ইস্টারের যুদ্ধবিরতি শেষে আবার ইউক্রেনে অভিযান শুরুর কথা জানিয়েছে রাশিয়া। যুদ্ধবিরতি চলাকালে ইউক্রেনকে লক্ষ্য করে হামলা চালানোর কথাও অস্বীকার করেছে তারা। দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের দাবি, রাশিয়া দৃঢ়ভাবে যুদ্ধবিরতি মেনেছে। তবে ইউক্রেন জোরালোভাবে বলছে, হামলা হয়েছে এবং দেশের বিভিন্ন স্থানে তাদের সতর্কতাও জারি করতে হয়েছে।
বিবিসির প্রতিবেদন বলছে, ইউক্রেনের বিমানবাহিনী কিয়েভসহ অন্য কয়েকটি অঞ্চলে সতর্কতা জারি করেছিল। দেশটির দক্ষিণের শহর মিকোলাইভের মেয়র ওলেকসান্ডার সেঙ্কেভিচ বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে বলে জানান।
গত শনিবার অপ্রত্যাশিতভাবে ৩০ ঘণ্টার ‘ইস্টার যুদ্ধবিরতির’ ঘোষণা দেন রাশিয়ায় প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। তবে ইউক্রেন ও রাশিয়া দুই পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে সাময়িক ওই যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলেছে।
রাশিয়ার মন্ত্রণালয়ের অভিযোগ, ইউক্রেন বেলগরোদ, ব্রায়ানস্ক ও কারস্কের মতো সীমান্ত এলাকাগুলোয় সামরিক অভিযান চালানো অব্যাহত রেখেছিল। সবমিলিয়ে ৪ হাজার ৯০০টি যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের ঘটনা রেকর্ড হয়েছে। তবে তারা এটিও জানিয়েছে যে, গোটা ফ্রন্টলাইনজুড়ে ইউক্রেনের হামলার তীব্রতা উল্লেখযোগ্যভাবে কম ছিল।
অন্যদিকে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেছেন, রবিবার থেকে প্রায় ৩ হাজারবার যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করেছে রাশিয়ার সেনারা।
এদিকে, রাশিয়া আবার সামরিক অভিযান শুরু করেছে বলে উল্লেখ করেছে দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়। বিবিসির প্রতিবেদন বলছে, রাশিয়া সোমবার (২১ এপ্রিল) প্রথম ভাগে ৯৬ বার ড্রোন হামলা চালিয়েছে ও তিনটি ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে। ইউক্রেনের খারকিভ, দিনিপ্রোপেত্রোভস্ক এবং চেরকাসি অঞ্চলে সেগুলো আঘাত হেনেছে।
ইউক্রেনের আকাশ প্রতিরক্ষা ইউনিট মেসেজিং অ্যাপ টেলিগ্রামে জানায়, দেশের পূর্ব, উত্তর, দক্ষিণ ও মধ্যাঞ্চলে ৪২টি ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে। আরও ৪৭টি ড্রোন দিকভ্রষ্ট হয়ে হারিয়ে গেছে। এতে কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি।
ক্ষেপণাস্ত্র নিয়ে সেরকম কোনো তথ্য দেয়নি ইউক্রেনের বিমানবাহিনী। তারা শুধু জানিয়েছে, ওই তিন ক্ষেপণাস্ত্রের একটি খেরসনকে লক্ষ্য করে ছোড়া হয়েছিল। বাদবাকি দুটি ছোড়া হয়েছিল মিকোলাইভকে লক্ষ্য করে।
যুক্তরাষ্ট্র রাশিয়া ও ইউক্রেন যুদ্ধ থামানোর জন্য চেষ্টা করছে। তবে শান্তিচুক্তি আলোচনা ও সমঝোতার অগ্রগতি নিয়ে তারা নাখোশ। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত শুক্রবার বলেছেন, যদি রাশিয়া ও ইউক্রেন শান্তিচুক্তির প্রক্রিয়াকে জটিল করে তোলে এবং দ্রুত এটি নিয়ে কোনো পদক্ষেপ না নেয়, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র এ প্রক্রিয়া থেকে সরে আসবে। একই কথা বলেছেন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও।
রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় গত রবিবার জানিয়েছে, রাশিয়ার কারস্ক অঞ্চলে ইউক্রেন ৭৫ হাজারেরও বেশি সেনা এবং ৪ শতাধিক ট্যাংক হারিয়েছে। রাশিয়ার সামরিক কর্মকর্তারা জানান, তারা ওই অঞ্চলে ইউক্রেনীয় সেনাদের নির্মূল করা অব্যাহত রেখেছে। তবে রুশবাহিনী ইউক্রেনের এত বিপুল প্রাণহানির খবর জানালেও তা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি বলেই জানিয়েছে ব্রিটিশ দৈনিক দ্য গার্ডিয়ান।
কারস্ক অঞ্চলে রুশ বাহিনীর প্রতিরোধের মুখে ইউক্রেনের সেনাদের পিছু হটতে হয়েছিল। তারা সর্বশেষ যে কয়টি স্থানে ঘাঁটি গেড়েছে, তার মধ্যে অন্যতম একটি হলো ওলেশনিয়া গ্রাম। রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় গত শনিবার দাবি করে যে, ওই গ্রাম থেকেও ইউক্রেনের সেনাদের হটিয়ে দেওয়া হয়েছে। সূত্র: বিবিসি, দ্য গার্ডিয়ান