মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইউক্রেনে রাশিয়ার সামরিক অভিযানকে ‘জঘন্য’ বলে আখ্যা দিয়ে মস্কোর বিরুদ্ধে নতুন করে নিষেধাজ্ঞা আরোপের হুমকি দিয়েছেন।
স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (৩১ জুলাই) সাংবাদিকদের তিনি বলেন, “রাশিয়া যা করছে, তা আমি জঘন্য বলেই মনে করি। এটি সত্যিই জঘন্য।” ওই দিনই রুশ বাহিনীর হামলায় ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে রুশ হামলায় ২০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়।
ট্রাম্প আরও জানান, তিনি তার বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফকে রাশিয়ায় পাঠাবেন। বর্তমানে উইটকফ মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থান করছেন। এর আগে মস্কোয় একাধিকবার রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন তিনি।
রাশিয়াকে সতর্ক করে ট্রাম্প জানান, আগামী সপ্তাহের শেষ নাগাদ ইউক্রেনে সামরিক অভিযান বন্ধ না করলে কঠোর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হবে। বৃহস্পতিবারও তিনি সেই সময়সীমা পুনরায় স্মরণ করিয়ে দেন।
ট্রাম্প বলেন, ‘‘আমরা নিষেধাজ্ঞা দেব। তবে আমি জানি না, এতে পুতিনের কিছু যায়-আসে কিনা’’।
ট্রাম্প এর আগেও হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন, প্রয়োজনে রাশিয়ার বাণিজ্যিক অংশীদার যেমন চীন ও ভারতকেও লক্ষ্য করে ‘সেকেন্ডারি ট্যারিফ’ আরোপ করা হতে পারে। এতে রাশিয়ার ওপর চাপ বাড়বে, তবে একইসঙ্গে বৈশ্বিক বাণিজ্যে বড় ধরনের অস্থিরতাও দেখা দিতে পারে।
দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে ট্রাম্প বারবার আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন যে, ইউক্রেন যুদ্ধ—যা শুরু হয়েছিল ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে রাশিয়ার আগ্রাসনের মাধ্যমে—শিগগিরই শেষ হবে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে তিনি মস্কোর লাগাতার হামলার বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে আসছেন।
রাশিয়ায় শাসন পরিবর্তনের ডাক জেলেনস্কির
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি শুক্রবার জানান, রুশ ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর কিয়েভে উদ্ধার অভিযান শেষ হয়েছে।
সামাজিক মাধ্যমে জেলেনস্কি লেখেন, ‘‘দুঃখজনকভাবে, এখন পর্যন্ত ৩১ জনের মৃত্যু নিশ্চিত হয়েছে, যাদের মধ্যে পাঁচটি শিশু রয়েছে। সবচেয়ে ছোট শিশুটির বয়স মাত্র দুই বছর।’’
জুলাই মাসে রাশিয়া ইউক্রেনের ওপর ৩,৮০০-এর বেশি ড্রোন ও প্রায় ২৬০টি ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করেছে বলেও জানান জেলেনস্কি।
এর আগে এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, কিয়েভে প্রাণঘাতী হামলার কয়েক ঘণ্টা পর তার পশ্চিমা মিত্রদের উচিত রাশিয়ায় ‘শাসন পরিবর্তন’ ঘটানো।
স্নায়ুযুদ্ধের সময় হেলসিঙ্কি চুক্তির ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে এক সম্মেলনে ভার্চুয়ালি বক্তব্য দেন জেলেনস্কি। তিনি বলেন, রাশিয়াকে যুদ্ধ থামাতে বাধ্য করা যেতে পারে।
তিনি আরও বলেন, যদি বিশ্ব রাশিয়ায় শাসন পরিবর্তনের দিকে লক্ষ্য না রাখে, তাহলে যুদ্ধ শেষ হওয়ার পরও মস্কো প্রতিবেশী দেশগুলোকে অস্থির করতে থাকবে।
ইউক্রেনীয় বিমান বাহিনী জানায়, গত বুধবার (৩০ জুলাই) গভীর রাত থেকে বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত রাশিয়া অন্তত ৩০০টি ড্রোন ও আটটি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ইউক্রেনের দিকে ছোড়ে। কিয়েভ ছিল মূল লক্ষ্য।
এদিকে রুশ সেনাবাহিনী দাবি করেছে, তারা পূর্ব ইউক্রেনের চাসিভইয়ার শহরটি দখল করেছে। কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই পার্বত্য শহরটি নিয়ে মাসের পর মাস ধরে তীব্র লড়াই চলছিল।
যুদ্ধের প্রায় সাড়ে তিন বছর পর রাশিয়া আবারও আক্রমণের মাত্রা বাড়িয়েছে এবং মার্কিন চাপ সত্ত্বেও হামলা বন্ধের কোনো লক্ষণ দেখাচ্ছে না।
এ অবস্থায় ইউক্রেনে আরও আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সরবরাহের ঘোষণা দিয়েছে জার্মানি।
জার্মান প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি সমঝোতায় পৌঁছানোর পর জার্মান সেনাবাহিনী ইউক্রেনে দুইটি অতিরিক্ত প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা পাঠাবে। পাশাপাশি আগামী দুই থেকে তিন মাসের মধ্যে আরও যন্ত্রাংশ পাঠানো হবে। সূত্র: আল জাজিরা
মাহফুজ/