত রাখার বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়। আর কীভাবে ইউক্রেনকে সহায়তা করা যায়, তা নিয়েও কথাবার্তা হয়।
সম্মেলনে অংশ নেওয়া ইউরোপীয় নেতারা রাশিয়ার বিরুদ্ধে সামরিক সক্ষমতা বাড়ানোর জন্য নিজেদের প্রস্তুতি ও প্রতিরক্ষা খাতে ব্যয় বৃদ্ধির পক্ষে কথা বলেছেন। পোলিশ প্রধানমন্ত্রী ডোনাল্ড তুস্ক বলেন, ‘ইউরোপকে এই চ্যালেঞ্জ নিতে হবে, এই অস্ত্র প্রতিযোগিতায় জিততে হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘পুরো ইউরোপ আসলে রাশিয়ার সঙ্গে সামরিক, আর্থিক বা অর্থনৈতিক সংঘর্ষে জেতার সক্ষমতা রাখে- আমরা আসলে বেশি শক্তিশালী।’
ইইউ নেতারা এই সপ্তাহে ইউরোপীয় কমিশনের প্রস্তাবকে স্বাগত জানিয়েছেন। ওই প্রস্তাবে সদস্য দেশগুলোকে প্রতিরক্ষা খাতে ব্যয় বাড়ানোর কথা বলা হয়েছে। এ ছাড়া ইউরোপীয় সরকারগুলোর জন্য যৌথভাবে ১৫০ বিলিয়ন ইউরো (প্রায় ১৬০ বিলিয়ন ডলার) ঋণ দেওয়ার সুযোগ থাকবে।
সম্মেলনের সভাপতি অ্যান্তোনিও কস্তা বলেছেন, ‘আমরা এখানে ইউক্রেনকে রক্ষার জন্য এসেছি।’
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি ইউরোপীয় নেতাদের ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, ‘আপনারা আমাদের পাশে আছেন, এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’ তবে ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা নিশ্চিত করতে যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তা অপরিহার্য বলেও তিনি সতর্ক করেছেন।
জার্মানির চ্যান্সেলর ওলাফ শোলৎজ বলেন, ‘আমাদের ঠাণ্ডা মাথায় এবং বিচক্ষণতার সঙ্গে নিশ্চিত করতে হবে যে যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তা আগামী মাসগুলো এবং বছরের জন্য অব্যাহত থাকবে, কারণ ইউক্রেন তাদের সহায়তার ওপর নির্ভরশীল।’
এদিকে সম্মেলনের আগে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাখোঁ সতর্ক করে বলেছেন, ইউরোপ এখন ইতিহাসের সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে। তিনি আরও জানিয়েছেন, ফ্রান্স তার পারমাণবিক অস্ত্রভান্ডারের সুরক্ষার ব্যাপারে ইউরোপের অন্যান্য দেশের সঙ্গে আলোচনা করতেও প্রস্তুত। এরই মধ্যে জার্মানির পরবর্তী চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ ম্যাৎসও পারমাণবিক সুরক্ষা অন্যান্য দেশের সঙ্গে ভাগ করে নেওয়ার বিষয়ে আলোচনার আহ্বান জানিয়েছেন।
তবে মাখোকেঁ পরমাণু ভাষা ব্যবহার করে রাশিয়াকে হুমকি দেওয়া থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দিয়েছেন রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ। পাশাপাশি ইউক্রেনে শান্তিরক্ষী বাহিনী পাঠানোর ব্যাপারে ইউরোপীয় দেশগুলো প্রস্তাবকে প্রত্যাখ্যান করেছে। সের্গেই ল্যাভরভ বলেছেন, ইউক্রেনে ন্যাটো সদস্য দেশগুলো থেকে শান্তিরক্ষী বাহিনী পাঠানোর প্রস্তাব রাশিয়া কখনোই মেনে নেবে না এবং এটি ন্যাটো বাহিনীর উপস্থিতি হিসেবে বিবেচিত হবে। সূত্র: রয়টার্স, বিবিসি, গার্ডিয়ান