আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, বাংলাদেশের যে উন্নয়ন দৃশ্যমান, তা শেখ হাসিনার ম্যাজিক। ১৯৮১ সালের ১৭ মে মাতৃভূমি স্বদেশে প্রত্যাবর্তনের পর থেকে যে পরিবর্তন হয়েছে, সেই পরিবর্তন ও রূপান্তরের রূপকার বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা। তার ফিরে আসাকে মুক্তিযুদ্ধের হারিয়ে যাওয়া মূল্যবোধের প্রত্যাবর্তন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
শুক্রবার (১৭ মে) বিকেলে তেজগাঁওয়ে ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন ওবায়দুল কাদের।
দলের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উদযাপন উপলক্ষে এই আলোচনা সভার আয়োজন করে আওয়ামী লীগ। এতে সভাপতিত্ব করেন দলটির সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন।
আওয়ামী লীগের সহযোগী এবং ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনগুলোও স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে বিভিন্ন কর্মসূচির আয়োজন করেছে। বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে দোয়া ও মোনাজাত এবং বিভিন্ন ধর্মীয় উপাসনালয়ে বিশেষ প্রার্থনা সভার আয়োজন করা হয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দীর্ঘায়ু কামনা করা হয়েছে এসব দোয়া, মোনাজাত ও প্রার্থনা সভায়। এ ছাড়া দিবসটিতে আওয়ামী লীগ এবং এর সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনগুলো গরিব-অসহায় শিশু, পথচারী ও এতিমদের মাঝে খাবার বিতরণ করেছে।
১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে নৃশংসভাবে হত্যার সময় বঙ্গবন্ধুর দুই কন্যা শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা ইউরোপে অবস্থান করছিলেন। এরপর ১৯৮১ সালের ১৭ মে ভারতে দীর্ঘ নির্বাসন জীবন কাটিয়ে দেশে ফেরেন শেখ হাসিনা।
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের বক্তব্যের জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘শেখ হাসিনাকে কেউ নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না। বাংলাদেশের জন্মের চেতনা, মুক্তিযুদ্ধ ও জয় বাংলার চেতনা, সংবিধান নিয়ন্ত্রণ করেন শেখ হাসিনা; দেশি-বিদেশি কোনো শক্তি নয়। যত ষড়যন্ত্র করুক, বিদেশি শত্রুর নামে হুমকি-ধমকি দিতে পারেন, কিন্তু তিনি কোনো বিদেশি শক্তির পরোয়া করেন না। তিনি পরোয়া করেন দেশের জনগণকে।’
ওবায়দুল কাদের দলীয় নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে বলেন, ‘দেখে-শুনে বলছি, নিজেদের শত্রু নিজেরা না হই। আপন ঘরে যাদের শত্রু, তাদের বাইরের শত্রুর দরকার হয় না। আজ বঙ্গবন্ধু ও শেখ হাসিনার জীবন থেকে শিক্ষা নিতে হবে। তার নির্দেশ মেনে চলতে হবে। তার নির্দেশনার বাইরে যেন না যাই, অপকর্ম না করি, সতর্ক হয়ে যান। তিনি চুপচাপ আছেন বলে কেউ শাস্তি পাবেন না, তা নয়। শাস্তি ভোগ করতে হবে। যারা শাস্তি পেয়েছেন তারা বুঝবেন। আর যারা পাননি (শাস্তি) তারা স্মরণ করবেন।’
আলোচনা সভায় আরও বক্তৃতা করেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া ও জাহাঙ্গীর কবির নানক, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ, মাহবুবউল আলম হানিফ, আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম ও দীপু মনি, সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা আজম, শহিদ আলতাফ মাহমুদের কন্যা শাওন মাহমুদ, শহিদ বুদ্ধিজীবী আলীম চৌধুরীর কন্যা নুজহাত চৌধুরী, ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি বেনজির আহমেদ, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সভাপতি আবু আহমেদ মন্নাফী, উত্তরের সভাপতি শেখ বজলুর রহমান প্রমুখ।
এমএ/