যশোর জেলা আইনজীবী সমিতির নির্বাচন নিয়ে বিভক্ত হয়ে পড়েছে আওয়ামী লীগ। বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদসহ মহাজোট মনোনীত ইদ্রিস-জিউস প্যানেল পরিচালনা পরিষদ ও প্রার্থীদের যৌথসভায় এ নিয়ে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়েছে। সভায় বলা হয়, আওয়ামী লীগ প্যানেলের নির্বাচিত সাবেক সাধারণ সম্পাদক শাহানুর আলম শাহিন ষড়যন্ত্রমূলকভাবে দলের সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে এককভাবে মিটিং করেছেন। তার এই ‘হটকারী’ সিদ্ধান্তের জন্য জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে অবহিত করে সাংগঠনিকভাবে ব্যবস্থা নিতে বলা হবে বলে ওই সভায় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বুধবার ইদ্রিস-জিউস প্যানেল পরিচালনা পরিষদ ও প্রার্থীদের যৌথসভা জেলা কালেক্টরেট ভবনের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অফিসে অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন নির্বাচন পরিচালনা পর্ষদের আহ্বায়ক জেলা আওয়ামী লীগের আইনবিষয়ক সম্পদক গাজী আব্দুল কাদির।
সূত্রে আরও জানা গেছে, যশোর আইনজীবী সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক শাহানুর আলম শাহিন তার পক্ষের লোকদের নিয়ে আলাদা মিটিং করে প্যানেলের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। একই সঙ্গে আওয়ামী প্যানেলের বিরোধী পক্ষের সঙ্গে লিয়াজো করছেন।
আওয়ামী প্যানেলের নির্বাচন পরিচালনা পর্ষদের আহ্বায়ক ও জেলা আওয়ামী লীগের আইনবিষয়ক সম্পদক গাজী আব্দুল কাদির জানিয়েছে, এরই মধ্যে যশোর জেলা আওয়ামী লীগ এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদসহ মহাজোট মনোনীত ইদ্রিস-জিউস প্যানেলের প্রার্থীদের বিজয়ী করার আহ্বান জানিয়েছে। কিন্তু ইতিপূর্বে আওয়ামী লীগের প্যানেলে নির্বাচিত সাবেক সাধারণ সম্পাদক শাহানুর আলম শাহিন ষড়যন্ত্রমূলকভাবে দলের সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে এককভাবে মিটিং করেছেন। যে কারণে সকলের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তার এই হটকারী সিদ্ধান্তের জন্য জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে অবহিত করে সাংগঠনিকভাবে ব্যবস্থা নিতে সিদ্ধান্ত হয়েছে।
এ ব্যাপারে শাহানুর আলম শাহিনের সঙ্গে কয়েক দফা যোগাযোগ করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। দুই দফা তার চেম্বারে গিয়ে দেখা পাওয়া যায়নি।
আওয়ামী প্যানেলের সভাপতি প্রার্থী পিপি এম ইদ্রিস আলী, সাধারণ সম্পাদক পদে খালিদ হাসান জিউস এবং অন্যান্য পদে রয়েছেন- সাবেক পিপি আব্দুল কাদের, সাবেক বিশেষ পিপি শরীফ নূর মোহাম্মদ আলী রেজা, শহর আওয়ামী লীগের সভাপতি অতিরিক্ত পিপি আসাদুজ্জামান, বিশেষ পিপি সাজ্জাদ মোস্তফা রাজা, বিশেষ পিপি মোস্তাফিজুর রহমান মুকুল, সিনিয়র আইনজীবী সামছুর রহমান, মোশারফ হোসেন, মশিয়ার রহমান, অতিরিক্ত পিপি খন্দকার দেলোয়ার হোসেন, মিলন মিত্র, সাবেক বিশেষ পিপি বদরুজ্জামান পলাশ, খন্দকার মোয়াজ্জেম হোসেন মুকুল, সিরাজুল ইসলাম লেন্টু, আশরাফুল আলম বিপ্লব, আবুল কায়েস ও নুরুল ইসলাম নুরু।