রাজধানীর মোহাম্মদপুরে সাবেক মার্কিন রাষ্ট্রদূত মার্শা বার্নিকাটের গাড়িবহরে হামলার ঘটনায় দায়ের করা মামলা আমলে নিয়েছেন আদালত। মামলার ৯ আসামির বিরুদ্ধে গোয়েন্দা পুলিশের দেওয়া সম্পূরক অভিযোগপত্র মঙ্গলবার (৩১ অক্টোবর) গ্রহণ করেন ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জাকী-আল-ফারাবী।
তিনি মামলাটি ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতে পাঠানোর আদেশ দেন। সিএমএম আদালতে শিগগির মামলাটির বিচার শুরু হতে পারে বলে জানিয়েছেন কোর্টের জেনারেল রেজিস্ট্রারি অফিসার (জিআরও) এশারত আলী।
সম্পূরক অভিযোগপত্রে অন্তর্ভুক্ত আসামিরা হলেন- সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদারের শ্যালক ইশতিয়াক মাহমুদ, নাইমুল হাসান, ফিরোজ মাহমুদ, মীর আমজাদ হোসেন, মো. সাজু ইসলাম, রাজিবুল ইসলাম রাজু, শহিদুল আলম খান কাজল, সিয়াম ও অলি আহমেদ ওরফে জনি।
গত ৪ অক্টোবর চার্জশিটভুক্ত আসামি ইশতিয়াক মাহমুদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন আদালত। পরদিন তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এরপর তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে তাকে জামিন দেন ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ নুরুল হুদা চৌধুরী।
এর আগে গত ১ জানুয়ারি ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট রেজাউল করিম চৌধুরীর আদালত এ মামলাটি অধিকতর তদন্তের আদেশ দেন।
গত বছর ২৮ মার্চ এ মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়। সর্বশেষ ৪ ডিসেম্বর ছয়জনের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়। এদের মধ্যে সাক্ষী ড. বদিউল আলম মজুমদার, খুশি বেগম ও মাহবুবুল আলম মজুমদার তাদের জবানবন্দিতে ইশতিয়াক মাহমুদের নাম উল্লেখ করেন। ২৭ ডিসেম্বর সাক্ষ্যগ্রহণের পর্যায়ে থাকা অবস্থায় অধিকতর তদন্তের স্বার্থে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করার জন্য মামলাটি ম্যাজিস্ট্রেট কোর্ট থেকে ঢাকার সিএমএমে পাঠানো হয়।
মার্শা বার্নিকাটের গাড়িবহরে হামলার ঘটনায় ২০১৮ সালের ১০ আগস্ট রাতে ড. বদিউল আলম মজুমদার বাদী হয়ে মোহাম্মদপুর থানায় মামলা করেন। তদন্ত শেষে ৯ জনকে আসামি করে ২০২১ সালের ১৮ জানুয়ারি আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন পুলিশ পরিদর্শক (নিরস্ত্র) মো. আব্দুর রউফ। অভিযোগপত্রে বলা হয়, ২০১৮ সালে ৪ আগস্ট রাতে সুজনের (সুশাসনের জন্য নাগরিক) সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার ইকবাল রোডের বাড়িতে মার্কিন রাষ্ট্রদূত মার্শা বার্নিকাটের বিদায়ী নৈশভোজের আয়োজন করেন। ওই রাতে নৈশভোজের নামে তিনি গণফোরামের সভাপতি ড. কামাল হোসেনসহ আরও কয়েকজনের সঙ্গে সরকারবিরোধী ষড়যন্ত্র করছিলেন বলে খবর পায় স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীরা। এরপর আনুমানিক রাত ১১টায় ছাত্রলীগের নাইমুল হাসান ওরফে রাসেলের নেতৃত্বে স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের একটি দল ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। তারা মার্শা বার্নিকাটের গাড়ি ধাওয়া করলে রাষ্ট্রদূত দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন। এ সময় সুজনের সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদারের বাড়িতেও ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করা হয়। দলটি বাড়ির জানালার গ্লাস ভাঙচুর করে। বদিউল আলম, তার স্ত্রী ও ছেলে মাহবুব মজুমদারকে জীবননাশের হুমকি দেওয়া হয়। মাহবুবকে ধাক্কা দিয়ে আঘাত করা হয়। বাড়ির প্রধান গেট ধাক্কাধাক্কি করে, ভয়-ভীতি দেখিয়ে তারা চলে যান।
অভিযোগপত্রে ১৯ জনকে সাক্ষী করা হয়। ২০২২ সালের ১ মার্চ ৯ জন আসামির বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির বিভিন্ন ধারায় অভিযোগ গঠন করেন আদালত। প্রথম অভিযোগপত্রে আসামির তালিকায় মুজাহিদ আজমির তানহার নাম ছিল। তানহা মারা যাওয়ায় তার নাম বাদ দেওয়া হয়। সম্পূরক অভিযোগপত্রে সুজনের সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদারের শ্যালক ইশতিয়াক মাহমুদের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
এমএ/