ফারমার্স ব্যাংক থেকে (বর্তমানে পদ্মা ব্যাংক) ১৬০ কোটি টাকা আত্মসাৎ করায় ব্যাংকটির নিরীক্ষা কমিটির সাবেক চেয়ারম্যান মাহবুবুল হক চিশতী ওরফে বাবুল চিশতী ও তার ছেলে রাশেদুল হক চিশতীকে ১২ বছর করে কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে বাবুল চিশতীর স্ত্রী রোজী চিশতী ও ফারমার্স ব্যাংকের ফার্স্ট প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মাসুদুর রহমান খানের পাঁচ বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া তাদের সবার ৩১৯ কোটি ৯০ লাখ ৯৯ হাজার ২৪০ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। পাশাপাশি বাবুল চিশতী, তার স্ত্রী ও ছেলের নামে থাকা সব স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত ঘোষণা করা হয়েছে।
সোমবার (৩০ অক্টোবর) ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৪-এর বিচারক সৈয়দ আরাফাত হোসেন এ রায় দেন।
রায়ের পর্যবেক্ষণে আদালত বলেন, ‘মানি লন্ডারিংয়ের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিরা দেশের অর্থনীতির মেরুদণ্ড ধ্বংসকারী। তারা রাষ্ট্রের শত্রু। এ ধরনের আর্থিক অপরাধ কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে শুধু দেশের অর্থনৈতিক ভিত্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয় না, ব্যাংকিং ব্যবস্থাপনার প্রতি বিনিয়োগকারী ও সাধারণ জনগণের আস্থাহীনতা তৈরি হয়। দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতি বাধাগ্রস্ত হয়। এটা হতে দেওয়া যায় না। মানি লন্ডারিংয়ের মতো অপরাধ যাতে ভবিষ্যতে আর না হয়, সে জন্য আইনগত ব্যবস্থার পাশাপাশি ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ, কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে সততা ও দক্ষতার সঙ্গে আর্থিক নিয়ম ও বিধিবিধান কঠোরভাবে প্রতিপালন করা অতি জরুরি।’
২০১৩-এর ১ জুন থেকে ২০১৮ সালের ৩১ জানুয়ারির মধ্যে বাবুল চিশতী, তার স্ত্রী এবং ছেলের নামে তৎকালীন ফারমার্স ব্যাংকের বিভিন্ন শাখায় ২৫টি অ্যাকাউন্ট খোলা হয়। পরে বিভিন্ন অনিয়ম, ক্ষমতার অপব্যবহার ও জালিয়াতির মাধ্যমে ব্যাংক থেকে ১৫৯ কোটি ৯৫ লাখ ৪৯ হাজার ৬৪৩ টাকা তুলে আত্মসাৎ করা হয়।
এ ঘটনায় দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ২০১৮ সালের ১০ এপ্রিল মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে মামলা করে। তদন্ত শেষে ২০১৯ সালের ১০ জুলাই বাবুল চিশতীসহ চারজনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র জমা দেওয়া হয়। একই বছরের ৩০ অক্টোবর বাবুল চিশতীসহ চারজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিক বিচার শুরু হয়। চার বছর ধরে এ মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণ, জেরা ও দুপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে গতকাল রায় ঘোষণা করা হলো।
এমএ/